13/06/2015
সকল ভুয়া ছবির সত্যতা নিশ্চিত করলাম। যেহেতু রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ নিয়ে বাংলার মানুষের মাঝে একটি ভুল বোঝাবুঝি এবং উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে, তাই আমরাও সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলাম। ছবি গুলো দেখার পর বুঝবেন কিভাবে এই সব অমানবিক ছবি নিয়ে মিথ্যাচার শুরু করেছিল এক শ্রেণীর মৌলবাদ মহল।
========================================
প্রথম ছবিতে যা দেখছেন তা ২০১০ সালে প্রথম দেখেছি। তখন বলা হয়েছিল আফ্রিকায় খৃষ্টানদের দ্বারা মুসলিম পুড়িয়ে হত্যার ছবি। ২০১১ সালে ইংরেজি ব্লগসাইটে দেখি পুরা উলটে গেছে, ছবির ক্যাপশনে দেখি যে নাইজেরিয়ান মুসলিম দ্বারা খৃষ্টান হত্যা। যাইহোক এইছবিগুলো আবার দেখলাম ২০১৩-১৪ তে আমদানী হতে। ঐ মুসলিম হত্যার রগরগে বর্ননা। ২০১৫ সালে এছবি আবার বের হলো ক্যাপশন হলো এবার- " বোকো হারাম কর্তৃক নাইজেরিয়ান খৃষ্টানদের হত্যা"। এখন নতুন করে দেখছি কেউ কেউ মুসলিম হত্যা আবার কেউ কেউ রোহিঙ্গা হত্যা বলে অনলাইন সয়লাব করে দিচ্ছে।
মূল কাহিনি - ২০১০ সালে কঙ্গোর সাঙ্গে গ্রামে তেলের ট্যাঙ্কার বিস্ফোরনে২৩০ জন পুড়ে ও দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। প্রমান- http://reut.rs/1Fw721z
দ্বিতীয় ছবিটিও ঘুড়ে ফিরে আবার এসে গেছে বাজারে। বলা হচ্ছে এইটাও রোহিঙ্গাদের অবস্থা। অথচ ছবিটি ২০০৪ সালের। থাই আর্মিরা বেশ কিছু থাই মুসলিমকে গ্রেফতার করলে তাদের আত্মীয়স্বজনরা বিক্ষোভ করলে ওদের গ্রেফতার করে(প্রায় ৮০ জন) ক্যাভার্ড ভ্যানে গাদাগাদি করে আটকিয়ে রাখায় দমবন্ধ হয়ে এরা মারা যান। প্রমান- http://bit.ly/1cbYXke
তৃতীয় ছবিঃ আরেকটা বহুল ব্যাবহার্য ছবি। পান থেকে চুন খসলেই এই ছবির আবির্ভাব ঘটে।ছাগু প্রপাগান্ডায় এর শিরোনাম থাকে যে রোহিঙ্গাদের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।
মূল কাহিনী হলো- দালাইলামা ইস্যুতে চীন আর তিব্বতের দীর্ঘদিনের জটিলতার মাঝে চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের ভারত সফরের আগেরদিন(২০১২ সাল) দিল্লীনিবাসী জামপেল ঝেসি নামে তিব্বতীয়ান ২৭ বছরের নাগরিক নিজের গায়ে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রমান- http://bit.ly/1FxrA9a
চতুর্থ ছবিঃ এটা সবচেয়ে বেশী ফেসবুকে আনা হইছে। স্টপ কিলিং মুসলিম নামক প্রপাগান্ডা মেশিন থেকে দুইদিন পর পর এটা আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে দেয়া হয়। লাল গেরুয়া পড়া বৌদ্ধভিক্ষুদের সাথে অনেক লাশ দেখিয়ে বলা হচ্ছে ভিক্ষুরা নির্বিচারে মুসলিম হত্যা করেছে।
২০১০ সালে তিব্বতের জুসু নামক স্থানে ৬.৯ মাত্রার ভুমিকম্পের ফলে সরকারী ভাবে ২৭০০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়,নিখোজ অনেক। এ ভুমিকম্প জুসু ভুমিকম্প হিসেবেই পরিচিত। স্থানীয় বৌদ্ধমন্দির থ্রাংগু মনেস্টারীর অনেক ভিক্ষু ও এর আশেপাশের গ্রামে বহু হতাহত হয়। বেচে থাকা ভিক্ষুরা কোন উদ্ধারকর্মীদের আসার আগেই নিজেরা আহত/নিহতদের উদ্ধার করে। দ্রুত নিহতদের সৎকার করার ব্যাবস্থা নেন । প্রমান - http://bit.ly/1AMpEht , http://bit.ly/1vgWj6u
পঞ্চম ছবিঃ এ ছবিটা রোহিঙ্গাদের সাথে সম্পর্কিত,কিন্তু ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে।
মূলত ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে ১৭৪জন রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে পারি জমালে থাই জলসীমা থেকে তাদের বিতারিত করে থাই পুলিশ। অসহায় অবস্থায় সমুদ্রে ভাসমান থাকলে ইন্দোনেশিয়া লোকজন এদের উদ্ধার করে। প্রমান- http://bit.ly/1czJ6Ch
ষষ্ঠ ছবিঃ বাচ্চাদের নিয়ে আরোও কিছু ছবি আছে এইসব ছাড়া,যা দিতে ইচ্ছা করে না,খারাপ লাগে। যেমন একটা ঘড়ে কিছু মৃত শিশুকে রাখা হয়েছে। একটা শিশুর বুকের কাছে জামা ধরে একহাতে নিয়ে যাচ্ছে,ইত্যাদি। অতিকষ্টে গালী দমন করি এসব ছবি দেখে।
ঘুর্নিঝড় নার্গিসের তান্ডবের ছবি সেগুলি। আল্লাহর হাজার রহমত বাংলাদেশে নার্গিস আঘাত করে নি। নইলে এদেশের ছবি নিয়েও এভাবেই নোংড়ামী করা হত। প্রমান - http://bit.ly/1FxE7cI
সপ্তম ছবিঃ ২০১০ সালের হাইতির ভুমিকম্পের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। তখন একটা ছবি দিয়ে বলা হইছে আল্লাহর গজবে থিয়েটার দুভাগ হয়ে ভেঙ্গে গেছে। যাক,সেটা আলোচ্য না। আলোচ্য ছবিটা হাইতির ভুমিকম্পের পর মর্গের ছবি। প্রমান- http://ind.pn/1czNtNR
অষ্টম ছবিঃ দেখেন তো ছবিটাতে ভিক্ষুটির বয়স কত ? বন্দুকটি কি আসল মনে হচ্ছে ? একটা শিশুর খেলনা বন্দুক নিয়ে নিছক খেলাকে এরা হত্যাকারী হিসেবে প্রমানে ব্যাস্ত হয়ে গেছে। প্রমান- http://bit.ly/1eRlNFN
নবম ছবিঃ সবচেয়ে মজার ছবি এটা। পুলিশের ছবি দেখেই নিশ্চিত হওয়া যায় এটা বাংলাদেশের ছবি। গাড়ী দুর্ঘটনায় লোকটি মারা গেছে। অথচ এই বাংলাদেশি আবালরাই এইটা রোহিঙ্গাদের ছবি বলে প্রচার করছে।
দশম ছবিঃ মহিলা তার স্ট্যাটাসে লিখেছে- bago ko nga plang alagang a*o haha...lakas ng tama ng anak ko sunod sunuran namn.. kong tawa d2 grabe... এর অর্থ খুজতে গিয়ে পেলাম -"Meet my new pet puppy hahaha…my son is crazy obeys whatever I told him to do…just give me a big laugh…" প্রমান-http://bit.ly/1cAgUiC
একাদশ ছবিঃ এটা নতুন আমদানী ছবি, তুরষ্কে নাকি বৌদ্ধদের উপর সরকারীভাবে আক্রমন করা হচ্ছে। grin emoticon
কাহিনী আসলে সেই চীন-তিব্বত ক্যাচালের। প্রমান- http://bit.ly/1IgWOpa, http://bit.ly/1KdXSMW
দ্বাদশ ছবিঃ গলায় ফাঁস দেয়া এই ছবিটা খুব হিট ফেসবুক টুইটারে। প্রকৃতপক্ষে এলটিটিই এর বিরুদ্ধে শ্রীলংকান সেনাবাহিনীর অভিযানে হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল সেগুলির ছবি- http://bit.ly/1JqeaCZ
ত্রয়োদশ ছবিঃ এটার প্রকৃত কাহিনি হলো ২০১২ সালের। তিব্বতী ভিক্ষুদের চীনা পুলিশ এরেস্ট করে। প্রমান - http://bit.ly/1H6RqX5
চতুর্দশ ছবিঃ ছবিটি ব্লার করে দিলাম। ছবিটা রোহিঙ্গাদের হত্যার নয়, আইএসআইএস(ISIS)দ্বারা খৃষ্টান নাগরিক হত্যা। প্রমান- http://bit.ly/1ROtKKf
পঞ্চদশ ছবিঃ স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছে আইনশৃংখলা বাহিনী একজন নিগ্রো। এটা কেমন করে বার্মিজ হয় ?
ঘটনা ২০০৮ এর। ছবিটতে পুলিশ জিম্বাবুয়ের এক শরনার্থীর গায়ের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। দক্ষিন আফ্রিকার স্থায়ী জনগন জিম্বাবুয়ে থেকে আগত উদ্বাস্তুদের আক্রমন করে, মানুষের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে সরকারী হিসেবে ২৩ জন মানুষ মারা যায়। প্রমান- http://bit.ly/1BNMVul এর ২য় ছবি।
ষষ্ঠদশ ছবিঃ বাংলার বলদগুলা সাদা-কালো বা নারী-পুরুষ বুঝে না। যা পায় তাই নিয়েই প্রোপাগান্ডায় ব্যাস্ত থাকে। আলোচ্য ঘটনাটা হলো স্ত্রী প্রতারনা করায় ম্যাচেটি দিয়ে স্বামী বেচারা আক্রমন করেছে স্ত্রীর উপর। প্রমান - http://bit.ly/1KejoRq
সপ্তদশ ছবিঃ তামিল টাইগারদের উৎখাতে শ্রীলঙ্কান সামরিক অভিযানে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়, সেগুলির একটা ছবি এটা। প্রমান - http://bit.ly/1IhfKEd
অষ্টদশ ছবিঃ এটাও তামিল টাইগারদের উৎখাতে শ্রীলঙ্কান সামরিক অভিযানে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়, সেগুলির একটা ছবি এটা। প্রমান - http://bit.ly/1cBzt6f
উনবিংশ ছবিঃ দুটি ছবিই আলাদা আলাদা করে দেখানো হচ্ছে বিভিন্ন পোস্টে। এর সাথে বস্তুত কোন সম্পর্কই নাই মুসলিম বা রোহিঙ্গাদের। এটা কম্বোডিয়ার একটা দুর্ঘটনার ছবি। ১৮ চাকার লরীর সাথে দুর্ঘটনায় বাচ্চা মেয়েটার মাথা পৃথক হয়ে গেছে। বাবা মেয়ের মাথা ধরে আছে, আর মা মেয়ের শরীর ধরে নির্বাক হয়ে গেছে। প্রমান - http://bit.ly/1QbrUWf, http://cnn.it/1KIG3DC
বিংশ ছবিঃ ব্যাংককের পথে বেআইনি বাইক চালানোয় ৪২৫ জনকে বাইক সহ আটক করে এভাবেই শুইয়ে রাখা হয়। অথচ এইছবিই হয়ে ওঠে রোহিঙ্গাঅত্যাচারের গল্প grin emoticon প্রমান- http://bit.ly/1IhmYbk
একবিংশ ছবিঃ ইসলামী জঙ্গী বোকো হারাম কর্তৃক খৃষ্টান নাইজেরিয়ানদের হত্যার ছবি এটা। সেটা কাঠালপাতার রসের কল্যানে মুসলিম নিধন হয়ে গেছে smile emoticon প্রমান- http://bit.ly/1FB1iTv
পরবর্তীতে আরোও ছবি পাওয়া গেলে প্রমানসহ উপস্থাপন করা হবে। যত বেশি শেয়ার করুন।
কার্টেসিঃপালি বিভাগ চবি ও বেলের কাঁটা -https://www.facebook.com/notes/940855652612074/?pnref=story
অতিশ দীপঙ্কর পেইজ থেকে কপি পোস্ট করলাম
============================================
KINSHASA (Reuters) - At least 230 people were killed when a fuel tanker overturned and exploded in eastern Democratic Republic of Congo, unleashing a fire ball that tore through homes and cinemas packed