Fudandi Fulo Tumbaz

Fudandi Fulo Tumbaz ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা

13/04/2022

𑄦𑄢𑄳𑄦𑄨𑄇𑄪𑄢𑄮
আহ্'রিকুরো

07/03/2022

তুই পিনিলে পিনোন, বেরেলে খাদি লাগে ভজান দোল;
তরে দেই এ দগিন বোয়ের মাত্তলে ধরিয়নে অহ্'য় ওল,
গাবুরী, তরে দেই দুরোত থেয়্যা জুমধনে চিনে তুই চাঙমা-
তলোই কধ' চাই কধা, সুনেদ' চাই সুংসুঙি দিনর একলামা!

গাবুরী, তুই কি কোই পারচ তরে এ পিনোন খাদিয়ে কেঝান লাগে?
কোই পারচ, পিনোন খাদিলোই পাকাতির সমারে কেনে মিঝি পারে?
সে জোপ্পানি তুই ত' কায় থেয়্যা এক্কো নাগরত্তুন পুঝার গরি লোচ
যে চাঙমা, যে চাঙমা ভাঝে মন' কধা কোয় জানেহ্ আ কয়!

গাবুরী, ইরুক চিরোহিত্তে হনচেচ্যা নিঝেচ ছিধি যিয়ে
ইরুক দিনুন আগদিন'সান নই, চিরোহিত্তে জিববন
কধে এসান্যান অহ্'লে কেনে জেঁই থানা এ বসুমত্তির বুঘত
কেনে থিবুরুকথেং থিবুরুকথেং গরি বেরানা এ মাদিত?

মুই সেত্তে চিদে গরং তুইও যুনি মিঝি যায় বেজুত গরি;
ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়াসান যুনি ওই উধে আমা মামেদিনী,
কধে সক্কে তুই কি পিনি পারিবে সোচ গাবর পিনোন খাদি
বুঝচ, সেত্তে মুই দরাং, সেনে দ কঙ পিনোনান ন ইরিচ!

গাবুরী, এ অসিজি খেনত বানাহ্ আত্থের গুজোরেলে ন অয়
বানা আত্থেরে লারেয় ন চলে, বানা পরান কারিলেও ন চলে
সেসমারে সুধোমর লারেয়, মা ভাঝর লারেয়র সরিত থা পরে
ন অলে আইরিচ জাদসান মা ভাচনেয়্যা, সুধোম নেয়্যা ওই যেবং!

গাবুরী, তুই কি সুনর মর পাচপরানর চিদের বেক কধানী?
নাহি তরও সুনদে গম ন লাগে, কানপাদা গরম ওই উধে এধক্যা কধায়!
সুন, তুও কোম; মত্তুন দ কুয়ো পরিবো এ সুংসুঙি দিনমায়-
কধে, আঝি যানা কি এধক উচ্চো এ মাদির বুঘত, চেদন থাক্কে?

গাবুরী, তুই সুনর?
Biken Chege

৭.৩.২০২২
জুমারাম, চাদিগাঙ

ছবি: অনুজা ক্রসরেনু নৃমণ্ডমালিনী (ত' আরুক্কো ন মাঘিয় লারিলুং।)

16/08/2021

কোচপানা
কে ভি দেবাশীষ চাঙমা
ঃঃঃঃ:ঃঃ:;;;;;;ঃঃঃ
এক হাক্কন তর কোচপানা
এক হাক্কন তর রিনি চানা
এক হাক্কন তর আল্যাঙ
তর হাক্কনর কোচপানা
মর ভালক বঝরর বাজি থানা।
বর গাঝরে যেন পাগচ্ছে ধরে
তর কোচপানা মরে পাগল গরে
কোচ পেদুং; এব'কোচপাং মুই তরে
এই কোচপানা থেব' জনমান।
তর হাক্কনর কোচপানা
মর ভালক বঝর বাজি থানা।
বৈসাগ মাঝ' কালা মেঘ ওইনে
কুন্তুন তুই উরি এলে ম জীবনত
ইক্কে তুই কুধু আঘচ,
কালা মেঘ' চান গোরি
মাঘ মাঝ' ধুব কুওনিত্তুন পুঝোর গরঙ
কমলে এবে ও মর পরান্যে।
তর হাক্কনর কোচপানা
মর ভালক বঝরর বাজি থানা।

অরক গাধেইয়ে- অঝরা চাঙমা।

07/08/2021

মঙ্গোলয়েড নৃ-বংশ ও বিস্তৃতি
সুপ্রিয় তালকদার


মঙ্গোলয়েড [Mongoloid] নৃ-বংশ বিশাল। মধ্য এশিয়ার পূর্ব ও দক্ষিণ সমগ্র অঞ্চল তাদের অধ্যুষিত। দ্বারা উত্তর চিনের ‘হান বা ‘খান’ জাতিই চিনা জাতির মূল উৎস এবং চিনা জাতি এই নৃ-বংশের সর্বপ্রধান শাখা, চিন তাদের দেশ। উত্তর পূর্ব ভারত এবং বর্তমান নেপাল ও বাংলাদেশে এই নৃ- বংশের যে শাখা প্রবেশ করেছে তারা এসেছে উত্তরে তিব্বত, পূর্বে বার্মা [মায়ানমার] ও সিয়াম [থাইল্যান্ড] থেকে। কাজেই তারা ভোটচিনা [Tibeto-chinese] গোষ্টিভূক্ত ভোটবর্মি [Tibeto-Burman] শাখার মানুষ। ‘হান’ বা ‘খান’ বা মূল চিনাদের থেকে পৃক। ভারতে ভোটবর্মি মানুষেরা ‘ইন্দো-মঙ্গোলয়েড’ হিসাবে পরিচিত।

ভোটবর্মিরা ভারতে আর্যদের আগমনের পূর্ব থেকেই বরাবর এসেছে। মোহেন-জো-দাড়োর কঙ্কালগুলিতেও মঙ্গোলয়েড মানুষের চিহ্ন নাকি চেনা যায়। হিমালয় পাদদেশে, আসামে ও বাংলায় তারা ছড়িয়ে পড়ে এবং বাঙালি ও অসমীয়াদের মধ্যে ব্যাপকভাবে মিশে যায়। তাদের জীবনযাত্রার প্রণালী কিছুটা হয়তো বাঙালি ও অসমীয়াদের জীবনযাত্রায়, ভাষায় এবং চরিত্রেও মিশে গিয়েছে। ১ অশোক বিশ্বাস লেখেন ভোটবমি [Tibeto-Burman] ভাষার প্রভাব সবচেয়ে বেশি যাদের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় সম্প্রসারিত হয়েছে তারা হলো রাজবংশী, কোচ, মেচ, হাজং, চাকমা ও চট্টগ্রামি বাঙালি। তাছাড়া গারো, ত্রিপুরা ও অন্যান্য বোডো ও কুকি-চিন ভাষা থেকে কিছু কিছু শব্দ ও ভাষার অন্যান্য উপাদান বাংলায় এসেছে।২

ভাষাবিদগণ Sino-tibetan[Tibeto-chinese] ভাষাকে দু’ভাগে বিভক্ত করেন। একটি হল ভোটবর্মি [Tibeto-Burman] অপরটি হল Siamese-Chinese [Thai-Chinese] চিনা ভাষাও এই সব ভাষার একই মূল ভাষা ছিল হয়তো পশ্চিম চিনের কোথাও। কিন্তু চিনা ভাষা খ্রিষ্টের জন্মের দু’হাজার বছর পূর্বে উত্তর চিনের ‘হান/‘খান’ শাখার নেতৃত্বে স্বতন্ত্র সভ্যতার দৃষ্টান্ত হিসেবে নিজস্ব ভঙিমায় গড়ে ওঠে। ভোটবর্মি [Tibeto- Burman] ভাষা ও অন্যান্য উপজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাব ও তাদের ওপর পড়েছে। খোদ চিনও বৌদ্ধধর্মের প্রভাবে দারুণ প্রভাবাম্বিত। তিব্বত সপ্তম শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকেই বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে।৩ বার্মা [মায়ানমার] ও সিয়ামে [থাইল্যান্ড] বৌদ্ধধর্ম এখনো প্রধান ধর্ম। অধূনা মায়ানমার ও থাই সমাজে সিংহভাগ বৌদ্ধ। একদা প্রবল হিন্দু প্রভাব তাদের সংস্কৃতিতে ছিল, তার লক্ষণ আজো অপ্রতুল নয়।

বর্মি [মায়ানমার] রা একাদশ শতাব্দী থেকে মধ্য বার্মার [মায়ানমার] মোন [Mon] দের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভারতীয় লিপিতে তাদের ভাষা লিখছেন। থাইরা তাই [Tai] দাই[Dai] জনগোষ্টির মানুষ। তারাও ‘খেমর’ [Khmer] দের থেকে প্রাপ্ত ভারতীয় লিপিতেই থাই [Tai] ভাষা লিখেছেন। আকৃতিগত দিক থেকে কম্বোডিয়ার ‘খেমর’[Khmer]] ও বর্মি [মায়ানমার] বর্ণমালা খুবই সাদশ্যপূর্ণ। বলা এই সব লিপি বা বর্ণমালার উৎপত্তি হলো প্রাচীন ভারতের ব্রাহ্মীলিপি। ভাবতে অবাক লাগে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বর্ণমালা ও এই ব্রাহ্মীলিপি হতে প্রাপ্ত চাকমা ও বর্মি [মায়ানমার] খেমর [Khmer]] বর্ণমালার সাথে সাদশ্যপূর্ণ। ভাষাবিদ G.A Grierson মনে করেন ৬ষ্ট ও ৭ম শতাব্দীতে দক্ষিণ ভারত থেকে ভারতীয়রা মায়ানমারের দক্ষিণ-পূর্বাংশে কযেকটি অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল এবং তারাই এই লিপি সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়েছিল।

গবেষকদের মতে, বস্তুত সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সম্ভবতঃ ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের মাধ্যমে ভারতীয় ভাষা, সাহিত্য, দর্শন, সভ্যতা, সংস্কৃতি প্রভৃতি প্রবেশ করেছিল। আজকের মায়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দ্বীপময় ভারত প্রভৃতি ভারতীয় ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাহিত্য, দর্শন, সভ্যতা প্রভৃতি ভারতীয় ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রভাবে গভীর ভাবে প্রভাবান্বিত।

মঙ্গোলয়েড পরিবারের ভাষায় অপর একটি শাখা হলো ‘অস্ত্রিক’ [Austric] বা প্রোটো অস্ত্রলয়ে [Proto-Australoid] এই ভাষাকে আবার দুটি শাখায় বিভক্ত করা হয়েছে। ১.অস্ট্রো-এশিয়াটিক [Austro-Asiatic] ২.অস্ট্রোনেশিয়ান [Austranasian]। অস্ট্রো-এশিয়াটিক শাখা বা বংশের মানুষ বার্মা [মায়ানমার], ইন্দোচিন ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া, পলিনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কোল বা মুন্ডা প্রভৃতি জাতি এদেরই বংশধর। আর এই বংশের ভাষাগুলি ভারতবর্ষ, নিকোবর দ্বীপ, বার্মা [মায়ানমার] ইন্দোচিন [কম্বোডিয়ার ‘খেমর’, কোচিন-চিনের চাম] প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এই ভাষা সম্পর্কে জানা যায় অতীতে বার্মা [মায়ানমার] ও ইন্দোচিনে ভারতের এই প্রাচীন [Proto-Australoid] জাতির সাথে মঙ্গোলীয়দের [Mongoloid] র সংশ্রব ঘটে। সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় লেখেন In Burma and Indo-China lived speakers of Austric [Austro-Asiatic] languages, who were largely of the Proto-Australoid race from India. A mixture of these Proto-Australoids with Mongolids in very early times in the Burma [Myanmar] and Indo-China is very likely, this mixture producing the ancient Rmen [Rman] or Mon people of central and Southern Burma, The Palkoungs and was of Upper Burma, as well as the Khmers, the Chams, the Stieng, the Bahnar and other Austric or Austro-Asiatic speakers of Saim [Thailand] and Indo-China”৫ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় বর্ণনা করেন থাইল্যান্ডের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের সাথে কোল জাতির সংমিশ্রণ ঘটেছে- থাই জাতের মানুষ দক্ষিণ অঞ্চলে দুটি আলাদা জাতির সংমিশ্রণে রূপ গ্রহণ করেছে-একটি মৌলিক জাতি হচ্ছে ‘মোন’ [Mon] আর ‘খেমর’ [khmers]] অষ্ট্রিক বা অস্ট্রো এশিয়াটিক জাতি, কোল জাতির জ্ঞাতি নাতিদীর্ঘ শ্যাম বা কৃষ্ণবর্ণ জাতির মানুষ এরা; আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে উত্তর থেকে আগত ‘থাই’[Thai] জাতির লোক-এরা মোঙ্গল জাতির মানুষ, পীতবর্ণ, চেপ্টা-নাক উঁচু চোয়াল, সরু-চোখ, চিনা বর্মি ভোটদের জ্ঞাতি। এই দুইয়ের সংমিশ্রণে যে থাই জাতির মানুষ গড়ে উঠেছে তাদের চেহারা অনেকটা বাঙালি ধরনের, তবে মোঙ্গল প্রভাবটি চেহারায় একটু বেশি। উত্তর-থাইল্যান্ডের এই মোঙ্গল থাই জাতির মানুষ অপেক্ষাকৃত সুন্দর দেখতে, আর পীত বা গৌরবর্ণ থাই মেয়ে অনেক সময় দেখতে বেশ সুন্দরীই হয়৬ ২. অস্ট্রোনেশিয়ান [Austranesian] বংশের প্রধান ভাষা হল মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ভাষা ও বিভিনড়ব উপভাষা। স্মরণাতীত কাল হতে মঙ্গোরয়েড নৃ-বংশের মানুষ প্রাচীন ভারতভূমিতে প্রবেশ করেছিল। এদের মধ্যে দুটি বৃহৎ দলের আগমন ঘটে। একটি হলো ভোটবর্মি [Tibeto-Burman] দের শাখা Bodo এবং অপর হল সিয়াম চিনা [Siamese-Chinese/Thai-Chinese] দের শাখা Ahom/Shan. Bodo. ইড়ফড় দের আগমন সম্পর্কে জানা যায় The Kacharis of Bara [mispronounced Bodo] as they call themselves, belong to the great Bodo tribe, Which is found not only in the Brahmaputra valley, but in the Garo Hills and Hills Tipperah south of the Surma valley. It is generally supposed that they are a section of the Indo-Chinese race, Whose original habit was somewhere between the upper waters of Yang-tsekiangand Hoang-ho, and they gradually spread in successive waves of immigration over the greater part of what is now province of Assam.7

উল্লেখিত বর্ণনা থেকে জানা যায় গারো ও ত্রিপুরাগণ Bodo দলভুক্ত জানগোষ্টি। বর্তমান ত্রিপুরা রাজ্য একটি প্রাচীন প্রদেশ। ইতিহাস দৃষ্টে জানা যায় The earliest chief of Tripura tribe who successfully defended his country against the Muslim power of Bengal was recorded in Rajmala was Cheng Tung Fa...... the kingdom which the established in the region came to be known as tripura kingdom. They Assumed the little Manikya, dropped the original title Fa, and their dynasty came to be known as the Manikya dynasty৮ ত্রিপুরারা হিন্দুধর্মালম্বী। তারা ককবরক ভাষায় কথা বলে। তাদের সংস্কৃতি খুবই বর্ণাঢ্য। অতীতে ত্রিপুরা শৌর্য-বীর্যের দেশ ছিল।

সিয়াম চিনা [Siamese-Chinese/Thai-Chinese] দলের থাই [Tai] জাতি তিনটি দলে বিভক্ত- Thai Yai, Thai Noi ও Thai ahom. Laotion ও Shan রাও তাদের উপদলভুক্ত। ইতিহাস দৃষ্টে জানা যায় ১২২৮ খ্রিষ্টাব্দে চিফ ঝঁশঁ-ঢ়যধ এর নেতৃত্বে অহোম [Ahom] রা আসাম অধিকার করে। তাদের আগমন সম্পর্কে সুনীতি কুমার চট্টপাধ্যায় বর্ণনা করেন। The various Tribeto-Burman groups thus came to be established on the soil of India in times of which we have no historical memory or notion, But within historical times, another Mongoloid people, this times not of Tibeto-Burman but of siamese-Chinese speech, entered into North Eastern Assam from Burman through the patkai Range and along the Noa- Dihang river.They were the Assams or Ahams[Ahoms], a people who gave their name, to the province of Assam. They advanced into Indian as a groups of invaders who established themselves in the eastern most part of the Brahmaputra valley under their chief Su-ku-pha in 1228 AD......... . The Ahoms belonged to the Thai of Shan section of the Siamese-Chinese branch of the Sino- Tibetan9 ৯ অহোমরা।

পাঁচশ বছর পর্যন্ত আসামে রাজত্ব করেছিল এবং নিজেদের ভাষা, লিপি, ধর্ম বজায় রেখেছিল কিন্তু মে হিন্দধর্ম অসমীয়া ভাষা গ্রহণ করে অসম বা অসমীয়া জাতিতে পরিণত হয়। অবশ্য অসমীয়া ভাষা হিন্দু-আর্য বংশের ভাষা, ভোটচিনা [Tibeto-chinese] বংশের নয়।

উত্তর-পূর্ব ভারতে ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয়, আসাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল রাজ্য অবস্থিত; মঙ্গোলয়েড নৃ-বংশের বিভিনড়ব শাখা-প্রশাখার জনগোষ্ঠির আবাসভূমি। ত্রিপুরায় ত্রিপুরা, রিয়াং, চাকমা, মগ, কুকি প্রভৃতি; মিজোরামে লুসাই, পাংখুয়া, বম, লাকের, চাকমা প্রভৃতি মেঘালয়ে খাসি, গারো ও জৈন্তিয়া, খাসিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই তিনটি জনগোষ্ঠি সবাই খ্রিষ্ট্রান ধর্মাবলম্বী। আসামে অহোম/অসমীয়া, বোড়ো, খামতি, কার্বি, চাকমা চুতিয়া প্রভৃতি, মুনপুরে মেইথেই, বিষ্ণুপ্রিয়া; নাগাল্যান্ডের নাগা ও তাদের বিভিনড়ব গোত্র [Clan আঙ্গামি, আও, সেমা তাংখুল, সংতেম, লোখা, মাও প্রভৃতি, এই সব গোত্রের ভাষা বা উপভাষাগুলি এতই বিচ্ছিনড়ব যে নাগারা পরস্পরের উপভাষা বোঝেনা। তাই অসমীয়া মিশ্রিত এক নাগা ভাষা নাগাল্যান্ডে চালু করা হয়েছে তার নাম ‘নাগামিজ’ [Nagamese] অর্থাৎ নাগা-আসামীজ। অরুণাচল প্রদেশে ১১০টি জনগোষ্ঠি রয়েছে, তন্মধ্যে আদিরা সংখ্যাগরিষ্ট। অন্যান্য জনগোষ্ঠিরা হলো-নিশি, ওয়ানচো, মোনপা, মিশিমি, নকটে, তাগিন, তাংসা, আপা, খামতি প্রভৃতি, তদুপরি যুক্ত হয়েছে চাকমা, দেওরিও অহোম। উত্তর-পূর্ব ভারতে উল্লিখিত রাজ্যগুলি ছাড়াও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে এই নৃ-বংশের অন্যান্য জনগোষ্ঠি বিক্ষিপ্ত ভাবে বসবাস করতে পারে। উত্তর-পূর্ব ভারতে অবস্থিত উল্লিখিত রাজ্যগুলোর মধ্যে মিজোরামে অভূতপূর্ব উনড়বতি সাধিত হয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে সারা ভারতে মিজোরামের স্থান দ্বিতীয়। মিজোরা তাদের কুকি চিন গোষ্ঠির ভাষা রোমান হরফে লেখে তারা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। মেঘালয়ের রাজধানী শিলং অবিভক্ত আসামের রাজধানী ছিল। শিলং স্কুল কলেজে ইংরেজি ভাষায় শিক্ষা দানের আদর্শ পীঠস্থান। অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য শিলং শহর বিখ্যাত। এই শহরকে বলা হয় Queen of Hill Station of India আর ব্রিটিশ আমলে সাহেবেরা ডেকেছে Scotland of the Eastt প্রকৃতি আর মানুষ এই শহরকে সাজিয়েছে সে এক অপরুপ সাজে।

নেপাল গোর্খা [গুর্খা], নেওয়ার তামাং, শেরপা, গুরুং লেপচা, থাপা, শাক্য, লিম্বু প্রভৃতি জনগোষ্ঠির আবাসভূমি। তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব আলাদা ভাষা রয়েছে যদিওবা সচরাচর তারা রাষ্ট্রীয় নেপালি ভাষায় কথা বলে। শাক্যরা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী। বৌদ্ধধর্মাবলম্বী তিব্বতিরাও নেপালে বসতি স্থাপন করেছে, তাদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। মহামানব গৌতম বুদ্ধ এই নেপালি শাক্য বংশে লুম্বিনিতে [প্রাচীন ভারত] জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। শাক্যরা ব্যতীত অন্যান্য জনগোষ্ঠি সবাই হিন্দু-ধর্মাবলম্বী। উল্লেখ্য যে সারা বিশ্বে নেপাল একটি মাত্র হিন্দু রাষ্ট্র।

বাংলাদেশে, রাংগামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান [পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল] কক্সবাজার, সিলেট, বরিশাল, পটুয়াখালি, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা প্রভৃতি এবং উত্তর-পূর্ববঙ্গের কয়েকটি জেলায় মঙ্গোলয়েড নৃ-বংশের বিভিনড়ব শাখার জনবসতি রয়েছে। কক্সবাজার জেলা মূলতঃ রাখাইন অধ্যুষিত অঞ্চল, তবে জেলার বিভিনড়ব স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে দৈনাক/তঞ্চঙ্গ্যা [চাকমাদের একটি উপদল] রা সুদীর্ঘকাল হতে বসবাস করে আসছে। রাখাইনরা রাখাইন ভাষায় [আরাকানি] কথা বলে এবং মায়ানমা হরফে নিজেদের ভাষা লিখে। প্রকৃতপক্ষে রাখাইন ও বর্মি [Burman] রা একই জাতিভূক্ত। তারা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী। অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম [রাংগামাটি, খাগড়াছড়ি,বান্দরবান] জেলার উত্তরে উত্তর পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও উত্তর-পূর্বে মিজোরাম রাজ্য এবং দক্ষিণে মায়ানমার রাখাইন রাজ্য [আরাকান] অবস্থিত বিধায় এই জেলা একটি প্রান্তিক জেলা। এই জেলা মঙ্গোলয়েড-নৃ বংশ বা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভুত এগারটি জনগোষ্ঠি সুদুর অতীতকাল হতে বসবাস করে আসছে। তারা হলো চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, লুসাই, পাংখোয়া, বম, খুমি, খ্যাং ও ম্রো। তাদের নিজেদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে যেগুলো পারস্পরিক সাদশ্যপূর্ণ তবে কিছুটা ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। বাংলাপিডিয়াতে লেখা হয়েছে চাকমা ভাষায় চিনা ভাষার মতো টান [Tone] আছে, তবে তা প্রকট নয়। চাকমা ও মারমাদের ঐতিহ্যবাহী বর্ণমালাও রয়েছে। তারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। চাকমারা সংখ্যাগরিষ্ঠ; শিক্ষা, রাজনীতি, চাকুরি, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে তারা অগ্রগামী। এই ১১ টি জনগোষ্ঠি ব্যতীত কিছুসংখ্যক আসাম/অসমীয়া ও নেপালি জাতিভূক্ত বিভিনড়ব সম্প্রদায়ের এতদ অঞ্চলে বসতি রয়েছে। সিলেট জেলায় মনিপুরী, খাসি ও জৈন্তিয়া জনগোষ্ঠির বাস।তারা হয়তো পূর্বে উত্তর-পূর্ব ভারতের মনিপুর ও মেঘালয় রাজ্য থেকে এসে সিলেটে বসতি গড়েছিল কারণ অতীতে সিলেট আসামের অংশ ছিল। বরিশালে ও পটুয়াখালী জেলায় বসবাসরত রাখাইনরাও কক্সবাজার জেলায় রাখাইনরা একই জনগোষ্ঠি। তারা মূলতঃ মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে [আরাকান] থেকে এসেছে। অবিভক্ত ময়মনসিংহ জেলার বিরিশিরি, মধুপুর, হালুয়া ঘাট প্রভৃতি স্থানে গারো সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করে। তাদের ভাষা ত্রিপুরা ভাষার সাথে সাদশ্যপূর্ণ যেহেতু উভয় ভাষা বোডো পরিবারভুক্ত। গারোরা খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। তাদের অধিকাংশ লোক উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অবস্থিত গারো পাহাড়ে [Garo Hills] বসবাস করে। উত্তর পূর্ববঙ্গে বসবাসকারী রাজবংশী, কোচ প্রভৃতি সম্প্রদায় নিজেদের ভাষায় কথা বলতো এবং তারা দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের ভাষা ধরে রেখেছিল কিন্তু মে বাংলাভাষী মানুষের সংস্পর্শে এসে বাংলা ভাষার প্রবল প্রভাবে নিজেদের ভাষা ভুলে গিয়ে বাংলা ভাষা গ্রহণ করেছে, তাছাড়া অনেকেই হিন্দু ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বাঙালি হয়ে গেছে, তবে চেহারায় মঙ্গোলীয় ছাপ সুস্পষ্ট। উত্তর-পূর্ববঙ্গের জেলাগুলোতে এইরুপ মানুষের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়।

ভারতকে বলা হয়েছে `Museum of Races’। ভারতে ১৫ টি প্রধান ভাষা এবং প্রায় ৯০০টি আঞ্চলিক বা উপভাষা রয়েছে। ইতোমধ্যে হয়তো ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে ভাষার সংখ্যা বৃদ্ধিও পেয়েছে। ভারত আর্য, অনার্য, দ্রাবির, মঙ্গোলীয় ও অন্যান্য বিভিনড়ব সংকর জাতির দেশ। মঙ্গোলয়েড নৃ-বংশের বিভিনড়ব শাখা-প্রশাখার বিভিনড়ব জাতি জনগোষ্ঠি উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বর্তমান বাংলাদেশ ও নেপালে প্রবেশ করেছিল, তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা উল্লেখ করা হলো। অপরদিকে গৌতম বুদ্ধের পরিনির্বাণের পূর্বে আনুমানিক ৬ষ্ঠ শতাব্দী হতে শাক্যবংশীয় বৌদ্ধরা ভারত থেকে বিতারিত হতে শুরু হলে উত্তরে তিব্বত, নেপাল পূর্বদিকে আসাম হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করেছিল বলে ঐতিহাসিকগণ ধারণা করেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, উত্তর-পূর্ব ভারত হতে সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত এই বিস্তীর্ণ ভূভাগ জুরে শাক্যবংশীয় জনগোষ্ঠি এবং মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভুত বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায়, দল,উপদল বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হয়ে সংস্কৃতি আদান-প্রদানের মাধ্যমে পারস্পরিক মিলনক্ষেত্র গড়েছিল তাই এই বিস্তীর্ণ এলাকা জুরে বসবাসরত জাতি, উপজাতি, সম্প্রদায় আদিবাসীর সাংস্কৃতিক পটভূমি, জীবনযাত্রার প্রণালী, কৃষিপদ্ধতি, আচার-আচরণ,সামাজিক রীতিনীতি, বিশ্বাস খাদ্যভ্যাস আপাততঃ দৃষ্টিতে কিছুটা ক্ষেত্র বিশেষে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হলেও মূলত: এক ও অভিনড়ব। নৃ-বিজ্ঞান মতে বর্তমানে কোনো জাতি বা গোষ্ঠি তার জাতিগত বিশুদ্ধতা [Racial Purity] দাবি করতে পারে না। পৃথিবীর মানব জাতির মধ্যে কোন না কোন ভাবে রক্তের মিশ্রণ ঘটেছে ঐতিহাসিক কারণে।

শুরুতে বলা হয়েছে মধ্য এশিয়ায় মঙ্গোলয়েড নৃ-বংশের ‘হান’ বা ‘খান’ জাতিই চিনা জাতির মূল উৎস। কাজেই পরবর্তীতে তারা বিভক্ত হলেও তাদের শিকড় [Root] এক ও অভিন্ন। মঙ্গোলিয়ার প্রধান শাসক তেমুজিন [Temujin] তার বীরত্বের জন্য চেঙ্গিস খান [Genghis khan] নামে পরিচিতি লাভ করেন যার অর্থ ‘Golden lineage’ ইতিহাস দৃষ্টে জানা যায় চেঙ্গিস খানের দৌহিত্র কুবলাই খান ‘[kublai Khan]’ বিশ্বে সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্য শাসন করেন। যাহোক, চেঙ্গিস খানের বংশধরেরা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল যাদের অস্তিত্ব আজো মঙ্গোলিয়া, চিন, ভারত, রাশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য প্রাচ্য, উজবেকিস্তান, তুর্কমেকিস্তান, তাজিকিস্তান, কাজাখাস্তান, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে রয়েছে। সম্প্রতি আমেরিকা নিবাসী একজন চাকমা মহিলা খেয়ালবশতঃ ডি.এন.এ টেস্ট করে জানতে পেরেছেন যে তিনি চেঙ্গিস খানের বংশধর। কাজাখাস্তানের মুদ্রা [Currency] র নাম হচ্ছে Tange । প্রতীয়মান হয় যে এই শব্দ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত মারমা জনগোষ্ঠি টাকাকে ‘তেংগা’ এবং চাকমা জনগোষ্ঠি ‘তেঙা’ বলে, এই দু’টি দৃষ্টান্তই চমকপ্রদ। একই নৃ-বংশের মানুষ পরস্পরের কাছ থেকে হাজার হাজার বছর পূর্বে বিচ্ছিনড়ব হলেও অবিচ্ছিনড়ব টানে আজো এইরুপ কিছু কিছু দৃষ্টান্ত কখনো কখনো গোচরীভূত হয় যা রীতিমত বিস্ময়কর।

তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জি:
১. গোপাল হালদার, ভারতের ভাষা, কলকাতা, ১৯৯৩ পৃঃ ২৪।
২. অশোক বিশ্বাস, বাংলা ভাষায় ভোট-বর্মী ভাষার প্রভাব, বাংলা একাডেমি, ঢাকা,২০০৮ পৃঃ ৫।
৩. গোপাল হালদার, ভারতের ভাষা, কলকাতা, ১৯৯৩ পৃঃ ২৫।
৪. G.A Grierson, Linguistic Survey of India. Vol.v. part11,calcutta,1903P321.
৫. সুনীতি কুমার চট্টপাধ্যায়, রবীন্দ্র সঙ্গমে দ্বীপময় ভারত ও শ্যামদেশ [প্রম
সংস্করণ কলকাতা ১৯৪০ পৃঃ ৫১৩।
৬. suniti kumar chatterji, kirata-jana-krti, calcutta, 1951.P20-22.
৭. BC. Allen, Assam District gazetteer, Vol.vi calcutta, 1905. P.31.
৮. Gan Chawduri, Tripura Land and its people, calcutta, P14.
৯. suniti kumar chatterji, kirata-jana-krti, calcutta, 1951.P51-102.

পরিচিতি : সুপ্রিয় তালুকদার, প্রাক্তন পরিচালক, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট (বর্তমান ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট), রাঙ্গামাটি।

লেখাটি সংগ্রহ করা হয়েছে ‘রাদংকাবা, বিঝু -২০১৯, সম্পাদক-নির্মলকান্তি চাকমা।)

মঙ্গোলয়েড নৃ-বংশ ও বিস্তৃতি
সুপ্রিয় তালকদার


মঙ্গোলয়েড [Mongoloid] নৃ-বংশ বিশাল। মধ্য এশিয়ার পূর্ব ও দক্ষিণ সমগ্র অঞ্চল তাদের অধ্যুষিত। দ্বারা উত্তর চিনের ‘হান বা ‘খান’ জাতিই চিনা জাতির মূল উৎস এবং চিনা জাতি এই নৃ-বংশের সর্বপ্রধান শাখা, চিন তাদের দেশ। উত্তর পূর্ব ভারত এবং বর্তমান নেপাল ও বাংলাদেশে এই নৃ- বংশের যে শাখা প্রবেশ করেছে তারা এসেছে উত্তরে তিব্বত, পূর্বে বার্মা [মায়ানমার] ও সিয়াম [থাইল্যান্ড] থেকে। কাজেই তারা ভোটচিনা [Tibeto-chinese] গোষ্টিভূক্ত ভোটবর্মি [Tibeto-Burman] শাখার মানুষ। ‘হান’ বা ‘খান’ বা মূল চিনাদের থেকে পৃক। ভারতে ভোটবর্মি মানুষেরা ‘ইন্দো-মঙ্গোলয়েড’ হিসাবে পরিচিত।

ভোটবর্মিরা ভারতে আর্যদের আগমনের পূর্ব থেকেই বরাবর এসেছে। মোহেন-জো-দাড়োর কঙ্কালগুলিতেও মঙ্গোলয়েড মানুষের চিহ্ন নাকি চেনা যায়। হিমালয় পাদদেশে, আসামে ও বাংলায় তারা ছড়িয়ে পড়ে এবং বাঙালি ও অসমীয়াদের মধ্যে ব্যাপকভাবে মিশে যায়। তাদের জীবনযাত্রার প্রণালী কিছুটা হয়তো বাঙালি ও অসমীয়াদের জীবনযাত্রায়, ভাষায় এবং চরিত্রেও মিশে গিয়েছে। ১ অশোক বিশ্বাস লেখেন ভোটবমি [Tibeto-Burman] ভাষার প্রভাব সবচেয়ে বেশি যাদের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় সম্প্রসারিত হয়েছে তারা হলো রাজবংশী, কোচ, মেচ, হাজং, চাকমা ও চট্টগ্রামি বাঙালি। তাছাড়া গারো, ত্রিপুরা ও অন্যান্য বোডো ও কুকি-চিন ভাষা থেকে কিছু কিছু শব্দ ও ভাষার অন্যান্য উপাদান বাংলায় এসেছে।২

ভাষাবিদগণ Sino-tibetan[Tibeto-chinese] ভাষাকে দু’ভাগে বিভক্ত করেন। একটি হল ভোটবর্মি [Tibeto-Burman] অপরটি হল Siamese-Chinese [Thai-Chinese] চিনা ভাষাও এই সব ভাষার একই মূল ভাষা ছিল হয়তো পশ্চিম চিনের কোথাও। কিন্তু চিনা ভাষা খ্রিষ্টের জন্মের দু’হাজার বছর পূর্বে উত্তর চিনের ‘হান/‘খান’ শাখার নেতৃত্বে স্বতন্ত্র সভ্যতার দৃষ্টান্ত হিসেবে নিজস্ব ভঙিমায় গড়ে ওঠে। ভোটবর্মি [Tibeto- Burman] ভাষা ও অন্যান্য উপজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাব ও তাদের ওপর পড়েছে। খোদ চিনও বৌদ্ধধর্মের প্রভাবে দারুণ প্রভাবাম্বিত। তিব্বত সপ্তম শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকেই বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে।৩ বার্মা [মায়ানমার] ও সিয়ামে [থাইল্যান্ড] বৌদ্ধধর্ম এখনো প্রধান ধর্ম। অধূনা মায়ানমার ও থাই সমাজে সিংহভাগ বৌদ্ধ। একদা প্রবল হিন্দু প্রভাব তাদের সংস্কৃতিতে ছিল, তার লক্ষণ আজো অপ্রতুল নয়।

বর্মি [মায়ানমার] রা একাদশ শতাব্দী থেকে মধ্য বার্মার [মায়ানমার] মোন [Mon] দের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভারতীয় লিপিতে তাদের ভাষা লিখছেন। থাইরা তাই [Tai] দাই[Dai] জনগোষ্টির মানুষ। তারাও ‘খেমর’ [Khmer] দের থেকে প্রাপ্ত ভারতীয় লিপিতেই থাই [Tai] ভাষা লিখেছেন। আকৃতিগত দিক থেকে কম্বোডিয়ার ‘খেমর’[Khmer]] ও বর্মি [মায়ানমার] বর্ণমালা খুবই সাদশ্যপূর্ণ। বলা এই সব লিপি বা বর্ণমালার উৎপত্তি হলো প্রাচীন ভারতের ব্রাহ্মীলিপি। ভাবতে অবাক লাগে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বর্ণমালা ও এই ব্রাহ্মীলিপি হতে প্রাপ্ত চাকমা ও বর্মি [মায়ানমার] খেমর [Khmer]] বর্ণমালার সাথে সাদশ্যপূর্ণ। ভাষাবিদ G.A Grierson মনে করেন ৬ষ্ট ও ৭ম শতাব্দীতে দক্ষিণ ভারত থেকে ভারতীয়রা মায়ানমারের দক্ষিণ-পূর্বাংশে কযেকটি অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল এবং তারাই এই লিপি সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়েছিল।

গবেষকদের মতে, বস্তুত সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সম্ভবতঃ ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের মাধ্যমে ভারতীয় ভাষা, সাহিত্য, দর্শন, সভ্যতা, সংস্কৃতি প্রভৃতি প্রবেশ করেছিল। আজকের মায়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দ্বীপময় ভারত প্রভৃতি ভারতীয় ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাহিত্য, দর্শন, সভ্যতা প্রভৃতি ভারতীয় ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রভাবে গভীর ভাবে প্রভাবান্বিত।

মঙ্গোলয়েড পরিবারের ভাষায় অপর একটি শাখা হলো ‘অস্ত্রিক’ [Austric] বা প্রোটো অস্ত্রলয়ে [Proto-Australoid] এই ভাষাকে আবার দুটি শাখায় বিভক্ত করা হয়েছে। ১.অস্ট্রো-এশিয়াটিক [Austro-Asiatic] ২.অস্ট্রোনেশিয়ান [Austranasian]। অস্ট্রো-এশিয়াটিক শাখা বা বংশের মানুষ বার্মা [মায়ানমার], ইন্দোচিন ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া, পলিনেশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কোল বা মুন্ডা প্রভৃতি জাতি এদেরই বংশধর। আর এই বংশের ভাষাগুলি ভারতবর্ষ, নিকোবর দ্বীপ, বার্মা [মায়ানমার] ইন্দোচিন [কম্বোডিয়ার ‘খেমর’, কোচিন-চিনের চাম] প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এই ভাষা সম্পর্কে জানা যায় অতীতে বার্মা [মায়ানমার] ও ইন্দোচিনে ভারতের এই প্রাচীন [Proto-Australoid] জাতির সাথে মঙ্গোলীয়দের [Mongoloid] র সংশ্রব ঘটে। সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় লেখেন In Burma and Indo-China lived speakers of Austric [Austro-Asiatic] languages, who were largely of the Proto-Australoid race from India. A mixture of these Proto-Australoids with Mongolids in very early times in the Burma [Myanmar] and Indo-China is very likely, this mixture producing the ancient Rmen [Rman] or Mon people of central and Southern Burma, The Palkoungs and was of Upper Burma, as well as the Khmers, the Chams, the Stieng, the Bahnar and other Austric or Austro-Asiatic speakers of Saim [Thailand] and Indo-China”৫ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় বর্ণনা করেন থাইল্যান্ডের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের সাথে কোল জাতির সংমিশ্রণ ঘটেছে- থাই জাতের মানুষ দক্ষিণ অঞ্চলে দুটি আলাদা জাতির সংমিশ্রণে রূপ গ্রহণ করেছে-একটি মৌলিক জাতি হচ্ছে ‘মোন’ [Mon] আর ‘খেমর’ [khmers]] অষ্ট্রিক বা অস্ট্রো এশিয়াটিক জাতি, কোল জাতির জ্ঞাতি নাতিদীর্ঘ শ্যাম বা কৃষ্ণবর্ণ জাতির মানুষ এরা; আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে উত্তর থেকে আগত ‘থাই’[Thai] জাতির লোক-এরা মোঙ্গল জাতির মানুষ, পীতবর্ণ, চেপ্টা-নাক উঁচু চোয়াল, সরু-চোখ, চিনা বর্মি ভোটদের জ্ঞাতি। এই দুইয়ের সংমিশ্রণে যে থাই জাতির মানুষ গড়ে উঠেছে তাদের চেহারা অনেকটা বাঙালি ধরনের, তবে মোঙ্গল প্রভাবটি চেহারায় একটু বেশি। উত্তর-থাইল্যান্ডের এই মোঙ্গল থাই জাতির মানুষ অপেক্ষাকৃত সুন্দর দেখতে, আর পীত বা গৌরবর্ণ থাই মেয়ে অনেক সময় দেখতে বেশ সুন্দরীই হয়৬ ২. অস্ট্রোনেশিয়ান [Austranesian] বংশের প্রধান ভাষা হল মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ভাষা ও বিভিনড়ব উপভাষা। স্মরণাতীত কাল হতে মঙ্গোরয়েড নৃ-বংশের মানুষ প্রাচীন ভারতভূমিতে প্রবেশ করেছিল। এদের মধ্যে দুটি বৃহৎ দলের আগমন ঘটে। একটি হলো ভোটবর্মি [Tibeto-Burman] দের শাখা Bodo এবং অপর হল সিয়াম চিনা [Siamese-Chinese/Thai-Chinese] দের শাখা Ahom/Shan. Bodo. ইড়ফড় দের আগমন সম্পর্কে জানা যায় The Kacharis of Bara [mispronounced Bodo] as they call themselves, belong to the great Bodo tribe, Which is found not only in the Brahmaputra valley, but in the Garo Hills and Hills Tipperah south of the Surma valley. It is generally supposed that they are a section of the Indo-Chinese race, Whose original habit was somewhere between the upper waters of Yang-tsekiangand Hoang-ho, and they gradually spread in successive waves of immigration over the greater part of what is now province of Assam.7

উল্লেখিত বর্ণনা থেকে জানা যায় গারো ও ত্রিপুরাগণ Bodo দলভুক্ত জানগোষ্টি। বর্তমান ত্রিপুরা রাজ্য একটি প্রাচীন প্রদেশ। ইতিহাস দৃষ্টে জানা যায় The earliest chief of Tripura tribe who successfully defended his country against the Muslim power of Bengal was recorded in Rajmala was Cheng Tung Fa...... the kingdom which the established in the region came to be known as tripura kingdom. They Assumed the little Manikya, dropped the original title Fa, and their dynasty came to be known as the Manikya dynasty৮ ত্রিপুরারা হিন্দুধর্মালম্বী। তারা ককবরক ভাষায় কথা বলে। তাদের সংস্কৃতি খুবই বর্ণাঢ্য। অতীতে ত্রিপুরা শৌর্য-বীর্যের দেশ ছিল।

সিয়াম চিনা [Siamese-Chinese/Thai-Chinese] দলের থাই [Tai] জাতি তিনটি দলে বিভক্ত- Thai Yai, Thai Noi ও Thai ahom. Laotion ও Shan রাও তাদের উপদলভুক্ত। ইতিহাস দৃষ্টে জানা যায় ১২২৮ খ্রিষ্টাব্দে চিফ ঝঁশঁ-ঢ়যধ এর নেতৃত্বে অহোম [Ahom] রা আসাম অধিকার করে। তাদের আগমন সম্পর্কে সুনীতি কুমার চট্টপাধ্যায় বর্ণনা করেন। The various Tribeto-Burman groups thus came to be established on the soil of India in times of which we have no historical memory or notion, But within historical times, another Mongoloid people, this times not of Tibeto-Burman but of siamese-Chinese speech, entered into North Eastern Assam from Burman through the patkai Range and along the Noa- Dihang river.They were the Assams or Ahams[Ahoms], a people who gave their name, to the province of Assam. They advanced into Indian as a groups of invaders who established themselves in the eastern most part of the Brahmaputra valley under their chief Su-ku-pha in 1228 AD......... . The Ahoms belonged to the Thai of Shan section of the Siamese-Chinese branch of the Sino- Tibetan9 ৯ অহোমরা।

পাঁচশ বছর পর্যন্ত আসামে রাজত্ব করেছিল এবং নিজেদের ভাষা, লিপি, ধর্ম বজায় রেখেছিল কিন্তু মে হিন্দধর্ম অসমীয়া ভাষা গ্রহণ করে অসম বা অসমীয়া জাতিতে পরিণত হয়। অবশ্য অসমীয়া ভাষা হিন্দু-আর্য বংশের ভাষা, ভোটচিনা [Tibeto-chinese] বংশের নয়।

উত্তর-পূর্ব ভারতে ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয়, আসাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল রাজ্য অবস্থিত; মঙ্গোলয়েড নৃ-বংশের বিভিনড়ব শাখা-প্রশাখার জনগোষ্ঠির আবাসভূমি। ত্রিপুরায় ত্রিপুরা, রিয়াং, চাকমা, মগ, কুকি প্রভৃতি; মিজোরামে লুসাই, পাংখুয়া, বম, লাকের, চাকমা প্রভৃতি মেঘালয়ে খাসি, গারো ও জৈন্তিয়া, খাসিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই তিনটি জনগোষ্ঠি সবাই খ্রিষ্ট্রান ধর্মাবলম্বী। আসামে অহোম/অসমীয়া, বোড়ো, খামতি, কার্বি, চাকমা চুতিয়া প্রভৃতি, মুনপুরে মেইথেই, বিষ্ণুপ্রিয়া; নাগাল্যান্ডের নাগা ও তাদের বিভিনড়ব গোত্র [Clan আঙ্গামি, আও, সেমা তাংখুল, সংতেম, লোখা, মাও প্রভৃতি, এই সব গোত্রের ভাষা বা উপভাষাগুলি এতই বিচ্ছিনড়ব যে নাগারা পরস্পরের উপভাষা বোঝেনা। তাই অসমীয়া মিশ্রিত এক নাগা ভাষা নাগাল্যান্ডে চালু করা হয়েছে তার নাম ‘নাগামিজ’ [Nagamese] অর্থাৎ নাগা-আসামীজ। অরুণাচল প্রদেশে ১১০টি জনগোষ্ঠি রয়েছে, তন্মধ্যে আদিরা সংখ্যাগরিষ্ট। অন্যান্য জনগোষ্ঠিরা হলো-নিশি, ওয়ানচো, মোনপা, মিশিমি, নকটে, তাগিন, তাংসা, আপা, খামতি প্রভৃতি, তদুপরি যুক্ত হয়েছে চাকমা, দেওরিও অহোম। উত্তর-পূর্ব ভারতে উল্লিখিত রাজ্যগুলি ছাড়াও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে এই নৃ-বংশের অন্যান্য জনগোষ্ঠি বিক্ষিপ্ত ভাবে বসবাস করতে পারে। উত্তর-পূর্ব ভারতে অবস্থিত উল্লিখিত রাজ্যগুলোর মধ্যে মিজোরামে অভূতপূর্ব উনড়বতি সাধিত হয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে সারা ভারতে মিজোরামের স্থান দ্বিতীয়। মিজোরা তাদের কুকি চিন গোষ্ঠির ভাষা রোমান হরফে লেখে তারা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। মেঘালয়ের রাজধানী শিলং অবিভক্ত আসামের রাজধানী ছিল। শিলং স্কুল কলেজে ইংরেজি ভাষায় শিক্ষা দানের আদর্শ পীঠস্থান। অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য শিলং শহর বিখ্যাত। এই শহরকে বলা হয় Queen of Hill Station of India আর ব্রিটিশ আমলে সাহেবেরা ডেকেছে Scotland of the Eastt প্রকৃতি আর মানুষ এই শহরকে সাজিয়েছে সে এক অপরুপ সাজে।

নেপাল গোর্খা [গুর্খা], নেওয়ার তামাং, শেরপা, গুরুং লেপচা, থাপা, শাক্য, লিম্বু প্রভৃতি জনগোষ্ঠির আবাসভূমি। তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব আলাদা ভাষা রয়েছে যদিওবা সচরাচর তারা রাষ্ট্রীয় নেপালি ভাষায় কথা বলে। শাক্যরা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী। বৌদ্ধধর্মাবলম্বী তিব্বতিরাও নেপালে বসতি স্থাপন করেছে, তাদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। মহামানব গৌতম বুদ্ধ এই নেপালি শাক্য বংশে লুম্বিনিতে [প্রাচীন ভারত] জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। শাক্যরা ব্যতীত অন্যান্য জনগোষ্ঠি সবাই হিন্দু-ধর্মাবলম্বী। উল্লেখ্য যে সারা বিশ্বে নেপাল একটি মাত্র হিন্দু রাষ্ট্র।

বাংলাদেশে, রাংগামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান [পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল] কক্সবাজার, সিলেট, বরিশাল, পটুয়াখালি, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা প্রভৃতি এবং উত্তর-পূর্ববঙ্গের কয়েকটি জেলায় মঙ্গোলয়েড নৃ-বংশের বিভিনড়ব শাখার জনবসতি রয়েছে। কক্সবাজার জেলা মূলতঃ রাখাইন অধ্যুষিত অঞ্চল, তবে জেলার বিভিনড়ব স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে দৈনাক/তঞ্চঙ্গ্যা [চাকমাদের একটি উপদল] রা সুদীর্ঘকাল হতে বসবাস করে আসছে। রাখাইনরা রাখাইন ভাষায় [আরাকানি] কথা বলে এবং মায়ানমা হরফে নিজেদের ভাষা লিখে। প্রকৃতপক্ষে রাখাইন ও বর্মি [Burman] রা একই জাতিভূক্ত। তারা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী। অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম [রাংগামাটি, খাগড়াছড়ি,বান্দরবান] জেলার উত্তরে উত্তর পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও উত্তর-পূর্বে মিজোরাম রাজ্য এবং দক্ষিণে মায়ানমার রাখাইন রাজ্য [আরাকান] অবস্থিত বিধায় এই জেলা একটি প্রান্তিক জেলা। এই জেলা মঙ্গোলয়েড-নৃ বংশ বা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভুত এগারটি জনগোষ্ঠি সুদুর অতীতকাল হতে বসবাস করে আসছে। তারা হলো চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, লুসাই, পাংখোয়া, বম, খুমি, খ্যাং ও ম্রো। তাদের নিজেদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান রয়েছে যেগুলো পারস্পরিক সাদশ্যপূর্ণ তবে কিছুটা ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। বাংলাপিডিয়াতে লেখা হয়েছে চাকমা ভাষায় চিনা ভাষার মতো টান [Tone] আছে, তবে তা প্রকট নয়। চাকমা ও মারমাদের ঐতিহ্যবাহী বর্ণমালাও রয়েছে। তারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। চাকমারা সংখ্যাগরিষ্ঠ; শিক্ষা, রাজনীতি, চাকুরি, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে তারা অগ্রগামী। এই ১১ টি জনগোষ্ঠি ব্যতীত কিছুসংখ্যক আসাম/অসমীয়া ও নেপালি জাতিভূক্ত বিভিনড়ব সম্প্রদায়ের এতদ অঞ্চলে বসতি রয়েছে। সিলেট জেলায় মনিপুরী, খাসি ও জৈন্তিয়া জনগোষ্ঠির বাস।তারা হয়তো পূর্বে উত্তর-পূর্ব ভারতের মনিপুর ও মেঘালয় রাজ্য থেকে এসে সিলেটে বসতি গড়েছিল কারণ অতীতে সিলেট আসামের অংশ ছিল। বরিশালে ও পটুয়াখালী জেলায় বসবাসরত রাখাইনরাও কক্সবাজার জেলায় রাখাইনরা একই জনগোষ্ঠি। তারা মূলতঃ মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে [আরাকান] থেকে এসেছে। অবিভক্ত ময়মনসিংহ জেলার বিরিশিরি, মধুপুর, হালুয়া ঘাট প্রভৃতি স্থানে গারো সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করে। তাদের ভাষা ত্রিপুরা ভাষার সাথে সাদশ্যপূর্ণ যেহেতু উভয় ভাষা বোডো পরিবারভুক্ত। গারোরা খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। তাদের অধিকাংশ লোক উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অবস্থিত গারো পাহাড়ে [Garo Hills] বসবাস করে। উত্তর পূর্ববঙ্গে বসবাসকারী রাজবংশী, কোচ প্রভৃতি সম্প্রদায় নিজেদের ভাষায় কথা বলতো এবং তারা দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের ভাষা ধরে রেখেছিল কিন্তু মে বাংলাভাষী মানুষের সংস্পর্শে এসে বাংলা ভাষার প্রবল প্রভাবে নিজেদের ভাষা ভুলে গিয়ে বাংলা ভাষা গ্রহণ করেছে, তাছাড়া অনেকেই হিন্দু ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বাঙালি হয়ে গেছে, তবে চেহারায় মঙ্গোলীয় ছাপ সুস্পষ্ট। উত্তর-পূর্ববঙ্গের জেলাগুলোতে এইরুপ মানুষের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়।

ভারতকে বলা হয়েছে `Museum of Races’। ভারতে ১৫ টি প্রধান ভাষা এবং প্রায় ৯০০টি আঞ্চলিক বা উপভাষা রয়েছে। ইতোমধ্যে হয়তো ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে ভাষার সংখ্যা বৃদ্ধিও পেয়েছে। ভারত আর্য, অনার্য, দ্রাবির, মঙ্গোলীয় ও অন্যান্য বিভিনড়ব সংকর

Address

Dighinala
Khagrachari

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Fudandi Fulo Tumbaz posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share