05/01/2026
ভদন্ত জ্ঞানবল ভিক্ষুর জন্ম ১৯৮৪ সালের ১০ই জুলাই, খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়। তার গৃহী নাম সঞ্চায়ন চাকমা। গ্রামের বাড়ি ছিল বেতছড়িতে। পরে তাদের পরিবার এসে থিতু হয় খাগড়াছড়ি সদরের উপালিপাড়া গ্রামে। পিতা শৈলেন্দু চাকমা ছিলেন কমলছড়ি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মাতা গীতা চাকমা একজন কর্মঠ গৃহিণী।
পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। ছোটবেলায় লেখাপড়া করেন খাগড়াছড়ি সদরে অবস্থিত দক্ষিণ খবংপুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
১৯৯৯ সালে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০০১ সালে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
২০০৬ সালে চুয়েট থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন।
ছোটবেলা থেকেই প্রব্রজ্যার প্রতি ছিল ভীষণ টান। তাই ২০০৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পরেই প্রথম প্রব্রজ্যা নেন রাঙ্গামাটি নানিয়াচর উপজেলার বিখ্যাত সাধক বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরোর কাছে। পরে রাজবন বিহারে এসে ভিক্ষু হন। কিন্ত কয়েক মাস পরেই পিতামাতার কথা চিন্তা করে চীবর ত্যাগ করেন। এরপর আবুল খায়ের স্টিল মিলে প্রোডাকশনস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করেন বছরখানেক।
এরপর চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে বুয়েটে এমএসসি করতে যান। কিন্তু বুয়েটের পড়াশোনাও ভালো লাগেনি। তাই পরবর্তীতে ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু পাঁচ-ছয় মাস চাকরি করেই হাঁফিয়ে ওঠেন। তাই সেখানেও ইস্তফা দিয়ে রাঙ্গামাটি এসে কান্দেবছড়া বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় করুণাকীর্তি মহাথেরোর কাছে শ্রামণ হন ২০১২ সালের জানুয়ারীতে।
এরপরে রাজবন বিহারে দ্বিতীয়বারের মতো ভিক্ষু হন ২০১৩ সালের জানুয়ারীতে। সেই বছরই অনুবাদ করেন আজান ব্রাহ্মের Opening door of your heart বইটি, “হৃদয়ের দরজা খুলে দিন" নামে। বইটি বেশ জনপ্রিয় হয়।
এরপর অনুবাদ করেন পাঅক সেয়াদের Knowing and Seeing (জানা ও দেখা), ঠানিস্সারো ভিক্ষুর Buddhist monastic code (বৌদ্ধ ভিক্ষু বিধি) বইগুলো। এরপরে পালি থেকে অনুবাদ করেন বিশুদ্ধমার্গ ও কথাবত্থু।
এরপর ২০১৭ সালের জানুয়ারীতে বার্মায় পাড়ি জমান। সেখানে মলামিয়াই পাঅক ভাবনা কেন্দ্রে এক বছর ভাবনা করেন। এরপর ২০১৯ সালে ইয়াঙ্গুনে ইন্টারন্যাশনাল থেরবাদা বুড্ডিস্ট মিশনারি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে বৌদ্ধধর্মের উপরে ডিপ্লোমা ও বিএ ডিগ্রি লাভ করে মাস্টার্সের উপরে মনোনীত হন। কিন্তু মাস্টার্স না করেই দীর্ঘমেয়াদে ভাবনা করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৩ সালে আবার ঢুকে যান পিউলুইন পাঅক ভাবনা কেন্দ্রে। সেই থেকে এই হেহো পাঅক ভাবনা কেন্দ্রে আছেন।
এর মধ্যে ২০২৪ সালে রাজবন বিহারের সীমাঘরের জটিলতায় পড়ে রাজবন বিহারের ভিক্ষুত্ব ত্যাগ করেন। আবার নতুন করে ভিক্ষু হন পাঅক সেয়াদের অন্যতম সুযোগ্য শিষ্য উ রেবত সেয়াদের কাছে। বর্তমানে উ রেবত সেয়াদের অধীনেই অবস্থান করে শমথ এবং বিদর্শন ভাবনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ভদন্ত জ্ঞানবল ভিক্ষুর পূর্বতন নাম ছিল ভদন্ত জ্ঞানশান্ত ভিক্ষু। বাংলাদেশী বৌদ্ধদের কাছে তিনি সেই নামেই বিশেষভাবে পরিচিত ও খ্যাতি লাভ করেন।
তাঁর প্রকাশিত বইগুলো হচ্ছে:
১। হৃদয়ের দরজা খুলে দিন
২। জানা ও দেখা
৩। মৃত্যুতে পুনজর্ন্ম
৪। বৌদ্ধ ভিক্ষু বিধি (১ম ও ২য় খণ্ড)
৫। বিশুদ্ধিমার্গ
৬। কথাবত্থু
৭। দুই মিলিয়ন ডলারের শিক্ষা
৮। পারাজিকা অর্থকথা (১ম ও ২য় খণ্ড)
৯। সীমা শিক্ষা