Hill Documentary

Hill Documentary ভুবন দৃষ্টিতে আমাদের চোখ,
দৃষ্টিগোচরে যা প্রকাশ করছি তা। সত্য সমাগত, মিথ্যা পরাভূত।

ওপারে যারা উপজাতি, সীমান্ত পেরিয়ে এপারে তারাই ‘আদিবাসী’: থানচিতে ৪৭ খুমি আটক।প্রতিবেশী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস...
07/06/2026

ওপারে যারা উপজাতি, সীমান্ত পেরিয়ে এপারে তারাই ‘আদিবাসী’: থানচিতে ৪৭ খুমি আটক।

প্রতিবেশী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, জান্তা সরকার এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’ (AA), ‘আরসা’ (ARSA) ও ‘আরএসও’ (RSO)-এর মধ্যে চলমান বহুমাত্রিক ও রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংঘাতের জাঁতাকলে পড়ে ওপার থেকে দলে দলে ভিনদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মিয়ানমারের চিন রাজ্যের পালেতওয়া অঞ্চল থেকে খুমি সম্প্রদায়ের একটি বড় দল অবৈধভাবে বান্দরবানের থানচি সীমান্ত অতিক্রম করে। তারা অত্যন্ত গোপনে দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ‘হৈকো খুমি পাড়া’র বিভিন্ন বেসামরিক বসতিতে আশ্রয় গ্রহণ করে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিয়ানমার থেকে আগত খুমি জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) নিজেদের কুকিভুক্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে সহযোগিতা করে আসছিল। সূত্রগুলো বলছে, সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ, আশ্রয় লাভ এবং পরবর্তীতে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে তাদের গোপনে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বলিপাড়া জোনের অধীন ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ছোট মধু বিওপির হাবিলদার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গত শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সেখানে এক ঝটিকা ও সফল অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে নারী, পুরুষ এবং ১১ জন শিশুসহ মোট ৪৭ জন মিয়ানমারের নাগরিককে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক করা হয়। বিজিবির এই সময়োচিত ও অতন্দ্র প্রহরা যদি সফল না হতো, তবে এই ৪৭ জন অনুপ্রবেশকারী রুমা, থানচি বা আলীকদমের গহীন অরণ্যে তাদের সমগোত্রীয়দের মাঝে চিরতরে হারিয়ে যেত। পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু মহলের যোগসাজশে তারা এ দেশের স্থায়ী বাসিন্দা ও নাগরিকত্বের ছাড়পত্র পেয়ে যেত, যা পাহাড়ের সার্বিক সুরক্ষাকে চরম হুমকির মুখে ফেলত। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই ৪৭ জনের সফল অনুপ্রবেশের পথ ধরে মিয়ানমারের ওপার থেকে আরও বহু উপজাতি পরিবার থানচি সীমান্তে ঢোকার জন্য প্রহর গুনছে।

বাংলাদেশ ইতিপূর্বেই মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত প্রায় ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে এক বিশাল অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। মানবিকতার খাতিরে দেওয়া সেই আশ্রয় আজ বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক স্থায়ী ক্ষত। এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে উগ্র বিজেপি সরকার মুসলিমদের বাংলাদেশের সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে। এর মধ্যে আবার মায়ানমারের জাতিগত সহিংসতা। বর্তমান থানচি সীমান্তে আটক হওয়া ৪৭ জন মিয়ানমারের নাগরিকের ক্ষেত্রে বিজিবি জানিয়েছে যে, তাদের পরিচয় ও পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতিমালা অনুসরণপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে পূর্বের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, একবার কোনো বিদেশি নাগরিক পাহাড়ি অঞ্চলে ঢুকে পড়লে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রচ্ছন্ন চাপ এবং মিয়ানমার সরকারের চিরাচরিত উদাসীনতার কারণে তাদের প্রত্যাবাসন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে, রোহিঙ্গারা যেভাবে আজ বাংলাদেশের জন্য এক স্থায়ী সামাজিক ও অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক একইভাবে এই উপজাতীয় অনুপ্রবেশকারীরাও পাহাড়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর নতুন এক জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন উপজাতি, যেমন: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম, খুমি, চাক, লুসাই, পাংখোয়া, রাখাইন, তংচঙ্গ্যা, মুরং ও ম্রো সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক উৎস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এদের অধিকাংশেরই আদিনিবাস বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডের বাইরে: মূলত ভারত ও মিয়ানমারে। বিভিন্ন সময়ে সেসব দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল, জাতিগত সহিংসতা, রাজন্যবর্গের দ্বন্দ্ব কিংবা যুদ্ধবিগ্রহ থেকে আত্মরক্ষার্থে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এই উপজাতিগুলো দলে দলে বাংলার এই গহীন অরণ্যসংকুল পার্বত্য অঞ্চলে প্রবেশ করে। ঐতিহাসিকভাবে তারা এই অঞ্চলের আদি বাসিন্দা বা ভূমিপুত্র নয়, বরং বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নেওয়া অভিবাসী মাত্র। তাদের এই জনস্রোতের ইতিহাস বড়জোর দুইশত থেকে তিনশত বছরের।
ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ শাসকরা তাদের নিজস্ব ভূরাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্বার্থে এই অঞ্চলকে মূল বাংলার আইন পৃথক রাখার নীতি গ্রহণ করে। ১৯০০ সালের ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি’ (Hill Tracts Regulation 1900) প্রবর্তনের মাধ্যমে তারা এই অভিবাসী উপজাতিদের সামাজিকভাবে বিন্যস্ত করে এবং তাদের ভূমির এক ধরনের বৈধতা প্রদান করে। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রশাসন এই জনগোষ্ঠীকে স্পষ্টভাবেই ‘অভিবাসী’ বা ‘উপজাতি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল, কখনোই ‘আদিবাসী’ বা ‘ইনডিজেনাস’ (Indigenous) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই প্রশাসনিক সুরক্ষাকবচকে পুঁজি করে আজ তারা নিজেদের এই মাটির আদি বাসিন্দা হিসেবে দাবি করছে।

আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্র (UNDRIP)-এর সুনির্দিষ্ট ধারাগুলোর অপব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের উপজাতিরা নিজেদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া। বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, উপজাতি ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সাংবিধানিক সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে, কিন্তু সেখানে অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে ‘উপজাতি’ ও ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ, তাত্ত্বিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের মূল বাঙালি জনগোষ্ঠীই এই ভূখণ্ডের আদি বাসিন্দা।
ভিনদেশি কিছু প্রভু এবং আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর প্রচ্ছন্ন মদদে ও আর্থিক সহায়তায় এই উপজাতীয় গোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে ‘আদিবাসী’ শব্দের স্বীকৃতি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করে আসছে। এই স্বীকৃতির দাবি কেবলই আত্মপরিচয়ের লড়াই নয়; এর পেছনে রয়েছে জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রের অধীনে স্বায়ত্তশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের (Self-determination) দাবি আদায়ের সুদূরপ্রসারী কৌশল। কোনোভাবে আন্তর্জাতিক মহলে এই অঞ্চলের উপজাতিদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব হলে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার বা একটি স্বাধীন বা আধা-স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের অপচেষ্টা চালাতে পারে, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ভিত্তিমূলে কুঠারাঘাতের শামিল। সীমান্তপারের উপজাতিরা যখনই বাংলাদেশ সীমান্তে পদার্পণ করে, তখনই এক অলিখিত জাদুমন্ত্রে তারা হয়ে যায় ‘আদিবাসী’, যা এক চরম ভূরাজনৈতিক পরিহাস।

অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অবৈধ অনুপ্রবেশের সহজীকরণ:
পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির আওতায় উপজাতিদের যে বিশেষ প্রশাসনিক ও আইনি সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমানে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের অন্যতম বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই শাসনব্যবস্থার মূল স্তরে রয়েছেন ‘হেডম্যান’ (মৌজা প্রধান) এবং ‘কার্বারী’ (গ্রাম প্রধান), যারা ঐতিহ্যগতভাবেই উপজাতি সম্প্রদায় থেকে মনোনীত হন। এছাড়াও আঞ্চলিক সন্ত্রাসী দল তাদেরকে পুনর্বাসন করতে সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করে থাকেন বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে৷

ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স হলো ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির 'ঘ' খণ্ড অনুযায়ী গঠিত বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষ দপ্তর। এর মূল কাজ হলো ভারতে আশ্রয় নেওয়া উপজাতীয় শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন, নির্দিষ্টকরণ এবং যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। এসময় চুক্তির পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম সংঘাতে শরণার্থী হিসেবে বাধ্য করা উপজাতিরা ভারতে আশ্রয় নেয়। এখন সেই উপজাতিদের পাশাপাশি অনেক ভারত ও মায়ানমারে চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা, কুকিভুক্ত উপজাতি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে জেএসএস এর সহযোগিতায়।

মিয়ানমার বা ভারত থেকে কোনো উপজাতি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর, তাদের পুনর্বাসন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুসংগঠিত সামাজিক ও আইনি জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অনুপ্রবেশকারীরা গহীন পাহাড়ে তাদের সমগোত্রীয় বা স্বজাতীয় লোকদের মাঝে আশ্রয় নেয়। যেহেতু পাহাড়ের সিংহভাগ প্রশাসনিক ও সামাজিক পদগুলো উপজাতিদের নিয়ন্ত্রণে, তাই স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারীরা অনায়াসেই এই ভিনদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে প্রত্যয়নপত্র বা রিপোর্ট প্রদান করে। খাস জমি বা পাহাড়ের পরিত্যক্ত ভূমিকে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি বা দীর্ঘমেয়াদি ভোগ করার জমি হিসেবে দেখিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির আওতায়।

এই স্থানীয় হেডম্যান রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে খুব সহজেই জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং বাংলাদেশের পাসপোর্ট তৈরি করা সম্ভব হয়। এভাবে গত কয়েক দশক ধরে অত্যন্ত নীরবে ও নিভৃতে কয়েক লক্ষাধিক বিদেশি উপজাতি বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করে এ দেশের বৈধ নাগরিক বনে গেছে। এর ফলে পাহাড়ের জনসংখ্যা কাঠামো মারাত্মকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং মূল ধারার বাঙালিদের কোণঠাসা করার এক পরিকল্পিত প্রয়াস চলছে।

‘সীমান্তের ওপারে তারা উপজাতি, আর এপারে এসেই হয়ে যায় আদিবাসী’, এই আপ্তবাক্যটি আজ পার্বত্য চট্টগ্রামের রূঢ় বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। এই সংকট কেবল একটি অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি সরাসরি বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সাথে জড়িত। এই ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও জনসংখ্যাগত আগ্রাসন রুখতে হলে বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে:

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিশেষ করে বান্দরবান ও রাঙা‌মাটির দুর্গম অবিন্যস্ত ও অরক্ষিত সীমান্ত এলাকাগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া, বিজিবির বিওপি সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে এবং আধুনিক ড্রোন ও থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির যেসব ধারার অপপ্রয়োগ করে সমগ্র ভূমি উপজাতিদের বলে হেডম্যান ও কার্বারীরা বিদেশি নাগরিকদের আবাসন ও নাগরিকত্বের সুযোগ করে দিচ্ছে, সেসব ধারার জরুরি সংশোধন প্রয়োজন। শাসনবিধির আলোকে যে সার্কেল চিফ, হেডম্যান, কার্বারী এবং বিভিন্ন প্রথাগত টিকে আছে তার ওপর রাষ্ট্রীয় আমলাতন্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর তদারকি বাড়াতে হবে।

অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী যেকোনো বিদেশি নাগরিককে কোনো প্রকার দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই অবিলম্বে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে পুশব্যাক বা নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হবে।

পার্বত্য অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে উপজাতিদের প্রদত্ত জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রগুলোর একটি উচ্চপর্যায়ের জুডিশিয়াল বা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল দ্বারা অডিট করা প্রয়োজন, যাতে শাসনবিধির ভূমির মালিকানার মাধ্যমে নাগরিকত্ব নেওয়া বিদেশিদের চিহ্নিত করে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ভূখণ্ডের এক অপরিহার্য রত্ন। বিদেশি প্রভুদের নীল নকশা এবং ভূরাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্ত থেকে এই অঞ্চলকে রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্রকে আজই ইস্পাতকঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যথায় অনাগত ভবিষ্যতে এই পাহাড়ের আগুন সমগ্র বাংলাদেশের স্থিতিশীলতাকেই গ্রাস করতে পারে।

07/06/2026

চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারকে দোষারোপ উদ্দেশ্যপ্রণোদীত।

একটি গণতান্ত্রিক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র গোছাতে যেখানে সময়ের প্রয়োজন, সেখানে তিন মাসের মাথায় এসে "রোডম্যাপ নেই" বলে শোরগোল তোলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। চুক্তির ধারাগুলো রাতারাতি বাস্তবায়নযোগ্য কোনো জাদুর কাঠি নয়। প্রকৃতপক্ষে, চুক্তির সিংহভাগ কাজ পূর্ববর্তী সরকারগুলোর আমলেই সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও বিএনপি সরকার চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাস্তবায়ন করেছে। সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র, যার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুর এবং রাঙামাটির সাবেক সংসদ সদস্য দীপঙ্কর তালুকদার এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট ফোরামে পার্বত্য সচিবের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য: স্পষ্ট করে বলেছে যে, পার্বত্য শান্তি চুক্তির মোট ৭২টি ধারার মধ্যে ইতোমধ্যে ৬৫টি ধারা পূর্ণবাস্তবায়িত হয়েছে। অবশিষ্ট ধারাগুলোর মধ্যে ৩টি প্রক্রিয়াধীন এবং মাত্র ৪টি আংশিক বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ, চুক্তির প্রায় ৯০ শতাংশই বাস্তবায়িত। পৃথিবীর কোনো দেশের ইতিহাসে অভ্যন্তরীণ বা জাতিগত সংকটের চুক্তিসমূহ শতভাগ বাস্তবায়নের নজির নেই। এই বাস্তব সত্যকে আড়াল করে, পূর্ববর্তী ধারাবাহিক অগ্রগতিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে "অনিশ্চয়তার" ধোঁয়াশা তৈরি করা সস্তা জনপ্রিয়তাবাদেরই বহিঃপ্রকাশ।

তাছাড়া, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি নিয়ে তড়িৎ বৈঠক করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম কর্ণফুলী এলাকায় অনুষ্ঠিত সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জেএসএস প্রধান সন্তু লারমা স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন এবং তৎকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনসহ অন্যান্য নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্র যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে চুক্তি বাস্তবায়ন এবং সংলাপের পরিবেশ ধরে রেখেছে, সেখানে মাত্র তিন মাস বয়সী একটি নতুন সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে জলঘোলা করার অপচেষ্টা কেন

রুপালী চাকমা, সহকারী শিক্ষিকা, লক্ষীছড়ি সঃউঃ বিদ্যালয়। সরকারী খরচে থাইল্যান্ড এ শিক্ষা সফর করেছেন।
06/06/2026

রুপালী চাকমা, সহকারী শিক্ষিকা, লক্ষীছড়ি সঃউঃ বিদ্যালয়।
সরকারী খরচে থাইল্যান্ড এ শিক্ষা সফর করেছেন।

আদিবাসীদের অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র; বাংলাদেশের অবস্থান ও ক্ষতিকর প্রভাব। জাতিসংঘের আদিবাসীদের অধিকার সংক্রা...
06/06/2026

আদিবাসীদের অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র; বাংলাদেশের অবস্থান ও ক্ষতিকর প্রভাব।

জাতিসংঘের আদিবাসীদের অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র (UNDRIP) ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়। _জাতিসংঘের (ILO) এর ভুলব্যখা দিয়ে উপজাতিদের আদিবাসী বানানোর জন্য আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে এদেশের তথাকথিত গণমাধ্যম, সুশীল, বুদ্ধিজীবি, মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক৷ গণমাধ্যমগুলো এখানে আদিবাসী শব্দ প্রচারে যতটাই উৎসাহী ততটা কিন্তু উপজাতি শব্দ প্রচারে উৎসাহী নয়। এর পেছনেও বড় কারণ আছে। কারণ হচ্ছে- এদেশের অধিকাংশ সুশীল, বুদ্ধিজীবি, গণমাধ্যম, এনজিও, খ্রিস্টান মিশনারী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমা অর্থায়নে পরিচালিত হয়। (ILO) ১ কনভেনশন এর (b) ছাড়াও আদিবাসীদের অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র (UNDRIP) বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়েছিল, পক্ষে ১৪৪ টি রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, বিপক্ষে ৪ টি ভোট (অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) এবং ১১ জন বিরত (আজারবাইজান, বাংলাদেশ, ভুটান, বুরুন্ডি, কলম্বিয়া, জর্জিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, রাশিয়ান ফেডারেশন, সামোয়া এবং ইউক্রেন)। ২০০৭ সালের জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য অনেকগুলো অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ১. ভূমি অধিকার, ২. আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, ৩. স্বায়ত্তশাসন অধিকার, ৪. জাতীয়তা লাভের অধিকার, ৫. জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ।_

অথাৎ এখানে দেশভাগের করণীয়গুলোর অধিকার তাদের দেয়া হয়েছে। তজ্জন্য বাংলাদেশের উপজাতিরা নিজেদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি তুলছে। খ্রিস্টান মিশনারী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমারা যেভাবে গাইড লাইন দিচ্ছে ঠিক সেভাবে এদেশের তথাকথিত গণমাধ্যমগুলো আদিবাসী শব্দটি প্রচার করে থাকে। গণমাধ্যমের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে দেশের অধিকাংশ মানুষ উপজাতিদের আদিবাসী হিসেবে সম্বোধন করছে৷ তাই লাভ ক্ষতি বিবেচনা না করেই আদিবাসী বলে আসছে। এটি বন্ধে রাষ্ট্রীয় কার্যকারী পদক্ষেপ অতীব জরুরী। শুধু দায়সারাভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করে আদিবাসী শব্দ পরিহার করা সম্ভব নয় তারজন্য গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ঘোষণাপত্রটি আদিবাসীদের অধিকারের সবচেয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক দলিল।

এটি বিশ্বের আদিবাসীদের বেঁচে থাকা, মর্যাদা এবং মঙ্গলের জন্য সর্বনিম্ন মানদণ্ডের একটি সর্বজনীন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে এবং এটি আদিবাসীদের জন্য প্রযোজ্য বিদ্যমান মানবাধিকারের মান এবং মৌলিক স্বাধীনতাগুলিকে বিস্তৃত করে।

ঘোষণাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ আদিবাসী এবং টরেস স্ট্রেইট দ্বীপবাসী সহ আদিবাসীরা এর খসড়া তৈরিতে জড়িত ছিল।

আদিবাসীদের অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র-
সাধারণ পরিষদ
জাতিসংঘের সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির দ্বারা পরিচালিত, এবং সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বাধ্যবাধকতা পূরণে সরল বিশ্বাস,

নিশ্চিত করে যে আদিবাসীরা অন্য সব জনগোষ্ঠীর সমান, সব মানুষের আলাদা হওয়ার, নিজেদের আলাদা মনে করার এবং সম্মান পাওয়ার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে,

এটাও নিশ্চিত করে যে সমস্ত মানুষ সভ্যতা এবং সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং সমৃদ্ধিতে অবদান রাখে, যা মানবজাতির সাধারণ ঐতিহ্য গঠন করে,

আরও নিশ্চিত করে যে সমস্ত মতবাদ, নীতি এবং অনুশীলনগুলি জাতীয় উত্স, জাতিগত, ধর্মীয়, জাতিগত বা সাংস্কৃতিক পার্থক্যের ভিত্তিতে জনগণ বা ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বের উপর ভিত্তি করে বা সমর্থন করে বর্ণবাদী, বৈজ্ঞানিকভাবে মিথ্যা, আইনত অবৈধ, নৈতিকভাবে নিন্দনীয় এবং সামাজিকভাবে অন্যায়,

এটাও নিশ্চিত করে যে আদিবাসীরা তাদের অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের বৈষম্য থেকে মুক্ত থাকতে হবে,

উদ্বিগ্ন যে আদিবাসীরা তাদের উপনিবেশ স্থাপন এবং তাদের জমি, অঞ্চল এবং সম্পদ দখলের ফলে ঐতিহাসিক অবিচারের শিকার হয়েছে, এইভাবে তাদের নিজেদের প্রয়োজন এবং স্বার্থ অনুযায়ী তাদের উন্নয়নের অধিকার প্রয়োগ করতে বাধা দিচ্ছে। ,

আদিবাসীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো থেকে এবং তাদের সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং দর্শন থেকে, বিশেষ করে তাদের ভূমি, অঞ্চল এবং সম্পদের অধিকার থেকে প্রাপ্ত আদিবাসীদের অন্তর্নিহিত অধিকারকে সম্মান ও প্রচার করার জরুরি প্রয়োজনকে স্বীকৃতি দেওয়া,

রাজ্যগুলির সাথে চুক্তি, চুক্তি এবং অন্যান্য গঠনমূলক ব্যবস্থায় নিশ্চিত করা আদিবাসীদের অধিকারকে সম্মান ও প্রচার করার জরুরি প্রয়োজনকে আরও স্বীকৃতি দিয়ে,

আদিবাসীরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নতির জন্য এবং যেখানেই হোক না কেন সব ধরনের বৈষম্য ও নিপীড়নের অবসান ঘটাতে নিজেদের সংগঠিত করছে এই সত্যকে স্বাগত জানিয়ে,

নিশ্চিত যে আদিবাসীদের দ্বারা তাদের এবং তাদের জমি, অঞ্চল এবং সম্পদকে প্রভাবিত করে এমন উন্নয়নের উপর নিয়ন্ত্রণ তাদেরকে তাদের প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য বজায় রাখতে এবং শক্তিশালী করতে এবং তাদের আকাঙ্খা ও প্রয়োজন অনুসারে তাদের উন্নয়নের প্রচার করতে সক্ষম করবে,

আদিবাসী জ্ঞান, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী অনুশীলনের প্রতি শ্রদ্ধা টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন এবং পরিবেশের সঠিক ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখে তা স্বীকার করে।

শান্তি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন, বিশ্বের জাতি ও জনগণের মধ্যে বোঝাপড়া এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদিবাসীদের ভূমি ও অঞ্চলের নিরস্ত্রীকরণের অবদানের উপর জোর দিয়ে,

বিশেষ করে আদিবাসী পরিবার এবং সম্প্রদায়ের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সন্তানদের লালন-পালন, প্রশিক্ষণ, শিক্ষা এবং মঙ্গলের জন্য ভাগ করা দায়িত্ব বজায় রাখা, শিশুর অধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ,

রাষ্ট্র এবং আদিবাসীদের মধ্যে চুক্তি, চুক্তি এবং গঠনমূলক ব্যবস্থায় নিশ্চিত হওয়া অধিকারগুলি কিছু পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ, আগ্রহ, দায়িত্ব এবং চরিত্রের বিষয়গুলি বিবেচনা করে,

এও বিবেচনা করে যে চুক্তি, চুক্তি এবং অন্যান্য গঠনমূলক ব্যবস্থা এবং তারা যে সম্পর্ককে প্রতিনিধিত্ব করে, তা হল আদিবাসী জনগণ এবং রাজ্যগুলির মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্বের ভিত্তি,

স্বীকার করে যে জাতিসংঘের সনদ, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির পাশাপাশি ভিয়েনা ঘোষণা ও কর্মসূচী, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের মৌলিক গুরুত্বকে নিশ্চিত করে। সমস্ত জনগণের, যার ভিত্তিতে তারা স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করে এবং স্বাধীনভাবে তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের চেষ্টা করে,

মনে রাখবেন যে এই ঘোষণাপত্রের কোন কিছুই আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কোন জনগণের তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে অস্বীকার করার জন্য ব্যবহার করা যাবে না,

এই ঘোষণাপত্রে আদিবাসীদের অধিকারের স্বীকৃতি ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, বৈষম্যহীনতা এবং সরল বিশ্বাসের নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও আদিবাসীদের মধ্যে সুরেলা ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বাড়াবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস,

রাষ্ট্রগুলিকে তাদের সমস্ত বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে উত্সাহিত করা যা তারা আন্তর্জাতিক উপকরণের অধীনে আদিবাসীদের জন্য প্রযোজ্য, বিশেষ করে মানবাধিকার সম্পর্কিত, সংশ্লিষ্ট জনগণের সাথে পরামর্শ এবং সহযোগিতায়,

আদিবাসীদের অধিকারের প্রচার ও সুরক্ষায় জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অব্যাহত ভূমিকা রয়েছে বলে জোর দিয়ে,

এই ঘোষণাটি আদিবাসীদের অধিকার ও স্বাধীনতার স্বীকৃতি, প্রচার ও সুরক্ষার জন্য এবং এই ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ব্যবস্থার প্রাসঙ্গিক কার্যক্রমের বিকাশের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে বিশ্বাস করে,

আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত সমস্ত মানবাধিকারের অধিকারী আদিবাসী ব্যক্তিরা বৈষম্য ছাড়াই অধিকারী এবং আদিবাসীদের সমষ্টিগত অধিকার রয়েছে যা তাদের অস্তিত্ব, মঙ্গল এবং জনগণ হিসাবে অবিচ্ছেদ্য বিকাশের জন্য অপরিহার্য, স্বীকৃতি দেওয়া এবং পুনর্নিশ্চিত করা,

এটাও স্বীকার করে যে আদিবাসীদের পরিস্থিতি অঞ্চলভেদে এবং দেশ থেকে দেশে পরিবর্তিত হয় এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যের তাৎপর্য এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পটভূমিকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত,

অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার চেতনায় অনুসরণ করা অর্জনের মান হিসাবে আদিবাসীদের অধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের নিম্নোক্ত ঘোষণাপত্রকে আন্তরিকভাবে ঘোষণা করে,

ধারা ১

জাতিসংঘের সনদ, মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে স্বীকৃত সমস্ত মানবাধিকার এবং মৌলিক স্বাধীনতার সমষ্টিগত বা ব্যক্তি হিসাবে আদিবাসীদের পূর্ণ উপভোগের অধিকার রয়েছে।

ধারা ২

আদিবাসী মানুষ এবং ব্যক্তিরা অন্য সকল মানুষ এবং ব্যক্তির মত স্বাধীন এবং সমান এবং তাদের অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে তাদের আদিবাসী উৎস বা পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে যে কোন ধরনের বৈষম্য থেকে মুক্ত থাকার অধিকার রয়েছে।

ধারা ৩

আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। সেই অধিকারের ভিত্তিতে তারা স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক মর্যাদা নির্ধারণ করে এবং স্বাধীনভাবে তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশ সাধন করে।

ধারা ৪

আদিবাসী জনগণ, তাদের স্ব-নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রয়োগ করার জন্য, তাদের অভ্যন্তরীণ এবং স্থানীয় বিষয়গুলির সাথে সম্পর্কিত বিষয়ে স্বায়ত্তশাসন বা স্ব-সরকারের অধিকার, সেইসাথে তাদের স্বায়ত্তশাসিত কার্যাবলী অর্থায়নের উপায় ও উপায় রয়েছে।

ধারা ৫

আদিবাসীদের অধিকার রয়েছে তাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক, আইনগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বজায় রাখার এবং শক্তিশালী করার অধিকার, এবং রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণের অধিকার বজায় রেখে।

ধারা ৬

প্রতিটি আদিবাসী ব্যক্তির একটি জাতীয়তার অধিকার রয়েছে।

ধারা ৭

১. আদিবাসীদের জীবন, শারীরিক ও মানসিক অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও ব্যক্তির নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে।

২. আদিবাসীদের স্বতন্ত্র জনগণ হিসাবে স্বাধীনতা, শান্তি এবং নিরাপত্তায় বসবাসের সম্মিলিত অধিকার রয়েছে এবং গোষ্ঠীর শিশুদের জোরপূর্বক অন্য গোষ্ঠীতে সরিয়ে দেওয়া সহ গণহত্যা বা অন্য কোনো সহিংসতার কোনো কাজ করা হবে না।

ধারা ৮

১. আদিবাসী মানুষ এবং ব্যক্তিদের তাদের সংস্কৃতির জোরপূর্বক আত্তীকরণ বা ধ্বংসের শিকার না হওয়ার অধিকার রয়েছে।

২. রাজ্যগুলি এর প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা প্রদান করবে:

যে কোন কর্ম যার লক্ষ্য বা প্রভাব তাদের স্বতন্ত্র মানুষ হিসাবে তাদের সততা থেকে, বা তাদের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বা জাতিগত পরিচয় থেকে বঞ্চিত করা;
তাদের জমি, ভূখণ্ড বা সম্পদ তাদের অপদস্থ করার লক্ষ্য বা প্রভাব রয়েছে এমন কোনো কাজ;
জোরপূর্বক জনসংখ্যা স্থানান্তরের যে কোন প্রকারের লক্ষ্য বা প্রভাব রয়েছে তাদের কোন অধিকার লঙ্ঘন বা খর্ব করার;
জোরপূর্বক আত্তীকরণ বা একীকরণের যে কোনো রূপ;
তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত জাতিগত বা জাতিগত বৈষম্য প্রচার বা উস্কে দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা যে কোনো ধরনের প্রচার।

ধারা ৯

আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায় বা জাতির ঐতিহ্য ও রীতিনীতি অনুসারে একটি আদিবাসী সম্প্রদায় বা জাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে। এই ধরনের অধিকার প্রয়োগ থেকে কোনো ধরনের বৈষম্যের উদ্ভব হতে পারে না।

ধারা ১০

আদিবাসীদের তাদের ভূমি বা অঞ্চল থেকে জোরপূর্বক অপসারণ করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট আদিবাসীদের বিনামূল্যে, পূর্ব ও অবহিত সম্মতি ছাড়া এবং ন্যায্য ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের চুক্তির পরে এবং যেখানে সম্ভব, প্রত্যাবর্তনের বিকল্প সহ কোনও স্থানান্তর ঘটবে না।

ধারা ১১

১. আদিবাসীদের তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও রীতিনীতি অনুশীলন ও পুনরুজ্জীবিত করার অধিকার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাদের সংস্কৃতির অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের প্রকাশ, যেমন প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিক স্থান, প্রত্নবস্তু, নকশা, অনুষ্ঠান, প্রযুক্তি এবং ভিজ্যুয়াল এবং পারফর্মিং আর্টস এবং সাহিত্যের রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষা এবং বিকাশের অধিকার।

২. রাষ্ট্রগুলি কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিকার প্রদান করবে, যার মধ্যে পুনরুদ্ধার অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা আদিবাসীদের সাথে একযোগে বিকশিত হতে পারে, তাদের সাংস্কৃতিক, বৌদ্ধিক, ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক সম্পত্তির বিষয়ে তাদের বিনামূল্যে, পূর্ববর্তী এবং অবহিত সম্মতি ছাড়া বা তাদের আইন লঙ্ঘন করে নেওয়া, ঐতিহ্য এবং রীতিনীতি।

ধারা ১২

১. আদিবাসীদের তাদের আধ্যাত্মিক এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য, রীতিনীতি এবং অনুষ্ঠানগুলি প্রকাশ, অনুশীলন, বিকাশ এবং শিক্ষা দেওয়ার অধিকার রয়েছে; তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলি বজায় রাখার, রক্ষা করার এবং গোপনীয়তায় অ্যাক্সেস পাওয়ার অধিকার; তাদের আনুষ্ঠানিক বস্তুর ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণের অধিকার; এবং তাদের মানব দেহাবশেষের প্রত্যাবাসনের অধিকার।

২. রাজ্যগুলি সংশ্লিষ্ট আদিবাসীদের সাথে একযোগে বিকশিত ন্যায্য, স্বচ্ছ এবং কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বস্তু এবং মানুষের দেহাবশেষের অ্যাক্সেস এবং/অথবা প্রত্যাবর্তন সক্ষম করার চেষ্টা করবে।

ধারা ১৩

১. আদিবাসীদের তাদের ইতিহাস, ভাষা, মৌখিক ঐতিহ্য, দর্শন, লেখার পদ্ধতি এবং সাহিত্যকে পুনরুজ্জীবিত করার, ব্যবহার করার, বিকাশ করার এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে প্রেরণ করার এবং সম্প্রদায়, স্থান এবং ব্যক্তিদের জন্য তাদের নিজস্ব নাম মনোনীত এবং ধরে রাখার অধিকার রয়েছে।

২. রাষ্ট্রগুলি এই অধিকার সুরক্ষিত করা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এটিও নিশ্চিত করবে যে আদিবাসীরা রাজনৈতিক, আইনি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বুঝতে এবং বুঝতে পারে, যেখানে প্রয়োজন হয় ব্যাখ্যার বিধানের মাধ্যমে বা অন্যান্য উপযুক্ত উপায়ে।

ধারা ১৪

১. আদিবাসীদের তাদের শিক্ষা ও শিক্ষার সাংস্কৃতিক পদ্ধতির সাথে উপযুক্ত পদ্ধতিতে তাদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষা প্রদানকারী শিক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানগুলি প্রতিষ্ঠা ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার রয়েছে।

২. আদিবাসীদের, বিশেষ করে শিশুদের, বৈষম্য ছাড়াই রাজ্যের সকল স্তরের এবং শিক্ষার অধিকার রয়েছে৷

৩. রাজ্যগুলি, আদিবাসীদের সাথে একত্রে, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে আদিবাসী ব্যক্তিদের, বিশেষ করে শিশুদের, তাদের সম্প্রদায়ের বাইরে বসবাসকারীরা সহ, তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিতে এবং তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রদানের জন্য, যখনই সম্ভব, প্রবেশাধিকার পায়। ভাষা.

ধারা ১৫

১. আদিবাসীদের তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা এবং বৈচিত্র্যের অধিকার রয়েছে যা শিক্ষা এবং জনসাধারণের তথ্যে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।

২. রাষ্ট্রগুলি কুসংস্কার মোকাবেলা এবং বৈষম্য দূর করতে এবং আদিবাসী জনগণ এবং সমাজের অন্যান্য সকল অংশের মধ্যে সহনশীলতা, বোঝাপড়া এবং সুসম্পর্ক উন্নীত করার জন্য, সংশ্লিষ্ট আদিবাসীদের সাথে পরামর্শ ও সহযোগিতায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷

ধারা ১৬

১. আদিবাসীদের তাদের নিজস্ব ভাষায় তাদের নিজস্ব মিডিয়া প্রতিষ্ঠা করার এবং বৈষম্য ছাড়াই সমস্ত ধরণের অ-আদিবাসী মিডিয়াতে অ্যাক্সেস পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

২. রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মিডিয়া যাতে দেশীয় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে তা নিশ্চিত করতে রাজ্যগুলি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷ মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রগুলিকে প্রতিবন্ধকতা না রেখে, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন মিডিয়াকে দেশীয় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে পর্যাপ্তভাবে প্রতিফলিত করতে উত্সাহিত করা উচিত।

ধারা ১৭

১. আদিবাসী ব্যক্তি এবং জনগণের প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় শ্রম আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সমস্ত অধিকার সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করার অধিকার রয়েছে।

২. রাজ্যগুলি আদিবাসীদের সাথে পরামর্শ এবং সহযোগিতায় আদিবাসী শিশুদের অর্থনৈতিক শোষণ থেকে রক্ষা করার জন্য এবং শিশুর শিক্ষার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক বা হস্তক্ষেপ করতে পারে বা শিশুর স্বাস্থ্য বা শারীরিক জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে এমন কোনও কাজ করা থেকে রক্ষা করার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। , মানসিক, আধ্যাত্মিক, নৈতিক বা সামাজিক বিকাশ, তাদের বিশেষ দুর্বলতা এবং তাদের ক্ষমতায়নের জন্য শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনা করে।

৩. আদিবাসী ব্যক্তিদের শ্রম এবং অন্যান্য বিষয়ের সাথে, চাকরি বা বেতনের কোনো বৈষম্যমূলক শর্তের শিকার না হওয়ার অধিকার রয়েছে।

ধারা ১৮

আদিবাসীদের তাদের নিজস্ব পদ্ধতি অনুসারে নিজেদের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে, সেইসাথে তাদের নিজস্ব আদিবাসী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও বিকাশের মাধ্যমে তাদের অধিকারকে প্রভাবিত করবে এমন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করার অধিকার রয়েছে।

ধারা ১৯

রাজ্যগুলি তাদের প্রভাবিত করতে পারে এমন আইনী বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আগে তাদের বিনামূল্যে, পূর্ব ও অবহিত সম্মতি পাওয়ার জন্য তাদের নিজস্ব প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদিবাসীদের সাথে সরল বিশ্বাসে পরামর্শ ও সহযোগিতা করবে।

ধারা ২০

১. আদিবাসীদের অধিকার রয়েছে তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলি বজায় রাখার এবং বিকাশ করার, তাদের নিজস্ব জীবিকা ও উন্নয়নের উপায়ের উপভোগে নিরাপদে থাকার এবং তাদের সমস্ত ঐতিহ্যগত এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবাধে জড়িত থাকার অধিকার রয়েছে।

২. আদিবাসীরা তাদের জীবনধারণ ও উন্নয়নের উপায় থেকে বঞ্চিত ন্যায্য এবং ন্যায্য প্রতিকার পাওয়ার অধিকারী।

ধারা ২১

১. শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং পুনঃপ্রশিক্ষণ, আবাসন, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আদিবাসীদের অধিকার রয়েছে, বৈষম্য ছাড়াই, তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য।

২. রাষ্ট্রগুলি তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার ক্রমাগত উন্নতি নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং, যেখানে উপযুক্ত, বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷ আদিবাসী প্রবীণ, নারী, যুবক, শিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও বিশেষ চাহিদার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।

ধারা ২৩

১. এই ঘোষণার বাস্তবায়নে আদিবাসী প্রবীণ, নারী, যুবক, শিশু এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার এবং বিশেষ চাহিদার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে।

২. আদিবাসী নারী ও শিশুরা যাতে সব ধরনের সহিংসতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ সুরক্ষা এবং গ্যারান্টি ভোগ করে তা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্যগুলি আদিবাসীদের সাথে একত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷

ধারা ২৩

আদিবাসীদের তাদের উন্নয়নের অধিকার প্রয়োগের জন্য অগ্রাধিকার ও কৌশল নির্ধারণ ও বিকাশের অধিকার রয়েছে। বিশেষ করে, আদিবাসীদের স্বাস্থ্য, আবাসন এবং তাদের প্রভাবিত করে এমন অন্যান্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির বিকাশ ও নির্ধারণে সক্রিয়ভাবে জড়িত হওয়ার এবং যতদূর সম্ভব তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই জাতীয় কর্মসূচি পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে।

ধারা ২৪

১. আদিবাসীদের তাদের ঐতিহ্যবাহী ওষুধের অধিকার রয়েছে এবং তাদের অত্যাবশ্যক ঔষধি গাছ, প্রাণী এবং খনিজ সংরক্ষণ সহ তাদের স্বাস্থ্য অনুশীলনগুলি বজায় রাখার অধিকার রয়েছে। আদিবাসীদেরও সমস্ত সামাজিক এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলিতে কোনও বৈষম্য ছাড়াই অ্যাক্সেস করার অধিকার রয়েছে।

২. আদিবাসীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সর্বোচ্চ অর্জনযোগ্য মান উপভোগ করার সমান অধিকার রয়েছে। এই অধিকারের পূর্ণ উপলব্ধি ক্রমান্বয়ে অর্জনের লক্ষ্যে রাজ্যগুলি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে৷

ধারা ২৫

আদিবাসীদের অধিকার রয়েছে তাদের ঐতিহ্যগতভাবে মালিকানাধীন বা অন্যথায় দখলকৃত এবং ব্যবহৃত জমি, অঞ্চল, জল এবং উপকূলীয় সমুদ্র এবং অন্যান্য সম্পদের সাথে তাদের স্বতন্ত্র আধ্যাত্মিক সম্পর্ক বজায় রাখার এবং শক্তিশালী করার এবং এই বিষয়ে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তাদের দায়িত্ব পালন করার অধিকার রয়েছে।

ধারা ২৬

১. আদিবাসী জনগণের জমি, অঞ্চল এবং সম্পদের অধিকার রয়েছে যা তারা ঐতিহ্যগতভাবে মালিকানাধীন, দখল বা অন্যভাবে ব্যবহার বা অধিগ্রহণ করে।

২. আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত মালিকানা বা অন্যান্য ঐতিহ্যগত পেশা বা ব্যবহারের কারণে তাদের দখলে থাকা জমি, অঞ্চল এবং সম্পদের মালিকানা, ব্যবহার, বিকাশ এবং নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার রয়েছে, সেইসাথে যেগুলি তারা অন্যথায় অর্জিত হয়েছে।

৩. রাজ্যগুলি এই ভূমি, অঞ্চল এবং সম্পদগুলিকে আইনি স্বীকৃতি এবং সুরক্ষা দেবে৷ এই ধরনের স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট আদিবাসীদের রীতিনীতি, ঐতিহ্য এবং ভূমি শাসন ব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মানের সাথে পরিচালিত হবে।

ধারা ২৭

রাজ্যগুলি আদিবাসীদের অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে এবং বিচার করার জন্য আদিবাসীদের আইন, ঐতিহ্য, রীতিনীতি এবং ভূমি শাসন ব্যবস্থার যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করে একটি ন্যায্য, স্বাধীন, নিরপেক্ষ, মুক্ত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট আদিবাসীদের সাথে একত্রে প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন করবে। জনগণ তাদের জমি, অঞ্চল এবং সম্পদের সাথে সম্পর্কিত, যেগুলি ঐতিহ্যগতভাবে মালিকানাধীন বা অন্যথায় দখল বা ব্যবহার করা হয়েছিল। আদিবাসীদের এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অধিকার থাকবে।

ধারা ২৮

১. আদিবাসীদের প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা ঐতিহ্যগতভাবে মালিকানাধীন বা অন্যথায় দখল বা ব্যবহার করে এমন জমি, অঞ্চল এবং সম্পদের জন্য পুনরুদ্ধার বা, যখন এটি সম্ভব নয়, একটি ন্যায্য, ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। , এবং যেগুলি তাদের বিনামূল্যে, পূর্ব ও অবহিত সম্মতি ছাড়াই বাজেয়াপ্ত, নেওয়া, দখল, ব্যবহার বা ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে।

২. অন্যথায় সংশ্লিষ্ট জনগণের দ্বারা অবাধে সম্মত না হলে, ক্ষতিপূরণ মান, আকার এবং আইনি স্থিতি বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা অন্যান্য উপযুক্ত প্রতিকারের সমান ভূমি, অঞ্চল এবং সম্পদের আকার নিতে হবে।

ধারা ২৯

১. আদিবাসীদের পরিবেশ সংরক্ষণ ও সুরক্ষা এবং তাদের জমি বা অঞ্চল এবং সম্পদের উৎপাদন ক্ষমতার অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্রগুলি বৈষম্য ছাড়াই এই ধরনের সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য আদিবাসীদের জন্য সহায়তা কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন করবে।

২. আদিবাসীদের জমি বা অঞ্চলগুলিতে তাদের বিনামূল্যে, পূর্বে এবং অবহিত সম্মতি ব্যতীত বিপজ্জনক পদার্থের কোনও সঞ্চয় বা নিষ্পত্তি যাতে না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্যগুলি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷

৩. রাজ্যগুলি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলিও নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে যে, আদিবাসীদের স্বাস্থ্যের নিরীক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুনরুদ্ধারের জন্য প্রোগ্রামগুলি, যেমন এই ধরনের উপকরণ দ্বারা প্রভাবিত জনগণের দ্বারা বিকশিত এবং বাস্তবায়িত হয়, যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়৷

ধারা ৩০

১. আদিবাসীদের ভূমি বা অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম সঞ্চালিত হবে না

জনগণ, যদি না প্রাসঙ্গিক জনস্বার্থ দ্বারা ন্যায়সঙ্গত হয় বা অন্যথায় অবাধে সম্মত হয় বা সংশ্লিষ্ট আদিবাসীদের অনুরোধ না করে।

২. রাষ্ট্রগুলি সামরিক কার্যকলাপের জন্য তাদের ভূমি বা অঞ্চলগুলি ব্যবহার করার আগে উপযুক্ত পদ্ধতির মাধ্যমে এবং বিশেষ করে তাদের প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদিবাসীদের সাথে কার্যকর পরামর্শ গ্রহণ করবে।

ধারা ৩১

১. আদিবাসীদের তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহ্যগত জ্ঞান এবং ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি, সেইসাথে মানব ও জেনেটিক সম্পদ, বীজ, ওষুধ, জ্ঞান সহ তাদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতির প্রকাশের রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ, সুরক্ষা এবং বিকাশের অধিকার রয়েছে। প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য, মৌখিক ঐতিহ্য, সাহিত্য, নকশা, খেলাধুলা এবং ঐতিহ্যবাহী গেমস এবং ভিজ্যুয়াল এবং পারফর্মিং আর্ট। তাদের এই ধরনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহ্যগত জ্ঞান এবং ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির উপর তাদের বৌদ্ধিক সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ, সুরক্ষা এবং বিকাশের অধিকার রয়েছে।

২. আদিবাসী জনগণের সাথে একত্রে, রাষ্ট্রগুলি এই অধিকারগুলির প্রয়োগের স্বীকৃতি এবং সুরক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷

ধারা ৩৩

১. আদিবাসীদের তাদের ভূমি বা অঞ্চল এবং অন্যান্য সম্পদের উন্নয়ন বা ব্যবহারের জন্য অগ্রাধিকার এবং কৌশল নির্ধারণ এবং বিকাশ করার অধিকার রয়েছে।

২. রাজ্যগুলি তাদের জমি বা অঞ্চল এবং অন্যান্য সংস্থানগুলিকে প্রভাবিত করে এমন কোনও প্রকল্পের অনুমোদনের আগে তাদের বিনামূল্যে এবং অবহিত সম্মতি পাওয়ার জন্য তাদের নিজস্ব প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদিবাসীদের সাথে সরল বিশ্বাসে পরামর্শ ও সহযোগিতা করবে, বিশেষ করে খনিজ, পানি বা অন্যান্য সম্পদের উন্নয়ন, ব্যবহার বা শোষণ।

৩. রাজ্যগুলি এই জাতীয় যে কোনও কর্মকাণ্ডের জন্য ন্যায্য এবং ন্যায্য প্রতিকারের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা সরবরাহ করবে এবং প্রতিকূল পরিবেশগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা আধ্যাত্মিক প্রভাব প্রশমিত করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধারা ৩৩

১. আদিবাসীদের তাদের প্রথা ও ঐতিহ্য অনুসারে তাদের নিজস্ব পরিচয় বা সদস্যপদ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। এটি আদিবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না যেখানে তারা বাস করে।

২. আদিবাসীদের নিজস্ব পদ্ধতি অনুসারে কাঠামো নির্ধারণ এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ নির্বাচন করার অধিকার রয়েছে।

ধারা ৩৪

আদিবাসীদের তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং তাদের স্বতন্ত্র রীতিনীতি, আধ্যাত্মিকতা, ঐতিহ্য, পদ্ধতি, অনুশীলন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান অনুযায়ী বিচার ব্যবস্থা বা রীতিনীতির প্রচার, বিকাশ এবং বজায় রাখার অধিকার রয়েছে।

ধারা ৩৫

আদিবাসীদের তাদের সম্প্রদায়ের প্রতি ব্যক্তির দায়িত্ব নির্ধারণের অধিকার রয়েছে।

ধারা ৩৬

১. আদিবাসীদের, বিশেষ করে যারা আন্তর্জাতিক সীমানা দ্বারা বিভক্ত, তাদের নিজস্ব সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য জনগণের সাথে আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উদ্দেশ্যে ক্রিয়াকলাপ সহ যোগাযোগ, সম্পর্ক এবং সহযোগিতা বজায় রাখার এবং বিকাশ করার অধিকার রয়েছে। সীমানা

২. রাজ্যগুলি, আদিবাসীদের সাথে পরামর্শ এবং সহযোগিতায়, অনুশীলনের সুবিধার্থে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এই অধিকারের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে৷

ধারা ৩৭

১. আদিবাসীদের রাষ্ট্র বা তাদের উত্তরসূরিদের সাথে সমাপ্ত চুক্তি, চুক্তি এবং অন্যান্য গঠনমূলক ব্যবস্থার স্বীকৃতি, পালন এবং প্রয়োগ করার অধিকার রয়েছে এবং এই ধরনের চুক্তি, চুক্তি এবং অন্যান্য গঠনমূলক ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রের সম্মান ও সম্মান করার অধিকার রয়েছে।

২. চুক্তি, চুক্তি এবং গঠনমূলক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত আদিবাসীদের অধিকার হ্রাস বা নির্মূল করার জন্য এই ঘোষণাপত্রের কিছুই ব্যাখ্যা করা যাবে না।

ধারা ৩৭

১. আদিবাসীদের রাষ্ট্র বা তাদের উত্তরসূরিদের সাথে সমাপ্ত চুক্তি, চুক্তি এবং অন্যান্য গঠনমূলক ব্যবস্থার স্বীকৃতি, পালন এবং প্রয়োগ করার অধিকার রয়েছে এবং এই ধরনের চুক্তি, চুক্তি এবং অন্যান্য গঠনমূলক ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রের সম্মান ও সম্মান করার অধিকার রয়েছে।

২. চুক্তি, চুক্তি এবং গঠনমূলক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত আদিবাসীদের অধিকার হ্রাস বা নির্মূল করার জন্য এই ঘোষণাপত্রের কিছুই ব্যাখ্যা করা যাবে না।

ধারা ৩৮

রাজ্যগুলি আদিবাসীদের সাথে পরামর্শ এবং সহযোগিতায়, এই ঘোষণার শেষগুলি অর্জনের জন্য আইনী ব্যবস্থা সহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে৷

ধারা ৩৯

এই ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত অধিকারগুলি উপভোগের জন্য আদিবাসীদের রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

ধারা ৪০

রাজ্য বা অন্যান্য পক্ষের সাথে দ্বন্দ্ব ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য, সেইসাথে তাদের ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিক অধিকারের সমস্ত লঙ্ঘনের জন্য কার্যকর প্রতিকারের জন্য ন্যায়সঙ্গত এবং ন্যায্য পদ্ধতির মাধ্যমে আদিবাসীদের অ্যাক্সেস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আদিবাসী জনগোষ্ঠীর রীতিনীতি, ঐতিহ্য, বিধি এবং আইনি ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের প্রতি যথাযথ বিবেচনা করবে।

ধারা ৪১

জাতিসংঘ ব্যবস্থার অঙ্গ ও বিশেষায়িত সংস্থাগুলি এবং অন্যান্য আন্তঃসরকারি সংস্থাগুলি আর্থিক সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার সংঘবদ্ধকরণের মাধ্যমে এই ঘোষণার বিধানগুলির পূর্ণ বাস্তবায়নে অবদান রাখবে। আদিবাসীদের প্রভাবিত করে এমন বিষয়ে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উপায় ও উপায় স্থাপন করা হবে।

ধারা ৪২

জাতিসংঘ, আদিবাসী ইস্যুগুলির স্থায়ী ফোরাম সহ এর সংস্থাগুলি এবং বিশেষায়িত সংস্থাগুলি, দেশ পর্যায়ে এবং রাজ্যগুলি সহ, এই ঘোষণার বিধানগুলির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সম্পূর্ণ প্রয়োগের প্রচার করবে এবং এই ঘোষণার কার্যকারিতা অনুসরণ করবে৷

ধারা ৪৩

এখানে স্বীকৃত অধিকারগুলি বিশ্বের আদিবাসীদের বেঁচে থাকা, মর্যাদা এবং কল্যাণের ন্যূনতম মান গঠন করে।

ধারা ৪৪

এখানে স্বীকৃত সমস্ত অধিকার এবং স্বাধীনতা পুরুষ ও মহিলা আদিবাসীদের সমানভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ধারা ৪৫

এই ঘোষণাপত্রের কোন কিছুই আদিবাসীদের অধিকার এখন বা ভবিষ্যতে অর্জিত হতে পারে তা হ্রাস বা নির্বাপিত হিসাবে বোঝানো যাবে না।

ধারা ৪৬

১. এই ঘোষণাপত্রের কোন কিছুই কোন রাষ্ট্র, মানুষ, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির জন্য কোন কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার বা জাতিসংঘের সনদের পরিপন্থী কোন কাজ করার অধিকার বোঝায় বা এমন কোন কাজকে অনুমোদন বা উত্সাহিত করা হিসাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না যা সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে, সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক ঐক্যকে ভেঙে ফেলা বা ক্ষতিগ্রস্ত করা।

২. বর্তমান ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে, মানবাধিকার এবং সকলের মৌলিক স্বাধীনতাকে সম্মান করা হবে। এই ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত অধিকারের প্রয়োগ শুধুম

Address

Rangamati
Khagrachhari
4555

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hill Documentary posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Hill Documentary:

Share