E-Media:Mamun

E-Media:Mamun I'm Mamun, I'm a student of class M.B.A. Mester's. In a E-Media Journalist.

07/01/2025
বাঁশফুল কি সত্যিই ‘ইঁদুর বন্যা’ ঘটায় এবং দুর্ভিক্ষ ডেকে আনে?মরিয়ম সুলতানানিউজ‘বাঁশফুল’, নামটি অনেকে শুনলেও দেখেছেন হয়তে...
07/05/2024

বাঁশফুল কি সত্যিই ‘ইঁদুর বন্যা’ ঘটায় এবং দুর্ভিক্ষ ডেকে আনে?

মরিয়ম সুলতানা
নিউজ

‘বাঁশফুল’, নামটি অনেকে শুনলেও দেখেছেন হয়তো খুব কম মানুষ। কারণ বাঁশফুল সাধারণত কয়েক যুগ পর ফুটে থাকে।

বাঁশগাছ যখন তার উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখন একবারের জন্য ফুল দিয়ে থাকে।

এই বাঁশফুল সম্বন্ধে সমাজে কিছু কথা প্রচলিত আছে। বলা হয়, যদি কোনও বাঁশঝাড়ে ফুল ফোটে, তবে তা ঐ এলাকায় ‘ইঁদুর বন্যা’ ঘটায়। অর্থাৎ, সেখানে ইঁদুরের উৎপাত বেড়ে যায়।

অনেকে আবার এও বলেন, যেখানে বাঁশফুল হয়, সেখানে অতিশীঘ্রই দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এই কথাগুলো কি কেবলই কিছু ‘প্রচলিত ধারণা’? নাকি এর মাঝে কোনও সত্যতা আছে?

হঠাৎ বাঁশফুল কেন আলোচনায়?
সম্প্রতি ধানের জন্য বিখ্যাত দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের পাকাপান গ্রামের একটি বাঁশ ঝাড়ে ফুল ফুটেছে। ফুল ঝরে পড়ার পর সেই বাঁশ গাছে বীজ হয়েছে এবং ওই বাঁশঝাড়ের বীজ সংগ্রহ করে তা থেকে চাল উৎপাদন করেছে ঐ গ্রামের সাঞ্জু রায় নামক এক দিনমজুর।

আজ থেকে এক দশক আগে তিনি তার দাদুর মুখে শুনেছিলেন, সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে তারা বাঁশ গাছের বীজ থেকে চাল তৈরি করেছিলেন।

“যুদ্ধের পর অনেক দুর্যোগ গেছিলো। তখন অভাব অনটন ছিল। তাই আমার দাদুরা বাঁশফুল চাল খেয়ে জীবন-যাপন করছিলো আর কি। আমার দাদু নাই এখন। ১০-১২ বছর আগে উনি আমায় বলছিলো এটা। এই কথাটা আমার মনে আছিলো,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মি. সাঞ্জু।

সাঞ্জু রায় গ্রামের এক বিত্তবান মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। প্রায় দুই বিঘা জমি জুড়ে পড়ে থাকা যে বাঁশঝাড় থেকে তিনি বীজ সংগ্রহ করেছে, তা সেই বাড়ির মালিকেরই। তার ভাষ্যে, “ওনারা বড়লোক মানুষ। বীজ নিলে তারা কিছু বলে না। এইসবের দিকে গুরুত্ব কম তাদের।”

বাঁশঝাড়ের পাশেই এক খণ্ড জমি আছে সাঞ্জুর। “এ বছর আমি দেখলাম যে বাঁশঝাড়ে ফুল আইছে। তারপর আমি হাতে নিয়ে পরীক্ষা নিয়ে দেখলাম যে আসলেই চাল, আঠা আঠা ভাব লাগছে। একটা ঘ্রাণ লাগছে। এরপর থেকে আমি জমিতে কাজ করতাম আর অপেক্ষা করতাম যে কবে বীজ আসে।”

ওই বাঁশঝাড় থেকে ১০ মণ বীজ সংগ্রহ করেছেন তিনি। বাঁশের বীজ থেকে কতটুকু চাল পাওয়া যায়, সেটা বোঝাতে মি. সাঞ্জু জানান—চার মণ বীজ থেকে দুই মণ পরিমাণ চাল পেয়েছেন তিনি।

বীজ ভাঙ্গিয়ে চাল তৈরি করে তা তিনি নিজের জন্য রেখেছেন। প্রতিবেশীদের কাছে বিক্রি করেছেন। এমনকি, কিছু চাল তিনি বাঁশঝাড়ের মালিককে উপহার দেওয়ার পাশাপাশি গবেষণার জন্যও দিয়েছেন।

হঠাৎ বাঁশের বীজ সংগ্রহ করার নেপথ্যের কারণও বর্ণনা করেন তিনি।

“এখন আমার কাম-কাজ নাই, অভাবের টাইম। ফুল আসার তিন চার মাস পর যখন বীজ আসলো, তখন আমি ভাবলাম যে যদি এইখান থেকে চাল উৎপাদন করতে পারি, আমার উপকার হয়।”

বাঁশ গাছে কতদিন পরে ফুল ফোটে?
কথিত আছে, একটি বাঁশে নাকি প্রতি ৫০ বছর পর পর ফুল ফোটে। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয় আসলে। বাঁশফুল এরকম নিয়ম মেনে একটি নির্ধারিত সময় পর পর ফোটে না।

নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলায় অবস্থিত আঞ্চলিক বাঁশ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (আরবিআরটিসি) রিসার্চ অফিসার মো. আসাদুজ্জামান সরকার বিবিসি বাংলাকে বলেন, “বাঁশের জীবনকাল নির্ভর করছে তার প্রজাতির ওপর। একটি বাঁশ গাছে অন্তত ৪০ বছর থেকে শুরু করে ১২০ বছর বয়সেও ফুল ফুটতে পারে। প্রজাতিভেদে এটা ভিন্ন হয়।”

তিনি জানান, একটি বাঁশ গাছ তখনই ফুল দেয়, যখন সেই গাছের উৎপাদন সক্ষমতা শেষ হয়ে যায়।

তবে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইন্সটিউটের চট্টগ্রামের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমান যদিও বলেন, “আমরা গবেষণায় দেখেছি, কোনও কোনও বাঁশ গাছে ২৫ বছর পরও ফুল ফোটে। তারপর সে মারা যায়। এটি আসলে প্রজাতিভেদে নির্ভর করে। কিন্তু অন্তত ২০-২৫ বছর সময় নেয়ই।”

পাকাপান গ্রামের বাঁশঝাড়ও কি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে?
মো. মাহবুবুর রহমান বলছেন, “বাঁশফুল আসা মানে ঐ বাঁশের জীবনচক্র শেষ, সেটা মারা যাবেই”।

দিনাজপুরে বাঁশফুল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওই ঝাড়ের যেগুলোয় এ বছর ফুল আসছে, সেগুলো এবছরই শুকিয়ে মারা যাবে। যেগুলোয় আসে নাই, সেগুলোয় পরের দুই তিন বছর আসবে। এভাবে একটা সময় সব বাঁশ শুকিয়ে মারা যাবে।”

অর্থাৎ, “কয়েকবছর পর ওই বাঁশঝাড় সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।”

সেক্ষেত্রে নিশ্চিহ্ন যাতে না হয়, তার জন্য সব বীজ চালে রূপান্তরিত না করে বরং সেগুলো সংগ্রহ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই বন কর্মকর্তা।

তিনি এও বলেন যে আগামী দুই তিন বছর ওখানে প্রচুর বীজ উৎপাদন হবে।

“তাই, বীজ সংগ্রহ করে ওখানে নতুন করে চারা রোপণ করা প্রয়োজন। চারা রোপন করলে পাঁচ থেকে ছয় বছরের মাঝে আবার বাঁশঝাড় হয়ে যাবে।”

বাঁশ গাছের মৃত্যুর ‘অদ্ভুত নিয়ম’
বন কর্মকর্তারা শুরুতেই বলেছেন যে দিনাজপুরের ওই বাঁশঝাড় আগামী দুই থেকে তিন বছরের মাঝে মারা যাবে, যদি না সেখানে বীজ রোপন করা হয়।

এখন যদি কেউ এই বাঁশঝাড় থেকে চারা নিয়ে অন্য কোথাও যদি কেউ রোপন করে এবং সেই চারা কয়েক বছর পর বড় গাছে পরিণত হলেও, যখন মূল বাঁশঝাড় মারা যাবে, তখন অন্য জায়গায় লাগানো বাঁশ গাছেরও মৃ্ত্যু হবে।

এ প্রসঙ্গে মি. রহমান আরও বলেন, “বাঁশে ফুল এলে তার ফিজিওলজিক্যাল এক্টিভিটি বন্ধ হয়ে যায়। তখন আর সে খাবার তৈরি করতে পারে না। যদি খাবারই তৈরি করতে না পারে, তার অস্তিত্ব টিকে থাকে না।”

বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৭ প্রজাতির বাঁশ আছে এবং সারাবিশ্বে এই সংখ্যা ১৫ শ’রও বেশি। এর মাঝে শুধুমাত্র চীনেই আছে প্রায় ৯০০ প্রজাতি।

বাংলাদেশে যে সব প্রজাতির বাঁশ আছে, সেগুলোর ২৫-২৬টি প্রজাতিই হল গ্রামীণ বাঁশ। বাকিগুলো বুনো প্রজাতির। কিন্তু পৃথিবীর সকল বাঁশই জীবনচক্রের একটি পর্যায়ে গিয়ে এভাবে ফুল ফুটে মারা যায় না বলে জানান মি. রহমান।,

“কোনও কোনও বাঁশ আছে, যাতে কখনওই ফুল আসে না। সেগুলো রোগাক্রান্ত হয়ে বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় মারা যাবে।”

বাঁশ গাছের বীজ থেকে চাল কীভাবে?
এক্ষেত্রে প্রথমেই বলে নেয়া প্রয়োজন যে বাঁশ কোনও গাছই নয়। এটি মূলত এক ধরনের ঘাস এবং চির সবুজ বহু বর্ষজীবী উদ্ভিদ, যা নাতিশীতোষ্ণ ও গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে জন্মায়। বন কর্মকর্তারা জানান, ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও বাঁশ টিকে থাকে।

এদিকে, ধান কিংবা গমও কিন্তু ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ। পার্থক্য হলো, বাঁশের আয়ুষ্কাল অনেক। আর, গম ও ধানের আয়ু কয়েক মাসের। এদের আরেকটা পার্থক্য, আকার।

বাঁশ বড় হতে হতে একসময় এত বিশাল হয় যে তার গাছের আকার ধারণ করে। কিন্তু ধান ও গম জাতীয় উদ্ভিদ আকারে কখনওই এত বড় হয় না।

এখন যেহেতু এগুলোর সব-ই একই গোত্রের, তাই এদের বীজেও সাদৃশ্য থাকা স্বাভাবিক।

দিনাজপুরের কাটাবাঁশের ঝাড়ে যে বীজ হয়েছে, তা দেখতে অনেকটা গম বা ধান আকৃতির।

বাঁশ তো ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ। একই গোত্রভুক্ত হওয়ায় বাঁশের বীজ থেকে চাল বের করে তা রান্না করলে হতেও পারে ভাত। তবে বাঁশের বীজ থেকে চাল হচ্ছে, এটা আমি প্রথম শুনলাম। ভারতেও বীজ হয়, সেখানেও না কি এভাবে রান্না করে খায়," মি. রহমান বলেন।

তিনি আরও জানান, সব বাঁশের বীজের আকার একই রকম না। বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে মূলি বাঁশ নামক এক ধরনের বাঁশ আছে। সেই বাঁশের বীজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বাঁশের বীজের সাইজ একেকরকম। কিছু আছে সরিষার দানার মতো। সবচেয়ে বড়টা মূলি বাঁশের বীজ, সেটা পিঁয়াজের মতো। আবার এই কাটা বাঁশের বীজ গমের মতো।"

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের কাছে বাঁশের সবজি খুব প্রিয় এক খাবার।

"বাঁশের বীজ খাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই চলে আসছে। মুলি বাঁশে বীজ আদিবাসী বা পাহাড়ি মানুষ সংগ্রহ করে খায়। আর সবজি হিসেবে কোড়ল তো তাদের খুব প্রিয়।"

তবে বাঁশফুল চালকে ধানের বিকল্প হিসেবে ভাবার এখনি কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না কর্মকর্তারা।

ডোমার উপজেলায় অবস্থিত আঞ্চলিক বাঁশ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (আরবিআরটিসি) রিসার্চ অফিসার মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, " ধান গাছ থেকে আমরা তিন মাস পরে ধান পাই। কিন্তু একটি বাঁশের জীবনকাল তো মিনিমাম ৪৫ বছর। তাহলে সেটিকে ধানের বিকল্প হিসেবে ভাবা যায় না।"

"এছাড়া, ধানের পুষ্টি আর ওটার পুষ্টিগুণ কাছাকাছি কি না, তাও আমরা জানি না।"

তবে জেনেটিক পরিবর্তন করে বাঁশগাছের জীবনকাল কমিয়ে আনা গেলে সেটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কর্মকর্তারা বলছেন।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয় রংপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রকিবুল হাসান জানান, তারা ইতোমধ্যে আধা কেজি বীজ ও চালের নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

“আমরা নমুনা সংগ্রহ করেছি। আমরা পরীক্ষা করে দেখবো যে দানার গুণমান বা পুষ্টিগুণ কেমন। অনেক পুষ্টিগুণ থাকলে আমারা দেখবো যে আয়ুষ্কাল কমিয়ে আনা যায় কি না।"

এ সময় মি. হাসান আরও বলেন, এরকম চাল ভারতের কেরালা, তামিলনাড়ু, আসামে বাণিজ্যিকভাবে হয় বলে তারা জানতেন। কিন্তু বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এরকম হলো।

"পাহাড়ি এলাকায় যা হয়, তা সাধারণত ইঁদুর খায়। এর আগে এত বেশি পরিমাণে বীজ হয়নি ও চাল হতে আমরা কখনও দেখিনি। তাই, বিষয়টা আমাদের জন্যও নতুন।

ইঁদুর বন্যা’ ও দুর্ভিক্ষের সাথে বাঁশফুলের সম্পর্ক কোথায়
ধান যেমন ইঁদুরের খুব প্রিয় খাদ্য, তেমনি একই গোত্রভুক্ত বাঁশের বীজও ইঁদুরের খুব প্রিয়।

তাই, যখন কোথাও বাঁশের বীজ হয়, তখন সেখানে ইঁদুর ও পাখির সমাগম বেড়ে যায়।

তবে ইঁদুর নিয়ে শঙ্কার কারণ, এই প্রাণী থেকে প্লেগের মতো বিভিন্ন ইঁদুরবাহিত রোগ ছড়ায়।

বন গবেষণা ইন্সটিউটের চট্টগ্রামের বিভাগীয় কর্মকর্তা মি. রহমান বলেন, "যেখানে ধান হয়, সেখানে ইঁদুর থাকে। কারণ ধান ইঁদুরের পছন্দের একটি খাদ্য। তাই ওখানে যদি মানুষজন যায়, তাহলে অসুখ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। হবেই, তা বলা যাবে না।"

ইঁদুর যখন ধান খায়, তখন তার প্রজনন ক্ষমতা বেড়ে যায়।

মি. রহমান বলছেন, "বীজ খেলে ইঁদুরের ব্রিডিং ক্যাপাসিটি বেড়ে যায়। ফলে ঐ এলাকায় হঠাৎ করে ইঁদুরের সংখ্যা বেড়ে যায়।"

কিন্তু খেতে খেতে যখন বীজ একসময় শেষ হয়ে যায়, তখন ওই ইঁদুর "খাবারের জন্য আশেপাশের মানুষের বাড়িতে হানা দেয় ও ফুল চলে গেলে সেখানে দুর্ভিক্ষ বেড়ে যায়।"

কিন্তু একটি মাত্র বাঁশঝাড়ে এরকম ফুল থেকে ইঁদুর বন্যার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে না। সাধারণত পাহাড়ি এলাকার মতো যেসব স্থানে অনেক জায়গা জুড়ে বাঁশঝাড় থাকে, সেখানে বাঁশফুল আসলে এরকম সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

প্রচলিত ধারণা থাকলেও বাঁশগাছে ফুল আসার কারণে ইঁদুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়া বা এই কারণে দুর্ভিক্ষ হওয়ার মতো ঘটনা বাংলাদেশে কখনো শোনা যায়নি।

আবারও অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে জোর দিল যুক্তরাষ্ট্র১৪ জুলাই ২০২৩বাংলাদেশের আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ, ...
14/07/2023

আবারও অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে জোর দিল যুক্তরাষ্ট্র
১৪ জুলাই ২০২৩

বাংলাদেশের আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ যাতে হয় সেজন্য আবারও জোর দিল যুক্তরাষ্ট্র। সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বেসামরিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং একাধিক মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয় এবং সাংবাদিকরা যাতে বিনা বাধা ও ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারে তা সরকারকে বলেছি। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ হোক, তবে যুক্তরাষ্ট্র এতে সম্পৃক্ত হবে না।

উজরা জেয়া গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে ঢাকায় তার ব্যস্ততম কর্মসূচি শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সচিবালয়ে যান। সেখানে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর দুপুরে আসেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়। সেখানে পররাষ্ট্র সচিব বিন মোমেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। এরপর উভয়ই সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচনে বৃহত্ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং সুশাসনের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যত। গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেই এবং সেই সম্পর্ককে আরো গভীর করার ওপর জোর দেই।

উজরা জেয়া গত ১২ জুলাই ঢাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমাবেশের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমরা রাজনৈতিক সমাবেশ দেখেছি, যা ছিল শান্তিপূর্ণ। আমরা এ ধরনের চিত্র ভবিষ্যতেও দেখতে চাই। সরকারের সঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোনো ভীতি ছাড়া সাংবাদিকদের খবর পরিবেশন করা এবং মানব পাচার প্রতিরোধ নিয়েও আলোচনা করেছি।

সর্বশেষ
বিশেষ সংবাদ
জাতীয়
সারাদেশ
রাজনীতি
বিশ্ব সংবাদ
খেলা
বিনোদন
বাণিজ্য
লাইফস্টাইল
টেক
ভিন্নচোখে
ভিডিও
মতামত
অন্যান্য
জাতীয়
জাতীয়
উজরা জেয়ার সিরিজ বৈঠক
আবারও অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে জোর দিল যুক্তরাষ্ট্র
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৩, ০০:৩১
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বেসামরিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বেসামরিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া
বাংলাদেশের আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ যাতে হয় সেজন্য আবারও জোর দিল যুক্তরাষ্ট্র। সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বেসামরিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং একাধিক মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয় এবং সাংবাদিকরা যাতে বিনা বাধা ও ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারে তা সরকারকে বলেছি। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ হোক, তবে যুক্তরাষ্ট্র এতে সম্পৃক্ত হবে না।

দৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
উজরা জেয়া গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে ঢাকায় তার ব্যস্ততম কর্মসূচি শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সচিবালয়ে যান। সেখানে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর দুপুরে আসেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়। সেখানে পররাষ্ট্র সচিব বিন মোমেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। এরপর উভয়ই সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচনে বৃহত্ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং সুশাসনের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যত। গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেই এবং সেই সম্পর্ককে আরো গভীর করার ওপর জোর দেই।

উজরা জেয়া গত ১২ জুলাই ঢাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমাবেশের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমরা রাজনৈতিক সমাবেশ দেখেছি, যা ছিল শান্তিপূর্ণ। আমরা এ ধরনের চিত্র ভবিষ্যতেও দেখতে চাই। সরকারের সঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোনো ভীতি ছাড়া সাংবাদিকদের খবর পরিবেশন করা এবং মানব পাচার প্রতিরোধ নিয়েও আলোচনা করেছি।

নির্বাচনের আগে বড় দুই দলের মধ্যে সংলাপের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সবাই সংলাপ চাই। তবে এই প্রক্রিয়ায় আমরা সরাসরি যুক্ত নই। যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক মানবাধিকার নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরো গভীর করতে চায় উল্লেখ করে উজরা জেয়া বলেন, আগামী ৫০ বছর এবং তার পরের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি। জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন সহায়তা, অর্থনৈতিক, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা খাতে আমাদের যে সহযোগিতা, তা সম্পর্কের মাত্রা এবং ভবিষ্যত্ সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রে নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ যে ভূমিকা পালন করে, সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মানবাধিকার এবং মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিষয়ে, বিশেষ করে মতপ্রকাশের এবং সমাবেশের স্বাধীনতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে উজরা জেয়া বলেন, এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য ২০০ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আরো ৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার নতুন সহায়তা দেবে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্রত্যাবাসনের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করি। কিন্তু ঐ পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি।

অন্যদিকে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, উজরা জেয়ার সঙ্গে বৈঠকে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ বহুমাত্রিক ও নানা ক্ষেত্রে বিস্তৃত যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেটা তাকে জানিয়েছি। শ্রম আইনের সংশোধনে বাংলাদেশ গত এক দশকে কী অর্জন করেছে, সেটাও তুলে ধরেছি। শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং তাদের অধিকারের বিষয়ে উদ্যোগ চলমান আছে। এছাড়া আগামী নির্বাচন, নাগরিক অধিকার, মানব পাচার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারিকে র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

কোনো দল বা ব্যক্তিকে সমর্থন করতে তারা আসেননি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তারা দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও ঝামেলাবিহীন নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো নিয়ে কোনো প্রসঙ্গ আসেনি, কোনো আলোচনাই হয়নি। তারা এতটুকু বলেছেন যে, তারা কোনো পার্টিকে উত্সাহিত করার জন্য এখানে আসেননি। তারা কোনো দলকে সমর্থন করেন না। বাংলাদেশে যাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়, এর বাইরে তারা কিছুই চান না, কিছুই বলেননি।

আসাদুজ্জামান খান কামাল আরো বলেন, ‘তারা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে আসেননি বলেও আমাদের জানিয়েছেন। তারা কারো প্রতি বিরাগভাজন হয়ে এখানে আসেননি। তারা চাইছেন বাংলাদেশের যেভাবে উন্নয়ন হচ্ছে, সেটিই যাতে অব্যাহত থাকে। তারা যে ভিসা-নীতি ঘোষণা করেছেন, সেটা সবার জন্য। সেটা কোনো দলকে উদ্দেশ্য করে দেননি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তিনি তার দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে গেছেন। এই সবকিছু নিয়ে তারা সন্তুষ্ট, সেটা তারা আমাদের কাছে বলে গেছেন।’

মার্কিন প্রতিনিধিদল বুধবার দুই দলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রশংসা করেছে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলাপ হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সমস্যার কত দ্রুত সমাধান হবে, সেটা নিয়ে আলাপ হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে মানব পাচারকারীরা যে খেলাধুলা করছে, সেটা নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আমরা বলেছি, মানব পাচার রোধে আমরা টায়ার থ্রি থেকে টায়ার টুতে চলে এসেছি। এটা তাদেরই মূল্যায়ন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা সবকিছু নিয়েই সন্তুষ্ট। তারা বলেছেন, আগামী নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত হয়, সেটা তারা দেখতে চান। আমরা বলেছি, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময় আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। নির্বাচন কমিশন যেভাবে নির্দেশনা দেবে, সেভাবেই তারা কাজ করবে।’ র‍্যাব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, র‍্যাব নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধন করা হবে: জানালেন আইনমন্ত্রী

সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে উজরা জেয়ার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওনারা বলেছেন যে সব দেশেই তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চান। আমি তাদের বলেছি, নিপেক্ষ নির্বাচন করার মতো আইনি কাঠামো বাংলাদেশের রয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব আইন সহায়ক, সেই সব আইনের কথাই বলা হয়েছে প্রতিনিধিদলকে।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের আইন নিয়ে প্রতিনিধিদলকে বলা হয়েছে। আমি বলেছি, গত ৫০ বছরেও এই আইন বাংলাদেশে ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার এই আইন প্রণয়ন করেছে। উপমহাদেশসহ অন্য কোনো দেশে এই আইন নাই।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিনিধিদল পোশাকশ্রমিক নেতা শহীদুল হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলেছেন। আমি বলেছি, বাংলাদেশে এখন কোনো বিচারহীনতার সংস্কৃতি নাই। এখন যে কোনো অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এ দেশে হয়।’

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে কথা হয়েছে। এই অ্যাক্ট নিয়ে আমি আগে যা বলেছি, প্রতিনিধিদলকে সেটাই বলা হয়েছে। আমি আগেও বলেছি যে, এই অ্যাক্ট সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশোধিত হবে। এটাই তাদের প্রকারান্তরে জানিয়েছি।’ তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কোনো কথা হয়নি। প্রতিনিধিদলও এ বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করেনি। জানা গেছে, আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়াকে ‘একটি বই ও নৌকা’ উপহার দেন আইনমন্ত্রী। বৈঠকে জননিরাপত্তা সচিব, আইন সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ইমরান ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির 'এক দফা' কেন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বদলে সরকারের পদত্যাগ১৪ জুলাই ২০২৩বিরোধী দল বিএনপি গত কয়েক বছর ধরে...
13/07/2023

বিএনপির 'এক দফা' কেন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বদলে সরকারের পদত্যাগ
১৪ জুলাই ২০২৩
বিরোধী দল বিএনপি গত কয়েক বছর ধরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসলেও এবার তারা সরকারের পদত্যাগকেই তাদের চূড়ান্ত বা এক দফা দাবি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বিএনপিসহ তাদের সমমনা দল ও জোটগুলো বুধবার একযোগে যে ‘এক দফা দাবি’ আদায়ের কর্মসূচির ঘোষণা করেছে সেখানে এক দফা হিসেবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগের কথাই তারা উল্লেখ করেছে।

অর্থাৎ এখন থেকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো আলাদাভাবে কিন্তু একই দিনে একই কর্মসূচি পালন করবে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার উদ্দেশ্য নিয়ে।

বুধবারের সমাবেশে এক দফা দাবি কি সেটি পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী বর্তমান কর্তৃত্ববাদী অবৈধ সরকারের পদত্যাগ-এটাই এক দফা, এক দাবি”।

কিন্তু কেন বিএনপি এবার নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বদলে সরকারের পদত্যাগে বেশি গুরুত্ব দিল কিংবা দলটি কি তাদের মূল দাবি কিছুটা পরিবর্তন করল কি-না এসব প্রশ্নও উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে এ বার্তা?

বিএনপি নেতারা বলছেন যে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে দলের লক্ষ্য আরও পরিষ্কার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও দলের অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে যাতে করে তারাও বুঝতে পারে যে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রেখে অন্য কোনো ফর্মুলাতেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।

“আমাদের ডেভেলপমেন্ট পার্টনাররা এখন বাংলাদেশ সফর করছেন। তাদেরকে একটি বার্তা আমরা দিয়েছি যে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে আমরা যাবো না। আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন করবো। কোনো ভাবেই আমরা আমাদের মূল দাবি থেকে সরে যাইনি,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

অবশ্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের জল্পনা কল্পনাও রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। অনেকে মনে করেন বিদেশীদের মধ্যস্থতায় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার নিশ্চয়তা পেলেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি, সরকারে যেই থাকুক না কেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলছেন তারা এটিও নেতাকর্মীদের কাছে পরিষ্কার করতে চেয়েছেন যে ‘আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, তারপর নির্বাচন হবে’।

“মাঠে ময়দানে সবার কাছে আমরা পরিষ্কার বার্তা দিয়েছি। তাই দেশের মানুষের কাছে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে আমাদের অবস্থান নিয়ে আর দ্বিধা নেই বলেই আমরা মনে করি,” বলছিলেন তিনি।

আবার বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও বুধবারের সমাবেশে বলেছেন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের পুনরাবৃত্তি অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় রেখেই নির্বাচন তারা আর হতে দেবেন না।

দলের নেতারা বলছেন দেশে সফররত বিদেশী প্রতিনিধি দলসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তারা বোঝাতে চাইছেন যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে "সরকারের ক্ষমতায় থাকাটাই" বড় অন্তরায় হয়ে উঠবে।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়া চার দিনের সফরে এখন বাংলাদেশে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের সাথে তার বৈঠকে সামনের নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

পাশাপাশি ঢাকায় এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬ সদস্যের নির্বাচনী অনুসন্ধানী মিশন । দুই সপ্তাহের সফরে, ইইউ প্রতিনিধি দলটির সরকার, রাজনৈতিক দলগুলো, নির্বাচন কমিশন, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার কর্মসূচি রয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণার পর থেকেই মূলত সরকারের পদত্যাগের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে বিএনপি।

এই নীতির আওতায় যে কোন বাংলাদেশি ব্যক্তি যদি সেদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের প্রক্রিয়া ব্যাহত করার জন্য দায়ী হন বা এরকম চেষ্টা করেছেন বলে প্রতীয়মান হয় - তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভিসা দেয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যান্টনি ব্লিংকেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতি অনুযায়ী নতুন এ নীতির আওতায় পড়বেন বর্তমান এবং সাবেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা, সরকার-সমর্থক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচারবিভাগ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সদস্যরা।
১০ দফা থেকে এক দফা
বাংলাদেশে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিলো বিএনপি এবং সেবারের নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতার পর আন্দোলনের ক্ষেত্রেও অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলো দলটি।

পরে ২০১৮ সালে শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যায় বিএনপি এবং নির্বাচনে মাত্র সাতটি আসনে জয়ের পর ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করে এ সরকারের অধীনে আর নির্বাচন না করার ঘোষণা দেয়।

এরপর থেকে ধীরে ধীরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিকে সামনে রেখে দল গোছানো ও জনমত তৈরির কাজে নামার চেষ্টা করে দলটি।

কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে ব্যাপক বাধার মুখে পড়ে দলটি।

এসব সত্ত্বেও গত বছরের শেষার্ধে এসে বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ সফল করে নতুন করে আলোচনায় আসে বিএনপি। যদিও তখন ঢাকার সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা হয় ও দলের মহাসচিবসহ অনেক নেতাকর্মী আটক হন।

এর মধ্যেই দশই ডিসেম্বরে ঢাকার সমাবেশ থেকে সংসদ বিলুপ্ত করে সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন বাতিল করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠনসহ দশ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছিলো।
ঢাকার ওই সমাবেশ থেকেই বিএনপি এমপিদের সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা নিয়ে ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করে বর্তমান সরকার বিরোধী অলআউট মুভমেন্টে’র কথা বলা হয়েছিলো।

তবে বুধবারের সমাবেশে এসে দলটি সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিকে সামনে নিয়ে এসে সমমনাদের নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।

দলটির মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নেতা জহির উদ্দিন স্বপন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে দল ও দলের বাইরে রাজনৈতিক দাবি বা দলের অবস্থান নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা যেন না থাকে সেজন্যই সরকারের পদত্যাগের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

“সরকার পদত্যাগ করলেই তো নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার অনিবার্যভাবে আসবে। আর তাদের পদত্যাগ আমরা এখনি চাই। সেজন্যই পদত্যাগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ নিয়ে কোনো ভুল বুঝাবুঝি যেন না থাকে সেজন্যই আমরা পরিষ্কার করে বলেছি যে আগে সরকারের পদত্যাগ চাই,” ই-মিডিয়াকে বাংলাকে তিনি বলেন ।

29/06/2023

I'm Mamun, I'm a student of class M.B.A. Mester's. In a E-Media Journalist.

Address

Khulna
9000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when E-Media:Mamun posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to E-Media:Mamun:

Share