24/07/2026
কতবার তুমি ভেবেছ— 'আমিই তো কাউকে দিলাম'?
কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের রিজিকের দায়িত্ব তোমার সৃষ্টি হওয়ারও আগে নির্ধারণ করে রেখেছেন; এমনকি সেই সম্পদ সৃষ্টি হওয়ারও আগে।
আল্লাহ যদি সেই রিজিক তোমার হাত দিয়ে পৌঁছে দেওয়ার ফয়সালা না করতেন, তবে তিনি অন্য একটি দরজা খুলে দিতেন, অন্য একটি কারণ সৃষ্টি করতেন, অন্য একটি হৃদয়কে সেই কাজে নিয়োজিত করতেন।
তুমি দান করতে পেরেছ—এটা এই কারণে নয় যে আল্লাহ তোমার মুখাপেক্ষী। বরং তিনি তোমার জন্যই কল্যাণ চেয়েছেন।
তিনি চেয়েছেন, তোমার নাম যেন সৎকর্মশীলদের তালিকায় লেখা হয়।
তিনি চেয়েছেন, তোমার এমন একটি আমল থাকুক, যা তোমার সব পার্থিব সম্পদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও থেকে যাবে।
তিনি চেয়েছেন, ক্ষণস্থায়ী সম্পদকে এমন এক প্রতিদানে রূপান্তরিত করতে, যার সওয়াব কখনো শেষ হবে না।
তাই সদকাকে এমনভাবে দেখো না যে এতে তোমার সম্পদ কমে যাচ্ছে। বরং এভাবে ভাবো—আল্লাহ তোমাকে তাঁর রহমত পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
কত বড় সৌভাগ্যের বিষয়—আল্লাহর এক বান্দার রিজিক তোমার হাত দিয়ে তার কাছে পৌঁছায়, আর সেই কাজের পূর্ণ সওয়াব আল্লাহ তোমার আমলনামায় লিখে দেন।
মনে রেখো, দরিদ্র ব্যক্তি তোমার অপেক্ষায় ছিল না; সে অপেক্ষা করছিল আল্লাহর নির্ধারিত রিজিকের। আর আল্লাহ তাঁর অসীম রহমতে তোমাকে সেই রিজিক পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম বানিয়েছেন, যাতে সে দান পাওয়ার আগেই তুমি সওয়াব অর্জনের সুযোগ পেয়ে যাও।
তাই যখনই আল্লাহ তোমার জন্য দান করার দরজা খুলে দেন, তখন তা বিলম্ব করো না। কারণ এই সুযোগটি হয়তো আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার প্রতি পাঠানো একটি রহমত, অন্য কারও প্রতি রহমত হওয়ার আগেই।
হে আল্লাহ!
আমাদের হাতকে দানশীলতার হাত বানিয়ে দিন, ভিক্ষার জন্য প্রসারিত হাত বানাবেন না। আমাদের অবস্থা কেবল উত্তমের দিকেই পরিবর্তন করুন। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।
আমাদের কল্যাণের চাবিকাঠি এবং অকল্যাণের তালা বানিয়ে দিন। আমাদেরকে আপনার আনুগত্যের কাজে ব্যবহার করুন। আমাদের হাত দিয়ে যে কল্যাণ আপনি মানুষের কাছে পৌঁছে দেন, তার প্রতিদান থেকে আমাদের বঞ্চিত করবেন না।
আর সেই সব নেক আমলকে কিয়ামতের দিন আপনার সাক্ষাতের সময় আমাদের জন্য নূরস্বরূপ করে দিন।
আমীন।