18/08/2025
একটা ছোট কুয়ায় অনেকগুলো ব্যাঙ বাস করত। কুয়ার ভেতরে জলের ঘূর্ণি, শেওলা, পোকা–মাকড়—এই ছিল তাদের পৃথিবী। তারা প্রতিদিন লাফিয়ে, ডুব দিয়ে, খেলে মনে করত—“এটাই তো সবকিছু… এই কুয়াটাই আসল পৃথিবী।” একদিন এক নতুন ব্যাঙ কোথা থেকে যেন এসে পড়ল কুয়ায়। সে বলল—" বন্ধুরা, তোমরা জানো? এই কুয়ার বাইরে এক বিশাল পৃথিবী আছে… আছে নদী, হ্রদ, সমুদ্র, পাহাড়… এমন বড়, যা তোমরা কল্পনাও করতে পারবে না।”
কুয়ার ব্যাঙগুলো হেসে উঠল।একজন বলল—“কি বলছিস? পৃথিবী মানেই তো আমাদের কুয়া!” আরেকজন লাফ দিয়ে মাপতে শুরু করল—“এই দেখ, আমি যতদূর লাফ দিই, এই তো সবচেয়ে বড়। তার চেয়ে বড় কিছু হয় নাকি?” নতুন ব্যাঙ যতই বোঝাতে চায়, তারা ততই হেসে বলে—“তুই আমাদের কুয়ার চেয়ে বড় কিছু দেখাতে পারবি না!”
কিন্তু একদিন প্রবল বৃষ্টি আর ঝড়ে কুয়াটা ভেঙে যায়। পানি উপচে পড়ে চারপাশে নদীর সঙ্গে মিশে যায়। কুয়ার ব্যাঙগুলো প্রথমে ভয় পায়, তারপর ধীরে ধীরে চারপাশে তাকিয়ে দেখে—কুয়ার বাইরের দুনিয়াটা তাদের কল্পনার চেয়েও বিশাল। আকাশ যেন শেষ নেই, জল যেন সীমাহীন, আর নতুন নতুন প্রাণী আর সৌন্দর্যে ভরা এই পৃথিবী। তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলে—"আমরা এতদিন নিজেদের ছোট কুয়াকেই মহাবিশ্ব ভেবেছি, তাই অন্যদের সম্মান করতে শিখিনি… তাই বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিনি।”
বাস্তব জীবনেও বেশিরভাগ মানুষ এমন—ভাবেন তিনি সব জানেন, তাই নিজেকে আর বদলানোর দরকার নেই। কেউ নতুন কোনো ধারণা নিয়ে এলে তারা সেটা নিজের সীমিত অভিজ্ঞতা বা বোঝার লাফ দিয়ে মাপতে চায়। গ্রামের চায়ের দোকানে বসে অনেকে ড. ইউনুসকে নামিয়ে ফেলে, আবার কোনো কারখানার এক্সিকিউটিভ বা পিএম ভাবে—“আমি তো সব জানি, আমার চেয়ে কেউ বেশি বুঝে না।” এই মানসিকতাই আমাদের বড় হতে দেয় না। কিন্তু গণ্ডি না ছাড়া পর্যন্ত বোঝা যায় না, এই মহাবিশ্ব কত বড় আর কত কিছু শেখার বাকি। আমাদের দরকার নিজের মন, হৃদয় খুলে নতুন করে দেখা—নতুন ধারণাকে সম্মান করা, নতুন কিছু শেখার সাহস রাখা। তাই নিজের গণ্ডি ছাড়ুন, নতুন জায়গা দেখুন, নতুন মানুষের সাথে কথা বলুন, ভিন্ন মতকে সম্মান করুন—তবেই বুঝবেন, এই দুনিয়াটা কুয়ার চেয়ে কত বড়!
আল্লাহ আপানার সম্মান বাড়িয়ে দিন!