We Are Muslim

We Are Muslim We should remember that we are Muslim... we should trying hard to change our situation in the society.

09/01/2026

❝অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বাদ দাও। অর্থহীন বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকো।। যেভাবে ধনসম্পদ সংরক্ষণ করো, ঠিক সেভাবেই নিজের জিহ্বাকে সংরক্ষণ করো।❞

—আবদুল্লাহ ইবনু আমর রদিয়াল্লাহু আনহু

—ইবনু আবী শাইবাহ, আল- মুসান্নাফ : ১৩/৩৫২,

সংগৃহীত

09/01/2026

কুকুর বিড়ালের যত্ন নিন, তবে দেশের পথঘাটে বেওয়ারিশ কুকুর বিড়ালের যত্ন নিন।

টাকা পয়সা খরচ করে তথাকথিত উন্নত জাত বা সৌখিন জাতের কুকুর বিড়ালের জন্য অর্থ খরচ করা অপচয়ের শামিল।

কুকুর বিড়ালের বাস্তুসংস্থান হলো মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষের কোলে বা অন্দরমহলে খেলনা করে রাখা তাদের উপর এক ধরনের জুলুম। অপচয় ও জুলুম করবেন না।

09/01/2026

কেউ নামাজ পড়লেই যে তার চিন্তা দ্বীনি হবে, এমন না। কেউ তার ফেইসবুক বায়োতে কুরআনের আয়াত ঝুলায়ে রাখলেই যে সে মুসলিম হয়ে যাবে এমন না, প্রতি শুক্রবার Inspire to be Islamic অথবা প্রতি দিন Proud to be Islamic পেইজের পোস্ট শেয়ার দিলেই কেউ মুসলিম হয়ে যায় না। মূল বিষয় হচ্ছে তার প্যারাডাইম, সে কোন লেন্সে দেখছে দুনিয়াকে।

এই প্যারাডাইম জিনিসটা আসলেই মারাত্মক, প্রচন্ড রকমের ক্রুশাল। মানুষ কোনো কিছুই র‍্যান্ডমলি করে না, চেতনে অথবা অবচেতনে সবকিছুই তার প্যারাডাইম থেকেই আসে। আর এটার ভিত্তিতেই মানুষের সমগ্র জীবন পরিচালিত হয়।

প্যারাডাইম হচ্ছে কোনো কিছুকে দেখার এবং বিচার করার জন্য কারো চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানদন্ডের সমষ্টি।

আমার নিজের এবং মানুষের দৈনন্দিন চলা-বলায় এই জিনিসটা প্রায়ই খেয়াল করি, এবং অবাক হই। কাছাকাছি মানুষ, অথচ তাদের চিন্তার কত ফারাক। মানুষের উপ-মত এবং উপ-চিন্তায় ভিন্নতা থাকবে, সেটা সমস্যা না। কিন্তু মৌলিক চিন্তা এক হতে হবে, কোনো সমস্যার সমাধান এক জায়গা থেকে আসতে হবে।

কিন্তু সমাধান এক জায়গা থেকে আসে না। একেক মানুষ একেক গ্রাউন্ড থেকে সমাধানের প্রস্তাব দেয়। আর এই জিনিসটাই মানুষের মৌলিক পার্থক্য নির্ধারণ করে দেয়।

আপাতদৃষ্টে একই ধর্মের হতে পারে, বাহ্যিক কিছু প্র‍্যাক্টিসেও সাদৃশ্য থাকতে পারে। কিন্তু সমাধানের উৎসটা যদি এক না হয়, তাহলে একই ধর্মের এবং এমনকি কাছাকাছি থাকা স্বত্বেও এই দুজনের মধ্যে ফারাক হয়ে যায় আসমান আর যমীনের, এ মেরু আর ও মেরু।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পশকিডটা প্রায়ই নামাজ পড়ে, ফেইসবুকে মাঝে মাঝে কুরআন হাদীসের ভার্সও শেয়ার করে সে, রাসূলুল্লাহর দয়াদ্রতা আর মানবিকতার কথাও মুখে চর্চা করে, ইসলাম যে মানবতা আর শান্তির ধর্ম সেটা নিয়ে বিস্তর কথা বলে। কিন্তু যখন কোনো সমস্যা সামনে আসে, তখন সমাধান হিসেবে হাজির করে গণতন্ত্র অথবা অন্য কোনো তন্ত্র। তার পলিসিগুলো আসে পশ্চিমা একাডেমিয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত ফ্রেইমওয়ার্ক থেকে।

এই কারণে ব্যাংকে চাকরি করা হারাম শুনলে এদের চোখ কপালে উঠে যায়, ধর্ষণ অথবা যিনার শাস্তি পাথর মারা অথবা দোররা মারা, চোরের হাত কাটা, সমকামীদেরকে আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দেয়া ইত্যাদীকে এদের কাছে বর্বরতা মনে হয়। বৈশাখ অথবা হিন্দুদের পূজায় অংশগ্রহণ করতে নিষেধ করাকে বাড়াবাড়ি মনে হয়।

সম্প্রতি আত্মহত্যার কেইস দিয়ে উদাহরণ দিলে বুঝবেন আশা করি। আত্মহত্যা একটা সমস্যা। এই সমস্যার সমাধানে কেউ হাজির করছে ইসলামকে, মানুষের সাথে তাদের রবের সম্পর্ককে। অন্য কেউ হাজির করছে কনসার্টকে, ছেলেমেয়ের একসাথে বিনোদনের ব্যবস্থা করে দেয়াকে, কেউ হাজির করছে সাইকিয়াট্রিস্টকে।

আবার কারো কারো থেকে কোনো সমস্যার সমাধান আসবে তাদের সামাজিকতা থেকে।

আবার কারো সামনে যখন বাঙ্গালীত্ব আর ইসলামের প্রশ্ন তুলবেন, সে দ্বিধায় পড়ে যাবে যে সে বাঙ্গালীত্বকে আগে রাখবে নাকি মুসলমানিত্বকে। এটা আমি আপাতদৃষ্টে মুসলিম প্র‍্যাক্টিসগুলা যারা করে, তাদের কথা বলছি।

এদের বাস্তুগত অথবা শারিরিক অবস্থান কাছাকাছি হতে পারে, কিন্তু তাদের আদর্শিক অবস্থান যোজন যোজন দূরে। ইসলাম এই কারণেই রক্তের সম্পর্কের চাইতে দ্বীনি বা বিশ্বাসগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়েছে।

যাইহোক, এইভাবে যদি আপনি দেখেন যে কোনো একজন ব্যক্তি কোনো সমস্যার সমাধান কোথা থেকে দিচ্ছে, তাহলে অনেক অনেক সহজ হয়ে যাবে জীবন। যদি সেটা ইসলাম না হয়ে অন্য কিছু হয়, তাহলে উপরে যতই ইসলামী লেবাস থাকুক না কেন, কোনো লাভ নাই।

আবদুল্লাহ মাদানী🖋

13/09/2025

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর দোয়ায় বলতেনঃ
’’হে আমার রব! আমাকে সাহায্য করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করো না, আমাকে সহযোগিতা করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সহযোগিতা করো না, আমার জন্য কৌশল এঁটো, আমার বিরুদ্ধে কৌশল এঁটো না,আমাকে হেদায়াত দান করো, আমার জন্য হেদায়াতের পথ সহজতর করো এবং যে ব্যক্তি আমার উপর অত্যাচার ও সীমা লংঘন করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো। ইয়া রব! আমাকে তোমার জন্য কৃতজ্ঞ বান্দা বানাও, তোমার জন্য অনেক যিকিরকারী, তোমাকে অধিক ভয়কারী, তোমার অধিক আনুগত্যকারী, তোমার নিকট অনুনয়-বিনয়কারী ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী বানাও। হে আমার রব! আমার তওবা কবুল করো, আমার সমস্ত গুনাহ ধুয়ে-মুছে ফেলো, আমার দোয়া কবুল করো, আমার অন্তরকে হেদায়াত দান করো, আমার যবানকে সোজা রাখো, আমার যুক্তি-প্রমাণ বহাল করো এবং আমার মনের সমস্ত হিংসা-বিদ্বেষ দূরীভূত করো।

আবুল হাসান আত-তানাফিসী (রাঃ) বলেন- আমি ওয়াকী’ (রাঃ) কে বললাম, আমি কি তা বেতেরের কুনূতে পড়তে পারি? তিনি বললেন, হাঁ।

.
আবূ দাউদ ১৫১০, আহমাদ ১৯৯৮, আয-যিলাল ৩৮৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

13/09/2025

🥘 শিশুদের নাস্তা ও পারিবারিক বন্ধন

আমার নার্সারি শ্রেণিতে পড়ার সময়ের কথা বলছি। স্কুল ছিল বাসা থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে, যেতে হত ভ্যানে করে। স্কুলের আগে প্রতিদিন সকালে মক্তবে কুরআন পড়তে যেতাম। সেই সময়ের একটি বিশেষ স্মৃতি আজও আমার মনে গেঁথে আছে—রমাদান মাসে আমার আম্মু সাহরি শেষে আর ঘুমাতে যেতেন না। সাহরির পর সলাত পড়ে কিছু সময় যিকর-আযকারে মগ্ন থাকতেন, তারপর আমার জন্য নিজ হাতে রুটি বানিয়ে খাওয়াতেন এবং স্কুলের টিফিনেও রুটি দিয়ে দিতেন। আমার যতদূর মনে পড়ে, কোনোদিনই এই রুটিন থেকে ব্যতিক্রম হয়নি।

কালের পরিক্রমায় আজ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। পেশাগত জীবনে কাজের ক্ষেত্র হিসেবে শিশুদের প্রতিষ্ঠান বেছে নেয়ার মূল কারণও ছিল, প্যারেন্টিং নিয়ে গবেষণা এবং শিশু ও অভিভাবকদের সাথে কাজের সুযোগ পাওয়া।

মূলত যে বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, শিক্ষকতা জীবনের প্রতিদিনই দেখি, বর্তমান সময়ে শিশুরা বেশিরভাগই সহজলভ্য কিন্তু অপুষ্টিকর কোম্পানির বান, কেক, কিংবা বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার দিয়েই সকালের নাস্তা সম্পন্ন করছে।

অভিভাবকদের জন্য এসব খাবার সহজলভ্য হওয়ায় তারা সেগুলো বেছে নেন, যেহেতু এটি সময় বাঁচায় এবং ঝামেলাও কম হয়। দেখা যায়, শিশুরা স্কুলে যাবার সময় মা-বাবা হাতেই বান বা কেক ধরিয়ে দেন অথবা ব্যাগে ভরে দেন।

ফলশ্রুতিতে, আজকের শিশুরা ছোট বয়সেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ত্বকের সমস্যা, এমনকি ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগেও আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও এসব খাবারের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

শুধু শারীরিক অসুস্থতা নয়, এসব অপুষ্টিকর খাবার আমাদের পারিবারিক বন্ধনেও প্রভাব ফেলছে। এই যে আমি আজ এত বছর পরেও আমার মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা, এবং যত্নের কথা মনে করতে পারি। কিন্তু এই প্রজন্মের সন্তানেরা কী এমন কোনো স্মৃতি নিয়ে বড় হবে? কারণ, তাদের সকালের নাস্তা কিংবা বিকেলের টিফিন শুধুমাত্র foodpanda-এর অর্ডার বা বাসার সামনের ফাস্টফুড শপের প্যাকেটেই সীমাবদ্ধ। ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে তৈরি করা মায়ের সাধারণ নাস্তাটুকুও থেকেও আজ তারা বঞ্চিত।

অভিভাবক হিসেবে আমাদের উচিত, শিশুদের এমন খাবার দেয়া যা তাদের শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকে সুস্থ রাখবে এবং পরিবারের সাথে বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে। তাই, সকালের নাস্তার জন্য সহজে প্রস্তুত হওয়া প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলোর পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর ও ঘরে তৈরি খাবার বেছে নিন। এতে শিশুরা যেমন পুষ্টি পাবে, তেমনি আপনার দেয়া সময় ও যত্ন তাদের মনে গভীরভাবে দাগ কেটে থাকবে ইন শা আল্লাহ ।

~ জাহিদ হাসান

প্যারেন্টিং টিপস





11/09/2025

লবণ যদি নষ্ট হয়ে যায়, কে করবে তার পরিশোধন?

একজন তরুণ গ্রামের যুবক তাঁর সম্প্রদায়ের একজন শালীন, ধার্মিক ও সজ্জন মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের মাত্র এক বছর পার হয়েছে, হঠাৎ একদিন এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের সাথে তীব্র ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। রাগের বশে ঐ আত্মীয়কে মা*রধর করে ফেলেন।

গ্রামের রীতিনীতি অনুযায়ী, এর পর তাঁকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হয়। স্ত্রীকে সাথে নিয়ে তিনি দূরবর্তী এক অজানা অঞ্চলের গ্রামে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। নতুন পরিবেশে তিনি জীবন গুছিয়ে নিতে থাকেন।

প্রতিদিনের মতো তিনি গ্রামের মোড়লের আসরে যেতেন, গল্প করতেন, পরামর্শ নিতেন। একদিন, হঠাৎ মোড়ল তাঁর বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমবারের মতো তাঁর স্ত্রীকে দেখতে পান—একজন শালীন, রূপবতী ও গম্ভীর নারীর সম্মোহনী দৃশ্য।

ঐ মুহূর্তেই মোড়লের অন্তরে কামনা জেগে ওঠে। লালসার শিকারে পরিণত হয়ে, এক অশুভ পরিকল্পনা আঁটেন—কীভাবে যুবককে কিছুদিনের জন্য দূরে পাঠিয়ে, সুযোগ বুঝে তাঁর স্ত্রীকে নিজের করে নেওয়া যায়।

কয়েকদিন পর আসরে মোড়ল এক আলোচনা তুললেন: "শুনেছি এক জায়গায় দারুণ চারণভূমি আছে। কিছু লোক পাঠিয়ে যাচাই করতে চাই।"

তিনি চারজন লোক বাছাই করলেন, যার মধ্যে যুবকও ছিল।

কয়েকদিনের যাত্রা নির্ধারিত হলো, আর তারা রওনা দিল।

রাতে, মোড়ল চুপিচুপি যুবকের বাড়ির দিকে এগোলেন। অন্ধকারে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে শব্দ করে ফেলেন। স্ত্রীর ঘুম ভেঙে যায়।

ভয় পেয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কে ওখানে?"

মোড়ল নিজের পরিচয় দিলেন। স্ত্রী বললেন, "এত রাতে? সব ঠিক আছে তো?"

মোড়ল নিজের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করলেন:

"তোমায় দেখার পর থেকে মনে শান্তি নেই। তোমায় চাই; আমাকে সঙ্গ দাও।"

মহিলাটি অত্যন্ত ধীরস্থির কণ্ঠে বললেন:

"ভালবাসা চাইলে ঠিক আছে, তবে আগে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। যদি ঠিক উত্তর দিতে পারেন, তবে আপনার ইচ্ছা পূর্ণ হবে।"

মোড়ল খুশি হয়ে বললেন, "বলুন!"

তিনি জিজ্ঞেস করলেন:

"যেমন মাংস নষ্ট না হয় বলে আমরা লবণ ব্যবহার করি, তবে যদি লবণ নিজেই নষ্ট হয়ে যায়… তাহলে কে তা পরিশোধন করবে?"

মোড়ল গভীর চিন্তায় ডুবে গেলেন। একদিন, একরাত পেরিয়ে গেল, কিন্তু তিনি কোনো উত্তর খুঁজে পেলেন না।

পরদিন আসরে তিনি সকলকে প্রশ্নটি করলেন, কিন্তু কারো কাছ থেকেই সন্তোষজনক উত্তর এল না।

এক কোণে বসে থাকা এক বৃদ্ধ নীরবে তাকিয়ে ছিলেন।

মোড়ল তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কিছু বলছেন না কেন?"

বৃদ্ধ উত্তর দিলেন: "কারণ, এটা কেবল একটা প্রশ্ন নয়; এটা যুগের যুগের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে আসা একটি বার্তা।

তিনি আপনাকে অপমান করতে পারতেন, কিন্তু অপমানের বদলে আপনার বিবেক জাগিয়ে দিলেন।"

তারপর তিনি ব্যাখ্যা করলেন: "মাংস নষ্ট হলে লবণ তা রক্ষা করে। কিন্তু যদি লবণ নিজেই পচে যায়, তবে তাকে কে রক্ষা করবে?

অর্থাৎ, সাধারণ মানুষ ভুল করলে নেতারা তাদের সঠিক পথে ফেরান, কিন্তু যদি নেতা নিজেই বিপথগামী হয়, তবে জাতিকে কে রক্ষা করবে?"

মোড়ল লজ্জায় মাথা নিচু করলেন, চোখ ভরে এল অশ্রুতে।

যদি পিতা বিপথে যায়—কে সন্তানের পথ দেখাবে?

যদি শিক্ষক পথ হারায়—কে জ্ঞানের আলো ছড়াবে?

যদি নেতা পথভ্রষ্ট হয়—কে জাতিকে রক্ষা করবে?

স্মরণ রাখো—জ্ঞানীদের সঙ্গ গ্রহণ করো।

মূর্খদের সঙ্গ কেবল হৃদয় নষ্ট করে না,

পুরো প্রজন্মকেও ধ্বংস করে দেয়।

11/09/2025

"ঈমান অন্তরে একটি ছোট সাদা দাগ দিয়ে শুরু হয়। মানুষ যত বেশি ঈমান বৃদ্ধি করে, তার অন্তর তত বেশি সফেদ হতে থাকে।

অন্যদিকে মানুষ যত বেশি মুনাফিকি আচরণ করে, তার অন্তর তত বেশি কালচে হতে থাকে। অবশেষে, যখন একজন ব্যক্তি পুরোপুরি মুনাফিক হয়ে যায়, তখন তার অন্তর সম্পূর্ণ কালো হয়ে যায়।"

— আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ)

● মাজমু আল-ফাতাওয়া, ৭/১৯১

09/09/2025

'ততটুকুই যেন তোমার উদ্দেশ্য হয় যতটুকুতে এই দুনিয়া পার হয়ে যাবে...

সাহাবিরা দুনিয়া কামাই করেছেন সত্য, কিন্তু তারা কখনও জীবনযাপনের যে নববি পদ্ধতি সেটা পরিবর্তন করেননি। সেজন্য তাদের কামায়কৃত দুনিয়া তাদের দ্বীনের কোনো ক্ষতিই করতে পারেনি। সেই দুনিয়া তারা দুনিয়াতেই ছুড়ে মেরেছেন।

সুখে থাকা মানে অনেককিছু থাকা নয়, সুখে থাকা মানে "সুখে থাকা!"
- সংগৃহীত

09/09/2025

গতরাতে স্টেডিয়ামে গেলাম বইপড়ার জন্য। গ্যালারিতে গা এলিয়ে খোলা আকাশের নীচে বইপড়ার আনন্দের কোন তুলনা হয় না।

পূর্নিমার এখনো দুই-তিন দিন বাকি থাকলেও চাঁদ দেখলে সেটা বুঝাই যাবে না। দিনে বৃষ্টি হয়েছিল বটে, তবে রাতের আকাশটা খুবই পরিষ্কার। সামনে দাঁড়িয়ে আছে দৈত্যাকার পাহাড় ।

ল্যাম্পপোস্টের আবছা আলোয় দেখা যায় এখানে-ওখানে আটকে আছে মেঘ, যেনবা পথহারানো আদিমপথিক, সঙ্গীদের স্মরণে কিছুটা যেন সংশয়গ্রস্থ, ভিসাহীন প্রবাসীদের মতোই থেমে আছে ওদের সময়।

হঠাৎ খাইর পাশে এসে বসলো, শুরুতে আমি এড়াতে চাইলেও একসময় আলাপটা জমে গেল। খাইর চাইনিজ মুসলিম, সরকারি চাকরিজীবী।

সরকারপক্ষীয় প্রোপাগান্ডা করাই তার একমাত্র পেশাগত দায়িত্ব, ‘পার্টি মহান, শিজিনপিং একজন মহামানব, কমিউনিজমেই সকলের কল্যাণ নিহিত, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়।

সন্ত্রাস থেকে বেঁচে থাকতে হবে, পার্টির বিরুদ্ধে গেলে অপরাধীকে ধরিয়ে দেওয়াই সবার ধর্মীয় দায়িত্ব।’ এছাড়া খাইরের হাতে খুব বেশী বিকল্প নেই।

চীনে ধর্মীয় নাম-পরিচয় লুকিয়ে রাখতে হয়। পার্টি জেনে গেলেই যেতে হবে জেলে। সবার দুটো করে নাম থাকে, একটা ধর্মীয় নাম, আরেকটা প্রশাসনিক বিকল্প ।

খাইর বলছিল ওর পরিবারের কথা : ওদের সমাজে কোন মাদরাসা বা ধর্মীয় হালাকা নেই। ইমামরাও সরকারের অধীনস্থ ভাতাপ্রাপ্ত কর্মচারী, ইমামের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় শিক্ষাদান করা আইনত নিষিদ্ধ, আঠারো বছরের ছোট হলে বাবা-মারাও ধর্ম শেখাতে পারবে না।

সন্তান আগে রাষ্ট্রীয় নাগরিক, পার্টির পোষ্য সন্তান। ধর্মের আগে তাকে শিখতে হবে পার্টির কথা, তাকে শিখতে হবে বিজ্ঞান-সমাজতন্ত্র-উন্নয়নের গল্প। তাকে জানতে হবে চায়নাই একমাত্র মহান সভ্যতা।

মসজিদে ওয়াক্তিয়া নামাজ হয় না। জুম্মাতে আসে শুধু ষাটোর্ধ বৃদ্ধরাই, বাকিরা মুসলমানিত্বকে লুকিয়ে রাখলেই বাঁচে। অবশ্য সবাই বাঁচতে পারে না, বেনামাজিদেরকেও পুলিশ নিয়মিত ধরে নিয়ে যায় সংশোধনক্যাম্পে।

ধর্মপরিচয় মানেই আপনি সম্ভাব্য জঙ্গি। রাষ্ট্রীয় লাইসেন্স ছাড়া কেউই ধর্মশেখাতে পারে না। ধর্ম কী শেখাবেন, আপনার মনে কি জঙ্গিবাদ আছে কিনা কে জানে, আপনাকে আগে সবকিছু শিখে নিতে হবে রাষ্ট্রের কাছেই। আপনাকে প্রচার করতে চাইনিজ সমাজতান্ত্রিক ইসলাম।

খাইররা বংশীয়ভাবে যাযাবর। মধ্যএশিয়ার বিস্তৃর্ণ এলাকায় পশুপাল নিয়ে ঘুরেবেড়ানোই ছিল খাইরদের পূর্বপুরুষদের পেশা।

শিক্ষা-স্বাক্ষরতার কোন বালাই নেই, খাইরের দাদী চল্লিশ বছর বয়সে অনুতপ্ত হন : এক ইমামের কাছে গিয়ে নামাজ শিখতে চেষ্টা করেন। ইমাম তাকে কিছু দোয়া শিখিয়ে দেয়।

সময় ছিলো না বেশি, এখন ওর মা-দাদী নামাজ পড়েন লুকিয়ে।

বাবা পার্টির সদস্য, কমিউনিস্ট পরিবারের সদস্যরা তো নামাজ পড়তে পারেন না। মহান বিপ্লব তো ধর্মীয় পশ্চাদপদতাকে ছাড় দেবে না কোনভাবেই।

খাইরের দাদী কোন সূরা পারেন না, শেখার বয়সও শেষ। তিনি দিনে পাঁচবার নামাজের অনুকরণ করেন, কিয়াম-কেরাআত-রুকু-সেজদা-আখেরি বৈঠকে মুখস্ত দোয়াগুলোই বারবার পড়েন।

দাদি জানেন, তিনি কুরআন পড়তে জানেন না, তবু নামাজের ওয়াক্ত হলে প্রচণ্ড আবেগ নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে ভুলেন না।

খাইর বলছিল, 'আজকে আকাশে কোন তারকা নেই, শুধু চাঁদটাই একা দাঁড়িয়ে আছে। আমি জানি না আমি কী করবো, ধার্মিকতা, রাষ্ট্র ও কর্মজীবনের টানাপোড়েন।’ কোন রাজনৈতিক উচ্চাশা নেই, খাইরের সকল চিন্তা আপাতত নিজেকে নিয়েই।'

পড়াশোনা শেষে খাইরকে দেশে ফিরে যেতে হবে। যোগ দিতে হবে সরকারপক্ষীয় প্রোপাগান্ডামূলক চাকরীতে।

নামাজ-রোজার কথা প্রকাশ করা যাবে না, খাইর খুবই সাধারণ মানুষ, সে সংশোধনক্যাম্পে যাবার ঝুঁকি নিতে চায় না। লজ্জাহীনভাবে খাইর বলে, আমার পক্ষে বিপ্লব করা সম্ভব নয়।

বাবা-মা উভয়েই প্রেশারের রোগী, খাইরের কিছু হলে তারা কোনভাবেই সহ্য করতে পারবেন না।

খাইর তার পরিবারের কথা ভাবে, বন্ধু-আত্মীয়দের কথা ভাবে। আমি বললাম, অনলাইনে ধর্মীয়শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায়।

খাইর আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো, 'চাইনিজ অনলাইন জগতটা প্রাইভেসির দূর্ভেদ্য মহাপ্রাচীর দিয়ে আটকানো। সেখানে ইউটিউব-ফেসবুক-গুগল কিছুই নেই।

দরজা-জানালা সবকিছু বন্ধ। আমাদের পাশেই তো একটা পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে, আমরা গোমবাক স্টেসনের দিকটা দেখি না। চাইনিজ মুসলিমরা এমন মহাপ্রচারীরের মধ্যে বন্দী।

খাইরের গলাটা কেঁপে ওঠলো। আমি দেখলাম, ছয় ফুট উচ্চতার খাইর কোনভাবেই কান্না আটকে রাখতে পারছে না।

* প্রাইভেসির প্রয়োজনে বেশকিছু কথা পরিবর্তন করা হল।

(ক্যাম্পাসের_দিনগুলো)

-ইফতেখার জামিল।
(মালয়েশিয়া থেকে)

09/09/2025

উপমহাদেশের যে নারী প্রথম হজ্জ করেন!


‘গুলবদন বেগম’ চরিত্রটি উপমহাদেশের মুসলিম নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি ছিলেন মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবরের মেয়ে। তার মা ছিলেন বাবরের তৃতীয় স্ত্রী দিলদার বেগম।

তার ভাইপো সম্রাট আকবর তখন মোঘল সম্রাট। ফুফু গুলবদন বেগম ইচ্ছেপোষণ করলেন হজ্জে যাবেন।

১৫৭৫ সালে গুলবদন বেগম আরো ১১ জন নারী এবং মোঘল বাহিনী নিয়ে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

১৫৭৫ থেকে ১৫৮২ সাল পর্যন্ত এই ৭ বছরের মধ্যে ৪ বছর তিনি মক্কায় ছিলেন, বাকি ৩ বছর ছিলো যাত্রাকাল।

সপ্তম শতাব্দী থেকেই মুসলিমরা উপমহাদেশে বসবাস করে। একসময় উপমহাদেশের ক্ষমতায় মুসলিমরা আসে। মুসলিম সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতায় অনেকেই মক্কায় হজ্জ করতে যায়। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তখন সাধারণত আলেমগণ হজ্জের জন্য যেতেন, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ীরাও সঙ্গী হতেন।

কিন্তু, নারীদের হজ্জে যাবার ঘটনা উল্লেখযোগ্য ছিলো না। এমন না যে গুলবদন বেগমের পূর্বে উপমহাদেশ থেকে কোনো নারী হজ্জে যাননি। সম্ভাবনা ছিলো।

গুলবদন বেগম হলেন প্রথম নারী, যার হজ্জে যাবার ঘটনা উল্লেখযোগ্য।

সেই সময় হজ্জযাত্রা ছিলো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সমুদ্রে পর্তুগিজ দস্যুদের আক্রমণের কারণে ঐ সময়টায় হজ্জে যাওয়ার ব্যাপারে সম্রাটগণ ঝুঁকি নিতেন না।

বলা হয়ে থাকে, ২১ জন মোঘল সম্রাটের কেউই হজ্জে যাননি!

তারা বিভিন্ন সময় হজ্জযাত্রীদের সাথে উপহার পাঠিয়েছেন, মক্কার শরীফদের কাছে সাহায্য পাঠিয়েছেন।

সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে আভ্যন্তরিণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যাত্রাপথের ঝুঁকি থাকায় তারা হজ্জে যেতে পারেননি।

এই মুহূর্তে এটা মনে হতে পারে বিস্ময়কর। কারণ, এখন একদেশের প্রধান যদি হজ্জ করতে চান, এটা ৪-৫ দিনের জার্নি। কিন্তু, সেই সময় এটা ছিলো বছর, ২ বছরের জার্নি।

ঠিক এমন প্রেক্ষাপটে ৫২ বছর বয়সী গুলবদন বেগমের হজ্জে যাবার ঘটনা বিবেচনা করলে বলতে হয়- তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হজ্জযাত্রা করেন। তিনি আবার রাজপ্রাসাদে ফিরে আসতে পারবেন কিনা এটা ছিলো অনিশ্চিত।

গুলবদন বেগমের আরেকটি পরিচয় হলো তিনি ছিলেন লেখিকা।

এখন তো সবাই লিখতে পারে। কিন্তু, একজন মেয়ে লিখতে পারা ব্যাপারটা উপমহাদেশে স্বাভাবিক ছিলো না।

গত শতাব্দীর ভারতের খ্যাতনামা আলেম আবুল হাসান আলী নদভী রাহিমাহুল্লাহর মা উল্লেখ করেন, আজ থেকে ১০০ বছর আগেও উপমহাদেশে নারীদেরকে লেখা শেখানো হতো না এই ভয়ে যে, তারা লিখতে শিখলে প্রেমপত্র লেখা শুরু করবে!

গুলবদন বেগম হলেন ভারতের প্রথম নারী যিনি একটি ইতিহাস-জীবনীগ্রন্থ লিখেন।

মোঘল সম্রাট হুমায়ূনকে জানার জন্য প্রাথমিক রেফারেন্স বই হিশেবে ব্যবহৃত ‘হুমায়ূননামা’ বইটি এখন বাংলা ভাষায় পাওয়া যায়। এই বইয়ের লেখক গুলবদন বেগম।

১৫৭৫ থেকে ২০২৪, উপমহাদেশ থেকে লক্ষাধিক নারী হজ্জ-উমরাহ করতে মক্কা গিয়েছেন।

উপমহাদেশ থেকে নারীদের হজ্জযাত্রার অন্যতম লিগ্যাসী বহন করছেন মোঘল পরিবারের এই নারী।

© Need Special

01/09/2025

উমার ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলতেন:
"তোমরা তোমাদের নারীদেরকে সূরা নূর শেখাও।"

(মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ১/১৩৩, সহীহ)

কী আছে এই সূরায়?

১) পবিত্রতা ও নৈতিকতার বিধান
এই সূরায় ব্যভিচারের কঠোর শাস্তি, ব্যভিচারের মিথ্যা অপবাদ (ক্বাযফ) এবং এর শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান রয়েছে। সমাজে নৈতিকতার মানদণ্ড বজায় রাখার জন্য এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
২) পর্দা ও লজ্জাশীলতার শিক্ষা
মুসলিম নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য পর্দা ও লজ্জাশীলতার বিধান এই সূরার অন্যতম প্রধান অংশ। নারীদেরকে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করা, মাথা ও বুক ঢেকে রাখা এবং মাহরাম-গায়রে মাহরামের বিধান মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩) ঘরে প্রবেশের আদব
কোনো ব্যক্তির বাড়িতে প্রবেশের সময় অনুমতি নেওয়ার আদব এবং সালাম দেওয়ার নিয়ম এই সূরায় বর্ণনা করা হয়েছে, যা সামাজিক শৃঙ্খলা ও সম্মান বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৪) আলোর আয়াত (আয়াতুন নূর)
সূরা নূরের সবচেয়ে বিখ্যাত আয়াতগুলোর মধ্যে একটি হলো 'আয়াতুন নূর', যেখানে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নূর বা আলোর উদাহরণ দিয়েছেন। এটি তাওহীদ ও আল্লাহর মহত্ত্বের এক অসাধারণ বর্ণনা।
৫) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনের নির্দেশনা
সামগ্রিকভাবে, সূরা নূর এমন সব বিধান ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে যা একটি সুস্থ, পবিত্র ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে অপরিহার্য। এই কারণেই উমার (রা.) নারীদেরকে এই সূরাটি শিখতে উৎসাহিত করতেন, যাতে তারা নিজেদের এবং তাদের পরিবারকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে পারে।

30/08/2025

“একটিই তো পাপ!” — কিন্তু সেই একটিই ছিল ধ্বংসের ফাঁস

তুমি ভাবলে,
“আমি তো নামাজ পড়ি, আমি তো রোযা রাখি, আমি তো হজ্জ করেছি…
একটা পাপ করেছি, তাও ছোট — আল্লাহ তো গফুরুর রহীম!”

তুমি সত্য বলেছো —
আল্লাহর রহমত অসীম।
তিনি একটি ভালো কাজের বদলে ১০, ৭০, এমনকি ৭০০ গুণ পর্যন্ত সওয়াব দেন।
(সূরা আল-আম্বিয়া ৪৭, সহীহ বুখারী: ৭৪৯৩)

কিন্তু…
তুমি কি জানো,
একটি কবীরা গুনাহ — একটি মাত্র পাপ — কোটি কোটি নেক আমলকে আগুনে জ্বালিয়ে ছাই করে দেয়!

একটা পাপ, কোটি নেকির কবর!

একবার গিবত —
একবার রিয়া (লোক দেখানো) —
একবার অহংকার —
একবার হারাম দৃষ্টিতে তাকানো —
একবার সুদে চুক্তি —
এই একবারই যথেষ্ট,
যদি তওবা না করো,
তবে সে পাপ তোমার কোটি কোটি নামাজ, রোযা, হজ্জ, কোরআন তিলাওয়াত, দান —
সবকিছুকে ধ্বংস করে দিতে পারে!

“তাদের কিছু লোক কিয়ামতের দিন পাহাড়সম নেক আমল নিয়ে আসবে,
আর আল্লাহ তা ধূলিকণার মতো উড়িয়ে দেবেন!”
— সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস: ৪২৪৫

কারণ?
কারণ তারা করেছিল গোপন পাপ,
তাদের অন্তর ছিল নাপাক,
তারা ভাবত — “আমার আমল তো অনেক! একটা পাপ কিছুই না।”

পাপের ওজন বনাম নেকির সংখ্যা

“জান্নাতের চাবি হলো ওজনের ভারী আমলনামা — সংখ্যা নয়।”
— সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত ৮-৯

আজ তুমি সান্ত্বনা নিচ্ছো:
“নেকি তো ৭০০ গুণ বাড়ে…”
হ্যাঁ, বাড়ে।

কিন্তু শুনো:
একটি কবীরা গুনাহ — যথেষ্ট, যেন পুরো জীবনভর সঞ্চিত নেকির পাহাড় ধসে পড়ে মুহূর্তেই।

যেমন পাহাড়ে আগুন ধরলে তা ধ্বংস হয়ে যায়,
তেমনি কবীরা গুনাহ —
সুদ, রিয়া, গিবত, অহংকার, কুফর, শিরক, তাওবা ছাড়াই গোপন পাপ —
এসবই এক একটি ভেতর থেকে পোড়ানো আগুন,
যা বাইরের সুন্দর আমলনামাকে ছাই বানিয়ে দেয়।

সেই একবার…
সেই একবার হারাম মেসেজ পাঠানো,
সেই একবার কারো সম্মানহানিকর পোস্ট,
সেই একবার ব্যাংকে সুদের চুক্তি,
সেই একবার “দেখি না, কী হয়” ভেবে গুনাহে লিপ্ত হওয়া…

সেই একবারই হতে পারে তোমার দোজখের টিকিট।

হৃদয় দিয়ে বুঝো:
তোমার আমলনামায় হয়তো ৭০০০ রাকাআত নামাজ আছে,
কিন্তু তাতে যদি রিয়া মিশে থাকে —
তবে ঐ নামাজ তোমার জন্য শাস্তি হবে।

তোমার কাঁধে হয়তো ৭০০০ দানের সওয়াব,
কিন্তু যদি তা দিয়ে লোক দেখানো হয়,
তবে সেসব জাহান্নামের কাঠ হবে।

আজই থেমে যাও…
কারণ তুমি জানো না —
তোমার কোনো একটা পাপ, হয়তো আজ তোমার সমস্ত আমলনামাকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে,
আর তুমি ভাবছো —
“আল্লাহ তো ক্ষমাকারী!”

হ্যাঁ, তিনি ক্ষমাকারী —
তবে তিনি সেই বান্দাকেই ক্ষমা করেন, যে সত্যিকারের ভয়ে কাঁদে।

“নেকির পরিমাণ ৭০০ গুণ বাড়ানো হয় ঠিকই,
কিন্তু একটা পাপের ওজন — কোটি নেকির কবর।”

আজ যদি তুমি তওবা না করো,
তবে সে একটিমাত্র পাপই হবে
তোমার আখিরাতের মৃত্যু পরোয়ানা।

©

Address

WG86+P8P
Khulna
9204

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when We Are Muslim posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to We Are Muslim:

Share