14/07/2025
আজকে আমার অনার্স লাইফের শেষ ক্লাস ছিল।
লুঙ্গি আর প্রথমদিন ভার্সিটিতে পড়ে আসা ঢাকা কলেজের সামনে থেকে ২শত টাকা কেনা শার্ট পড়ে শেষ ক্লাস করলাম।
এইটা ছিল একটা বিশেষ শ্রেণিগোষ্ঠীর উপর প্রতিবাদ স্বরূপ-
ভার্সিটিতে সবচেয়ে জঘন্যতম জিনিস হচ্ছে "গ্রুপিং, বডি শেমিং, পোষাক নিয়ে মন্তব্য, আঞ্চলিকতা ও আধুনিকতার দম্ভ।"
ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার অধিকাংশ শিক্ষার্থী গ্রাম থেকে একবারে নিম্নবিত্ত ও মধ্য-নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে।
আসার পরে তারা এলাকার স্কুল-কলেজের মত আচরণ করবে স্বাভাবিক। তারা এসেই গণরুমে বেড়ে উঠে, নিজের টাকায় চলার জন্য লাগাতার পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে।
তারা গ্রুপিং কম বুঝে, তাদের আউটফিট নলেজ কম থাকে, তারা রুপচর্চা বলতে কি জানে না, পরিশ্রম করার সার্মথ্য অনুযায়ী পোষাক পড়ে, আঞ্চলিকতায় কথা বললে মনে শান্তি পায়, আধুনিকতাকে ভয় ও লজ্জা পায়।
কিন্তু- সো ক্লোড বড় লোক, রিয়্যাল পস কিড, প্রিটেন্ড রিচ কিড, মুই কি হনুরে কিড। এরা নিজেরা একটা এলিট ক্লাস গ্রুপ বানায়। যাদের টাকা-পায়সা, ভালো পোষাক, আধুনিক ভাষা, চেহারা ভালো থাকবে।
তারা বাকিদের "ক্ষেত, গাইয়্যা, ছি, ক্রিঞ্জ" ইত্যাদি উপাধি দিয়ে তাদের গ্রুপে মজা নেয়। এইটা র্যাগিং ও গেস্টরুমের সমান মানসিক টর্চার।
ইভেন, এগুলো আমার সাথে প্রথমবর্ষ থেকেই অনেকবার এমন হয়েছে।কিন্তু জীবনের প্রতিধাপে কিছু বন্ধু পেয়ে যাদের পেয়ে আমি আল্লাহুর কাছে শুকুর আলহামদুলিল্লাহ।
যে গ্রামে থেকে উঠে এসে সেই গ্রামের মানুষও একসময় মনে করত না, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব। সর্বোচ্চ আটো মোবাইল মিস্ত্রী বা সবজি বিক্রেতা হব। সেইখানে থেকে আজকে অনার্স শেষ করলাম।
ভার্সিটি থেকে ক্লাসিক আর ক্লাসলেস প্রথা বাদ যাক, সকলের ভার্সিটি জীবন তার মাধ্যমিক জীবনে যেমন কল্পনা করে ঠিক তেমনই কাটুক। আমিন।
©Asif Mahmud