Jiboner Golpo জীবনের গল্প

Jiboner Golpo জীবনের গল্প এই জীবনের গল্প দিয়ে কয়েকটি উপন্যাস লিখে ফেলব
(2)

{পর্ব :০৩} কবুল, কবুল, কবুল। এই পবিত্র তিনটি শব্দ উচ্চারণ করেই আমাতুল্লাহ কেঁদে ফেলে,, তিনটি শব্দ শুনতে কত সহজ মনে হয় কি...
09/06/2026

{পর্ব :০৩} কবুল, কবুল, কবুল। এই পবিত্র তিনটি শব্দ উচ্চারণ করেই আমাতুল্লাহ কেঁদে ফেলে,,
তিনটি শব্দ শুনতে কত সহজ মনে হয় কিন্তু বলতে গেলে বুঝা যায় কত কঠিন এই তিনটে শব্দের ভার..
তিনটি শব্দ গোটা এক গল্প রচনার ক্ষমতা রাখে।

এবার আসফি জোবায়েরের পালা, যার চেহারায় এখন একরাশ বিরক্তি।
যখন কাজি কবুল বলতে বলল, তখন খেয়ে ফেলা লুক নিয়ে তাকাল আমাতুল্লাহ মারিয়াম নামক রমণীর দিকে..

পরপর আওরাল আমাতুল্লাহ মারিয়ামের বলা সেই তিনটি শব্দই।

হসপিটালের কেবিনে উপস্থিত প্রতিটি মানুষ সমস্বরে বলে উঠল.. আলহামদুলিল্লাহ।

একজন খেজুর বিলিয়ে দিল হসপিটালের সবার মাঝে..

সবার মাঝে ছড়িয়ে গেল আমাতুল্লাহ মারিয়াম ও আসফি জোবায়েরের বিয়ের চাপা আনন্দটা।

কিন্তু আনন্দ নেই নবদম্পতির মাঝে।

শেলীনা খান : আমাতুল্লাহ মা এদিকে আয়,

আমাতুল্লাহ কেবিনে এটাচ সোফাটা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে গেল শেলীনা খান এর নিকট পাশ ঘেঁষে বসে পড়ল,,

শেলীনা খান : দেখি দেখি কাদঁছে কেন আমার আম্মুটা? আমি কী কোনো ভূল করে ফেললাম রে মা?

আমাতুল্লাহ : না, না আন্টি ভূল করনি তুমি, শুধু শুধু চিন্তা কর না।

শেলিনা : এখনও আন্টিই ডাকবি?

হঠাৎ করে বলায় আমাতুল্লাহ যেন তার মাথায় কথা স্কেচ করে নিতে পারল না।
তাই জিজ্ঞেস করে ফেলল..

আমাতুল্লাহ : কেন কী ডাকব আন্টি?

সাথে সাথে সানারা সহ উপস্থিত সবাই হেসে দিল, এপর্যায়ে দেখা গেল আসফি জোবায়েরের অধর কোণেও সুক্ষ হাসির রেখা। বোকা মেয়ে..

আমাতুল্লাহ যখন শেলিনা খান এর কথাটা বুঝে উঠতে পারল তখন নিজেও বেআক্কেল বনে গেল।

আমাতুল্লাহ : না মানে,

শেলিনা খান : থাক আর লজ্জা পাওয়া লাগবে না। আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে যাবি।

আমাতুল্লাহ : হুম, আচ্ছা।

আয়েশা সিদ্দিকা : আজকে কী ওকে তোদের সাথেই নিয়ে যাবি?

কথাটা বলার সময় আয়েশা সিদ্দিকার আঁখি কোণে চিকচিক করছিল অশ্রুকণা, বড় আদরের মেয়ে উনার,,

আমাতুল্লাহ ফের উঠে গিয়ে মায়ের কাঁধে মাথা রেখে মাকে একহাতে জড়িয়ে বসে।

শেলীনা খান প্রশ্ন শুনে প্রসন্ন হাসে, বলে

শেলিনা খান : তোর অনুমতি থাকলে তবেই নিয়ে যাব তোর মেয়েকে, যদিও এখন আর অনুমতির প্রয়োজন পড়বে না কারণ আমাতুল্লাহ এখন আমারও মেয়ে,তবুও।

আয়েশা সিদ্দিকা : আমার কোনো আপত্তি নেই, মেয়ে জন্ম দিলে মেয়েকে পরের ঘরে পাঠাতেই হবে।

শেলীনা খান তাকায় আমাতুল্লাহ মারিয়াম এর দিকে..

শেলিনা খান : তোর কী মত মা??

আমাতুল্লাহ : আন্টি, আফওয়ান আফওয়ান, আম্মু
তোমরা যা বলবে তাই হবে,, তবে আমি চায় না বিয়েতে অতিরিক্ত কোনো খরচ হোক,

কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

*"إِنَّ أَعْظَمَ النِّكَاحِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُ مَؤُونَةً"*

*বাংলা অর্থ:* "নিশ্চয়ই সেই বিয়ে সবচেয়ে বেশি বরকতময়, যেটাতে খরচ সবচেয়ে কম।"

তাই পুনরায় বিয়ের কোনো অনুষ্ঠানের প্রয়োজন নেই, তবে প্রফেসর রাজী থাকলে রিসিপশন (ওলীমা)করতে পার।

কিছু মনে কর না আম্মু "রাসূল ﷺ এর যুগে বিয়ে ছিল সবচেয়ে সহজ কাজ। এখন আমরা সবচেয়ে কঠিন বানিয়ে ফেলেছি।

৩০০ মানুষের ক্লাবে বিয়ে, ২০ পদের খাবার, ফটোগ্রাফার, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট - এগুলা দিয়ে বরকত আসে না। বরকত আসে সুন্নত মানলে।

তাই এগুলো চাচ্ছি না।

আসফি : তাহলে রিসেপশন করা লাগবে কেন? নাকি সবাইকে জানাতে হবে তুমি আসফি জোবায়েরের ওয়াইফ।

শেলিনা খান : আসফি! সাবধানে কথা বলবে, আমার সাথে রুড বিহেব কর বলে, আমাতুল্লাহ 'র সাথে করতে পারবে না বলে রাখলাম।

ভাগ্যিস এখানে আয়েশা নেই ও থাকলে তোমার ব্যবহারে ওর নিশ্চয় খারাপ লাগতো।

আসফি : হুম, কিন্তু আফসোস আমি এখানে আন্নিকে দেখতে পাচ্ছি না,,

আমাতুল্লাহ : আমি তো বলি নাই আপনাকে শহরজুড়ে দাওয়াত করতে!১টা ছাগল/খাসি জবাই করে কয়েকজনরে খাওয়ায় দেন। তাও ওলীমা হবে। ১০০০ মানুষ লাগবে না। তাই আপনার স্ট্যাটাসের কাউকে নিমন্তণ না করলেও ওলীমা হয়ে যাবে প্রফেসর, কারণ ওলীমা সুন্নত ফরজ নয়, এ নিয়ে হাদীসে আছে এক সাহাবা,
আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা. বিয়ে করলেন। রাসূল ﷺ শুনে বললেন:
*"أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ"*
*অর্থ:* "ওলীমা করো, একটা ছাগল দিয়েও হলেও।"


তাই বললাম না আপনার স্ট্যাটাসের কাউকে ইনভাইট করা লাগবে না, আর জানাতেও হবে না আমাতুল্লাহ মারিয়াম নামে কারো অস্তিত্ব আপনার লাইফে আছে বুঝে আসছে প্রফেসর আসফি জোবায়ের??

আসফি রেগে বের হয়ে যায়।

আরিবা : আমি সামনে ঘোর অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি (গণকের মতো ভাব নিয়ে)

সিদরাত বলে কেন কেন??

আরিবা : সাপে নেউলের পরিণয় নিয়ে।

সবাই হেসে দেয়।

★★★★★★★

রাত বারোটায় রুমে প্রবেশ করে আসফি, লাইট অন করতেই দেখা দেয় একটি মেয়েকে জায়নামাজে শুয়ে আছে, হয়ত নামাজ পড়েই গা এলিয়ে দিয়েছিল এই জায়নামাজে।

আসফির বিরক্তি ভাবটা ফুটে উঠে চেহারায়, তারপরও কাছে যায় ডাকার জন্য,, প্রথম যখন আমাতুল্লার মুখের উপর পড়ে থাকা ওড়নাটা সড়ায়,, কিছুক্ষণের জন্য নিজের অস্তিত্ব ভুলে বসে আসফি জোবায়ের।

গোলগাল একটা মুখ, নাকটা সরু, চোখ দুটো কিছুটা টানা, গালটা ফোলাফোলা, ঘুমানোর কারণে মুখে তৈলাক্ত ভাব কিছুটা, শ্যামরাঙা গত্র, এককথায় মায়াবতী।

হুট করে চোখ মেলে তাকায় আমাতুল্লাহ, নিজের উপরে ঝুঁকে থাকা আসফি জোবায়েরকে দেখে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায় তবুও নিজেকে শান্ত রাখতে চায়, দেখা যাক কি করে আসফি জোবায়ের।

আসফি তাকিয়ে থাকল কিছুপল, হুট করে খেয়ালে আসল আমাতুল্লাহ তার পানে তাকিয়ে আছে। দ্রুততার সহিত সরে গেল, আমাতুল্লাহ তা দেখে হাসল কিঞ্চিৎ।

আমাতুল্লাহ : এতক্ষণ কোথায় ছিলেন??

আসফি : বউগিরি শুরু করে দিলে নাকি?

আমাতুল্লাহ : হু, এটা তো বউগত অধিকারই,,আর প্রেমিকাগত অধিকার তো রাত বিরেতে অন্যের হাসবেন্ডকে আটকে রেখে কিছু বন্ধু নামের বখাটেদের সাথে তাকে নিয়ে আড্ডা দেওয়া।

আসফি : এতকিছু তুমি জানলে কিভাবে? আমাকে ফলো করছ নাকি?

আমাতুল্লাহ : নো,, জানার হলে ফলো করা লাগবে না, অনেক মাধ্যম আছে।

আসফি : কয়জন আছে? যাদের দ্বারা খবর পাও আমার?

আমাতুল্লাহ :প্রফেসর! (চিল্লিয়ে উঠে) মুখ সামলিয়ে কথা বলেন, নিজের মতো ভাবেন নাকি সবাইকে? হু?

আসফি : নিজের মতো মানে কি মিন করছ তুমি?

আমাতুল্লাহ : আমার থেকে ভালো তো আপনি জানবেন।

এই বলে আমাতুল্লাহ বেলকনির দিকে পা বাড়ায়।

I want a divorce.

পিছন থেকে বলে আসফি, আমাতুল্লাহ শুনে...

গল্প : #আমার_সাদামাটা_ক্যানভাস
লেখিকা : #রায়হা_জান্নাত

চলবে....

{পর্ব : ০২}  নিজের ভার্সিটির নিজেরই ডিপার্টমেন্টের প্রফেসরেরই সামনে পাত্রী হিসেবে বসে আছি,, আয়েশা সিদ্দিকা : শেলিনা ওরা ...
06/06/2026

{পর্ব : ০২}

নিজের ভার্সিটির নিজেরই ডিপার্টমেন্টের প্রফেসরেরই সামনে পাত্রী হিসেবে বসে আছি,,

আয়েশা সিদ্দিকা : শেলিনা ওরা একা কথা বলুক,,

আমাতুল্লাহ : আম্মু সাথে সিদরাত থাকুক,,

শেলিনা খানম : হু, আয়েশা চল, আমরা বরং বাগানের দিকটায় যায়,,

আয়েশা সিদ্দিকা : হু চল।

উনারা চলে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে যেন একরাশ নিরবতা ঢেলে দিয়ে গেলেন, আসফি জোবায়ের ও আমাতুল্লাহ মারিয়াম নামক দুই মানব মানবীর মাঝে,,

নিরবতা কাটিয়ে আসফি সিদরাতকে জিজ্ঞেস করে..

আসফি : এই যে পিচ্চি তোমার নাম কি??

সিদরাত : আমাকে পিচ্চি বলবেন না

আসফি : তো কি বলব (হেসে দিয়ে)

আমাতুল্লাহ অবাক হয়, মনে মনে ভাবে ইনি হাসতেও জানে..

সিদরাত : সিদরাত বলবেন

আসফি : তোমার পুরো নাম কি?? নাকি তোমার নাম এতটুকুই??

সিদরাত : জ্বি না, আমার নাম সিদরাতুল মুনতাহা।

আসফি : বাহ! নামটা তো দারুণ, কে রেখেছে??

সিদরাত : আপাই

আসফি : আচ্ছা পিচ্চি একটা কাজ করতে পারবে??

সিদরাত : কি??

আসফি : একগ্লাস জল দিতে পারবে??

সিদরাত : জল না পানি বলতে হয়। আপাই আমাকে বলেছে, আর আপাই আমাকে এটাও বলেছে বড় মানুষ কিছু করতে বললে করতে হয়!

এই বলে চলে যায়,, আসফি অবাক হয় এতটুকু মেয়ে কতকিছু জানে আর ও। নিঃসন্দেহে মেয়েটার শিক্ষা খুব সুন্দর,,

আসফি : তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই আমাতুল্লাহ,

আমাতুল্লাহ : আসসালামু আলাইকুম

ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায় আসফি,পরক্ষণেই জবাব আওরায়...

আসফি : ওয়ালাইকুম আসসালাম

আমাতুল্লাহ : কি বলবেন, বলেন??

আসফি : আমি তোমাকে শুধু মায়ের কথায় বিয়ে করছি।আমার এই বিয়েতে কোনো ইচ্ছে নেই,

আমাতুল্লাহ : এটা আপনার মাকে বলেন,

আসফি : মাকে বলে লাভ নেই,,

আমাতুল্লাহ : আমাকে বলে কি লাভ??

হয়ত আরও কিছু বলত আসফি জোবায়ের নামক লোকটা কিন্তু সিদরাতের আসায় বাঁধা পড়ল..

তারপর তিনিও সিদরাতের সাথে খোশগল্পে লিপ্ত হয়ে পড়লেন।।

ঐদিন যাওয়ার সময় উনি পাশে এসে দাঁড়িয়ে একটা কথাও বলে গিয়েছিলেন..
কথাটা এমন ছিল"" যাতে আমাদের বিয়ের কথাটা ভার্সিটিতে কেউ না জানে..
লেখিকা : রায়হা জান্নাত - Raiha Jannat
________________

তোর ভাই এর জন্য আমাকে বাছাই করা তোদের উচিত হয়নিরে আরিবা..

আরিবা : কেন বলত আমাতুল্লাহ

আমাতুল্লাহ : তোর ভাই আর আমার মধ্যে কোনো সম্পর্ক হওয়ার নারে আরিবা, তাছাড়া উনি আমাকে ছোট থেকেই অপছন্দ করে,,

আরিবা : ধুর, আম্মু কয় বুঝছস আগের দিন বাঘে খায়ছে, সো ভাবিজান চিলমুড লইয়া থাক।

আমাতুল্লাহ : ঠিক করে কথা বল আরিবা, এসব কেমন ভাষা,,

আরিবা : আমি এভাবেই বলব, বিকজ আমি খাঁটি বাঙালি,

আমাতুল্লাহ : আমরা মনে হয় খাঁটি ইংরেজ

আরিবা : তুই না হলেও ঐ মিরজাফরটা খাঁটি ইংরেজ,,

আমাতুল্লাহ : মিরজাফরটা আবার কে??

আরিবা :কে আবার আমার ভাই

ঠিক তখুনি ক্লাসরুমে প্রবেশ করে প্রফেসর আসফি জোবায়ের,,

আরিবা তা দেখে বলে উঠে.. শয়তানের নাম নিতে নিতেই শয়তান হাজির,,


আমাতুল্লাহ : এসব কি বলছিস আরিবা

আরিবা : হবু জামাইয়ের জন্য দরদ উতলে পড়ছে, ভাব হুহ।

ঠিক তখুনি আসফির চোখ ওদের উপর পড়ে..

আসফি : ক্লাসে যেন কোনো সাউন্ড না হয়, মনে রাখবেন সবাই,,

লেকচার শুরু করে আসফি, আমাতুল্লাহ তাকায় এক পলক,,ভাবে..

আমাতুল্লাহ : এই লোকটা আসলেও মেনে নিবে নাকি আমাকে? আল্লাহ মা'লুম।

আসফি : এই যে মিস আমাতুল্লাহ মনোযোগ কোথায় আপনার?আমার ক্লাসে থাকতে হলে এমন অমনোযোগী হয়ে থাকা যাবে না,,

আমাতুল্লাহ : আফওয়ান, স্যার

আসফি বুঝলো না আফওয়ান মানে কি? কিন্তু জিজ্ঞেসও করল না, কারণ লেকচার হয়ে ছাত্রীকে শব্দের মিনিং জিজ্ঞেস করলে কেমন দেখায় না ব্যাপারটা? দেখায়ইতো, ইগো বলতেও তো কিছু আছে নাকি!!

তাই কিছুই বলল না,, শুধু বসতে বলল...

লেকচার শেষ করে যাওয়ার সময় একপলক তাকায় আমাতুল্লাহ এর দিকে, দেখল মাথা নিচু করে বসে আছে, আসফি ভেবে পায় না, এই মেয়ে এমন কেন??কেমন যেন একগুঁয়ে অবশ্য সাহসী বটে, প্রথমদিনই ভার্সিটিতে যে কামাল দেখাল।

আসফি যাওয়ার পর আরিবা বলে উঠে

আরিবা: ভাবিজি সামথিং সামথিং

আমাতুল্লাহ : কিসের সামথিং সামথিং??

আরিবা : আমার ভাই ক্লাসে এসেই আপনার দিকে তাকায় আবার যেতে সময়ও আপনার দিকে তাকায়,, চোখে হারাচ্ছে যেন আজকাল।

আমাতুল্লাহ : নাথিং।
লেখিকা : Raiha Jannat - রায়হা জান্নাত
_________

আয়েশা সিদ্দিকা /আমাতুল্লাহ 'র মা : আমাতুল্লাহ রেডি হয়ে থাকিস, বিকেলে আসফি, আরিবা ওরা আসবে??

আমাতুল্লাহ : কেন আম্মু?

আয়েশা সিদ্দিকা : বিয়ের শপিং পড়ে আছে করা লাগবে না!

আমাতুল্লাহ : হ্যাঁ কিন্তু আমি কি করব? আমাকে দরকার কেন??

আয়েশা সিদ্দিকা : তোর পছন্দ??

আমাতুল্লাহ: উনারাই করে নিক, আর আরিবা তো আছেই ও তো জানেই আমার ড্রেসআপ কেমন??

আয়েশা সিদ্দিকা : ওরা বলছে তোকে নিয়ে যাবে আমি কি করে না করি বলতো??

আমাতুল্লাহ : আচ্ছা যাও যাব।

___________

আসফি : আমি তো তোমায় বারণ করেছিলাম, বলেছিলাম তো তোমরা শপিং এ যাও, আমার যাওয়ার কিসের দরকার, আমি পরে সময় পেলে আমারটা করে নিব। না তুমি তো আমার কথা শুনবে না, সব নিজের ইচ্ছেমতো চাপিয়ে দিচ্ছ, আমার ইচ্ছের কোনো মূল্য তোমাদের কাছে কোনদিন ছিল না, সবসময় কৌশলে নয়ত ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে তোমাদের ইচ্ছেগুলো আমার উপর চাপিয়ে দাও।

শেলিনা খানম/ আসফির মা : আমি তোমার উপর ইচ্ছে চাপিয়ে দেয়??

আসফি : হ্যাঁ দাও সবসময়ই চাপিয়ে দাও।

শেলিনা খানম : তুমি কি আমাতুল্লাহকে বিয়ে করতে চাচ্ছ না?

আসফি: নাহ!

শেলিনা খানম : আগে না করনি কেন? সবকিছু ফিক্সড করার পর আজ কেন বলছ!(চিল্লিয়ে)

আসফি : কারণ আমাকে না করার মতো কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি!

শেলিনা খানম : কেন বিয়ে করতে পারবে না?

আসফি : ওর সাথে আমার স্ট্যাটাস যায় না,

এই বলে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় আসফি,,
পিছনে হুট করে কিছু পরে যাওয়ার শব্দ শুনে..
আরিবা চিৎকার দিয়ে বলে উঠে..

মা.....

চলবে....

গল্প: #আমার_সাদামাটা_ক্যানভাস
লেখিকা : #রায়হা_জান্নাত
পর্ব : ০২

লেখিকার কথা : আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই??
সবাইকে অনেক অনেক আফওয়ান,,
পাখিরা অপেক্ষা করেছেন সবাই, অনেকদিন তারজন্য দুঃখিত, নিজস্ব জীবনে প্রচুর ব্যস্ততা, শারিরিক অসুস্থতা, আজও হাতে ব্যাথা নিয়ে লেখলাম,, দোয়ায় রাখবেন সবাই আমাকে কেমন..।
আর পাখিরা রিয়েক্ট কমেন্ট কইরেন কিছু,,
আর আমার একজন মডারেটর প্রয়োজন, কারো ইচ্ছে হলে বইলেন।

বহু বছর আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন এক নারী। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি এসে আশ্রয় ...
04/06/2026

বহু বছর আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন এক নারী। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি এসে আশ্রয় নেন বাগেরহাটের খান জাহান আলী (রহ.) মাজার এলাকায়। সেখানেই বড় হতে থাকে তার একমাত্র মেয়ে ফাতেমা। অভাব অনটনে মা মেয়ের দিন চলে যেত মাজার এলাকাতেই।

মাজারে আসা মানুষদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে কিছু টাকা বা একবেলার খাবার চেয়ে নেওয়াই ছিল ফাতেমার প্রতিদিনের কাজ। মায়ের দেখভাল করা আর আশপাশে ঘুরে বেড়ানো কুকুরগুলোর প্রতি মমতা দেখানো ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়।

কিন্তু সেদিন রাতে সবকিছু বদলে যায়। দিঘির ঘাটে গিয়েছিল ফাতেমা। একপর্যায়ে সে চলে যায় কুমিরের নজরে। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। মায়ের সামনেই কুমিরটি টেনে নিয়ে যায় ফাতেমাকে। নিভে যায় এক পাগলি মায়ের একমাত্র আশ্রয়ের প্রদীপ।

মেয়ের মৃত্যুর পর অসহায় সেই মা আরও ভেঙে পড়েন। তবে এই করুণ ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দীর্ঘদিন ধরে হারিয়ে যাওয়া ওই নারীকে চিনতে পারেন তার স্বজনরা। তারা ময়মনসিংহ থেকে বাগেরহাটে ছুটে আসেন এবং মাজার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাকে নিজেদের কাছে নিয়ে যান।

ঘটনার পর বন বিভাগ দিঘি থেকে বিদেশি কুমিরটিকেও সরিয়ে নেয়।
#খানজাহানআলীমাজার
#সায়ারা_জাহান_লেখায়
#কুমির
#বাগেরহাট
#মাজার

{পর্ব : ০৫}  করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা আসফি জোবায়ের নিজের মুঠো করা হাতের দিকে তাকিয়ে রইল। কেন যেন আমাতুল্লাহর শেষ কথাগুলো বার...
04/06/2026

{পর্ব : ০৫} করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা আসফি জোবায়ের নিজের মুঠো করা হাতের দিকে তাকিয়ে রইল। কেন যেন আমাতুল্লাহর শেষ কথাগুলো বারবার কানে বাজছে।

“আমি নিজেই সরে যাব, তবে তা আমার নিয়মে…”

একটা মেয়ে, যে চাইলে কান্নাকাটি করতে পারত, ঝগড়া করতে পারত, অথচ সে শান্ত। ভীষণ শান্ত। আর এই শান্তিটাই যেন আসফির অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ক্লাস শেষে আমাতুল্লাহ সরাসরি লাইব্রেরিতে চলে গেল। বুকশেলফের পাশের কোণার টেবিলে বসে একটা ইসলামিক বই খুলে রাখলেও চোখ ছিল না বইয়ে।

মনের ভিতরটা অদ্ভুত ভারী লাগছে।
বিয়ের পরের দিনই স্বামীর মুখে অন্য নারীর কথা—কোন মেয়েটা সহজভাবে নিতে পারে?

তবুও সে নিজেকে বোঝাল—
"আল্লাহ কোনো কিছুকেই কারণ ছাড়া ঘটান না।"
হঠাৎ সামনে একটা পানির বোতল এগিয়ে দেওয়া হলো।

আরিবা:-
আরিবা চুপচাপ পাশে বসে পড়ে।

আরিবা : তুই ঠিক আছিস?

আমাতুল্লাহ মৃদু হাসল।

আমাতুল্লাহ : আলহামদুলিল্লাহ।

আরিবা : এই "আলহামদুলিল্লাহ" শব্দটার আড়ালে কত কিছু লুকাস রে তুই!

আমাতুল্লাহ কিছু বলল না। শুধু বইটার পৃষ্ঠায় আঙুল বুলাতে লাগল।

আরিবা এবার গম্ভীর হলো।
আরিবা : ভাইয়া কি আবার কিছু বলছে?

আমাতুল্লাহ এবার ধীরে বলল—
আমাতুল্লাহ : মানুষ রাগের মাথায় অনেক কিছুই বলে ফেলে। সব কথা মনে রাখতে নেই।

আরিবা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
এই মেয়েটা কেমন!
নিজের কষ্টটাকেও এত সুন্দরভাবে লুকাতে পারে?

সেদিন বিকেলে হসপিটালে শেলিনা খানমের কেবিনে সবাই ছিল।
ডাক্তার জানিয়েছে, এখন আগের চেয়ে অনেকটা ভালো আছেন উনি।
শেলিনা খানম বারবার আমাতুল্লাহকে নিজের পাশে বসিয়ে রাখছেন।

আয়েশা সিদ্দিকা মৃদু হেসে বললেন—
আয়েশা : আমার মেয়েটারে তো একেবারে নিজের মেয়েই বানায় ফেলছিস।

শেলিনা খানম দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
শেলিনা : জানিস আয়েশা, আমি সবসময় একটা দ্বীনদার মেয়ের জন্য দোয়া করতাম। যে আমার সংসারটাকে দুনিয়ার চাকচিক্যে না, দ্বীনের আলোয় ভরাবে।

একটু থেমে আমাতুল্লাহর মাথায় হাত রেখে বললেন—

শেলিনা : আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করছেন কিনা জানি না, তবে এই মেয়েটারে দেখলে মন শান্ত হয়।

কথাটা শুনে আমাতুল্লাহ মাথা নিচু করে ফেলল।
কারণ সে জানে—

এই সংসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটাই তাকে মেনে নিতে পারেনি এখনও।

মাগরিবের পর..........

হসপিটালের মসজিদের পাশে ছোট্ট নামাজের রুমে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছিল আমাতুল্লাহ।

সিজদায় গিয়ে খুব আস্তে বলল—
"ইয়া রব…
যদি এই সম্পর্ক আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তাহলে আমাদের অন্তর নরম করে দাও।
আর যদি এতে অকল্যাণ থাকে, তাহলে আমাকে ধৈর্য দাও।"

নামাজ শেষে সালাম ফিরাতেই দরজার বাইরে একটা পরিচিত ছায়া চোখে পড়ল।
আসফি...

দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আমাতুল্লাহ উঠে চলে যেতে নিলে আসফি ডেকে উঠল—

আসফি : শুনো।

আমাতুল্লাহ থামল, কিন্তু পেছনে তাকাল না।

আসফি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—

আসফি : মা তোমাকে অনেক পছন্দ করে।

আমাতুল্লাহ শান্ত কণ্ঠে বলল—

আমাতুল্লাহ : আলহামদুলিল্লাহ।

আসফি বিরক্ত হলো,
আসফি : তোমার সব কথার উত্তর কি এক শব্দে হয়?

এবার আমাতুল্লাহ ঘুরে তাকাল।
আমাতুল্লাহ : সব কথার না। কিছু কথার উত্তর চুপ থাকাও হয়।
দুজনের মাঝে আবার নীরবতা।

হঠাৎ আসফি নিচু স্বরে বলল—
আসফি : তুমি কি সত্যিই আমাকে নিয়ে কোনো স্বপ্ন দেখো না?
প্রশ্নটা শুনে আমাতুল্লাহ কিছুক্ষণ স্থির তাকিয়ে রইল।

তারপর খুব ধীরে বলল—

আমাতুল্লাহ : স্বপ্ন মানুষ তাকে নিয়েই দেখে, যে স্বপ্ন হওয়ার যোগ্যতা রাখে। জোর করে কাউকে নিজের করে পাওয়ার নাম ভালোবাসা না, প্রফেসর।

আসফির বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল।
কারণ মেয়েটার প্রতিটা কথাই যেন সরাসরি গিয়ে তার অহংকারে আঘাত করছে।

সেদিন রাত...
বাসায় ফিরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লেও আসফির চোখে ঘুম নেই।
বারবার মাথায় ঘুরছে আমাতুল্লাহর কথাগুলো।

হঠাৎ ফোনে মেসেজ আসে...
মাইশা।
"Tomorrow can we meet?"

আসফি কয়েক সেকেন্ড স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর রিপ্লাই টাইপ করতে গিয়েও থেমে গেল।

কেন যেন আজ প্রথমবার মনে হলো—

কোনো একটা জায়গায় সে ভুল করছে।
বড় একটা ভুল।

অন্যদিকে আমাতুল্লাহ তাহাজ্জুদের জন্য অ্যালার্ম দিয়ে শুয়ে পড়েছে।

ঘুমানোর আগে খুব আস্তে সূরা মুলক তিলাওয়াত করছিল সে।

আসফি পাশ ফিরে শুয়ে ছিল।
মেয়েটার কণ্ঠে কুরআনের তিলাওয়াত শুনে অদ্ভুত এক প্রশান্তি লাগছিল।
যে প্রশান্তি সে বহু বছর অনুভব করেনি।

আর ঠিক তখনই তার মনে প্রথমবার একটা প্রশ্ন জাগল—

"দ্বীনদার মানুষগুলো কি সত্যিই আলাদা হয়?"

চলবে…

গল্প : #আমার_সাদামাটা_ক্যানভাস
লেখিকা : #রায়হা_জান্নাত
পর্ব :০৫

চায়ের পাতিল থেকে গরম  ফুটানো চা টা সিয়াম ভাই যখন আমার হাতের উপর ঢেলে দিলো আমার মনে হলো আমার চারোদিক অন্ধকার হয়ে আসছে৷ এত...
02/06/2026

চায়ের পাতিল থেকে গরম ফুটানো চা টা সিয়াম ভাই যখন আমার হাতের উপর ঢেলে দিলো আমার মনে হলো আমার চারোদিক অন্ধকার হয়ে আসছে৷ এতো জ্বালা করছে যখন আমি চিৎকার দিতে যাবো তখন সিয়াম ভাই আমার মুখ চেপে ধরলেন। ব্যাথায় আর ছোটার জন্য আমি ছটফট করছি তখন সেই হাতেই সিয়াম ভাই আমার হলুদের গুরা আর লবন ঢালতে লাগলেন। হাতে কি পরিমান জলছে আমি চিৎকার দিয়েও কান্না করতে পারতেছি না। এসব সহ্য করতে না পেরব যখন জ্ঞান হারালাম, তখন সিয়াম ভাই আমাকে কোলে তুলে নিয়ে আমার রুমের মধ্যে রেখে টেবিল থেকে পানির জগ নিয়ে বাহির থেকে দরজা আটকে বেড়িয়ে গেলেন। যাতে আমার জ্ঞান আসলেও আমি হাত ধুতে না পারি।

-সিয়াম জগ নিয়ে কোথায় যাচ্ছো আর সায়ু কে দেখছি না কেনো?
-পানি নেই আমার ঘরে আয়ানা আমি পানি আনতে যাচ্ছি আর দেখো তোমার সায়ু কোথায় চলে গেছে কে জানে।

আয়ানা সিয়ামের কথা বিশ্বাস করলো কি না তা তার চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছে না। সিয়াম আয়ানা কে তার সাথে নিয়ে তার মায়ের রুমে গেলো।

- ফুপ্পির রুমে কেনো যাচ্ছি আমরা সিয়াম?
-আম্মু বলছে যেতে গল্প শুনাবে আজ আমাদের।

সিয়াম আয়ানা কে নিয়ে ওর মায়ের ঘরে চলে গেলো যাতে সে সায়ারার খোঁজ না নিতে পারে। অইদিকে আয়ানার জ্ঞান ফিরলো হাতের মধ্যে কেউ আ*গু*ন লাগিয়ে দিয়েছে এমন জ্বালা করছে তার হাতে৷ রুমের মধ্যে পানি খুঁজতে লাগলো সে কিন্তু সে পেলো না কিভাবে পাবে সিয়াম যে পানি নিয়ে গেছে৷ সায়ারার রুমে এটাচড বাথরুম ও নাই অবশেষে সে তার কলেজের ব্যাগে মধ্যে বোতলে পানি পেলো। হাত ধুতে গিয়ে পানি লাগলেই আরো জ্বলে উঠছে। বাম হাতের উপর পিঠের চামড়া ঝলসে গেছে। নিজের এই করুন পরিস্থিতি দেখে আজ নিজের উপর কান্না পাচ্ছে তার। অনেক যন্ত্রনা হচ্ছে তার, ফুঁপিতে কাঁদতে কাঁদতে সে ওখানেই শুয়ে পড়লো আর সকালের কথা মনে কর‍তে লাগলো সে ।।।

--------সকালে------------------

মাছটা একটু পু'ড়ে যাওয়ায় খালা আমার চুলের মু*ঠি ধরে ঘুরিয়ে কড়াইয়ের উপর থেকে গরম খুচুন টা আমার পিঠে চেপে ধরে৷ পিঠ আমার জ্বলে যাচ্ছে কিছু বলতেও পারছি না বললেই উনার পাশবিক নি"র্যা'ত'ন আরো বেড়ে যাবে। কান্না মাখা কন্ঠে বলে সায়ারা।

-আমাকে ছেড়ে দিন খালা আমার ভুল হয়ে গেছে আর এমন হবেনা।
ভুল কিভাবে হয় মন কই থাকে তোর হ্যাঁ? আজকে তোর ভাই আসবে জানিস না তুই ওর প্রিয় মাছ এটা কিভাবে পুঁড়ে?

খালার ঝাঝালো কন্ঠে কেঁপে উঠি আমি। আজ খালার একমাত্র ছেলে সিয়াম আসবে ঢাকা থেকে। এই লোক আসা মানেই আমার উপর দিগুণ অ'ত্যা'চা'র বাড়বে। সিয়াম ভাইয়া কেনো জানিনা আমাকে পছন্দ করে না।

-আমার ইচ্ছা করে এমন হয় নাই খালা আসোলে আমি একটু অন্যমনস্ক হওয়াতে এমন হয়েছে আর হবেনা।

-অন্যমনস্ক কেনো হবি তুই মন কোন না'গ'রে'র কাছে রেখে আসছিস?

খালার মুখের ভাষা ভয়ংকর বিশ্রি কেউ বলতে পারবে না। খালা শুধু আমার বেলায় এমন। আমাকে রেখে আমার মা না কি খালুর সাথে পালিয়েছে সেই থেকে আজ অব্দি খালার সব ক্ষো'ভে'র স্বীকার আমি। উত্তর না দিয়ে নিজের মতো কাজ করতেছি খালা এবার নিজে গা'লাগা'ল করতে করতে বেড়িয়ে গেলেন। আমি নিজের করুন অবস্থা দেখে হাঁসছি। আমাকে একজন কথা দিয়েছিলো আমার সব কষ্টের ভাগ তিনি নিবেন আজ কোথায় সে। মানুষ বড়ই বিচিত্র কেউ কি পারে কারো কথা রাখতে। উনি হয়তো এতো বছরে আমাকেই ভুলে গেছে আর আমার দেওয়া কথা মনে রাখবে। ছোটবেলায় বলা কথাগুলোকে ঘিরে আমি এখোনো দিবা স্বপ্ন দেখি৷ নিজের উপর তাচ্ছিল্যের হাসি আসে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো সিয়াম ভাই হয়তো এসেছেন খালা দৌড়ে বেরিয়ে গেলেন ছেলেকে দেখতে আর আমি ধিরে ধিরে তার পিছে গেলাম। খালাকে দেখে সিয়াম ভাই জরিয়ে ধরলো এতোগুলো দিন পড়ে ছেলেকে পেয়ে কান্না করে দিলেন খালা।

- আরে মা এতো কান্না করে না তোমাকে অনেক পচা দেখাবে জানো? চুপচুপ জানো তোমার জন্য আমি এও সারপ্রাইজ নিয়ে আসছি৷

সিয়াম ভাইকে অনেক খুশি দেখাচ্ছে এতো খুশি আগে কখোনো দেখি নাই৷

- কি সারপ্রাইজ বাবা এতোদিন পাড়ে তোক৩ দেখলাম একটু কান্না ও করতে দিবি না।

সিয়াম ভাই খালার কথা শুনে মুচকি হেসে গাড়ি থেকে আরকজনের হাত ধরে বের করে আনলেন। গাড়ি থেকে জিন্স পড়া আর হাফ কূর্তি পড়া এক অপরুপ সুন্দরী মেয়ে নেমে এলেন। খালা খুব অদ্ভুদ ভাবে তাকিয়ে আছে মেয়েটির দিকে আর মেয়েটিও খালার দিকে তাকিয়ে হাসছে।

- কেমন আছো ফুপ্পি তুমি?
-আলহামদুলিল্লাহ আয়ানা মামুনি তুই কতো বড় হয়ে গেছিস চিনাই যাচ্ছে না তোকে। তুই আসবি সিয়াম আমাকে বলে নাই, বাড়ির বাকি সবাই কেমন আছে?
-আরে আবার কান্না করতেছো কেনো তুমি ফুপ্পি আমি আসছি না দেখবা এবার সবাই আসবে। দেইখো সব ঠিক হয়ে যাবে আমাকে এখানেই দাড় করিয়ে রাখবা?

খালামনি এবার চোখের পানি হাত দিয়ে মুছে ফেললো আর তাদের বাড়ির ভিতরে যেতে বললো। আমি চিনতেই পারছি না উনি কে অথচ খালা কে ফুপ্পি ডাকছে। সিয়াম ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে হনহন করে ভিতরে চলে গেলো। আমার চেহারা দেখলেই না কি তার আমার মায়ের কথা মনে পড়ে রাগ হয়ে যায়। মেয়েটি এবার আমাকে দেখে আমার কাছে এগিয়ে আসে।

- সায়ারা তোমার নাম এম আই রাইট?
-হ্যাঁ আমার নাম সায়ারা আপনি কিভাবে জানলেন?
-আমি তোমার মামাতো বোন আয়ানা আমার কথা কি তোমার মনে নাই সায়ারা?
-সরি আপু মনে ছিলো কিন্তু এতোগুলা বছর পড় দেখে কি চিনা যায় আর সেই কোন ছোটবেলায় দেখেছি তাও স্পষ্ট মনে নাই আমার।
-থাক সমস্যা নাই এখন আমি আসছি সব মনে করিয়ে দিবো চলো এবার।

আয়ানা আপুর ব্যাবহার খুব আমায়িক। এই বাড়িতে আজ অনেকদিন পড়ে আমার সাথে ভালো ব্যাবহার করলো কেউ। খুশি মনে আমি আপুর সাথে ভিতরে গেলাম আপু ফ্রেস হয়ে আসার পড় অনেক গল্প করলাম তার সাথে৷ রাত তখন ৮ টা বাজে আপু গেলো তার রুমে দরকারি কাজে আর আমাকে সিয়াম ভাই পাঠালো রান্না ঘরে চা বানাতে৷ আমি চা বানান প্রায় শেষ পাতিলে চা বলকাচ্ছে তখন রান্না ঘরে প্রবেশ করে সিয়াম ভাই।

বর্তামানে আমি শুয়ে আছি আর আমার চারোপাশ অন্ধকার রুমে আলো নাই। আমার মনে হচ্ছে এতো য'ন্ত্র'না না দিয়ে আল্লাহ আমাকে নিয়ে যাচ্ছে না কেনো। ছটফট করছি আমি হাতের য'ন্ত্র'না'য়। আমার রুমের দরজা খোলার আওয়াজ আমি পেলাম তাকিয়ে দেখি আয়ানা আপু রুমের লাইট জালালো। আমাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে ছুটে আমার কাছে এলেন এসে আমাকে ডাকছে আমি আত চোখে খুলে রাখতে পারলাম না। আয়ানা আপু আমার হাতের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলেন কি বুঝলেন জানিনা।

- ফুপ্পি সিয়াম কোথায় তোমরা তাড়াতাড়ি আসো।

আয়ানাত চিৎকারে ফুপি আর সিয়াম দৌড়ে চলে আসলেন। আয়ানা কে এই ঘরে দেখে ফুপি অবাক হলেও সিয়াম ভাই ঘাবড়ে যাচ্ছে।

- কি হয়েছে ও এভাবে এখানে সুয়ে আছে কেন?
- ও এখানে সুয়ে না ফুপি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছে। ও কে হসপিটাল নি তে ওর হাত দেখো তুমি৷

ফুপ্পি হাত দেখে আঁতকে উঠল আর সিয়ামের দিকে তাকালো তার আর বুঝতে বাকি রইলো না কি হয়েছে।
- সিয়াম সায়ারাকে কোলে নে তাড়াতাড়ি, আর ওকে হাসপাতাল নিয়ে যা৷
-সিয়াম তুমি গাড়িতে গিয়ে বসো আমি আমার ফোন নিয়ে আসছি।

সিয়ামের অনিচ্ছা হওয়া সত্তেও আয়ানার কথায় নিয়ে যাচ্ছে। আয়ানা ঘরে গিয়ে কাউকে কল দিয়ে সব খুলে বলে।
-তুমি তাড়াতাড়ি চলে আসো ভাই দেখে যাও এখানে কি হচ্ছে।

চলবে.?

#অনুভুতির_মায়ার_খেলা_১
#সায়ারা_জাহান_লেখায়।
থেকে কপিকৃত Jiboner Golpo জীবনের গল্প

কাইল্লাডার ঘাড়ে ভালই সুখ
02/06/2026

কাইল্লাডার ঘাড়ে ভালই সুখ

তোফায়েল ভাই মারা গেছেতার দাপট মরছে অবশ্য ২ বছর আগে ২ বছর পর তার দেহ
01/06/2026

তোফায়েল ভাই মারা গেছে
তার দাপট মরছে অবশ্য ২ বছর আগে
২ বছর পর তার দেহ

31/05/2026

হাদিকে গুলি

Address

Khulna City
Khulna
9000

Telephone

+8801711433182

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jiboner Golpo জীবনের গল্প posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Jiboner Golpo জীবনের গল্প:

Share