09/06/2026
{পর্ব :০৩} কবুল, কবুল, কবুল। এই পবিত্র তিনটি শব্দ উচ্চারণ করেই আমাতুল্লাহ কেঁদে ফেলে,,
তিনটি শব্দ শুনতে কত সহজ মনে হয় কিন্তু বলতে গেলে বুঝা যায় কত কঠিন এই তিনটে শব্দের ভার..
তিনটি শব্দ গোটা এক গল্প রচনার ক্ষমতা রাখে।
এবার আসফি জোবায়েরের পালা, যার চেহারায় এখন একরাশ বিরক্তি।
যখন কাজি কবুল বলতে বলল, তখন খেয়ে ফেলা লুক নিয়ে তাকাল আমাতুল্লাহ মারিয়াম নামক রমণীর দিকে..
পরপর আওরাল আমাতুল্লাহ মারিয়ামের বলা সেই তিনটি শব্দই।
হসপিটালের কেবিনে উপস্থিত প্রতিটি মানুষ সমস্বরে বলে উঠল.. আলহামদুলিল্লাহ।
একজন খেজুর বিলিয়ে দিল হসপিটালের সবার মাঝে..
সবার মাঝে ছড়িয়ে গেল আমাতুল্লাহ মারিয়াম ও আসফি জোবায়েরের বিয়ের চাপা আনন্দটা।
কিন্তু আনন্দ নেই নবদম্পতির মাঝে।
শেলীনা খান : আমাতুল্লাহ মা এদিকে আয়,
আমাতুল্লাহ কেবিনে এটাচ সোফাটা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে গেল শেলীনা খান এর নিকট পাশ ঘেঁষে বসে পড়ল,,
শেলীনা খান : দেখি দেখি কাদঁছে কেন আমার আম্মুটা? আমি কী কোনো ভূল করে ফেললাম রে মা?
আমাতুল্লাহ : না, না আন্টি ভূল করনি তুমি, শুধু শুধু চিন্তা কর না।
শেলিনা : এখনও আন্টিই ডাকবি?
হঠাৎ করে বলায় আমাতুল্লাহ যেন তার মাথায় কথা স্কেচ করে নিতে পারল না।
তাই জিজ্ঞেস করে ফেলল..
আমাতুল্লাহ : কেন কী ডাকব আন্টি?
সাথে সাথে সানারা সহ উপস্থিত সবাই হেসে দিল, এপর্যায়ে দেখা গেল আসফি জোবায়েরের অধর কোণেও সুক্ষ হাসির রেখা। বোকা মেয়ে..
আমাতুল্লাহ যখন শেলিনা খান এর কথাটা বুঝে উঠতে পারল তখন নিজেও বেআক্কেল বনে গেল।
আমাতুল্লাহ : না মানে,
শেলিনা খান : থাক আর লজ্জা পাওয়া লাগবে না। আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে যাবি।
আমাতুল্লাহ : হুম, আচ্ছা।
আয়েশা সিদ্দিকা : আজকে কী ওকে তোদের সাথেই নিয়ে যাবি?
কথাটা বলার সময় আয়েশা সিদ্দিকার আঁখি কোণে চিকচিক করছিল অশ্রুকণা, বড় আদরের মেয়ে উনার,,
আমাতুল্লাহ ফের উঠে গিয়ে মায়ের কাঁধে মাথা রেখে মাকে একহাতে জড়িয়ে বসে।
শেলীনা খান প্রশ্ন শুনে প্রসন্ন হাসে, বলে
শেলিনা খান : তোর অনুমতি থাকলে তবেই নিয়ে যাব তোর মেয়েকে, যদিও এখন আর অনুমতির প্রয়োজন পড়বে না কারণ আমাতুল্লাহ এখন আমারও মেয়ে,তবুও।
আয়েশা সিদ্দিকা : আমার কোনো আপত্তি নেই, মেয়ে জন্ম দিলে মেয়েকে পরের ঘরে পাঠাতেই হবে।
শেলীনা খান তাকায় আমাতুল্লাহ মারিয়াম এর দিকে..
শেলিনা খান : তোর কী মত মা??
আমাতুল্লাহ : আন্টি, আফওয়ান আফওয়ান, আম্মু
তোমরা যা বলবে তাই হবে,, তবে আমি চায় না বিয়েতে অতিরিক্ত কোনো খরচ হোক,
কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
*"إِنَّ أَعْظَمَ النِّكَاحِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُ مَؤُونَةً"*
*বাংলা অর্থ:* "নিশ্চয়ই সেই বিয়ে সবচেয়ে বেশি বরকতময়, যেটাতে খরচ সবচেয়ে কম।"
তাই পুনরায় বিয়ের কোনো অনুষ্ঠানের প্রয়োজন নেই, তবে প্রফেসর রাজী থাকলে রিসিপশন (ওলীমা)করতে পার।
কিছু মনে কর না আম্মু "রাসূল ﷺ এর যুগে বিয়ে ছিল সবচেয়ে সহজ কাজ। এখন আমরা সবচেয়ে কঠিন বানিয়ে ফেলেছি।
৩০০ মানুষের ক্লাবে বিয়ে, ২০ পদের খাবার, ফটোগ্রাফার, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট - এগুলা দিয়ে বরকত আসে না। বরকত আসে সুন্নত মানলে।
তাই এগুলো চাচ্ছি না।
আসফি : তাহলে রিসেপশন করা লাগবে কেন? নাকি সবাইকে জানাতে হবে তুমি আসফি জোবায়েরের ওয়াইফ।
শেলিনা খান : আসফি! সাবধানে কথা বলবে, আমার সাথে রুড বিহেব কর বলে, আমাতুল্লাহ 'র সাথে করতে পারবে না বলে রাখলাম।
ভাগ্যিস এখানে আয়েশা নেই ও থাকলে তোমার ব্যবহারে ওর নিশ্চয় খারাপ লাগতো।
আসফি : হুম, কিন্তু আফসোস আমি এখানে আন্নিকে দেখতে পাচ্ছি না,,
আমাতুল্লাহ : আমি তো বলি নাই আপনাকে শহরজুড়ে দাওয়াত করতে!১টা ছাগল/খাসি জবাই করে কয়েকজনরে খাওয়ায় দেন। তাও ওলীমা হবে। ১০০০ মানুষ লাগবে না। তাই আপনার স্ট্যাটাসের কাউকে নিমন্তণ না করলেও ওলীমা হয়ে যাবে প্রফেসর, কারণ ওলীমা সুন্নত ফরজ নয়, এ নিয়ে হাদীসে আছে এক সাহাবা,
আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা. বিয়ে করলেন। রাসূল ﷺ শুনে বললেন:
*"أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ"*
*অর্থ:* "ওলীমা করো, একটা ছাগল দিয়েও হলেও।"
তাই বললাম না আপনার স্ট্যাটাসের কাউকে ইনভাইট করা লাগবে না, আর জানাতেও হবে না আমাতুল্লাহ মারিয়াম নামে কারো অস্তিত্ব আপনার লাইফে আছে বুঝে আসছে প্রফেসর আসফি জোবায়ের??
আসফি রেগে বের হয়ে যায়।
আরিবা : আমি সামনে ঘোর অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি (গণকের মতো ভাব নিয়ে)
সিদরাত বলে কেন কেন??
আরিবা : সাপে নেউলের পরিণয় নিয়ে।
সবাই হেসে দেয়।
★★★★★★★
রাত বারোটায় রুমে প্রবেশ করে আসফি, লাইট অন করতেই দেখা দেয় একটি মেয়েকে জায়নামাজে শুয়ে আছে, হয়ত নামাজ পড়েই গা এলিয়ে দিয়েছিল এই জায়নামাজে।
আসফির বিরক্তি ভাবটা ফুটে উঠে চেহারায়, তারপরও কাছে যায় ডাকার জন্য,, প্রথম যখন আমাতুল্লার মুখের উপর পড়ে থাকা ওড়নাটা সড়ায়,, কিছুক্ষণের জন্য নিজের অস্তিত্ব ভুলে বসে আসফি জোবায়ের।
গোলগাল একটা মুখ, নাকটা সরু, চোখ দুটো কিছুটা টানা, গালটা ফোলাফোলা, ঘুমানোর কারণে মুখে তৈলাক্ত ভাব কিছুটা, শ্যামরাঙা গত্র, এককথায় মায়াবতী।
হুট করে চোখ মেলে তাকায় আমাতুল্লাহ, নিজের উপরে ঝুঁকে থাকা আসফি জোবায়েরকে দেখে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায় তবুও নিজেকে শান্ত রাখতে চায়, দেখা যাক কি করে আসফি জোবায়ের।
আসফি তাকিয়ে থাকল কিছুপল, হুট করে খেয়ালে আসল আমাতুল্লাহ তার পানে তাকিয়ে আছে। দ্রুততার সহিত সরে গেল, আমাতুল্লাহ তা দেখে হাসল কিঞ্চিৎ।
আমাতুল্লাহ : এতক্ষণ কোথায় ছিলেন??
আসফি : বউগিরি শুরু করে দিলে নাকি?
আমাতুল্লাহ : হু, এটা তো বউগত অধিকারই,,আর প্রেমিকাগত অধিকার তো রাত বিরেতে অন্যের হাসবেন্ডকে আটকে রেখে কিছু বন্ধু নামের বখাটেদের সাথে তাকে নিয়ে আড্ডা দেওয়া।
আসফি : এতকিছু তুমি জানলে কিভাবে? আমাকে ফলো করছ নাকি?
আমাতুল্লাহ : নো,, জানার হলে ফলো করা লাগবে না, অনেক মাধ্যম আছে।
আসফি : কয়জন আছে? যাদের দ্বারা খবর পাও আমার?
আমাতুল্লাহ :প্রফেসর! (চিল্লিয়ে উঠে) মুখ সামলিয়ে কথা বলেন, নিজের মতো ভাবেন নাকি সবাইকে? হু?
আসফি : নিজের মতো মানে কি মিন করছ তুমি?
আমাতুল্লাহ : আমার থেকে ভালো তো আপনি জানবেন।
এই বলে আমাতুল্লাহ বেলকনির দিকে পা বাড়ায়।
I want a divorce.
পিছন থেকে বলে আসফি, আমাতুল্লাহ শুনে...
গল্প : #আমার_সাদামাটা_ক্যানভাস
লেখিকা : #রায়হা_জান্নাত
চলবে....