09/03/2020
৩২ ইটের ভাটা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর গলার কাঁটা.............................
খুলনা, সাতক্ষীরা ও নড়াইলের ৩২টি ইটের ভাটা এ অঞ্চলবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনও কোনও ভাটার অনুমতি নেই। আবার কোনও ভাটা উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ইট উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক মাইলের মধ্যে ইটের ভাটা হওয়ায় শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা নদীর খর্ণিয়া বাজারের দু’পাশে গড়ে উঠেছে ইটের ভাটা। নদী দখল করে এখানে গড়ে উঠেছে ২৮টি ইটের ভাটা। ডুমুরিয়ার কয়েকটি ভাটার মালিক শাসক দলের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ। খর্ণিয়া এলাকায় ভদ্রা নদীর দু’পাড় দখল করে নয়টি ভাটা গড়ে উঠেছে। ভাটাগুলো নদীর জায়গা একশ’ ৭৫ মিটার থেকে দুইশ’ ১০ মিটার দখল করেছে। ডুমুরিয়ার রুদাঘড়া ইউনিয়নের মোঃ ইকবাল হোসেন জমাদ্দারের ইটের ভাটা স্টোন ব্রিক্স দখল করেছে হরি নদী দুইশ’ ২০ মিটার চর। গুটুদিয়ার চারটি ইটের ভাটা দখল করেছে শৈলমারী নদীর একশ’ ৯০ থেকে দুইশ’ ৫০ মিটার চর। দিঘলীয়া উপজেলার আত্রাই নদী দখল করেছে তিনটি ইটের ভাটা। রূপসা ও তেরখাদা উপজেলার ১১টি ইটের ভাটা সংশ্লিষ্ট নদী দখল করেছে।
খুলনার কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ নদীর তীরে গড়ে উঠেছে একরাম সানার মালিকানাধীন সানা ব্রিক্স, সোহরাব হোসেনের মালিকানাধীন এস এস ব্রিক্স, ইউপি চেয়ারম্যান আমির আলী গাইরে মালিকনাধীন এবিএম ব্রিক্স ও লালুয়া বাগালী এলাকায় আজাদুল হকের মাকিানাধীন আজাদ ব্রিক্স। সানা ব্রিক্স ও এসএস ব্রিক্স সুন্দরবন থেকে নয় কিলোমিটার দূরে। আজাদ ব্রিক্সের পাশে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কোনোটি ভাটার ছাড়পত্র নেই।
সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে এপিএস মহাবিদ্যালয়ের সামনে গড়ে উঠেছে ইটের ভাটা। এখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার কুলশুর এলাকায় গড়ে উঠেছে সিটি ব্রিক্স। উচ্চ আদালত সিটি ব্রিক্সের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর এর পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মোঃ জিয়াউল হক সিটি ব্রিক্সের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পরিবেশের জেলা কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। সিটি ব্রিক্সের পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর দিকে আবাসিক এলাকা ছাড়াও একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও গ্রামে অন্যতম প্রধান দেবালয় অবস্থিত। এখানে শিক্ষার্থী ও মন্দিরের ভক্তদের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সিটি ব্রিক্সের চারশ’ মিটারের মধ্যে শহীদ এখলাস উদ্দিন আহম্মেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ২০১২ সালের ২৮ মার্চ অনাপত্তি পত্র প্রদান করেন। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ইট ভাটাটি নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থিত। ২১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী বায়োকেমিস্ট নিখিল চন্দ্র ঢালী ও সিনিয়র কেমিস্ট মোঃ মিজানুর রহমান সরেজমিন প্রদর্শন শেষে সিটি ব্রিক্সের পরিবেশ ছাড়পত্র বাতিল করার সুপারিশ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, খুলনা-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি জানান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদরে জন্য ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়েছে। যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের সার্ভেয়ার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার মিলে নদীর সীমানা নির্ধারণের কাজ চলছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার বিভাগীয় পরিচালক সাইফুর রহমান স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, জনবসতি এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটের ভাটার অনুমোদন দেয়া যাবে না।
খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, অবৈধ ইটের ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। পাইকগাছা ও কয়রা এলাকার অনুমোদনহীন কয়েকটি ইটের ভাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
লেখকঃ
কাজী মোতাহার রহমান
সাবেক সাধারণ সম্পাদক
খুলনা প্রেসক্লাব