28/08/2026
আমার বিয়ের ১১ মাস হয়েছে। নতুন সংসার, নতুন জীবন—সবকিছু নিয়ে বেশ ভালোই চলছিল। কখনো ভাবিনি, বিয়ের মাত্র ১১ মাসের মাথায় এমন একটা সত্যের মুখোমুখি হতে হবে, যেটা আমার পুরো দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দেবে।
একদিন আমার স্ত্রীর ফোন চেক করে এমন কিছু বিষয় আমার চোখে পড়ে, যেগুলো দেখে তার পরকীয়ার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত হয়ে যাই। কিন্তু তখনও আমি তাকে কিছুই বলিনি। কোনো ঝগড়া করিনি, কাউকে কিছু জানাইনি, এমনকি তার সামনেও এমন কোনো আচরণ করিনি, যাতে সে বুঝতে পারে আমি সবকিছু জেনে গেছি।
কারণ আমি চেয়েছিলাম, আবেগের বশে নয়—পুরো সত্যটা নিশ্চিত হয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে।
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে জীবনে যথেষ্ট দিয়েছেন। আমাদের নিজস্ব একটি গাড়ির শোরুম এবং একটি হোটেল আছে। অর্থনৈতিকভাবে আমার সংসারে কোনো কিছুর অভাব ছিল না। স্ত্রীকে ভালো রাখার জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কোনো কমতি রাখিনি।
তবুও বুঝলাম, টাকা দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানো যায়, কিন্তু কারও বিবেক বা বিশ্বস্ততা কেনা যায় না।
আমি চুপচাপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকি। আমার উদ্দেশ্য ছিল কাউকে অপমান করা নয়; আমি শুধু সত্যটা নিজের চোখে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম।
শেষ পর্যন্ত আমার সন্দেহ সত্যি প্রমাণিত হয়। আমার নিজের রুমেই আমার স্ত্রী তার প্রাক্তনের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে জড়ায় এবং সেই ঘটনার ভিডিও প্রমাণও আমার কাছে চলে আসে।
সত্যিটা জানার পর স্বাভাবিকভাবেই আমার ভেতরে প্রচণ্ড রাগ, কষ্ট এবং হতাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আমি একটা বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝেছিলাম—একটা মানুষের ভুলের কারণে নিজের জীবন নষ্ট করার কোনো মানে নেই।
তাই কোনো ধরনের মারামারি বা প্রতিশোধের পথে না গিয়ে আমি আইনগত ও সম্মানজনকভাবে বিষয়টির সমাধান করার সিদ্ধান্ত নিই।
আমার মামাতো ভাইয়ের পরামর্শে একজন উকিল এবং তিনজন পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে আমি শ্বশুরবাড়িতে যাই। সেখানে পরিবারের সামনে পুরো বিষয়টি খুলে বলি এবং আমার কাছে থাকা প্রমাণ তাদের দেখাই।
আমি তাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিই—আমি আপনাদের মান-সম্মান নষ্ট করতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে অযথা সামাজিকভাবে কাউকে হেয় করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু আমার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, সেটারও একটা সম্মানজনক সমাধান চাই।
শেষ পর্যন্ত দুই পরিবারের সম্মতিতে বিষয়টির সমাধান হয়। আমার স্ত্রী নিজেই তালাকের সিদ্ধান্ত নেয় এবং আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটে। কাবিনের টাকা দেওয়ার বিষয়টিও আমার ক্ষেত্রে আসেনি এবং বিয়েতে আমার করা খরচের অর্থও তারা ফেরত দিয়েছে। চাইনি তাও জোর করে দিয়েছে ফেরত ,
অনেকে হয়তো বলবেন, “স্ত্রীকে মারলেন না কেন?”
ভাই, মারধর করে কী লাভ?
কয়েক মিনিটের রাগের কারণে যদি নিজের ভবিষ্যৎ, ব্যবসা, পরিবার এবং স্বাধীনতা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেই রাগের মূল্য দেওয়ার কোনো অর্থ নেই। আমি জেলে গিয়ে নিজের জীবন নষ্ট করতে চাইনি।
মশা মারতে গিয়ে নিজের হাত রক্তাক্ত করার কোনো দরকার নেই।
আমি বরং নিজের জীবনটাকে নতুনভাবে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
একটা সম্পর্ক শেষ হয়েছে, কিন্তু জীবন থেমে যায়নি।
যে বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছে, তাকে নিয়ে সারাজীবন আফসোস করে বসে থাকার চেয়ে অতীতকে পেছনে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াই ভালো।
আলহামদুলিল্লাহ, একটি অধ্যায় শেষ হয়েছে। এখন নতুনভাবে জীবন শুরু করার সময়।
আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন।
ইনশাআল্লাহ, সামনে আরও সুন্দর দিন অপেক্ষা করছে।
Babar Rajputro