23/08/2025
গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রদান করা মূল্যবান তিনটি উপদেশ নিম্নরূপ:
১. কর্মণের্যবাদ (Action without Attachment)
উপদেশ:
"কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলে শু কদাচন |
মা কর্মফলহেতু ভু মা তং সংগোস্ত্বকর্মণি ||"
(ভগবদ গীতা ২/৪৭)
ব্যাখ্যা:
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এখানে বলছেন যে, আমাদের কর্তব্য বা কাজের প্রতি পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে, তবে তার ফলের প্রতি কোনো ধরনের অনুরাগ বা আসক্তি থাকা উচিত নয়। কাজ করো, কিন্তু তার ফলের প্রতি কোনো প্রত্যাশা বা দৃষ্টি রাখা উচিত নয়। এক্ষেত্রে তিনি মানবজীবনের উদ্দেশ্যকে বোঝান — কর্মের মাধ্যমে আত্মোন্নতি। কাজের মাধ্যমে ভগবানের উপাসনা করাই মূল লক্ষ্য। আমরা আমাদের কাজে নিযুক্ত থাকি, কিন্তু তার ফল সম্পর্কে অতিরিক্ত চিন্তা বা উদ্বেগ না করে, একাগ্রভাবে কর্তব্য সম্পাদন করতে হবে।
২. ভগবানের স্মরণ (Devotion to God)
উপদেশ:
"মামেকম শরণং রাজমাাম্,
মুক্তি দিব সত্ত্বে ||"
(ভগবদ গীতা ১৮/৬৬)
ব্যাখ্যা:
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যে, যারা সম্পূর্ণভাবে তাঁর শরণে আসেন, তারা কখনোই বিপদে পড়েন না। অর্থাৎ, যারা তাঁর প্রতি নিষ্কলঙ্ক ভালোবাসা ও ভক্তি প্রদর্শন করেন, তারা জীবনের সব সংকট থেকে মুক্তি লাভ করেন। শ্রীকৃষ্ণ এখানে সবার জন্য একটি সহজ এবং সরল পথ দেখান—যে কোনো পরিস্থিতিতে তিনি সবার সহায়ক এবং শরণার্থী। ফলে, আমাদের উচিত সত্যি-সত্যি ভগবানের শরণাপন্ন হওয়া এবং তাঁর প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখা।
৩. সংস্কৃতির উন্নতি (Control over Mind)
উপদেশ:
"উদ্ধরেৎ আত্মনাম্ নং,
নম্ শত্রুং তমনন্যৈ ||"
(ভগবদ গীতা ৬/৫)
ব্যাখ্যা:
এখানে শ্রীকৃষ্ণ মানুষের আত্ম-উন্নতির জন্য মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে বলেছেন। "মানুষ নিজের শত্রু, আবার নিজের বন্ধু" — এই উপদেশের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন যে, যদি আমাদের মন অধিকারিত না থাকে, তবে তা আমাদের শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য আমাদের মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টা করতে হবে। আত্ম-নিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা নিজেদের উদ্দেশ্যকে সফল করতে পারি। মনকে পরিশুদ্ধ ও একাগ্র রাখতে শ্রীকৃষ্ণ এর গুরুত্ব দেখান।
এই তিনটি উপদেশ আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এবং সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এগুলি অনুসরণ করা অপরিহার্য।