11/06/2026
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১২,৭৬৪ জন নারী নতুন করে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৬,৮৪৬ জন নারী এ রোগে মৃত্যুবরণ করেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ জন নারী নতুনভাবে আক্রান্ত হন।
📌 (সূত্র: WHO / IARC – GLOBOCAN 2018)
অন্যভাবে বললে—ব্রেস্ট ক্যান্সার বর্তমানে বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সারগুলোর একটি।
অথচ বাস্তবতা হলো—প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, দ্রুত চিকিৎসা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা রোগের মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।
🔬
ব্রেস্ট ক্যান্সার আদতে কী?
ব্রেস্ট ক্যান্সার হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে স্তনের কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে ও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং টিউমার তৈরি করে।
এই টিউমার সময়ের সাথে শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
⚠️
সাধারণ লক্ষণসমূহ:
🔸 স্তনে নতুন গিঁট বা শক্ত অংশ অনুভব হওয়া
🔸 বগলের নিচে গিঁট বা ফোলা
🔸 স্তনের আকার বা আকৃতিতে পরিবর্তন
🔸 ত্বক কুঁচকে যাওয়া বা কমলার খোসার মতো পরিবর্তন
🔸 নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া
🔸 নিপল থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক স্রাব
🔸 স্তন বা আশেপাশে লালচে ভাব, ক্ষত বা ফোলা
📌 এটাও মনে রাখতে হবে, সব গিঁট ক্যান্সার নয়, তবে প্রতিটি নতুন পরিবর্তন অবশ্যই পরীক্ষা করা জরুরি।
🤚
সমস্যা কোথায়?
বাংলাদেশে অনেক রোগী চিকিৎসকের কাছে আসেন দেরিতে, যখন রোগটি ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এর পেছনে কিছু বড় কারণ হলো—
• লজ্জা ও সামাজিক সংকোচ (এটা সিভিয়ার)
• সচেতনতার অভাব
• কুসংস্কার ও ভুল ধারণা
• লক্ষণকে গুরুত্ব না দেওয়া
• নিয়মিত স্ক্রিনিং না করা
এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যেখানে চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে।
👩⚕️
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
• বয়স বৃদ্ধি (বিশেষ করে ৪০ বছরের পর)
• পরিবারে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ইতিহাস
• অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
• শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা
• ধূমপান
• কিছু বংশগত জিনগত পরিবর্তন (যেমন BRCA1, BRCA2)
🤦♂️ 🤦
একটি প্রচলিত মিথ
অনেকের ধারণা, নিম্নমানের বা টাইট ব্রা ব্যবহারের কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়!
কিন্তু বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ যে—
✍️ অপরিষ্কার বা অস্বাস্থ্যকর অন্তর্বাস ত্বকের অ্যালার্জি, র্যাশ ও সংক্রমণের কারণ হতে পারে
✍️ তাই স্বাস্থ্য ও আরামের জন্য সঠিক মাপ ও মানসম্পন্ন অন্তর্বাস ব্যবহার করা উচিত
🩺 ✅
আপনি কী করতে পারেন?
• মাসে অন্তত একবার নিজের স্তনে পরিবর্তন খেয়াল করুন
• কোনো অস্বাভাবিকতা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
• ৪০ বছরের পর নিয়মিত স্ক্রিনিং নিয়ে ভাবুন
• পরিবার ও বন্ধুদের সচেতন করুন
🌸
ব্রেস্ট ক্যান্সার কোনো লজ্জার বিষয় নয়—এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য রোগ, যদি তা সময়মতো ধরা পড়ে।
কারণ—
ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো:
সচেতনতা, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা
🎗️
আপনার একটি শেয়ার হয়তো কারও জীবনের দিক পরিবর্তন করে দিতে পারে।