12/07/2026
"আসসালামু আলাইকুম আবিদ ভাই, কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আজ আপনাকে এমন এক ভয়ের অভিজ্ঞতার কথা বলব, যা শুনলে আপনার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যাবে। এটা কোনো মনগড়া গল্প নয়, এটা আমার দেখা এক বিভীষিকাময় বাস্তবতার বর্ণনা।
বাংলাদেশের নিভৃত এক গ্রামে আমার বাস। আমি কাইসার, ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্টে বড় হয়েছি। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে বৃদ্ধা মা আর ছোট ভাইটার দায়িত্ব ছিল আমার কাঁধে। কাপড়ের ব্যবসা করে যেটুকু আয় করতাম, তাতে কোনোমতে সংসার চলত। তখন জীবনটা ছিল খুব সাদামাটা, বিয়ের আগে তো ব্যবসা বলতে কিছুই ছিল না, শুধু সততা আর পরিশ্রমই ছিল আমার সম্বল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আল্লার রহমতে আমার ব্যবসার মোড় ঘুরে গেল। মিষ্টির দোকান, মুদি দোকান—একের পর এক ব্যবসায় বরকত এল। যে ভাড়া বাসায় এক সময় থাকতাম, সেখানে নিজের বড় বাড়ি হলো। বাড়িতে খামারে গবাদি পশু ভরে গেল। আমার শান্তি দেখে হয়তো কারো চোখ লেগেছিল, যা আমার পরিবারের ওপর নেমে এল এক অভিশপ্ত ছায়া হয়ে।
সেদিন ছিল এক গুমোট সন্ধ্যা, খাল থেকে গরু গোসল করিয়ে ফিরছি। গরুগুলো কেন জানি গোয়ালঘরে ঢুকতেই চাইছিল না, তাদের চোখেমুখে ছিল অস্বাভাবিক আতঙ্ক। অনেক কষ্টে ভেতরে নেওয়ার পর, মাঝরাতে গোয়ালঘর থেকে ভেসে এল এক গুমট গোঙানির শব্দ। টর্চ জ্বেলে ভেতরে ঢুকতেই দেখি, গরুগুলো ভয়ার্ত চোখে এক কোণে বসে আছে, আর তার পাশে পড়ে আছে একটি গরুর ধড়—মাথাটা নেই! শরীর থেকে মাথাটি কে বা কারা ছিঁড়ে আলাদা করে ফেলেছে, অথচ গোয়ালঘর ছিল ভেতর থেকে বন্ধ। পরদিন নদীর ঘাটে শরীর ধুতে নামতেই এক হিমশীতল হাত যেন আমার গোড়ালি টেনে ধরে জলের অতলে নিয়ে যেতে চাইল। কোনোমতে প্রাণে বেঁচে ফিরলাম, কিন্তু সেই রাতটি ছিল চরম। বাজার থেকে ফেরার পথে বাগানের অন্ধকারে দেখলাম এক অশরীরী কালো অবয়ব, যা আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। মাছের ঝোলা ফেলে কোনোমতে দৌড়ে উঠানে এসে দেখি, আমার প্রিয় ছাগলটা একইভাবে মাথা ছাড়া পড়ে আছে! সেই অবয়বটি তখনও দূরে দাঁড়িয়ে আমার দিকে চেয়ে আছে।
আমার শরীর দিন দিন শুকিয়ে কাঠি হয়ে গেল। ব্যবসা লাটে উঠল, গবাদি পশু মারা গেল, আর আমি মৃত্যুর দোরগোড়ায় পৌঁছে গেলাম। ডাক্তার-কবিরাজ সব ব্যর্থ। শেষে এক বুজুর্গ কবিরাজ বাড়িতে এসে বাড়ির কোণায় সেই পুরোনো সুপারি গাছটির দিকে আঙুল তুলে বললেন, "এই গাছটিই তোমাদের ধ্বংসের কারণ, একে কালজাদুর মাধ্যমে বন্দি করে রাখা হয়েছে!" মাটির নিচ থেকে যখন তুকতাক ও হাড়ের পুটুলি বেরিয়ে এল, তখন মুখোশ খুলে পড়ল আমার আপন খালতো ভাইয়ের। যে মানুষটি ছিল আমার সুখের সাথি, সেই হিংসার বশবর্তী হয়ে কুফরি কালামের মাধ্যমে আমাদের তিলে তিলে মারছিল। কবিরাজ সেই কুফরি কালাম নষ্ট করে আমাকে এবং আমার পরিবারকে সেই অভিশপ্ত ছায়া থেকে মুক্ত করলেন। সেই জাদুর প্রভাব কেটে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই খবর পেলাম, আমার সেই খালতো ভাইটি তার নিজের বাড়িতেই এক রহস্যময় পরিস্থিতিতে মারা গেছে। আজ আমি সুস্থ, কিন্তু সেই অভিশপ্ত সুপারি গাছ আর সেই রাতের স্মৃতি আজও আমাকে তাড়া করে ফেরে। হিংসা যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা আমি আমার জীবন দিয়ে বুঝেছি। আবিদ ভাই, মানুষের মুখোশের আড়ালে যে কত বড় শয়তান লুকিয়ে থাকে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারবেন না।
সবশেষে এটাই বলব, মানুষের প্রতি বিশ্বাস রাখা ভালো, কিন্তু সাবধান থাকাটাও জরুরি। আপনার চ্যানেলের দর্শকদের এই গল্পটা শোনাবেন, যাতে তারা বুঝতে পারে—ভয় কেবল অশরীরী কোনো কিছুতে নয়, ভয় মানুষের মনের ভেতরেও বাস করে।
ভালো থাকবেন, আবিদ ভাই। আল্লাহ হাফেজ।" আমাদের মাঝে এমন অনেকে আছেন যারা বিশ্বাস করেন যে, অশরীরী কোনো কিছু বা অলৌকিক কোনো শক্তি আমাদের চারপাশে সবসময় ওত পেতে থাকে। আজকের ভিডিওর গল্পটি কাইসারের জীবনের এক নিদারুণ বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা—যেখানে রক্তের সম্পর্কের আড়ালে থাকা এক কুচক্রী মানুষ কালাজাদুর মাধ্যমে একটি হাসিখুশি পরিবারকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। 😱
আপনার জীবনে কি এমন কোনো ভয়ংকর বা রহস্যময় ঘটনা ঘটেছে যা আজও আপনাকে শিউরে তোলে? হয়তো কোনো ছায়া, কোনো অদ্ভুত ডাক বা ব্যাখ্যাতীত কোনো অশুভ ইঙ্গিত? আপনাদের জীবনের সেই রোমাঞ্চকর বা ভুতুড়ে অভিজ্ঞতাগুলো নিচে কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে শেয়ার করুন। আপনাদের পাঠানো সেরা গল্পগুলো আমরা খুব শীঘ্রই আমাদের চ্যানেলের পরবর্তী পর্বে তুলে ধরব! 🎙️📖
আপনার পাঠানো প্রতিটি গল্প আমাদের কাছে মূল্যবান, তাই নির্দ্বিধায় লিখে ফেলুন আপনার সাথে ঘটে যাওয়া সেই অদ্ভুত ঘটনাটি। 👇
#ভয়েররাজ্য