12/06/2026
৭১ এর যুদ্ধপূর্ব বাংলাদেশে ১৮৫ জন সিএসপি🇧🇩 অফিসার ছিল (এখনকার বিসিএস এডমিন ক্যাডারদের পূর্বসূরী)। সারা পাকিস্তান থেকে প্রতিযোগিতামুলক পরীক্ষার মাধ্যমে অতি ভাগ্যবান ও মেধাবীরাই সিএসপি হতে পারতেন। তাদের মধ্যে মাত্র ১৩ জন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বাকি সংখ্যক সিএসপিকে উপেক্ষা করার হিম্মত সরকারের ছিল না। প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেও তাদের দরকার ছিল। কিন্তু নয়া দেশের জন্য প্রয়োজনীয় বাকি অফিসার আসবে কোথেকে ??
তখন এই সদ্য মৃত তোফায়েল আহমেদ এক কাজ করলেন। কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ ছাড়া ৩৫০ জন ' মুক্তিযোদ্ধা ' ছাএলীগ কর্মীকে কোন নিয়োগ পরীক্ষা ব্যতিরেকে সরাসরি প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন। এরা যখন নিপায় (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন অব পাবলিক অ্যাডমিনস্ট্রেশন) ট্রেনিং নিতে গেল, এদের পরিচয় দেওয়ার সময় জানা গেল, প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হওয়ার মত শিক্ষাগত যোগ্যতাই এদের নাই। এদের যোগ্যতা একটাই- ওরা তোফায়েল আহমেদ বা আব্দুর রাজ্জাকের কর্মী।
এটা জানাজানি হওয়ার পরে যখন প্রবল সমালোচনা শুরু হইলো, তখন এদের নিয়োগ বাতিল করে পিএসসি গঠন করা হয়। সেই পিএসসির চেয়ারম্যান করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একিউএম বজলুল করিমকে। ইন্টারেস্টিংলি, তোফায়েল আহমেদও মৃত্তিকা বিজ্ঞানেরই ছাত্র ছিলেন।
পরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্য থেকে প্রথমে ৩৫০ জন এবং পরে তা বাড়িয়ে ৪৫০ জন অফিসার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। সেটাও কোন লিখিত পরীক্ষা ছাড়া শুধুমাত্র ১০০ নাম্বারের মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে!
১৯৭৩ সালের নিয়োগ পাওয়া এই বিসিএস ক্যাডাররা তোফায়েল-রাজ্জাক ক্যাডার হিসাবে পরিচিত। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ১৯৯৬ সালে ন্যাক্কারজনকভাবে সরকারী অফিসারেরা সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দেয়, যা 'জনতার মঞ্চ' নামে পরিচিত। সেসব অফিসারদের অধিকাংশই ছিল তোফায়েল-রাজ্জাক ক্যাডারের লোক! শেখ হাসিনার আমলে বিতর্কিত রাতের নির্বাচন করা সিইসি নুরুল হুদাও সেই ঐতিহাসিক 'তোফায়েল ক্যাডারের' লোক। 🇧🇩
তথ্যসূত্র: মূলধারা বাংলাদেশ❤️