17/10/2025
বিয়ে আর ব্যভিচারের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, বিয়ে ঘোষণা দিয়ে উৎসবের মতো আয়োজন করে হয় আর ব্যভিচার চলে অতি সংগোপনে। বিয়েতে আনন্দ উৎসবের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যেমন মুসনাদ আহমদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي بَلْجٍ، قَالَ:، ، قُلْتُ لِمُحَمَّدِ بْنِ حَاطِبٍ: إِنِّي قَدْ تَزَوَّجْتُ امْرَأَتَيْنِ، لَمْ يُضْرَبْ عَلَيَّ بِدُفٍّ، قَالَ بِئْسَمَا صَنَعْتَ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ فَصْلَ مَا بَيْنَ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ الصَّوْتُ يَعْنِي الضَّرْبَ بِالدُّفِّ
আবু বালজ ফাজারী (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে হাতিবকে বললাম: আমি দুটি মহিলাকে বিয়ে করেছি, কিন্তু আমার জন্য কোন দফ বাজায়নি। তিনি বললেন: তুমি কত খারাপ কাজ করেছ। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যা হালাল এবং যা হারাম তার মধ্যে পার্থক্য হল শব্দ, অর্থাৎ দফ বাজানোর আওয়াজ। (মুসনাদ আহমদ, ১৮২৮০)
বিবাহের সাথে সামাজিক নিরাপত্তা, দায়িত্ব, স্বীকৃতি আবশ্যক হয়। একটি সুন্দর সমাজ গঠনে বিবাহের ভূমিকা অসীম। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে সামাজিক নিরাপত্তা যেমন থাকে না তেমনি সেই মেয়ের দায়িত্ব কেউ নেয় না আবার সন্তান হলে তার স্বীকৃতিও মিলে না। এজন্য বিবাহ হতে হবে সবাইকে জানিয়ে আনন্দ উৎসব করে। আমাদের বিয়ে আর জানাযা যেন এক না হয়ে যায়।
বহু বিবাহ ইসলামে নির্দিষ্ট অবস্থার প্রেক্ষিতে জায়েজ করা হয়েছে। হিজরতের মাত্র তিন বছরের মধ্যে বড় বড় দুইটি যুদ্ধ সংগঠিত হয়। সেখানে ৮০ এর অধিক সাহাবী (বদর ১৪ জন ও উহুদ ৭০ জন) শহিদ হন। মুষ্ঠিমেয় মুসলমাদের মাঝে বিশাল সংখ্যক নারী বিধবা এবং অসংখ্য শিশু এতিম হয়ে যায়। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা এতিম শিশুদের লালন-পালন এবং বিধবা নারীদের দায়িত্ব নিতে নাযিল করেন-
"এবং ইয়াতীমদেরকে তাদের ধন-সম্পদ প্রদান কর এবং ভালোর সাথে মন্দের বদল করো না এবং তাদের মাল নিজেদের মালের সঙ্গে মিশিয়ে গ্রাস করো না, নিশ্চয় এটা মহাপাপ। যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, (নারী) ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য হতে নিজেদের পছন্দমত দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার জনকে বিবাহ কর, কিন্তু যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে কিংবা তোমাদের অধীনস্থ দাসীকে; এটাই হবে অবিচার না করার কাছাকাছি।" (সূরা আন নিসা, ২-৩)
ইসলামের এমন একটি জনকল্যাণমূলক বিধানকে কিছু বিকৃতমনারা নিজেদের খাহেশাত পূরণের হাতিয়ার বানিয়েছে। রীতিমত মাসনা, সুলাসা, রুবায়ার ইন্ডাস্ট্রি বানিয়ে অনলাইনে ঘোষণা দেয়- ‘আমার সব ফ্লেবারের বউ আছে’। কাউকে ভালো না লাগলে তালাক দিয়ে আবার আরেকটা করে। আবার অনেকে জেলায় জেলায় বিয়ে করে রাখে। সাক্ষী দুইজন ছাড়া পৃথিবীর কেউ জানে না তারা স্বামী-স্ত্রী!
এক্সট্রিম বা বাড়াবাড়ি যারা করে তাদের মাঝেই ঝামেলা আছে। শাহবাগীরা সারাদিন নারী মুক্তির আন্দোলন করে রাতে কাজের মেয়ের গায়ে কেরসিন ঢেলে আগুন দেয় আর অতি ইসলামিষ্ট ভন্ডরা ওয়াজ করে এসে বউ পিটায়।
আরে ভাই আল্লাহ এক বিয়েতে শান্তি এবং বরকত রাখছেন যদি না হত তাহলে আদম (আ) এর জন্য একাধিক স্ত্রী বানাতেন।
fans
#বহুবিয়ে