11/04/2026
নিউজ ওয়ার্ল্ড বাংলা
মহাসমুদ্রে সফল অবতরণ: ১০ দিনের ঐতিহাসিক চন্দ্র অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২ নভোচারীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ এপ্রিল, ২০২৬
স্যান ডিয়েগো, ক্যালিফোর্নিয়া: দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর মানুষের চন্দ্রাভিযানের এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। নাসার (NASA) ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ (Artemis II) মিশনের চার নভোচারী চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে আজ সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন [১.২.১, ১.২.৮]। শুক্রবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮:০৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর) ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগো উপকূলের অদূরে প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের বহনকারী ওরিয়ন (Orion) ক্যাপসুলটি অবতরণ বা 'স্প্ল্যাশডাউন' করে [১.১.১, ১.২.৭]।
অভিযানের মূল অর্জনসমূহ:
ঐতিহাসিক দূরত্ব: ১০ দিনের এই সফরে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল দূরে ভ্রমণ করেছেন, যা মানব ইতিহাসে কোনো মানুষের ভ্রমণের সবচেয়ে দূরবর্তী রেকর্ড [১.১.১, ১.৪.৩]।
চাঁদের 'ডার্ক সাইড': তারা চাঁদের এমন এক পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করেছেন যা পৃথিবী থেকে কখনোই দেখা যায় না [১.১.৯]।
সফল প্রত্যাবর্তন: ওরিয়ন মহাকাশযানটি ঘণ্টায় ৪,৫০০ মাইলেরও বেশি গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং চরম উত্তাপ সহ্য করে নিরাপদে সাগরে অবতরণ করে [১.৪.২]।
নভোচারীদের অবস্থা ও উদ্ধার তৎপরতা:
মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান (Reid Wiseman) নিশ্চিত করেছেন যে, তিনিসহ পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন চারজনই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন [১.২.৫, ১.২.৭]। অবতরণের পর মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাদের উদ্ধার করে ইউএসএস জন পি. মার্থা (USS John P. Murtha) জাহাজে নিয়ে যায় [১.২.১, ১.২.৮]।
কেন এই মিশন গুরুত্বপূর্ণ?
১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর এই প্রথম কোনো মানুষ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ বা লোয়ার আর্থ অরবিটের বাইরে পা রাখল [১.২.৫, ১.৪.১]। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শুরু হওয়া এই সফর মূলত ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষের স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার এবং পরবর্তীতে মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতির একটি পরীক্ষামূলক ধাপ [১.৩.৪, ১.৩.৭, ১.৪.৯]।
এই সফল প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে মহাকাশ বিজ্ঞানে আমেরিকা তথা বিশ্বের এক নতুন জয়যাত্রা শুরু হলো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা [১.২.২, ১.২.১১]।
#আর্টেমিস২ #মহাকাশবিজ্ঞান #নিউজওয়ার্ল্ডবাংলা