04/01/2026
A EDUCATIONAL POST
PLEASE DON’T SKIP 🖤❤️🩹
আমি মনে করি ছাত্র জীবনের সবচেয়ে রঙিন এবং রোমাঞ্চকর সময় হলো কেজি, ১ম ও ২য় শ্রেণি। কারণ ছাত্র জীবনের শুরি নার্সারি দিয়ে। তারপর প্লে & কেজি।
তে প্রথম ২ বছর আমাদের বয়সও কম থাকে এবং শিক্ষা জীবনের শুরু।
১ম ২ বছর আমাদের এই শিক্ষা জীবনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। তারপর কেজি, ১ম ও ২য় শ্রেণি। এই সময় একটু ভালোভাবে পড়ালেখা করলে সময়টা সুন্দরভাবে কাটে।
কিন্তু জীবনে ১ম ধাপ শুরু হয় ৩য় শ্রেণি থেকে। এই সময় বাংলা, গণিত, ইংরেজি, নিজ ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এই বিষয়গুলোর পাশাপাশি আরও যুক্ত হয় বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে পড়াশোনার চাপ ও বাড়ে। অনেকে এই বয়স থেকেই কিছিটা দূর্বল হয়ে পড়ে।
এরপর ৩য়-৫ম শ্রেণি পর্যন্ত এভাবেই চলে।
৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে পড়ালেখা আরও বাড়ে বাংলাতে নতুন নতুন ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার, গণিতে পাটিগণিত এর পাশাপাশি বীজগণিত, জ্যামিতি। ৬ষ্ঠ - ৮ম শ্রেণী এর মধ্যে বিষয় গুলো আরও জটিল হয়ে পড়ে। আনেকে এইসময়ে পিছিয়ে পড়ে।
তারপর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নবম ও দশম শ্রেণি। এখন সময় বিভাগ সিলেক্ট করার। অনেকেই ভবিষ্যতে কী হবে না হবে না ভেবে হুচুকেই সাইন্স নিয়ে নেয়। আগে আসা যাক সাধারণ বিষয়গুলোর উপর। এই যে আমরা সেই প্রথম নার্সারি থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত যা যা শিখেছি তাই নিয়ে তৈরি হয় নতুন বই। বাংলা বিষয়ে নতুন ব্যাকরণ, ইংরেজিতে নতুন গ্রামার, সাধারণ গণিতে নতুন নতুন অংক। যারা নিম্নোক্ত শ্রেণিগুলোতে ফাঁকি দিয়েছে কিংবা পিছিয়ে পড়েছে তারা, এই সময়ে বুঝে উঠতে পারে না কি করবে। অনেকে তো কিছুই পারে না।
এবার আসা যাক সাইন্সের 4 subject এর বিষয়ে। কারণ বেশিরভাগ মানুষই সাইন্স নেই।
তো সর্বপ্রথম বায়োলজি বা জীববিজ্ঞান । যাদের মেয়েটা ভালো কোন কিছু মুখস্ত করতে পারে খুব সহজে এবং তা ধরে রাখতে পারে তারাই এই বিষয়ে ভালো করতে পারে। কারণ এখানে বেশিরভাগ বিষয়েই মুখস্ত করার।
তারপরে ফিজিক্স বা পদার্থবিজ্ঞান। পদার্থ বিজ্ঞানের বেশিরভাগ বিষয়বস্তুই বোঝার। যাদের বোঝার ক্ষমতা ভালো তারা এখানে ভালো রেজাল্ট করতে পারবে।
কেমিস্ট্রি বা রসায়ন। এখানকার বিষয়বস্তুগুলাও অনেকটা বোঝার মুখস্ত করার।
উচ্চতার গণিত বা হায়ার ম্যাথ অথবা কৃষি শিক্ষা। কৃষি শিক্ষার বিষয়ে আমার তেমন ধারণা নেই। উচ্চতর গণিতের কথাই বলি। আমার দেখাও বেশিরভাগ মানুষ বলা যায় ৯৫ শতাংশ মানুষ যারা সাইন্স নেই। এই ৯৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে 90% মানুষই হায়ার ম্যাথ বা উচ্চতর গণিত নেই। যাদের মেধা ভালো, খুব সহজে কোন কিছু বুঝতে পারে জ্যামিতি এবং বীজগণিত পারদক্ষ তারা এখানে টিকে থাকতে পারে এবং ভালো ফলাফল করতে পারে।
তারপরে আসে SSC বা মেট্রিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারলেই ভালো কলেজ। সুন্দর জীবনের কাছাকাছি পর্যায়ে। আর এখানে যদি ফলাফল খারাপ হয়ে যায় তাহলে ঘুরে দাঁড়ানো অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।
তারপর একাদশ-দাদশ শ্রেণি। এ সময় কলেজ। অনেকে এ সময় কোন কারনে কোন খারাপ দিকে চলে যাই। তো যাই হোক তারপর আসে জীবনের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ HSC বা ইন্টার পরীক্ষা।
যারা এখানে ভালো ফলাফল করে ফেলে তারা ভালো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন নাই। কিন্তু যাদের ফলাফল খারাপ হয়, যদি তাদের পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো না হয় তবে তারা কোনো ভালো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে পারেনা বললেই চলে। কিন্তু যাদের পারিবারিক অর্থনীতিক অবস্থা বেশ ভালো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পড়ে হয়তোবা জীবনকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে নেই।
এবার বলা যাক ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে যারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করার জন্য ক্যাডেট কলেজে এডমিশন নেই। যদি এডমিশন হয়ে যায় তাহলে তো ভালো না হলে সাধারণ শিক্ষাজীবন।
যারা ক্যাডেট কলেজ এডমিশন পেয়ে গেছে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্য তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। সেখানে পড়াশোনার খুব একটা চাপ নেই যতদূর শুনেছি। তবে কঠোর নিয়মের মধ্যে চলতে হয়।
এবার যারা মেডিকেল পড়ে। যদি কেউ প্যারামেডিকেল হয় তবে চার থেকে সাড়ে চার বছরের মধ্যেই তার শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারে। তবে সে যদি কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে যেমন অর্থপেডিক বা সার্জারি ইত্যাদি বিষয়ে যদি পড়ালেখা করতে যাই তবে ৫ থেকে ৬ বছর সময় লেগে যায়। এবং সম্পূর্ণভাবে একজন ভালো,দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ডাক্তার হতে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর সময় লেগে যায়।
যারা জীবনের এতোগুলো পর্যায়ে পার করে নিজেকে সুন্দর ভাবে ধরে রাখতে পারে তাদের জন্য রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। কিন্তু যারা মাঝ পথে হাল ছেড়ে দেয় তাদের জীবনটা গোছানো হয় না।
আপনারা যারা এই পোস্টটি এতক্ষণ পর্যন্ত পড়েছেন তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি আমার ব্যক্তিগত মত এখানে প্রকাশ করলাম। এখানে কোথাও কোন ভুল যেতেই পারে। আপনি ও আপনার ব্যক্তিগত মত কমেন্ট বক্সে প্রকাশ করতে পারেন।