10/04/2026
"১০ টি ফেরারি, ২০ টি হীরার ঘড়ি, দু’টো প্লেন চাইলেই কিনতে পারি। কিন্তু কেন কিনতে চাইবো আমি? আমাকে ওইসব টানে না। এর চেয়ে জীবনে যা পেয়েছি তার কিছুটা অন্যদের দিতে পারলেই আমি বরং খুঁজে পাই পরম তৃপ্তি"
উপরের কথাগুলো নিশ্চয়ই শুনেছেন। বুঝতে পেরেছেন তো কথাগুলো কার! জি ঠিক ধরেছেন কথাগুলো সেনেগালের ফুটবলার সাদিও মানের।
২০০২ সালে সেনেগাল প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে। সেবারই আগের বিশ্বকাপ জয়ী হেনরি, জিদানদের ফ্রান্সকে হারিয়ে দিল তারা।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেনেগালের সেই ঐতিহাসিক জয় খুব কাছ থেকেই দেখেছিলেন মানে। এই জয় মানের ছোট্ট মনে আঁচড় কাটে। মানে সেদিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন বড় হয়ে হবেন ফুটবলার।
মানের পরিবারের আর্থিক অবস্থা একদমই ভালো ছিল না। মানেকে স্কুলে পাঠানোর অর্থ পরিবারের কাছে ছিলো না। তিন বছর বয়সী মানের পায়ে সবসময় থাকতো ফুটবল। রাস্তায় সমবয়সীদের দেখলেই মানে বেরিয়ে যেতেন ফুটবল নিয়ে।
বাবা চেয়েছিলেন মানে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হোক। কিন্ত মানের মনে ছিল যে শুধুই ফুটবল। মানের ফুটবল শেখার যাবতীয় খরচ বহনের জন্য গ্রামের সবাই চাঁদা দিয়েছিল, তার চাচা বিক্রি করেছিলেন জমির ফসল।
সেনেগালের রাজধানী ডাকারে জেনারেশন ফুট নামের ফুটবল একাডেমিতে ভর্তির মাধ্যমে শুরু হয় মানের স্বপ্নের পথে ছুটে চলা। মানের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে একাডেমিতে ভর্তি করে নেন কোচ।
জেনারেশন ফুট থেকে ফরাসি ক্লাব মেজ,মেজ থেকে অস্ট্রিয়ান ক্লাব রেড বুল সাল্জবার্গ পেরিয়ে মানে চলে আসেন প্রিমিয়ার লিগে। সাউদাম্পটনের হয়ে নিয়মিত পারফর্ম করা মানেকে দলে ভেড়ায় প্রিমিয়ার লিগ জায়ান্ট দল লিভারপুল।
লিভারপুলে ক্যারিয়ারের সবথেকে স্বর্ণালি সময় কাটে মানের। মোহামেদ সালাহ এবং ব্রাজিলিয়ান কৌতিনহো, ফিরমিনোদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন বিধ্বংসী এক আক্রমণভাগের অংশ হয়ে পড়েন মানে।
লিভারপুলের হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ,চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ জিতেছেন একাধিক শিরোপা। জায়গা পেয়েছিলেন প্রিমিয়ার লিগের টিম অব দ্য ইয়ারে, যৌথভাবে জিতেছিলেন ঘরোয়া লীগের গোল্ডেন বুট। সেনেগালের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে গোল করার কৃতিত্বও রয়েছে মানে’র অর্জনের খাতায়।
জাতীয় দলেও কম যাননা মানে। সালাহর মিশরকে হারিয়ে জিতেছেন আফ্রিকান নেশন্স কাপ।ব্যক্তিগত জীবনে এতো সাফল্য খ্যাতি থাকার পরও মানে যেন সাদামাটা এক মানুষ। তার গ্রামের মানুষদের সহায়তা করেন সাধ্যমতো। আফ্রিকায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখতে চেষ্টা করেন সাদিও মানে।
এতো সাফল্য, অর্থকড়ির মাঝেও এক বিন্দু অহংকার দেখা যায় নি তার মাঝে। ভাঙা ডিসপ্লের একটি পুরনো ফোন আর সাদামাটা হাসিতেই যেন তুষ্ট মানে। অর্থের মোহ বা বিলাসিতার লোভ তো সবাইকে ছুঁতে পারে না।
বলতে বলতে অনেক বলে ফেলেছি। আজ যে মানের ৩৪তম জন্মজয়ন্তী। শুভ জন্মদিন সাদিও মানে।