14/04/2026
হাম একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ, যা সাধারণত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। বর্তমান সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা জরুরি। হাম হলে তাৎক্ষণিকভাবে যা করণীয়:
# # # **১. আইসোলেশন বা আলাদা রাখা**
হাম অত্যন্ত সংক্রামক। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে একটি আলাদা ঘরে রাখুন যাতে পরিবারের অন্য সদস্যরা, বিশেষ করে শিশু বা গর্ভবতী মহিলারা আক্রান্ত না হন। রোগীর ব্যবহৃত থালা-বাসন, তোয়ালে বা কাপড় আলাদা রাখা ভালো।
# # # **২. জ্বর ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ**
জ্বর কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী **প্যারাসিটামল** দেওয়া যেতে পারে। শরীর হালকা কুসুম গরম পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে মুছে দিন (স্পঞ্জিং)। **কখনোই শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যাসপিরিন (Aspirin) জাতীয় ওষুধ দেবেন না।**
# # # **৩. পানিশূন্যতা রোধ**
হামের সময় শরীরে পানিশূন্যতা হতে পারে। তাই রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের রস, স্যুপ, ডাবের পানি বা খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ানো উচিত। শিশু বুকের দুধ খেলে তা বন্ধ করা যাবে না।
# # # **৪. ভিটামিন-এ (Vitamin A)**
হামের জটিলতা এড়াতে এবং চোখের সুরক্ষায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন **ভিটামিন-এ ক্যাপসুল** খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়। এটি হামের তীব্রতা এবং নিউমোনিয়ার ঝুঁকি অনেকাংশ কমিয়ে দেয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি দ্রুত নিশ্চিত করুন।
# # # **৫. চোখের ও ত্বকের যত্ন**
* ঘর অন্ধকার বা হালকা আলোতে রাখুন, কারণ হামের সময় রোগীর চোখ আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।
* চোখে পিঁচুটি জমলে পরিষ্কার তুলা বা নরম কাপড় দিয়ে মুছে দিন।
* চুলকানি বা অস্বস্তি কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
# # # **কখন দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে?**
যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দেরি না করে ডাক্তার বা হাসপাতালে যান:
* শ্বাসকষ্ট হওয়া বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া।
* প্রবল জ্বর বা জ্বরের ঘোরে ভুল বকা।
* অত্যধিক ক্লান্তি বা শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়া।
* তীব্র কান ব্যথা বা ঘনঘন বমি।
* চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা ঝাপসা দেখা।
> **মনে রাখবেন:** প্রতিরোধই শ্রেষ্ঠ উপায়। যদি কেউ আগে হামের টিকা (MR Vaccine) না নিয়ে থাকেন, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে টিকা নেওয়া জরুরি। আপনার বর্তমান এলাকায় সংক্রমণ বেড়ে থাকলে শিশুদের বাড়ির বাইরে নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
>