Omar Faruk Madani

Omar Faruk Madani আসসালামু আলাইকুম! আমার প্রোফাইলে আপনাকে স্বাগতম, আশা করি আমার পেইজে ফলো করে পাশে থাকবেন! ইনশাআল্লাহ

13/08/2026

ইবলিস যখন হযরত আদম (আ.)-কে সেজদা করতে অস্বীকার করেছিল, তখন তো কোনো শয়তান ছিল না। তবে তাকে কুপ্ররোচনা দিল কে?

আমরা অনেক সময় ইবাদত করি, জিকির করি, তবুও গুনাহে লিপ্ত হই। আমরা শয়তানকে দোষ দিই, কিন্তু পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "শয়তানের কৌশল আসলে অত্যন্ত দুর্বল।" (সূরা নিসা: ৭৬)

তাহলে আসল শক্তিশালী শত্রু কে? সে হলো আমাদের ‘নফস’। এটি মানুষের ভেতরে থাকা এক টাইমবোমার মতো। ইবলিস যখন অহংকারবশত সেজদা করেনি, তখন তার নিজের নফসই তাকে ধোঁকা দিয়েছিল।

কুরআনের বহু আয়াতে নফসের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে:

"মানুষের নফস তাকে যে কুপ্ররোচনা দেয়, সে সম্পর্কে আমি অবগত।" (সূরা ক্বফ: আয়াত ১৬)

"যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে, জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।" (সূরা নাযিয়াত: আয়াত ৪০-৪১)

"নিশ্চয়ই নফস মন্দ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে।" (সূরা ইউসুফ: আয়াত ৫৩)

প্রাচীন যুগের লাত, উজ্জা বা মানাত নামক মূর্তিরা ধ্বংস হয়ে গেলেও একটি 'নকল উপাস্য' আজও মানুষের ভেতরে রয়ে গেছে। তা হলো মানুষের 'হাওয়া' বা কুপ্রবৃত্তি।

আল্লাহ বলেন, "তুমি কি তাকে দেখেছ, যে তার নফসের প্রবৃত্তিকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে?" (সূরা জাসিয়া: ২৩)

হাবিল-কাবিলের ঘটনায়ও দেখা যায়, কাবিলকে তার নফসই নিজের ভাইকে হত্যা করতে প্ররোচিত করেছিল। শয়তান কেবল মানুষকে ভুলিয়ে দেয়, কিন্তু নফস মানুষকে সরাসরি মন্দের দিকে টানে।

আমরা যখন আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল হই, তখন হৃদয়ে এক ধরনের আবরণ পড়ে যায়। এটি মানুষকে চরম হতাশা ও বিষণ্নতায় ডুবিয়ে দেয়।

আল্লাহ বলেন, "কখনো না, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে মরিচা (আবরণ) ধরিয়ে দিয়েছে।" (সূরা মুতাফফিফিন: ১৪)

মনে রাখবেন, আপনার সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা শয়তানের সাথে নয়, বরং নিজের 'নফস' বা কুপ্রবৃত্তির সাথে। শয়তান শুধু আপনাকে ভুলিয়ে দেয়, কিন্তু নফস আপনাকে গুনাহ করতে বাধ্য করে। তাই নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন, তবেই আপনি প্রকৃত সফল হতে পারবেন।
আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে আমাদের নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করার তৌফিক দান করুক! আমিন।

19/05/2026

قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاءُ وَتَنزِعُ الْمُلْكَ مِمَّن تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَاءُ ۖ بِيَدِكَ الْخَيْرُ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

​বলুন, হে আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাষ্ট্রক্ষমতা দান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা তুমি সম্মানিত কর আর যাকে ইচ্ছা তুমি অপমানিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।"



​مَن كَانَ يُرِيدُ الْعِزَّةَ فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعًا

​কেউ যদি সম্মান ও ক্ষমতা চায়, তবে (তার জানা উচিত) সমস্ত সম্মান ও ক্ষমতা তো আল্লাহরই।"

ফাতির ১০ আয়াত

২,​তাহাজ্জুদ বা বিতরের সালাতে যে 'দুআয়ে কুনুত' পড়া হয়, তার একটি বর্ণনায় আল্লাহর এই ক্ষমতার স্বীকৃতি রয়েছে:

​إِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ ، وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ

​নিশ্চয়ই তুমি যার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছ সে কখনো অপমানিত হয় না, আর তুমি যার সাথে শত্রুতা করেছ সে কখনো সম্মানিত (বিজয়ী) হতে পারে না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি বরকতময় ও সুউচ্চ।" (সুনানে আবু দাউদ, ১৪২৫)

​হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা গর্ব ও অহংকারকে তাঁর চাদর হিসেবে উল্লেখ করে বান্দাকে বিনয়ী হতে বলেছেন, কারণ বিনয়ই সম্মানের পথ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন:

​وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ

​অনুবাদ: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হয়, আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদা ও সম্মান বাড়িয়ে দেন।" (সহীহ মুসলিম, ২৫৮৮)

​সারকথা: মানুষের দেওয়া সম্মান সাময়িক, কিন্তু আল্লাহ তাআলা যাকে সম্মান দান করেন তাকে কেউ অপমানিত করতে পারে না। তাই প্রকৃত সম্মান লাভের একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর আনুগত্য ও তাকওয়া (আল্লাহভীতি)

কুরবানীর জরুরি ৬৬ টি মাসআলা!_____________________________________________১.কার উপর কুরবানী ওয়াজিব? উঃ জিলহজ্জ মাসের ১০ ত...
18/05/2026

কুরবানীর জরুরি ৬৬ টি মাসআলা!
_____________________________________________

১.কার উপর কুরবানী ওয়াজিব?
উঃ জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে১২ তারিখ
সূর্যাস্ত পর্যন্ত কারো কাছে যদি নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে ৭ঃ৫ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা থাকে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।

২.নিছাবের মেয়াদ কত দিন?
উঃ ৩ দিন, জিলহজ্জ মাসের ১০,১১ এবং ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

৩. তিন দিনের মধ্যে কোন দিন কুরবানী করা উত্তম?
উঃ ১০ তারিখে প্রথম দিন।

৪.যদি নাবালক শিশুর নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ?
উঃ না।

৫.বালেক সুস্থ মস্তিষ্ক না, তবে নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে, তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ?
উঃ- না

৬.যদি নাবালেক শিশুর নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে এর পক্ষে থেকে কুরবানী দেওয়া কি?
উঃ মুস্তাহাব, ওয়াজিব না।

৭.দরিদ্র লোকের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?
উঃ- না, তবে যদি কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে
তাহলে সে পশু কুরবানী করা ওয়াজিব।

৮.কেউ যদি কুরবানির দিন গুলোতে কুরবানির দিতে না পারে, তার নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে, কোন সমস্যায় দিতে পারে নি তাহলে কি করবে?

উঃ-একটা ছাগল যে কুরবানীর উপযুক্ত সে ছাগলের সমপরিমাণ টাকা সদকা করে দিতে হবে, এটা হলো যারা পশু ক্রয় করতে পারেনি তাদের জন্য।
কিন্তু যারা পশু কিনেছেন কিন্তু তিন দিনের মাঝে কুরবানী দিতে পারেন নি, তার জন্য করণীয় হলো সে পশু সদকা করে দেওয়া।

আবার যদি কেউ তিন দিন পর জবাই করে ফেলে তাহলে সে ঐ পশুর গোশত ওজন করবে, তারপর যদি ঐ পশু ক্রয়ের টাকা থেকে কম হয় তাহলে গোশত সহ
যতো টাকার গোশত কম হয়েছে পুরো টাই সদকা করতে হবে। ধরনে আপনি ২০ হাজার দিয়ে কিনেছেন ওজন দিয়ে দেখলেন ১৮ হাজার টাকার গোশত হয়েছে
গোশতের আরও ২ হাজার টাকা সদকা করতে হবে।

৯.প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে?
উঃ যে এলাকায় জুমার নামাজ,এবং ঈদের নামাজ ওয়াজিব সে এলাকায় ঈদের নামাজের আগে কুরবানী করা জায়েজ নেই। তবে কোন প্রকার দুর্ঘটনা ঘটে গেলে
যদি ঈদের নামাজ না পড়া যায় তাহলে করনীয় হলো সূর্য মধ্যম আকাশ অতিক্রম করার পর কুরবানী করা জায়েজ হবে।

১০.রাতে কুরবানী দিলে কি হবে?
উঃ ১০,১১ তারিখে রাতে দিলে হবে, তবে ১২ তারিখ রাতে দিলে হবে না।

১১.কোন কোন পশু দিয়ে কুরবানী দেওয়া জায়েজ?
উঃ- গরু,উট,মহিষ,দুম্বা, ছাগল এবং ভেড়া।

১২.পশুদের লিঙ্গ ভেদ করতে হবে কি?
উঃ- না, পুরুষ ও মহিলা উভয় দিয়ে হবে।

১৩.পশুর বয়স সীমা কত?
উঃ উট কম পক্ষে ৫ বছর,গরু মহিষ ২ বছর
ভেড়া, দুম্বা ছাগল ১ বছর।
ভেড়া এবং দুম্বা ১ বছর হয়নি তবে বলিষ্ঠ মনে হয়
যে এক বছর হয়েছে তাহলে এটা দিয়ে কুরবানী হবে।
তবে ছাগল ১ বছরের নিচে কোন ভাবেই হবে না।

১৪.শরীক সর্বোচ্চ কত জন হওয়া যাবে?
উঃ উট,গরু,মহিষে সর্বোচ্চ ৭ জন, কমে হলে সমস্যা নেই তবে একা দেওয়া উত্তম । ছাগল, দুম্বা, ভেড়া তে একজন।

১৫.গোশত ভাগে কম বেশি হলে?
উঃ- কারো কুরবানী সহীহ হবে না।

১৬. শরীকের মাঝে কেউ যদি গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানি দেয় তাহলে?

উঃ- কারো কুরবানী হবে না।

১৭.কুরবানীর পশুতে আকিকা দেওয়া যাবে?
উঃ- হ্যাঁ, তবে উট, গরু,এবং মহিষে।

১৮. শরীক দার দের মাঝে যদি কারো অধিকাংশ বা পুরো টাকা হারাম হয় তাহলে কি কুরবানী হবে?

উঃ- না না না! কারো কুরবানী হবে না।

১৯. গরু, মহিষ উট একা কুরবানীর নিয়তে কিনার পর, অন্য কাউকে কি শরীক করা যাবে?

উঃ- ধনী হলে পারবে অর্থাৎ যার উপর কুরবানী ওয়াজিব , কিন্তু গরিবের উপর কুরবানী ওয়াজিব না। সে যদি পশু কিনে ফেলে কুরবানীর নিয়তে, তাহলে শরীক করা যাবে না একাই দিতে হবে।

২০.কোন ধরনের পশু নির্বাচন করা উত্তম?
উঃ- রিষ্ট পুষ্ট, তাজা পশু নির্বাচন করা সুন্নত।

২১.যে পশু তিন পায়ে ভর করে চলে এমন পশু ধারা কি কুরবানী হবে?

উঃ- না

২২.রোগ্ন পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?
উঃ- না

২৩.দাঁত ছাড়া পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?
উঃ একটা দাত ও নেই এটা দ্বারা কুরবানী কোন ভাবেই হবে না ,অথবা কিছু আছে তবে ঘাস খেতে পারে না এমন পশু ধারাও কুরবানী হবে না।

২৪. শিং ছাড়া পশু দিয়ে কুরবানী হবে কি ?
উঃ জন্মগত যে পশুর শিং নেই সেটা ধারা হবে।
তবে পরবর্তীতে যেটা ভেঙ্গে যায়, আর তার ফলে মস্তিষ্কে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন পশু ধারা হবে না। তবে অর্ধেক হলেও হবে।

২৫.লেজ কাটা, কান কাটা পশু দিয়ে কুরবানি হবে কি?
উঃ যদি পশুর লেজ বা কান অর্ধেক বা তার বেশি কাটা হয় তাহলে সে পশু ধারা কুরবানী হবে না।
তবে অর্ধেকের কম হলে হবে।

২৬.অন্ধ পশু ধারা কুরবানী করা যাবে কি?
উঃ- না তবে যে পশুর এক চোখ ও অন্ধ সেটা দিয়েও হবে না।



২৭.কুরবানীর নিয়তে পশু ক্রয় করার পর, পশু হারিয়ে গেলে কুরবানী দাতা কি করবে?

উঃ- ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন।
কিন্তু গরিব যার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় এমন ব্যক্তি ক্রয় করতে হবে না,
তবে দ্বিতীয় পশু কিনার পরে যদি, প্রথম পশু ফিরে পাওয়া যায় তাহলে ধনী ব্যক্তি যেকোন একটা কুরবানী করলেই হবে, তবে দুটা করা উত্তম একটা করলেও হবে।

** আর যদি গরিব ব্যক্তি যদি হয়, তাহলে দুটাই দিতে হবে।
দুটাই দেওয়া তার উপর ওয়াজিব।

২৮.গর্ভবতী পশু কুরবানী করা কি জায়েজ আছে?
উঃ- হ্যা জায়েজ।

২৯.পশু জবাইয়ের পরে যদি বাচ্চা কে জীবিত পাওয়া যায় তাহলে কি করবে?
উঃ- বাচ্চা ও জবাই দিতে হবে।

৩০.জবাইয়ের আগ মুহূর্তে যদি পশু প্রসব অবস্থায় উপনীত হয় তখন করনীয় কি?

উঃ- সে পশু জবাই করা জায়েজ আছে, তবে মাকরূহ!

৩১.পশু ক্রয় করার পর যদি এমন কোন দোষ দেখা যায় যে দোষ গুলো থাকিলে কুরবানী হয় না তখন করনীয় কি?
উঃ- এই পশু ধারা কুরবানী হবে না।
তবে এখানে গরিব ব্যক্তির জন্য জায়েজ আছে
ধনী ব্যক্তির জন্য জায়েজ নয়।

৩২.আপনি কোন পশু ক্রয় করার সময় জিজ্ঞেস করলেন বয়স কত সে বললো ২ বছর যদি সেটার আসলে বয়স ২ বছর না হয় তখন কি করনীয় বা কুরবানী কি হবে?

উঃ- হ্যা হবে তবে যে বিক্রেতা মিথ্যা বলেছে তার গুনা হবে।

৩৩.পশু কোথায় জবাই করা উত্তম?
উঃ- যেখানে পরিবেশ দূষিত হওয়ার আশংকা কম থাকে।

৩৪. পশু কে জবাই করা উত্তম?
উত্তমঃ- নিজের পশু নিজে কুরবানী করা উত্তম।

৩৫.বন্ধা পশু ধারা কুরবানী হবে কি?
উঃ- হ্যা হবে ।

৩৬.অনেক সময় হুজুর জবাই করার পর দেখা যায় সম্পূর্ণ হয় নি আবার অন্য জন তরবারি হাতে নিয়ে
রগ বা শিরা কাটতে যায় এটা কি জায়েজ হবে?

উত্তরঃ- হ্যা জায়েজ আছে তবে উভয় ব্যক্তি বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার না বললে কুরবানী হবে না।
একজন যদি না বলে সেক্ষেত্রে ও কুরবানী বাতিল হয়ে যাবে।

৩৭. কুরবানীর পশু ধারা উপকৃত হওয়া যাবে কি?
উঃ না এটা কোন ভাবে জায়েজ নেই।

৩৮.কুরবানীর পশু ধারা যদি আপনি হাল চাষ করে ফেলেন সেক্ষেত্রে করনীয় কি?
উঃ অন্য পশু ধারা করলে যে পারিশ্রমিক আসত সে পরিমান টাকা সদকা করে দেওয়া।

৩৯.কুরবানির পশুর,দুধ পান করা যাবে কি?
উঃ- না

৪০. যদি পশু জবায়ের আগে মনে হয় দুধ দহন না করলে পশুর কষ্ট হবে তাহলে করনীয় কি?

উঃ- সে দুধ দহন করে সদকা করে দিতে হবে.
ভুলে খেয়ে ফেললে তখন যে পরিমাণ পান করেছেন সে পরিমাণ অর্থ সদকা করতে হবে।

৪১.পশু ক্রয় করার পর শরীক মারা গেল তখন কি করবেন?

উঃ- তার ওয়ারিশ রা যদি বলে কুরবানী করেন তাহলে
করতে পারবেন, আর যদি বলে না করতে তখন পারবেন না তাহলে টাকা দিয়ে দিতে হবে।
তবে চাইলে পরবর্তীতে আরেক জনকে শরীক করতে পারবেন।

৪২.জবাইয়ের আগে পশু বাচ্চা দিলে কি করবেন?

উঃ- ঐ বাচ্চা জীবিত সদকা করে দিতে হবে।
সদকা না করলে পশুর সাথে জবাই করতে হবে।
এখানে জবাই করা বাচ্চার গোশত সদকা করে দিতে হবে, আপনি খেতে পারবেন না।

৪৩.মৃত্যু ব্যক্তির পক্ষ থেকে কি কুরবানী করা যাবে?

উঃ- হ্যা করা যাবে, তবে ওসিয়ত করে গেলে গোশত সদকা করে দিতে হবে। ওসিয়ত না করলে আপনি খেতে পারবেন।

৪৪.তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত রাখা যাবে?
উঃ- হ্যা রাখা যাবে যতো দিন ইচ্ছে!

৪৫.অনুমান করে বন্টন করা কি জায়েজ আছে?
উঃ- না, পূর্ণ ওজন করে ভাগ করতে হবে।

৪৬. তিনের এক অংশ গরীব কে দেওয়া, যদি সেটা না দেওয়া হয় তাহলে কি কুরবানী হবে? (আমরা যেটা কে সমাজের গোশত বলি)
উঃ- হ্যা হবে, তবে সেটা বড় কৃপণতার পরিচয়।

৪৭.গোশত চর্বি বিক্রি করা যাবে কি?
উঃ- না।

৪৮.জবাইকারী বা কসাই কে গোশত দিয়ে পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে কি?

উঃ না টাকা দিতে হবে, তবে পরে হাদিয়া হিসেবে গোশত দিতে পারবেন আগে পারিশ্রমিক দিতে হবে।

৪৯. জবাই করার অস্র কেমন হতে হবে?
উঃ দাড়ালো উত্তম।

৫০. জবাইয়ের কত সময় পর চামড়া আলাদা করা যাবে?
উঃ-পশু নিস্তেজ হওয়ার পর ।

৫১.এক পশু কে অন্য পশুর সামনে জবাই করা যাবে কি?

উঃ- যাবে, তবে ঠিক না, নবী কারীম সাঃ নিষেধ করেছেন।

৫২.কুরবানীর গোশত অন্য র্ধমের ব্যক্তি কে দেওয়া যাবে কি ?
উঃ- হ্যা তাতে কোন সমস্যা নেই।

৫৩.পশু মারা গেলে অথবা ছিনতাই হয়ে গেলে কি করনীয়?
উঃ- ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন।
গরিব হলে লাগবে না।

৫৪.মুসাফির এর উপর কুরবানী করা কি ওয়াজিব?
উঃ না।

৫৫.কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করলে কি করনীয়?

উঃ- ঐ ব্যক্তি থেকে অনুমতি নিতে হবে।

৫৬.কুরবানীর গোশত খাওয়া কি?
উঃ- মুস্তাহাব, না খেলেও গুনা হবে না। তবে খাওয়া উত্তম।

৫৭.কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তি যদি ঋণ নিয়ে কুরবানী করে কুরবানী হবে কি?
উঃ হবে তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে করলে হবে না।

৫৮.হাজীরা যদি মুসাফির থাকে তখন তাদের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?
উঃ- না।

৫৯.পাগল পশু ধারা কুরবানী কি হবে?
উঃ- না।

৬০.নবী কারীম সাঃ এর পক্ষ থেকে কুরবানী করা কি?
উঃ- উত্তম সামার্থ্যবান দের জন্য।
এটার গোশত সবাই খেতে পারবে।

৬১.খাসি কৃত পশু ধারা কুরবানী করা যাবে কি?
উঃ- হ্যা

৬২.বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির করনীয় কি?
উঃ- উনার পক্ষ থেকে দেশে কুরবানী দিলেও হবে।

৬৩.পশুর চামড়া কি নিজে ব্যবহার করা যাবে?
উঃ- হ্যা,তবে বিক্রি করলে টাকা সদকা করতে হবে।

৬৪.জবাই কারী কে পারিশ্রমিক দিতে হবে কি?
উঃ উত্তম হাদিয়া দেওয়া।

৬৫.কুরবানীর দিনে মুরগী হাঁস জবাই করা যাবে কি?
উঃ- যাবে, তবে কুরবানীর নিয়তে করা যাবে না।

৬৬. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ হতে কুরবানী করা যাবে কি?
উঃ- হ্যা যাবে।

15/05/2026

জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল সম্পর্কে বয়ান।

​وَالْفَجْرِ ﴿١﴾ وَلَيَالٍ عَشْرٍ ﴿٢﴾

শপথ ভোরের, এবং দশ রাতের। (ফজর: ১-২)

​অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এখানে 'দশ রাত' বলতে জিলহজ্জের প্রথম ১০ রাতকেই বোঝানো হয়েছে।

২,​রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দিনগুলোতে ইবাদত করাকে বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।

​مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ (يَعْنِي أَيَّامَ الْعَشْرِ)

আল্লাহর নিকট জিলহজ্জের এই ১০ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো দিনের আমল নেই। (সহীহ বুখারী: ৯৬৯)

​أَفْضَلُ أَيَّامِ الدُّنْيَا أَيَّامُ الْعَشْرِ

দুনিয়ার দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জিলহজ্জের (প্রথম) দশ দিন।" ( ইবনে হিব্বান: ৩৮৫৩)

​৩. রাসূল (সা.) বলেছেন এই দিনগুলোতে তোমরা বেশি বেশি জিকির কর,

فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنَ التَّهْلِيلِ وَالتَّكْبِيرِ وَالتَّحْمِيدِ

তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করো।

৪,রাসূলুল্লাহ (সা.) জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখতেন।

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجَّةِ

সুনানে আবু দাউদ, ২য় খণ্ড,
পৃষ্ঠা নং ৪৬২, হাদিস নং ২৪৩৭,

৫,​আরাফার দিনের রোজা:
৯ই জিলহজ্জের রোজা সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেন:

​صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ

আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।" (মুসলিম: ১১৬২)

৬,একটি রোজা ৭০ বছর জাহান্নাম থেকে মুক্ত

,عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ، بَعَّدَ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا"

​হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী কারীম (সা.)-কে বলতে শুনেছি— “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় (অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের পথ দূরে সরিয়ে দেবেন।”
সহিহ ​বুখারি ২৮৪০, সহিহ মুসলিম ১১৫৩

৭,রোজার সওয়ার সম্পর্কে

​عَنْ أَبِي قَتَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ:
«صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ، وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ»

​হযরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেছেন:
​"আরাফার দিনের (৯ই জিলহজ) রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।"
​সহীহ মুসলিম, ১১৬২ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন: ২৬৫৩)

৮,১০ দিনের আমল সম্পর্কে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَا مِنْ أَيَّامٍ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ أَنْ يُتَعَبَّدَ لَهُ فِيهَا مِنْ عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ، يَعْدِلُ صِيَامُ كُلِّ يَوْمٍ مِنْهَا بِصِيَامِ سَنَةٍ، وَقِيَامُ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْهَا بِقِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ"

​হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
"আল্লাহর নিকট জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের ইবাদত অন্য যেকোনো দিনের ইবাদতের চেয়ে বেশি প্রিয়। এর প্রতিটি দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমান এবং প্রতিটি রাতের ইবাদত শবে কদরের ইবাদতের সমান।"
( তিরমিজি,৭৫৮, ইবনে মাজাহ, ১৭২৮)

৯,চাঁদ দেখার পড় আমল

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا رَأَيْتُمْ هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ، وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ»

উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা:) বলেছেন:
​"যখন তোমরা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে পাও এবং তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে, সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।"
(সহিহ মুসলিম, ১৯৭৭)

১০,কোরবানি না দিয়েও কোরবানির সওয়াব

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى عِيدًا جَعَلَهُ اللَّهُ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ» قَالَ رَجُلٌ: أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلَّا أُضْحِيَّةً مُسْتَعَارَةً (وفي رواية: أُنْثَى مَنِيحَةً)، أَفَأُضَحِّي بِهَا؟ قَالَ: «لَا، وَلَكِنْ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِكَ، وَتُقَلِّمُ أَظْفَارَكَ، وَتَقُصُّ شَارِبَكَ، وَتَحْلِقُ عَانَتَكَ، فَذَلِكَ تَمَامُ أُضْحِيَّتِكَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ»

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন:
​"আমাকে আজহার দিন (১০ই জিলহজ) ঈদ পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আল্লাহ এই উম্মতের জন্য নির্ধারিত করেছেন।" এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমার কাছে অন্যের থেকে ধার নেওয়া পশু (বা শুধু দুধ পানের জন্য দেওয়া উটনী) ছাড়া আর কোনো পশু না থাকে, তবে আমি কি সেটিই কুরবানি দেব?" রাসূলুল্লাহ (সা:) বললেন, "না; বরং তুমি (ঈদের দিন) তোমার চুল কাটবে, নখ কাটবে, গোঁফ ছাঁটবে এবং নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করবে। আল্লাহর কাছে এটাই তোমার পূর্ণ কুরবানি হিসেবে গণ্য হবে।"
(আবু দাউদ: ২৭৮৯, সনাসায়ি: ৪৩৬৫)

১১, পশমে পশমে সওয়ার

عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ قَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هَذِهِ الأَضَاحِيُّ قَالَ ‏"‏ سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا فَمَا لَنَا فِيهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ بِكُلِّ شَعَرَةٍ حَسَنَةٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا فَالصُّوفُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ بِكُلِّ شَعَرَةٍ مِنَ الصُّوفِ حَسَنَةٌ ‏"‏ ‏.‏

যায়েদ ইবনে আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এই কোরবানী কী? তিনি বলেন, তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আ) এর সুন্নাত (ঐতিহ্য)। তারা পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! এতে আমাদের জন্য কী (সওয়াব) রয়েছে? তিনি বলেন, প্রতিটি পশমের পরিবর্তে পুন্য হবে (এদের পশম তো অনেক বেশি)? তিনি বলেন, লোমশ পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকী রয়েছে।(ইবনে মাজাহ ৩১২৭)

১২,ঈদগাহে না যাওয়ার নির্দেশ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ وَلَمْ يُضَحِّ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مُصَلاَّنَا

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানী করে না, সে যেন আমাদের ঈদের মাঠের কাছেও না আসে। (ইবনে মাজাহ ৩১২৩)

১৩,উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করা

تَكْبِيرُ التَّشْرِيقِ: «اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ»

​৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক বলা ওয়াজিব। তবে ১০ তারিখ ঈদগাহে যাওয়ার পথে উচ্চস্বরে এই তাকবির বলা বিশেষ সুন্নাত।

১৪,কুরবানী করা

عَنْ جُنْدَبِ بْنِ سُفْيَانَ الْبَجَلِيِّ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ فَلْيُعِدْ مَكَانَهَا أُخْرَى، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ ذَبَحَ حَتَّى صَلَّيْنَا فَلْيَذْبَحْ بِاسْمِ اللَّهِ»

​নবী করীম (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি নামাজের আগে জবেহ করল সে যেন তার বদলে আরেকটি জবেহ করে। আর যে আমাদের সাথে নামাজ পড়ার আগে জবেহ করেনি, সে যেন আল্লাহর নামে জবেহ করে। (সহিহ বুখারি: ৫৫৬২)

১৫,পথ পরিবর্তন করে যাতায়াত করা

عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ يَوْمُ عِيدٍ خَالَفَ الطَّرِيقَ»

​হযরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করীম (সা:) ঈদের দিন পথ পরিবর্তন করতেন (ভিন্ন পথে ফিরতেন)
(সহিহ বুখারি: ৯৮৬)

১৬,রক্ত প্রবাহিত করা সম্পর্কে

عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ، إِنَّهُ لَيَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَظْلَافِهَا، وَأَنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللَّهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ مِنَ الْأَرْضِ، فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًا»

হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:)বলেছেন:
​"কুরবানির দিনে রক্ত প্রবাহিত করার (পশু জবাই) চেয়ে আদম সন্তানের অন্য কোনো আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় নয়। কিয়ামতের দিন কুরবানির পশুটি তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে। আর কুরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে (কবুলিয়তের) একটি বিশেষ স্থানে পৌঁছে যায়। সুতরাং তোমরা অত্যন্ত আনন্দ ও তৃপ্ত মনে কুরবানি করো।"
( তিরমিজি: ১৪৯৩, ইবনে মাজাহ: ৩১২৬)

​১৭. কেন এই ১০ দিন এত গুরুত্বপূর্ণ?
​হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) তার 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন:

​وَالَّذِي يَظْهَرُ أَنَّ السَّبَبَ فِي امْتِيَازِ عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ لِمَكَانِ اجْتِمَاعِ أُمَّهَاتِ الْعِبَادَةِ فِيهِ، وَهِيَ الصَّلَاةُ وَالصِّيَامُ وَالصَّدَقَةُ وَالْحَجُّ، وَلَا يَتَأَتَّى ذَلِكَ فِي غَيْرِهِ

জিলহজ্জের দশ দিনের বিশেষত্বের প্রকাশ্য কারণ হলো, এতে ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলোর সমন্বয় ঘটেছে। অর্থাৎ সালাত, রোজা, সদকা ও হজ। যা বছরের অন্য কোনো সময় পাওয়া যায় না।"

#ফতোয়ার কিতাব থেকে দলিল:

১… #দলিল:

يُسْتَحَبُّ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ أَنْ لَا يُزِيلَ شَعْرَهُ وَلَا ظُفْرَهُ فِي الْعَشْرِ

যে ব্যক্তি কোরবানি দিতে চায়, তার জন্য জিলহজের ১০ দিনে চুল ও নখ না কাটা মোস্তাহাব।
ফাতাওয়ায়ে শামি (রদ্দুল মুহতার),
৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ৪৫৩,

২… #দলিল:

وَمِنْهَا صَوْمُ تِسْعَةِ أَيَّامٍ مِنْ أَوَّلِ ذِي الْحِجَّةِ

জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা মোস্তাহাব আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি,
১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা নং ২০১,

৩.… #দলিল:

تَكْبِيرُ التَّشْرِيقِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مَنْ يُصَلِّي الْفَرِيضَةَ

তাকবিরে তাশরিক (জিলহজের ৯-১৩ তারিখ) প্রত্যেক ফরজ নামাজির ওপর ওয়াজিব।
তাতারখানিয়া, ২য় খণ্ড,
পৃষ্ঠা নং ৪৬২,

আল্লাহ তা'য়ালা যেন আমাদের প্রত্যেককে জিলহজ মাসের ১০ দিনের দশটি আমল করার তৌফিক দান করেন।

Address

Kishoreganj
2300

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Omar Faruk Madani posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Omar Faruk Madani:

Shortcuts

Share

Category