20/05/2026
অভাব-দারিদ্র্য দূর করার জন্য ইসলামে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল ও দোয়া রয়েছে। তবে শুধু দোয়া করলেই হবে না—হালাল উপার্জন, ধৈর্য, পরিশ্রম ও আল্লাহর উপর ভরসাও খুব জরুরি।
অভাব-দারিদ্র্য দূর করার আমল
১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করা
নামাজ মানুষের জীবনে বরকত আনে। যে ব্যক্তি নামাজ ঠিক রাখে, আল্লাহ তার রিজিকের পথ সহজ করে দেন।
২. বেশি বেশি ইস্তিগফার পড়া
ইস্তিগফার রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম আমল।
পড়ুনঃ
“আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিও ওয়া আতুবু ইলাইহি”
হযরত নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে বলেছিলেনঃ
“তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন।”
— সূরা নূহ
৩. সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করা
অনেক আলেম বলেন, নিয়মিত রাতে Surah Al-Waqi'ah তিলাওয়াত করলে রিজিকে বরকত আসে।
৪. দরুদ শরীফ বেশি পড়া
দরুদ শরীফ দুশ্চিন্তা কমায় এবং রহমত এনে দেয়।
৫. সকাল-সন্ধ্যার দোয়া পড়া
বিশেষ করে এই দোয়াটি পড়তে পারেনঃ
“আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।”
অর্থঃ
“হে আল্লাহ! আপনার হালালের মাধ্যমে আমাকে হারাম থেকে বাঁচান এবং আপনার অনুগ্রহে অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্ত করুন।”
৬. দান-সদকা করা
অনেকে ভাবেন দান করলে টাকা কমে যাবে। কিন্তু ইসলামে বলা হয়েছে, দান সম্পদে বরকত বাড়ায়। সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব-মিসকিনকে সাহায্য করুন।
৭. আত্মীয়তার সম্পর্ক ভালো রাখা
আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখলে রিজিক বৃদ্ধি হয় এবং জীবনে বরকত আসে।
৮. হালাল উপার্জন করা
হারাম উপার্জনে শান্তি থাকে না। অল্প হলেও হালাল রিজিকে বরকত থাকে।
দারিদ্র্য দূর করার গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
“লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ্জালিমীন”
এ দোয়া বিপদ-কষ্ট ও দুশ্চিন্তার সময় বেশি বেশি পড়তে পারেন।
মনে রাখবেন
অভাব সবসময় আল্লাহর অসন্তুষ্টির লক্ষণ নয়। অনেক সময় এটা ধৈর্য ও ঈমানের পরীক্ষা। তাই হতাশ না হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান, আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।