29/08/2026
কুলাউড়ার শরীফপুরে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী জামাল উদ্দিন
কুলাউড়া উপজেলার ১১ নম্বর শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন শরীফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশ তাঁর পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীফপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত জামাল উদ্দিন দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ইউনিয়নের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্ভোগের বিষয়েও তিনি খোঁজখবর রাখেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি।
কাউন্সিলে ভোটে বারবার নির্বাচিত:
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে শরীফপুর ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন মো. জামাল উদ্দিন। এরপর ২০২৩ সালের দলীয় কাউন্সিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
দলীয় কাউন্সিলে একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে তাঁর সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম প্রমাণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার কারণে ইউনিয়ন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে জামাল উদ্দিনের একটি অবস্থান তৈরি হয়েছে।
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা:
তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে জামাল উদ্দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রায় তিন দশক ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন বলে জানান জামাল উদ্দিন। তাঁর দাবি, দলের আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।
জামাল উদ্দিনের ভাষ্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছিল। মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বরং দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
জনগণের পাশে থাকার প্রত্যয়:
চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ার বিষয়ে জামাল উদ্দিন বলেন, তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের সেবা করা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি মানুষের খেদমত করতে চাই। রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শুনেছি। ভবিষ্যতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে আরও বড় পরিসরে মানুষের সেবা করতে চাই।’
জামাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘শরীফপুর ইউনিয়নের মানুষ নানা ধরনের নাগরিক সমস্যার মুখোমুখি হন। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসহ ইউনিয়নের মানুষের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই।’
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা:
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জামাল উদ্দিন। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমন্বয় সাধন।
এ ছাড়া তরুণদের জন্য খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি, বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে কাজ করা এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
জামাল উদ্দিন বলেন, ‘উন্নয়ন শুধু রাস্তা-ঘাট নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা সহজে পাবেন, তরুণরা কর্মমুখী হবে, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে এবং অসহায় মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই।’ এছাড়া মাদক নির্মুলে ভূমিকা রাখবো।
পারিবারিকভাবেও রয়েছে সামাজিক পরিচিতি:
নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পারিবারিকভাবেও শরীফপুর ইউনিয়নে তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের সামাজিক পরিচিতি রয়েছে বলে জানান জামাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘আমি শরীফপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নওশা মিয়ার ও মরহুম আব্দুল হান্নানের ভাতিজা। স্থানীয়ভাবে আমাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের সামাজিক পরিচিতি ও জনসম্পৃক্ততা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই মানুষের সঙ্গে আমাদের পরিবারের একটি আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’
শরীফপুরকে মডেল ইউনিয়নে রূপ দিতে চাই:
দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘দল আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক ভূমিকা ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা মূল্যায়ন করে আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আমি আশাবাদী। দলীয় মনোনয়ন পেলে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেব।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে কোনো দল, মত বা শ্রেণির মানুষকে আলাদা করে দেখব না। শরীফপুর ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের জন্য সমানভাবে কাজ করতে চাই। ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে চাই। সকলের সহযোগিতায় শরীফপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে চাই।’