02/06/2026
পৃথিমপাশার হাসামপুর গ্রামে পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী- তদন্তে ইউএনও
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ মোঃ জাহিদের পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, পোল্ট্রি ফার্মের কয়েকটি শেড ঘরে অনেক পোল্ট্রি মোরগ থাকায় এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন প্রকার রোগ বালাই সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের জীবাণু ও মাছির উপদ্রব বাড়ছে। যার জন্য এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে মাছির মাধ্যমে রোগ-জীবাণু ছড়াচ্ছে। এতে করে বয়স্ক মানুষ ও শিশুরা বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পোল্ট্রি ফার্মের জীবাণুর দুর্গন্ধের কারণে এলাকার মানুষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাসামপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ মোঃ সামাদুর রহমান বাদী হয়ে মৌলভীবাজার জেলা কোর্টে একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেন। জেলা কোর্টের নিদের্শনায় তদন্ত সাপেক্ষে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সরেজমিনে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। এতে কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার ২ জুন মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে হাসামপুর গ্রামে উপস্থিত হয়ে ফার্মের বিভিন্ন শেডঘর ও আশেপাশের বাড়িতে পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, পোল্ট্রি খামার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না থাকায় ফার্মের মোরগের জীবাণু, দুর্গন্ধ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে আমরা দুর্গন্ধে অতিষ্ট। আমাদের গ্রামের বয়স্ক ও শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা এই দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পেতে কোর্ট এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগকারী শেখ মোঃ সামাদুর রহমান বলেন, আমরা এলাকাবাসী এই পোল্ট্রি ফার্মের জীবাণুর দুর্গন্ধে ও মাছির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমাদের বাড়ির পাশে একটি ছড়া রয়েছে। সেই ছড়াতে মরা মোরগ ফেলা হয়। সেখান থেকেও অনেক দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে আমরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। যদি পোল্ট্রি ফার্ম প্রতিদিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং জীবাণুমুক্ত মেডিসিন ব্যবহার করলে এই সমস্যা সৃষ্টি হত না। অপরিষ্কারভাবে পোল্ট্রি ফার্ম রাখায় এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ইউএনও মহোদয়ের তদন্ত সাপেক্ষে আমরা সঠিক ন্যায় বিচার আশা করছি।
এ বিষয়ে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক শেখ মোঃ জাহিদ বলেন, অভিযোগকারী যে পরিবেশের উপর অভিযোগ করেছেন সেই পরিবেশের উপর আমার ব্যবসা নির্ভরশীল। পরিবেশ যদি খারাপ হয় তাহলে তাদের থেকে আমার ক্ষতি বেশি হবে। আমি এলাকার মানুষের অসুবিধা নিয়ে নয় এলাকার মানুষ নিয়েই আমি। ইউএনও মহোদয় আমার পোল্ট্রি ফার্ম পরিদর্শন করে তদন্ত করেছেন এবং আমি ন্যায় বিচার আশাবাদী।
এ বিষয়ে পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ চৌধুরী জানান, অভিযোগপত্র অনুযায়ী হাসামপুর গ্রামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় তদন্তে আসেন। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী কোর্টের সিদ্ধান্তমতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পাশ্ববর্তী টিলাগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মহিউদ্দিন বলেন, আমরা দু’পক্ষকে স্থানীয়ভাবে বসে কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করব।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধের একটি অভিযোগ জেলা কোর্টে করা হয়েছে। কোর্টের নিদের্শনায় আমরা হাসামপুর গ্রামে সরেজমিনে তদন্ত করতে আসি। কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। # #