07/02/2023
"মুড়ি+ঝাল= ঝালমুড়ি"
,
এখন বিকাল চারটা বেজে চলছে, বিকালের এই সময়টা অনেক সুন্দর। সূর্য মামা সারাদিন খাটা-খাটনির পর এখন একটু কেলান্ত। তাই এখন সূর্য মামার আলোর তাপ দুপুরের থেকে অনেকটা কম। এবং এই তাপের মাঝে হাঁটতে আমার মত অনেকের ভাল লাগে। কেউ বা এই সময় তার প্রিয় মানুষটাকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়। আবার কেউ বা সারাদিন কাজ করে এই সময় একটু রেষ্ট নিচ্ছে। আমি প্রতিদিন কোচিং থেকে বের হয়ে হেঁটে বাসায় যাই। আজও তার ব্যাতিক্রম হয়নি।
,
গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে খুব ভাল লাগে। শহরের মত না আছে জ্যাম, না আছে হাজারো ধরনের মাথ্যা ব্যাথা করার মত শব্দ। তাই প্রতিদিন হেঁটেই যাই। রাস্তার চার পাশে নানা ধরনের মানুষ, কেউ বুড়ো কেউ ছোট কেউ মাঝারি। হাজারো মানুষের মাঝে কোন এক সাধারণ ছেলেকে খুঁজে বেরাচ্ছি। প্রতিটা মেয়ের মত আমিও অপেক্ষা করছি। কেউ আমাকে আগে প্রপোজ করবে,আমাকে ফলো করবে, আমার সব খবর রাখবে, আমাকে কোচিং নিয়ে, আসবে আমাকে নিয়ে ঘুরবে, বাদাম খাওয়াবে, ফুচকা খাওয়াবে, কিন্তু এখনো সেই রকম কারো দেখা মেলেনি।
,
এই কথা ভাবতে ভাবতে অনেক দূর চলে এসেছি। হঠাৎ দেখলাম রাস্তার পাশেই একজন ঝালমুড়ি ওয়ালা। ঝালমুড়ি বানাচ্ছে। অনেকদিন ঝালমুড়ি খাইনি। আমার খুব ইচ্ছা করছে ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য। ইচ্ছাকে কষ্ট না দিয়ে আমি চলে গেলাম ঝালমুড়ি ওয়ালার কাছে। গিয়ে বললাম মামা আমার জন্য বিশ টাকার ঝালমুড়ি বানান। তবে ঝাল মোটামোটি দিবেন। বেশি ঝাল খাওয়া যাবেনা। মামা ঝালমুড়ি বানাচ্ছে আমি আমার ব্যাগ থেকে টাকা বের করে হাতে রাখলাম।
,
এমন সময় একটা ছেলে এসে দাঁড়ালো। ছেলেটার দিকে তাকিয়ে দেখলাম চোখ দু'টো বড় বড় করে আছে, আর মুখ লাল হয়ে আছে। আমি একটু ভয় পেয়েছিলাম। ছেলেটা এসেই ঝালমুড়ি ওয়ালাকে বলল --
ছেলেটা -- মামা আপনি আমাকে ঝাল দিলেন কেন? আপনাকে বললাম যে ঝাল দিবেন না। এখন খুব জলছে মুখটা!!
ঝালমুড়ি ওয়ালা-- মামা ঝাল তো দেইনি আপনার মুড়িতে।
ছেলেটা -- তাহলে যে ছোট এক টুকরো মরিচ পেলাম?
ঝালমুড়ি ওয়ালা-- হয়তো মগের সাথে লেগে থাকা একটা টুকরো চলে গেছে আপনার মুড়িতে।
ছেলেটা -- কিন্তু খুব ঝাল ছিল, খুব জলছে মুখ, আপনার কাছে চিনি আছে। থাকলে দেন?
ঝালমুড়ি ওয়ালা-- না মামা চিনি তো নাইকা!
ছেলেটা -- দূর মিয়া! ঝাল রাখেন সাথে মিষ্টি রাখেন না কেন? ( রেগে )
,
এই কথা বলে ছেলেটা চলে গেল হয়তো কোথাও চিনি খুঁজতে।আমার অনেক হাসি পেল। আমি আর হাসি থামিয়ে রাখতে পারলাম না। হেহেহে করে হেসে দিলাম। ছেলে হয়ে সামানো একটু ঝাল খেতে পারে না। যে ছেলে সামানো একটা মরিচের একটা টুকরো খেতে পারেনা, সে আবার ঝালমুড়ি খেতে আসে। তাদের ঝালমুড়ি না খাওয়াই ভাল। এরপর আমি আমার ঝালমুড়ি নিয়ে টাকা দিয়ে সেখান থেকে বিদায় হলাম। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি আর ঝালমুড়ি খাচ্ছি। খুব মজা করে বানিয়েছে ঝালমুড়ি গুলো। খেতে খুব ভাল লাগছে। মাঝে মধ্যে মন চাইলে চলে যাব ঝালমুড়ি খেতে। বাসার কাছে চলে আসলাম। বাসায় এসে দোতলায় চলে গেলাম আমার রুমে । ব্যাগটা টেবিলে রেখে জানালার পাশে দাঁড়িলাম।
,
বিকালের এই সময় জানালা থেকে অনেক বাতাস আসে। আমি খুব উপভোগ করি বাতাস গুলোকে। কিছু সময় পর সূর্য মামা হারিয়ে যাবে এবং চাঁদ মামাকে আমাদের মাঝে দিয়ে যাবে। এখন শেষ সময় সূর্য মামা তার সৌন্দর্য ছড়াবে সোনালী রং ধারণ করে। হালকা রৌদের তাপ। অচেনা হাজারো বাতাস আমার শরীর ছুঁয়ে যাবে। আমাকে এক অজানা অচেনা মুহুর্তে দিয়ে যাবে যা আমি কখনোই ভুলতে পারবোনা। মনের মাঝে অনেক গুলো ভাল লাগা কাজ করে। যা আমি প্রতিদিন এখানে দাঁড়িয়ে উপভোগ করে থাকি। জানিনা এভাবে আর কতদিন উপভোগ করতে পারবো। একটা সময় হয়তো আসবে তখন,এই বাতাস আলো আমাকে আর কাছে পাবেনা। আমি তাদের অনেক মিস করবো।
,
সন্ধ্যা হবে হবে। চাঁদ মামাও চলে এসেছে। কিছু সময় পর চাঁদ মামার সাথিরাও চলে আসবে, যখন সন্ধ্যা পার হয়ে রাতটা দেখা দিবে তখন হাজারো তারা ঐ বিশাল আকারের আকাশে এক হবে। সবাই যে যার মত করে খেলা করবে। যা ইচ্ছা তাই করবে, মন ভরে পুরো আকাশটা ঘুরবে। আকাশের এইপাশ থেকে ওপাশ ঘুরবে। চাঁদ মামার সাথে দেখা করবে। সারাদিনে না দেখা করতে পেরে কত কথা জমা আছে সেগুলো চাঁদ মামাকে বলবে। তাদের মনের ইচ্ছা গুলো বলবে। এভাবেই বলতে বলতে তারা আর চাঁদ মামা প্রতিটা রাত পার করে দেয় হয়তো। এভাবেই চলতে থাকলো মেয়েটার দিন রাত গুলো।
,
প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেল এভাবে, খুব ভালই চলছে মেয়েটার দিন। মাসের তিরিশ দিন তো আর সবার ভাল যায়না। খারাপ ভাল মিলিয়ে মানুষ। কিছুদিন ভাল যাবে আবার কিছুদিন খারাপ যাবে। এটাই দুনিয়ার নিয়ম হয়তো। এই মেয়েটারও তাই হল। আজ মনটা খুব খারাপ। কোচিং থেকে বের হয়ে, মন খারাপ করে একা হেঁটে যাচ্ছে আর ভাবছে স্যারের কথা। স্যারের কারণেই আজ "আফসানার" মন খারাপ। আফসানা হল মেয়েটার নাম। পুরো নাম আফসানা আক্তার নিজুম। খুব সুন্দর নামও রেখেছেন মা - বাবা মেয়ের জন্য। আফসানা খুব ভাল স্টুডেন্ট তাও আজ ওকে অনেক কিছু বলেছে। যাতে করে আর ভুল না হয়।
,
মন খারাপের কারণ হল কিছুদিন থেকে আফসানা খেয়াল করছে স্যার ঠিক মত খাতা দেখেনা। শুধু চোখ ভুলাচ্ছে আর শুধু সাইন করে যাচ্ছে। যে খারাপ করে সেও সাইন পাচ্ছে। আফসানার মনে একটা ধারণা হল স্যার হয়তো ঠিক মত খাতা দেখছেনা। তাই সে তার খাতায় ইচ্ছা করে অংকে একটু ভুল লিখে খাতা জমা দিয়েছে। যাতে সে পুরো সিওর হতে পারে। স্যার ঠিক করে সবার খাতা দেখছে নাকি শুধু সাইন করে যাচ্ছে। আমাদের লেখাপড়ার দিকে স্যারের ধ্যান আছে কিনা। সেটা বোঝার জন্য ভুলটা লিখেছে খাতায়। একে একে সবার খাতা দেখার পর যখন আফসানার খাতা আসলো তখন স্যার বলল আফসানা তুমি দাঁড়াও। আফসানা দাঁড়ালো।
,
তোমার মত ভাল স্টুডেন্ট যদি এই সামানো একটা অংকে ভুল করে। তাহলে খারাপ স্টুডেন্টরা কি করবে। তোমার ধ্যান জ্ঞান আজকাল থাকে কোথায়। লেখাপড়ার দিকে কোনো মনোযোগ নেই তোমার। এই অংকে কেউ আজ ভুল করেনি তাহলে তুমি কিভাবে করলে। বাসায় ঠিক মত লেখাপড়া করছো না। এই শেষ বার আর যদি কখনো ভুল হয় তাহলে তোমাকে অনেক শাস্তি পেতে হবে। ভাল করে পড়ালেখা কর। নয়তো কপালে অনেক খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে সামনে, এখন বস। আফসানা বসলো। আফসানার স্যারের প্রতি ধারণা পুরোটাই ভুল ছিল। এরপর কোচিং শেষ বের হল কিন্তু এখনো মন খারাপ হয়ে আছে।
,
হেঁটে যাচ্ছে আনমনা হয়ে। কি করবে মন ভাল করার জন্য তাই ভেবেই চলছে। কারণ যদি বয়ফ্রেন্ড থাকতো, তাহলে হয়তো সে অনেক রকমের কথা বলে তাকে হাসিয়ে তার মন ভাল করে দিত। কিন্তু যেহেতু বয়ফ্রেন্ড নেই সেহেতু নিজের মন নিজেকেই ভাল করতে হবে। আশে-পাশে তাকিয়ে কাউকে যেন খুজছে। হঠাৎ দেখতে পেল সেই ঝালমুড়ি ওয়ালাকে। মন ভাল করতে পারবেনা বলে আজ ঝালমুড়ি খাব। ঝালমুড়ি ওয়ালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। দেখছি ঝালমুড়ি ওয়ালা পেয়াজ কাটছে। আমি বললাম মামা আমাকে দশ টাকার ঝালমুড়ি দেন প্লিজ। তবে আজ একটু ঝাল বাড়িয়ে দিবেন। মন খুব খারাপ তাই।
,
এই কথা বলতেই ঝালমুড়ি ওয়ালা একটা বোম্বাই মরিচ বের করে কাটছে। আমার তো দেখেই পানি চলে এসেছে, তবে মুখে না চোখে। আমি বললাম
---এত মরিচ লাগবেনা মামা? এটা খেলে আমি পাগলি হয়ে যাব। এটা বিতরেই রেখে দেন মামা?( ভয় ভয়)
--- আফা আপনার জন্য এটা না।
--- তাহলে একটা বোম্বাই মরিচ কার জন্য? কে সেই পাগল লোক যে একটা বোম্বাই মরিচ একা খাবে।
--- আফা ঐ যে দেখছেন, ঐ আরাফাত মামা খাইবো এইটা।
আমি ঠিক দেখতে পারছিনা ছেলেটাকে । পিছ ঘুরে দাঁড়িয়ে বন্ধুদের সাথে কথা বলছে। কে ছেলেটা আমার খুব ইচ্ছা করছে ছেলেটাকে একবার দেখার জন্য, যে কিনা একটা বোম্বাই মরিচ একা খাবে। তাও সামানো কিছু মুড়ির সাথে। ছেলেটা তার নাম শুন্তেই পিছু ফিরে তাকায় এবং বলে হইছে মামা। এই বলে ছেলেটা আবার ঘুরে বন্ধুদের সাথে কথা বলছে। আমি তো ছেলেটাকে দেখে আকাশ থেকে পরলাম। এ তো সেই ছেলেটা, যে কিনা কাঁচা মরিচের একটা টুকরো খেয়ে চিনি খুঁজেছে। সেই ছেলে আজ একটা বোম্বাই মরিচ খাবে। এইভেবে আমি ঝালমুড়ি ওয়ালাকে বললাম?
--- মামা আপনার মাথা ঠিক আছে তো?
--- ঠিকি আছে! কেন?
--- যে ছেলে একটা কাঁচা মরিচ খেতেই চিনি খুঁজে, সেই ছেলে এটা খেলে মারাই যাবে।
--- এতদিনে মরে নাই, আজ আপনার এক কথায় মরবো না , হায়াৎ আছে ।
--- কিন্তু এটা খেলে ও তো পাগল হয়ে যাবে? চিনি খুঁজতে খুঁজতে। আগে থেকে চিনি রাখেন? জান আগে চিনি নিয়ে আসেন?
--- আরে রাখেন! ও পাগল হইলে তো ভালই হয়। আমার মরিচ গুলা বাঁইচা যাইতো।
--- কেন? আপনার মরিচের আবার কি করলো ছেলেটা?
--- এই ছেলে এক সপ্তাহ ঝাল ছাড়া ঝালমুড়ি খাবে ।
--- কেন?
--- আরে পুরাটা শুনেন আগে!
--- হুম! বলেন?
--- পরের সপ্তাহ এমন ঝাল দিয়ে খাবে যা ভাবা যায়না। মাঝে মাঝে আমার হাত জলে মরিচ কাটতে কাটতে। সেটাতে মুড়ির থেকে মরিচ বেশি তাও আবার বোম্বাই মরিচ।
--- হায় আল্লাহ বলেন কি? ছেলেটা তো আর বাঁচবোনা?
--- যা সত্যি তাই বললাম। বিশ্বাস না হইলে নিজের চোখে দেখে জান?
--- আচ্ছা ঠিক আছে। মামা আপনি ঐ ছেলেকে ঝালমুড়ি দেন? আজ দেখি ছেলেটা কত কেজি চিনি খেতে পারে?
,
এরপর ঝালমুড়ি ওয়ালা ছেলেটাকে ডেকে ঝালমুড়ি দিল। ছেলেটা সামনে এসে ঝালমুড়ি নিল এবং খেতে শুরু করলো। একবার মুখে দিল খাওয়া শেষ, আবার মুখে দিল তাও খাওয়া শেষ। আমি ছেলেটার দিকে হা করে তাকিয়ে আছি, আর ভাবছি কি ব্যাপার যেই ছেলে এক সপ্তাহ আগে এক টুকরো মরিচ খেতে পারতো না সেই ছেলে আজ একটা আস্ত বোম্বাই মরিচ দিয়ে ঝালমুড়ি খাচ্ছে। ব্যাপারটা কেমন আনকমন। খুব অসাধারণ ব্যাপার। আমার কাছে খুব ভাল লাগলো। হঠাৎ ছেলেটা আমার দিকে তাকালো। আমি আমার চোখ ছেলেটার চেহারা থেকে নামিয়ে নিলাম। খুব লজ্জা লাগছে ।
,
মাথা নিচু করে ঝালমুড়ি ওয়ালার কাছে এলাম। এর মাঝে আমার ঝালমুড়ি বানানো শেষ হয়ে গেল। আমি ঝালমুড়ি হাতে নিয়ে হাঁটা শুরু করতেই পিছু থেকে ডাক শুলাম আফসানা দাড়াও কথা আছে। আমি থমকে গেলাম, কি ব্যাপার আমার নাম তো এখানের কারো জানার কথা না। পিছু ঘুরে দাড়ালাম দেখি ছেলেটা বলছে,,
---আমি ডেকেছি তোমাকে।
---আপনি কে?
---দেখতে পারছো না? আমি একটা ছেলে?
---হুম! কিন্তু আমার নাম জানলেন কিভাবে?
---তোমার নাম জানি কিভাবে সেটা শুনবে নাকি তোমাকে কেন ডেকেছি সেটা শুনবে?
---দু'টোই শুনবো!
---আগে বলেন আমার নাম জানলেন কিভাবে?
---যেভাবে তুমি আমার নাম জানো ঠিক সেভাবেই।
---আমি আপনার নাম জানলাম কিভাবে?
---কেন? একটু আগেই তো শুনলে ঝালমুড়ি ওয়ালা মামা বলল, এখনি ভুলে গেছ?
---ও ও ও হ্যাঁ! শুনেছি আপনার নাম আরাফাত!
---হুম! ঠিক সেভাবেই তোমার নামটাও আমি শুনেছি।
---আচ্ছা! আর কি শুনেছেন আমার ব্যাপারে?
---এই তেমন বেশি কিছুনা!
---যা শুনেছেন সেগুলোই বলেন?
---এখনি বলতে হবে?
---হুম! এখনি বলতে হবে, বলেন?
,
---আমার কথা শুনেই ছেলেটা বলা শুরু করলো তোমার মায়ের নাম,বাবার নাম, তুমি কোথায় থাকো, তোমাদের বাড়ি কোথায়, কোন ক্লাসে পড়, কোন স্যারের কাছে কোচিং কর, কখন কোচিং যাও, কখন কোচিং থেকে বের হও এবং বের হয়ে কি কর, কিভাবে যাও, রাস্তার কোন পাশ দিয়ে যাও, হাটার সময় পাও গুলো কিভাবে করে হাটো,কোন কালারের কি রকম জুতা পর, তোমার ফ্রেন্ড কয়েটা, তোমার ফেভারিট কালার,ফেভারিট খাবার, ফেভারিট ফুল, ফেভারিট গান, ফেভারিট জানালা, ফেভারিট স্থান, ফেভারিট চিকণ চুরি, ফেভারিট ড্রেস, ফেভারিট শারি, তোমার ফেসবুক আইডি নাম, কখন সকালের খাবার খাও,কখন দুপুরের খাবার খাও, কখন রাতের খাবার খাও, কখন ঘুমাও এই সামানো কিছু জানি।
,
আমি তো হা করে শুধু ছেলেটার কথা শুনলাম। ছেলেটা আমার ঘুম থেকে উঠা শুরু করে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সব খবরেই জানে । এইরকম যদি একটা জীবন সাথী পেতাম। তাহলে লাইফে আর লাগে। কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম। নিজেকে ঠিক করে নিয়ে বললাম।
---এত কিছু যেনেও বলছেন সামানো কিছু জানেন?
---হুম! এটা আমার কাছে সামানো কিছুই মনে হচ্ছে। আমি আরো কিছু জানতে চাই তোমার ব্যাপারে। সারাজীবন জানতে চাই তোমার কাছে থেকে তোমাকে ! অনেক বছর জানার ইচ্ছা তোমাকে। জানার ইচ্ছা তোমার মনের লুকিয়ে থাকা হাজারো ইচ্ছে গুলোর ব্যাপারে! অনেক চেনার ইচ্ছা তোমাকে। তোমার চোখের চাহুনির ভাষা জানতে চাই। তোমার মনের মাঝে ডুকে একটু একটু করে মনের চাওয়া গুলো জানতে চাই। সেই চাওয়া গুলোকে বাস্তবে পূর্ণতা দিতে চাই। আমি চাই তোমার মনে আমার জন্য একটু জায়গা, যেখানে শুধুই আমি থাকবো আর থাকবেনা কেউ। পাবেনা সেই জায়গার খোজ কেউ। আমি চাই সেই অচিন জায়গাটায় আমার জন্য একটু ঠাই। যেখানে থাকবে আমার মনটা এবং শুধু কথা বলবে তোমার মনটার সাথে। দিবে কি তুমি তোমার চোখের মাঝে আমাকে হারাতে।
,
যেমনটা চেয়েছি তার থেকেও একটু বেশি পেয়েছি। আল্লাহর কাছে মন থেকে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে সেটা ঠিকি দেন। কিন্তু ছেলেটাকে তো আমি চিনিনা। আর এক দেখাতেই ভালবাসা হয় নাকি। ছেলেটা আমারর সাথে ফাজলামো করছে নাতো। আগে ভাল করে বুঝে নেই।
---এক দেখাতেই কি ভালবাসা হয় নাকি? আপনার মাথা গেছে পুরাই? জান বাড়ি গিয়ে পানি দেন মাথায়? আর আমার বি এফ আছে। এখানে কোন টেরাই করে কোন লাভ হবেনা?
---আজ ৬ মাস, ৩ দিন, ৭ ঘন্টা, ২৮ মিনিট এখন পার হল। তোমাকে আমি এত দিন থেকে ফলো করছি। যখন তুমি বাসা থেকে এর বের হয়ে কলেজে যাও তখন আমি তোমার বাসার পাশে থাকি এবং মাঝ রাস্তায় আমার এক ফ্রেন্ড থাকে সেও তোমাকে ফলো করে, আর কলেজে অন্য এক ফ্রেন্ড তোমাকে ফলো করে আমি বলেছি তাই। আর যখন বাসায় আসো তখন কলেজে আমি থেকে তোমাকে ফলো করি এবং মাঝ রাস্তায় ঐ ফ্রেন্ড আর এলাকায় আর একজন। কোচিং এর সময় সেইম এভাবে তোমাকে ফলো করে আসছি আজ এত দিন থেকে। তোমার বি এফ থাকলে আর কেউ না জানলেও আমি জানতাম। কারণ তোমাকে আমি রিয়েল লাভ করি। আর যারা রিয়েল লাভ করে তারা তার ভালবাসার মানুষের সব খবর রাখে। হোক সেটা মনের খবর বা বাহিরের খবর। অজানতেই চলে আসে তার প্রিয় মানুষটার খবর গুলো। এটাই হল ভালবাসা।
,
এই কথা বলা শেষ করেই ছেলেটা হাটু গেড়ে নিচে বসে শার্টের দু'টা বুতাম খুঁলে। শার্টের বুতামের মাঝে দিয়ে বুকের ভিতর হাত ডুকিয়ে দিয়ে একটা টোকটোকা লাল গোলাপ বের করে। গোলাপের একটা পাপড়ি অনেকটাই ছিঁড়ে গেছে হয়তো আর একটু টানাটানি করলেই পরে যাবে। ছেলেটা সেই পাপড়িটাকে এক টান দিয়ে ছিঁড়ে মুখে নিয়ে চাবিয়ে খেয়ে ফেললো। খাওয়া শেষে গোলাপের হাতটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
--- ঐ পাপড়িটা হয়তো একটু পর পরে যাবে। আমি চাইনা তোমার কাছ থেকে আমি একটু পর হারিয়ে যাই । আমি সারাজীবন তোমার কাছে থাকতে চাই। আর যদি কেউ তোমার কাছ থেকে আমাকে দূর করার চেষ্টা করে তাকে আমি ঐ পাপড়ির মত দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিব। "তুমি শুধুই আমার ভালবাসা" আই লাভ,,,
---আমি বলে দিলাম "ইউ"
ফুলটা আমাকে দিল আমি ঝালমুড়ি গুলো ওকে দিলাম।
,
লেখা - Muhammad Rakib (মায়াময় সেই ছেলেটি)