10/04/2026
গল্পের নাম: **অপেক্ষার নীল খাম l
আবির আর নীলিমা—দুজনের পরিচয়টা হয়েছিল এক বৃষ্টির বিকেলে, একটা পুরনো লাইব্রেরির কোণায়। নীলিমা খুঁজছিল জীবনানন্দ দাশের কবিতার বই, আর আবির সেই বইটিই কিছুক্ষণ আগে আলমারিতে সাজিয়ে রেখেছিল। বইটা হাতে নিতে গিয়ে দুজনের আঙুল এক মুহূর্তের জন্য ছোঁয়া লেগেছিল। ব্যাস, সেটুকুই ছিল শুরু।
আবির একটু লাজুক স্বভাবের ছেলে। নীলিমার সাথে কথা বলার খুব ইচ্ছে থাকলেও সামনাসামনি সাহস পেত না। তাই সে বেছে নিয়েছিল এক অদ্ভুত পথ। প্রতিদিন লাইব্রেরির সেই নির্দিষ্ট বইটার ভেতর সে একটা করে চিরকুট রেখে আসত। কখনো তাতে থাকত কোনো প্রিয় কবিতার লাইন, কখনো বা শরতের আকাশের মুগ্ধতা।
নীলিমা প্রতিদিন আসত, সেই নীল খামের চিরকুটগুলো পড়ত আর তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠত এক চিলতে হাসি। সে জানত না এই লেখাগুলো কার, কিন্তু সে অনুভব করতে পারত মানুষটা তাকে খুব গভীরভাবে চেনে।
এভাবে কেটে গেল তিন মাস। একদিন আবির ঠিক করল আজ সে চিরকুটে নিজের মনের কথাটা বলেই দেবে। সে লিখল, *"যদি কাল বিকেলে বৃষ্টির বদলে রোদ ওঠে, তবে কি পার্কের সেই পুরনো বকুল গাছটার নিচে একবার আসবে? আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব।"*
পরদিন সত্যি সত্যি রোদ উঠল। আবির বুক ভরা আশা আর একগুচ্ছ সাদা গোলাপ নিয়ে বকুল তলায় দাঁড়িয়ে রইল। এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা পার হয়ে গেল, কিন্তু নীলিমার দেখা নেই। আবির যখন বিষণ্ণ মনে ফিরে যাবে ভাবছে, ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা চেনা কণ্ঠস্বর ভেসে এল—
"এত দেরি করার জন্য রাগ করেছ?"
আবির পেছনে ফিরে দেখল, নীলিমা দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে সেই নীল খামের চিরকুটগুলো। নীলিমা মৃদু হেসে বলল, "আমি আসলে আধা ঘণ্টা ধরে উল্টো দিকের বেঞ্চে বসে দেখছিলাম, চিরকুট লেখকটা সত্যি কতটা ধৈর্যশীল! দেখলাম তোমার ধৈর্য আমার ভালোবাসার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।"
আবির অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। নীলিমা এগিয়ে এসে তার হাতে একটা ছোট ডায়েরি দিয়ে বলল, "তুমি শুধু চিরকুট লিখেছ, আর আমি প্রতিদিন তার উত্তর লিখে রেখেছি এই ডায়েরিতে। পড়তে পারো।"
বকুল ফুলের মিষ্টি গন্ধে আর বিকালের পড়ন্ত রোদে সেদিন দুটো মনের সব দূরত্ব মুছে গিয়েছিল। তাদের প্রেম কোনো বড় অর্জনে নয়, বরং ছোট ছোট অনুভূতি আর জমানো চিরকুটেই পূর্ণতা পেয়েছিল।
**কেমন লাগল গল্পটি?**