16/03/2026
লেগুনা...
মো: শাহরিয়ার জামান
লেগুনা হয়তো অনেকেই চিনবেন না, চেনার কথাও নয়। লেগুনা মূলত তারাই বেশি চেনে যারা শহরকেন্দ্রিক। ঢাকা শহরে, বিশেষ করে উত্তরায়, লেগুনা বেশি দেখা যায়। লেগুনার ভাড়া তুলনামূলক কম, তাই আমার মতো স্বল্প বেতনের চাকরিজীবীদের জন্য লেগুনাই উত্তম। যাই হোক, সরাসরি গল্পে আসি। অফিসিয়াল কাজে উত্তরা IWM অফিসে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাকে নিকুঞ্জ যেতে হবে, তাই রওনা দিলাম। পরিকল্পনা ছিল রিকশা নিয়ে খালপাড়ে গিয়ে লেগুনায় উঠব। কিন্তু কোনো রিকশা পেলাম না। কারণ রাস্তার মধ্যে রিকশাওয়ালা মামাদের সাথে কার যেন ঝামেলা হয়েছিল, যার ফলে তারা আন্দোলন করছিল। ঢাকা শহরের মানুষ মোটামুটি আন্দোলনের সাথে পরিচিত, কিছু একটা হলেই রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু হয়।
যাই হোক, শেষ পর্যন্ত হাঁটা শুরু করলাম খালপাড়ের উদ্দেশ্যে। সেখানে গিয়ে লেগুনায় উঠব। প্রায় এক মিনিট পর একটি লেগুনা আসতে দেখলাম। হাত দিয়ে ইশারা করলাম মামাকে গাড়ি থামানোর জন্য। মামা গাড়ি থামালেন। ভেতরে একটি সিটও খালি ছিল না। তবে ভেতরের সিট নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই, কারণ আমি পছন্দ করি হেল্পার ভাই যেখানে দাঁড়ায়,লেগুনার একেবারে পিছনের জায়গাটা।
গাড়িটি একটু ধীর করল। এখন আমাকে এক লাফে গাড়িতে উঠতে হবে। আমি তো আর হেল্পার না যে সহজেই লাফ দিয়ে উঠে যাব! তবুও বুকে সাহস নিয়ে এক লাফে উঠে গেলাম। উঠতে গিয়ে লেগুনার সাথে মাথায় একটু ধাক্কা খেলাম। অবশ্য ব্যথা পাইনি, কারণ আমার মাথায় ক্যাপ ছিল।
ঠিক তখনই ঘটল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। লেগুনার ভেতরে দেখলাম একটি মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কেন তাকিয়ে আছে জানি না,সম্ভবত আমি ধাক্কা খাওয়ার কারণেই তাকিয়েছিল।
মেয়েটি ছিল অসম্ভব সুন্দর। তার চোখ দুটি ছিল গোল গোল, চুলগুলো হালকা বাকা বাকা, আর গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। তখন আমার ভেতরে এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছিল। সম্ভবত আমি তাকে পছন্দ করে ফেলেছিলাম। ছেলেদের একটা সমস্যা আছে, যে মেয়েটিকে পছন্দ হয়, তার দিকে তাকাতেই লজ্জা লাগে। আমারও ঠিক তাই হলো। তবুও লুকিয়ে লুকিয়ে আড়চোখে তার দিকে তিনবার তাকালাম। আহা! তার চোখের কী চাহনি, চুলের কী বাহার! যে কোনো পুরুষই হয়তো প্রেমে পড়ে যেতে বাধ্য।
এরপর মেয়েটির গন্তব্য এসে গেল। সে লেগুনা থেকে নেমে গেল। আর তখনই আমার মনে শুরু হলো এক কালবৈশাখী ঝড়। কী আর করার দুঃখভরা মন নিয়ে আমিও চলে এলাম আমার গন্তব্যে।
যখন এই গল্পটি লিখছিলাম, মেয়েটিকে খুব মনে পড়ছিল।
আর হ্যাঁ, গল্পের দ্বিতীয় পর্ব তখনই লিখব যখন মেয়েটির সাথে আবার দেখা হবে।
ভালো থাকবেন সবাই।
আল্লাহ হাফেজ।
গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।