23/07/2025
মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে একজন উদীয়মান দক্ষ পাইলট ও অগণিত নিষ্পাপ শিক্ষার্থী প্রাণ হারানোর এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা সরকারের একটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত অবহেলা, দুর্নীতি এবং ভারতের আগ্রাসী কূটনৈতিক প্রভাবের ফল। যেটি আজ আমাদের সামনে এক মর্মান্তিক সত্য হিসেবে ধরা দিয়েছে, যে ক্ষতি কখনই পূরণ সম্ভব নয়।
একটি রাষ্ট্র তখনই দুর্বল হয়ে পড়ে, যখন তার প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র দেশীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা হয়। বিগত এক দশকে বারবার দেখা গেছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিলেই সেটি কোনো না কোনোভাবে বানচাল করে দিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। ভারতের স্বার্থ রক্ষায় হাসিনা প্রশাসন কখনোই বাংলাদেশকে আধুনিক বিমান প্রযুক্তির ধারেকাছে যেতে দেয়নি। ফলাফলস্বরূপ, আমাদের প্রতিভাবান পাইলটদের ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরনো প্ল্যাটফর্ম—F-7 ও MiG-29-এর মতো বাতিলপ্রায় যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিশ্বের বহু দেশ যখন এই সিরিজের যুদ্ধবিমান গ্রাউন্ড করে ফেলেছে, তখন হাসিনা সরকার ২০১৩ সালে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে সেই বাতিল প্রযুক্তিই আমদানি করেছে। এসব দুর্বল যুদ্ধবিমান কিনে শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটই হয়নি, বরং আজকের বিমান দুর্ঘটনার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে—এই দুর্নীতির বলি হচ্ছেন আমাদের দেশপ্রেমিক পাইলট এবং নিষ্পাপ শিক্ষার্থীরা।
এটা এখন স্পষ্ট, ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল রাখা। কারণ ভারত জানে, যদি বাংলাদেশ পঞ্চম প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান পায়, তাহলে ভারতের আকাশে তার একচ্ছত্র আধিপত্য থাকবে না। সেই ভয় থেকেই পাকিস্তান-চীন যৌথভাবে তৈরি JF-17 যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়াতেও বাধা সৃষ্টি করছে ভারত ও তাদের দোসররা।
এই প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা চলছে, যাতে আসল অপরাধী হাসিনা এবং তার ভারতের প্রতি আত্মসমর্পণমূলক নীতির আলোচনা চাপা পড়ে। মাইলস্টোনের দুর্ঘটনার জন্য দায়ভার নিতে হবে সেই শাসককেই, যিনি ক্ষমতার লোভে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছেন।
এই জাতিগত সংকটে আমাদের করণীয় একটাই—সেনাবাহিনীকে বিতর্কের কেন্দ্রে না এনে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীকে চিহ্নিত করতে হবে। আজ যিনি এই রাষ্ট্রকে দুর্নীতির মাধ্যমে পঙ্গু করে তুলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভারতের হাতে সঁপে দিয়েছেন, সেই খুনি হাসিনাই এ বিপর্যয়ের মূল দায়ী।
এখন সময় এসেছে—আমরা যেন আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে বুঝি কারা আমাদের শত্রু এবং কোনোভাবেই যেন তাদের পাতা ফাঁদে পা না দিই।