02/03/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আমার পীর কেবলাজান বাংলা ১৩৫৮ সনের ১৮ই ফাল্গুন রবিবার বেলা ১২ টা ১৫ মিনিটের সময় ইন্তেকাল করেন। এই ১৮ই ফাল্গুন অত্যন্ত বেদনাবিধুর দিবস। এই দিনে পীর কেবলার মহব্বতের ফয়েজ প্রবল বেগে আশেকানদের দেলে ওয়ারেদ হয়। তাই এই দিনে বিশেষ ভাব গাম্ভীর্য ও ধর্মীয় পবিত্রতার সহিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ফাতেহা উদযাপিত হয়। আমার অবর্তমানের এই নিয়ম অব্যাহত থাকিবে। আমার পীর কেবলাজান হযরত খাজাবাবা শাহসূফী এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেব এত বড় সাধক ও খোদাতত্ত্বজ্ঞ ফকির ছিলেন যে, মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবের পরে তাহার মত ওলী বা সাধক আর আসমানের নীচে আসেন নাই। সেই ফকিরের মহব্বত দেলে পয়দা করার বিশেষ দিন এই ১৮ই ফাল্গুন। তাঁহার মহব্বত দেলে পয়দা করিতে পারিলে আর ভয় নাই। ‘হোব্বুল ফোকারায়ে মেফ্তাহুল জান্নাত''-ফকির লোকের মহব্বতই বেহেশতের কুঞ্জি।
আমার পীরের মত এত বড় আকাবের ওলী আসমানের নীচে আর আসেন নাই। তিনি আজীবন আপন মুরীদ সন্তানের নাজাত চিন্তায় ব্যাকুল থাকিতেন। তিনি ছিলেন দয়াল নবী (সাঃ) এর খাছলতে খাছলতধারী। রাসূলে পাক (সাঃ) যেমন পেটেতে পাথর বাঁধিয়া, আহার-নিদ্রা পরিত্যাগ পূর্বক পাহাড়ে-পর্বতে, গুহায়-গহবরে পড়িয়া উম্মতি উম্মতি বলিয়া কাঁদিতেন, উম্মতের মুক্তি কামনায় খোদার দরবারে অশ্রুপাত করিতেন; তেমনি ছিলেন আমার পীর কেবলাজান। তিনিও আহার-নিদ্রা পরিত্যাগ পূর্বক মুরীদ সন্তানের মুক্তি কামনায় খোদার দরবারে অঝরে কাঁদিতেন। তাঁহার কান্নার সুর মাঝে মাঝে নিস্তব্ধ রজনীর ধ্যান ভংগ করিত। সেই সুর ভাসিয়া আসিত সাহেবজাদাদের কর্ণে। তাহারা কান পাতিয়া শুনিতেন যে, খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেব কান্নাভেজা কন্ঠে আকুতিসহ খোদাতায়ালাকে বলিতেছেন, ‘হে খোদা! আমার মুরীদেরা গরীব, দরিদ্র। তাহাদের পরণে কাপড় নাই, পেটেতে ভাত নাই। তাহারা কেমন করিয়া তোমার ইবাদত করিবে? তুমি তাহাদেরকে দয়া কর, করুণা কর। তাহাদের গোনাহ্খাতা মাফ করিয়া দাও।''
আমার পীরেরতো অভাব ছিল না। তথাপিও তিনি তৃপ্তিসহ আহার করিতেন না। কেবলমাত্র দেহ টিকিয়া থাকিতে পারে-এমন সামান্য পরিমাণ আহার করিতেন। তাই তাহার দেহ ছিল জীর্ণ, শীর্ণ, কংকালসার! অনায়াসেই তদীয় পবিত্র দেহের হাড় যে কেহই গণনা করিতে পারিত।
একদিনের ঘটনা। জোহর নামাজ অন্তে কেবলাজান হুজুর ভিতর হোজরায় গেলেন। গায়ের জামা খুলিলেন। সংগে কেবল আমিই ছিলাম। তাহার পবিত্র দেহ মোবারকের দিকে চক্ষু পড়িতেই আমার কান্না আসিল। বুকের হাড়গুলো ভাসিয়া আছে। গায়ে গোশ্ত আছে বলিয়া মনে হইল না। ভাবিলাম, প্রতিদিন যিনি একটি করিয়া খাসী রোষ্ট খাইলে কিছু আসে যায় না; কেবলমাত্র মুরীদের চিন্তায় আহার নিদ্রা ছাড়িয়া দিয়া তাহার দেহের এহেন করুণ দশা হইয়াছে। আমার মনের অবস্থা বুঝিতে পারিয়া কেবলাজান হুজুর আমাকে বলিলেন, ‘বাবা! অন্যান্য পীরেরা মুরীদের বাড়ীতে যায়, আর সুস্বাদু খাবার খাইয়া দেহকে মোটা তাজা করে। কিন্তু দেখ! তোমার পীরের অবস্থা। লক্ষ লক্ষ মুরীদেরা যখন পীরের দেলের সাথে দেল মিশায়, তাহাদের দেহের রোগ-ব্যাধি ও দেলের কালিমা সবই আত্মার অদৃশ্য তার বাহিত হইয়া আমার দেলে ও দেহে আসে। তাই আমার এমন অবস্থা। আমি রুগ্ন। আমি দুর্বল।” তিনি আমাদেরকে কেমন মহব্বত করিতেন, কেমন ভালবাসিতেন-তাহা উপলব্ধির জন্য আমার জীবনের নীচের ঘটনাটিই যথেষ্ট।
একবার কোরবানী ঈদের সময়ে আমি ২৯ খানা নৌকা লইয়া ঝড় ও বৃষ্টির মধ্যেও পীর কেবলাজানের দরবারের উদ্দেশ্যে আটরশি হইতে রওয়ানা হইলাম। গোয়ালন্দ ছয় (৬) নং ঘাটে পৌঁছাইতে না পৌঁছাইতে ঝড় সাইক্লোনের আকার ধারণ করিল। একদিন গোয়ালন্দ থাকিলাম, যদি ঝড় থামে এই আশায়। ঝড়তো থামিলই না বরং ক্রমেই বাতাসের বেগ বাড়িতে লাগিল। এদিকে কোরবানীর ঈদ খুবই নিকটে। পীর কেবলাজানের সাথেই ঈদের নামাজ আমাকে পড়িতে হইবে। আমার উপর ইহা তাঁহার পবিত্র নির্দেশ। তাই ঠিক করিলাম, ঝড় যতই বাড়ুক; কোরবানীর আগেই এনায়েতপুর পৌছাইতে হইবে। ২৯ খানা নৌকার মাঝিকে গোয়ালন্দ ঘাটে এক জায়গায় করিয়া তাহাদের আমি বলিলাম, ‘তোমরা কি আমার কথা রাখিবা?'' তাহারা সকলেই উত্তর দিল, রাখিব।'' তখন বলিলাম, তাহা হইলে নৌকা ছাড়িয়া দাও। তাহারা সকলেই রাজী হইল ঠিকই কিন্তু চেহারা সকলেরই মলিন, ফ্যাকাসে। এই টাটকা মরণ কে মরিতে চায়? উম্মত্ত পদ্মার উত্তাল তরঙ্গ। বাতাসের প্রচন্ড বেগ। ইহারই মধ্যে আমরা রওয়ানা হইতেছি। এই কথা শুনিয়া শত শত লোক ঝড় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করিয়াও ঘাটে আসিয়াছে আমাদের মরণ দেখার জন্য।
যাই হোক, রওয়ানা হইলাম। আমার নৌকাই প্রথমে। অন্যান্য সকল নৌকাই আমার পিছনে। বাদাম টানিয়া দেওয়ার সাথে সাথেই আমার নৌকা যেন বাতাসের বেগে উড়িয়া চলিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখিলাম একটি বাজার। নৌকার একজন বলিলঃ আরিচা আসিয়া গিয়াছি। পিছনে তাকাইলাম কিন্তু একটি নৌকাও চোখে পড়িল না। দুশ্চিন্তায় পড়িলাম। কিন্তু পীর কেবলাজানের তরফ থেকে যে ইংগিত পাইতেছিলাম, তাহাতে অমংগল বা অশুভের কিছু ছিল না। যাহা হউক, অপেক্ষা করিতে লাগিলাম। নৌকাগুলো একে একে দেখা যাইতে লাগিল। রাত্র দুইটা পর্যন্ত একে একে ১৩ টি নৌকা আসিয়া আমার সহিত যোগ দিল। তখন আরও একটু দূরে তেওতা ঘাটে আসিয়া পরদিন ভোর বেলা পর্যন্ত অবস্থান করিতে লাগিলাম। ঐ স্থানে একে একে আরও ১৩ টি নৌকার সন্ধান পাইলাম। মোট ২৬ টি নৌকা একত্রিত হইল। বাকী রহিল মাত্র তিনটি। ঐ অবস্থায় সম্মুখপানে অগ্রসর হইয়া একটি চড়ায় গিয়া রাত্রি যাপন করিলাম। আরও দুইটি নৌকা আসিয়া একত্রিত হইল। বাকী রহিল আব্দুল মান্নান মোড়লের দেড় মাল্লার সর্বাপেক্ষা ছোট নৌকাটি।
এই নৌকাটির জন্য দুশ্চিন্তায় রহিলাম। বাড়ীর লাল মিঞা (যে আমার সংগে সংগে থাকিত এবং আমার নিজস্ব বাবুর্চি ছিল) কে আমার নৌকার মাস্তুলের শীর্ষে উঠিয়া পিছনে সেই নৌকা দেখা যায় কিনা চেষ্টা করিতে বলিলাম। লাল মিঞা বলিল, দূরে-বহুদূরে নদীতে পাখীর মত কি যেন ভাসিতে দেখা যায়। আমার মন বলিল, উহাই সেই নৌকা। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই নৌকাও আমাদের সাথে আসিয়া একত্রিত হইল। বিলম্ব হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করায় ছোট নৌকার যাত্রিগণ বলিলঃ গোয়ালন্দ ছয় নম্বর ঘাট হইতে রওয়ানা দেওয়ার পরই উত্তাল তরংগের প্রচন্ড আঘাতে আমাদের নৌকা ফাটিয়া যায়। ঠিক এমন সময় উল্টা দিকের বাতাসের বাড়িতে নৌকা মুহূর্তেই ঘাটে আসিয়া ভিড়ে। আমরা কান্নাকাটি শুরু করিলাম। পীরের সাথে একত্রে যাইতে না পারায় আমাদের আত্মহত্যা করিতে ইচ্ছা করিল। এমন সময় দেখি, একজন ছুতার বা কাঠমিস্ত্রি যন্ত্রপাতি বা হাতুর বাটালসহ দাঁড়াইয়া আছে। ছুতার আমাদেরকে বলিল, ‘আপনারা চিন্তা করিবেন না। আমি আপনাদের জন্যই অপেক্ষা করিতেছি। সেই ছুতার নৌকা মেরামত করিয়া দিল। মেরামত করিতে দুই ঘন্টা সময় লাগিয়াছে। তাহা ছাড়া ছিন্ন পাল চার ভাজ করিয়া টানাইয়া অতঃপর আসিয়াছি। তাই আমাদের আসিতে বিলম্ব হইয়াছে।''
আমার পীর কেবলাজানের দয়ায় ২৯ টি নৌকা এবং নৌকার মাঝি ও আরোহীদের ফেরত পাইলাম। ঝড়ের প্রচন্ড আঘাতে যদিও, হয় কোনো নৌকার হাল, না হয় পাল, না হয় মাস্তুল ছিল না, তথাপিও একটি নৌকাও ডুবে নাই কিংবা পানি উঠিয়া নৌকার মালামাল ভিজে নাই।
যাহা হউক, সময় লাগিবার কারণে ছোট নৌকাটির আমাদের সাথে যোগ দিতে এক দিন সময় লাগিল। পরবর্তী রাত্রি আমরা পাবনা জেলার সোনাতনীর হাটে যাপন করিলাম। সেই রাত্রে ঐ হাটে বসিয়াই এনায়েতপুর দরবার শরীফ হইতে আগতদের নিকট থেকে শুনিতে পাইলাম যে, পীর কেবলাজান হুজুর রাত্রিতে কাহাকেও কিছু খাইতে দেন নাই। বলিয়াছেন, তোমাদের পীর ভাইয়েরা মহা দুর্যোগের মধ্যে আছে। তাহারা আসিয়া পৌছাইলে তারপর তোমরা আহার করিবে।'' পরদিন অতি সকালেই রওয়ানা হইয়া ঈদের জামায়াতের পূর্বেই এনায়েতপুরে পৌছাইলাম। আমাদেরকে দেখিয়া পীর কেবলাজান ছাহেব অতিশয় খুশী হইলেন। তিনি বলিলেন, ‘তোমাদের নৌকা খাজা হযরত খিজির (আঃ) হেফাজত করিয়াছেন। তাই তোমরা রক্ষা পাইয়াছ।'' অতঃপর পীর কেবলাজান হুজুর সকলকে খানা খাইতে আদেশ দিলেন। পরে ঈদের নামাজ হইল। কোরবানী হইল। নজিরবিহীন ঝড়ের মধ্যে রওয়ানা দিয়া যথা সময়ে পীর কেবলার কদমে পৌঁছাইয়া পীর কেবলার সাথে জামায়াতে নামাজ পড়িতে পারায় সেইবার যেন আমরা বেহেশতী শান্তি লাভ করিয়াছিলাম।
সেই মহান সাধক, মুরীদ প্রেমিক, হযরত খাজাবাবা এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেবের বেছালত দিবস এই ১৮-ই ফাল্গুন। আজ তাহারই মহব্বতে ফয়েয ওয়ারেদ হইতেছে-সেই ধাক্কায় তোমরা কাঁদিতেছ। রাসূলে পাক (সাঃ) বলিয়াছেন, আল্ মারয়ো মা'মান আহাব্বা অর্থাৎ যে যাহাকে ভালবাসে, সে তাহারই সংগে থাকিবে। তিনি আরও বলিয়াছেন, ‘হোব্বুল ফোকারায়ে মেফ্তাহুল জান্নাত'' অর্থাৎ ফকির লোকের মহব্বতই বেহেশতের কুঞ্জি। আমার পীর বর্তমান যামানার শ্রেষ্ঠ ফকীর। তাহার মহব্বত যদি পয়দা করিতে পার, তবে আর ভয় কিসের? আল্লাহপাক তোমাদিগকে অপূর্ব পুরস্কারে ভূষিত করিবেন।
১৮ই ফাল্গুনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান যদিও পবিত্র উরস শরীফের অংশ বিশেষ; তথাপিও ইহা উরস শরীফ হিসাবে বা নামে নয়, পবিত্র ফাতেহা হিসাবে উদযাপিত হইবে।
১৮-ই ফাল্গুনের কর্মসূচীঃ
১৭ই ফাল্গুন দিবাগত সন্ধ্যা হইতে ১৮ই ফাল্গুনের কার্যাবলী শুরু করিতে হইবে। মাগরিবের আযানান্তে খেয়াল কালবে ডুবাইয়া আল্লাহতায়ালাকে হাজের নাজের ওয়াহেদ জানিয়া হুজুরী কালবে মাগরিব ওয়াক্তের ফরয ও সুন্নত নামাজ শেষ করিয়া যথারীতি দুই রাকাত করিয়া মোট ছয় রাকাত নফল নামাজ আদায় করিবে। প্রত্যেক দুই রাকাত অন্তর ছওয়াব রেছানী করিবে। জামে আম্বিয়া, জামে আউলিয়া ও তামাম মোমেন মোসলমানদের বিদেহী আত্মায় ছওয়াব রেছানী করিবে। (নফল নামাজের মোনাজাত দ্রষ্টব্য)
তৎপর ফাতেহা শরীফ পড়িয়া ছওয়াব বখ্শাইয়া দিবে। (ফাতেহা শরীফের মোনাজাত দ্রষ্টব্য)
ফাতেহা শরীফ আদায়ান্তে মোরাকাবায় বসিয়া মাগরিবের ওয়াক্তের নির্ধারিত পাঁচ প্রকারের ফয়েয খেয়াল করিবে।
( মাগরিবের ফয়েয খেয়ালের নিয়ম দ্রষ্টব্য)
অতঃপর সকলে মিলিয়া মহাধুমধামে কিছুক্ষণ জেকের করিবে। জেকের সমাপানান্তে এক খতম মিলাদ মাহফিল হবে। মিলাদান্তে এশার নামাজের পূর্বক্ষণ পর্যন্ত (রাত দশটা পর্যন্ত) ওয়াজ নসিহত চলিবে।
তারপর যথারীতি খেয়াল কালবে ডুবাইয়া এশারের ফরয ও সুন্নত নামাজ আদায়ান্তে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করিয়া ছওয়াব রেছানী করিবে। অতঃপর বেতের নামাজ আদায়ান্তে দয়াল নবী (সাঃ) এর গায়রাতের ফয়েজ খেয়াল করিবে। অতঃপর ৫০০ মর্তবা দরুদ শরীফ পড়িয়া দয়াল নবী (সাঃ) কে নজরানা দিয়া কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিবে। তৎপর রহমতের সময় (রাত ৩ টা থেকে) উঠিবে।
রাত তিনটা হইতে কিছুক্ষণ কুরআন তেলাওয়াত হইবে, কুরআন তেলাওয়াতান্তে এক খতম মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। তারপর সকলে বসিয়া রহমতের ফয়েজ খেয়াল করিবে। তৎপর ফজরের নামাজের পূর্ব পর্যন্ত জেকের করিবে। অতঃপর ফজর নামাজ আদায় করিয়া ফাতেহা শরীফ ও খতম শরীফ আদায় করিবে। ফাতেহা শরীফ পড়িয়া ইহার ছওয়াব রেছানী করিবে। ৭০০ মর্তবা খতম শরীফ পড়িয়া মুজাদ্দেদ আলফেছানী (রাঃ) ছাহেবকে নজরানা দিবে।
ইহার পর এক খতম মিলাদ পুনরায় সকলেই মিলিয়া পাঠ করিবে। তারপর দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ওয়াজ নসিহত ও পীর কেবলাজানের শানে লিখিত বিষাদময় গজল পরিবেশন করিবে। পীর কেবলাজানের ওফাতক্ষণ দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিট। কাজেই ১২ টার সময় সকলেই দন্ডায়মান অবস্থায় এক খতম মিলাদ পড়িবে। দুপুর ১২-১৫ মিনিটের সময় চোখে পানি লইয়া আদায়কৃত সমুদয় নফল ইবাদতের ছওয়াব জামে আম্বিয়া, জামে আউলিয়া ও মোমেন মোসলমানদের বিদেহী আত্মায় পৌঁছাইয়া দিবে। বিশেষ ভাবে ছওয়াব রেছানী করিবে আমার পীর কেবলাজান হযরত খাজাবাবা শাহসূফী এনায়েতপুরী (কুঃ) ছাহেবের রূহ পাকে। কারণ এই ১৮ ই ফাল্গুন তাহার বেসালত দিবস। তাহারই রূহে ছওয়াব রেছানীর উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই দিনের মাহফিল। ছওয়াব রেছানী শেষে চোখের পানি লইয়া আপন আপন বাড়িতে যাইবে। দরবারে অবস্থানরত জাকেরানসকল নিয়মমত যোহর ও আসরের নামাজ আদায় করিবে। যোহরের পরে দয়াল নবী (সাঃ) এর খাছ হোব্ব এশক মহব্বতের ফয়েজ খেয়াল করিবে। আসরের পরে তওবা কবুলিয়তের ফয়েজ খেয়াল করিবে। এই ভাবে দিনের কর্মসূচী শেষ করিবে।
৫-ই জমাদিউস সানীঃ
আরবী কেলেন্ডার মোতাবেক ৫-ই জমাদিউস সানী পীর কেবলাজানের ওফাত দিবস। কাজেই প্রতি বছর ১৮ই ফাল্গুনের মত ৫-ই জমাদিউস সানীতেও তাঁহার পবিত্র আত্মায় ছওয়াব রেছানীর জন্য ফাতেহা অনুষ্ঠান উদযাপিত হবে।
৫-ই জমাদিউস সানীর অনুষ্ঠানমালা হুবহু ১৮ই ফাল্গুনের অনুষ্ঠান মালার অনুরুপ।
(তথ্যসূত্রঃ বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পরিচালনা পদ্ধতি)