19/02/2026
দুই লক্ষ রোমান সৈন্যের এক বিশাল সমুদ্রে দিগন্তজুড়ে শুধু মাথা আর চকচকে বর্শার ফলা। আর তাদের মাঝখানে দ্বীপের মতো দাঁড়িয়ে মাত্র ৩ হাজার মুসলিম! পালানোর কোনো পথ নেই। চারদিক থেকে মৃত্যুকে যারা আলিঙ্গন করতে এসেছে, তাদের ভয় দেখাবে কে?
রণাঙ্গন তখন আক্ষরিক অর্থেই মৃত্যুপুরী। মুসলিম সেনাপতিরা একে একে লুটিয়ে পড়ছেন। জাফর ইবনে আবি তালিব (রা.) পতাকা হাতে তুলে নিলেন। রোমানদের হাজার হাজার তরবারি তখন তাঁকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছে। এক কোপে তাঁর ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল! তিনি থামলেন না, বাম হাতে পতাকা ধরলেন। বাম হাতও কেটে ফেলা হলো! তবুও তিনি আল্লহর দ্বীনের পতাকাকে ধুলোয় মিশে যেতে দেননি। কাটা দুই বাহু দিয়ে পতাকাকে বুকের সাথে জাপটে ধরলেন, যতক্ষণ না তাঁর শরীর টুকরো টুকরো হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।
শত মাইল দূরে মদিনার মসজিদে তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। রসুলুল্লহ ﷺ মিম্বরে বসে আছেন, আর তাঁর দুচোখ বেয়ে বৃষ্টির মতো অশ্রু ঝরছে। তিনি মদিনায় বসেই মুতার প্রান্তর দেখতে পাচ্ছেন। সাহাবীদের দিকে তাকিয়ে রুদ্ধকণ্ঠে বললেন, "জায়েদ শহীদ হয়েছে এরপর জাফরও শহীদ হয়েছে। দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মানুষটির কান্না দেখে মসজিদে পিনপতন নীরবতা নেমে এল। যখন মুসলিম বাহিনী প্রায় নেতৃত্বশূন্য, হতাশা যখন গ্রাস করতে উদ্যত ঠিক তখনই গর্জে উঠলেন 'আল্লহর তলোয়ার' খালিদ বিন ওয়ালিদ'। শোককে তিনি পরিণত করলেন এক প্রলয়ঙ্করী শক্তিতে। সেদিন তিনি রোমানদের ব্যূহ ভেদ করে এমন উন্মত্ত আক্রোশে তলোয়ার চালাচ্ছিলেন যে, ইস্পাতের তৈরি তলোয়ারও তাঁর হাতের শক্তির কাছে হার মানছিল। একটি নয়, দুটি নয় যুদ্ধ চলাকালীন তাঁর হাতে একে একে ৯টি তলোয়ার ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়!
📌ইস্পাত ভেঙেছে, কিন্তু খালিদ বিন ওয়ালিদের ঈমান ভাঙেনি। ২ লক্ষ শত্রুর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে তিনি মু'স'লিম বাহিনীকে ধ্বংসের হাত থেকে ছিনিয়ে এনেছিলেন।
আজ আমরা সামান্য বিপদেই ভেঙে পড়ি। অথচ আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন এমন সিংহদিল, যারা মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে বিজয় ছিনিয়ে আনতেন। সেই রক্তই তো আমাদের শিরায়, তবে কেন আজ আমরা এত ভীত?
আমাদের আবার ও উঠে দাঁড়াতে হবে কেননা বিজয় আমাদের ই হবে ইনশাআল্লাহ ♥️