08/05/2025
**রোগীলিপি করার নিয়ম**
রোগীর নাম-
রোগীর বয়স-
পেশা- পিতা/স্বামীর নাম-
ওজন-
শারীরিক গঠন-
ঠিকানা-
প্যাথলজীক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট-
রোগীর বক্তব্য: (রোগীর বক্তব্য শোনার পূর্বে রোগীকে বলে নিতে হবে যে, "আপনার যা যা সমস্যা আছে সবই বলবেন, কোনোটি গোপন করবেন না আবার কোনোটি বাড়িয়েও বলবেন না আর রোগের কথা বলতে লজ্জাবোধ করবেন না। তবে ধীরে ধীরে বলবেন যাতে সবকিছু আমি কাগজে লিখতে পারি।" এরপর রোগী যা যা বলবে সেই সমস্ত লক্ষণগুলোর "হ্রাসবৃদ্ধি" যাচাই বাছাই করে চিকিৎসক কাগজে লিখবেন।) (উদাহরণস্বরূপ- গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যায়- পেটে গ্যাস হয় কিনা, পেটে জ্বালাপোড়া হয় কিনা, ঢেকুর হয় কিনা বা বাহ্যের রাস্তা দিয়ে কি বায়ু নির্গত হয় কিনা, তাতে কি কোনো উপশম হয় কিনা ইত্যাদি যাচাই বাছাই করে চিকিৎসক কাগজে লিখবেন।)
এরপর রোগীর সমস্ত কিছু শোনার পর চিকিৎসক পুনরায় রোগীকে জিজ্ঞাসা করবেন যে "রোগ সম্পর্কে আপনার কি আরো কোনো কিছু বলার আছে?" যদি থাকে তাহলে কাগজে লিখবেন। আর যদি না থাকে তাহলে চিকিৎসক বলবেন যে, "এখন আমি যা যা প্রশ্ন করবো তার তার সঠিক উত্তর দেবেন।
*** মানসিক: আপনার রাগ কেমন? মেজাজ কি খিটখিটে নাকি শান্ত, কিরকম? আপনার মানসিক কোনো কষ্ট আছে কিনা? থাকলে তা কিরকম? (প্রেমে বিচ্ছেদ, মানসিক আঘাত, দুঃখ, কষ্ট, ঘুাশা, চাপা ক্ষোভ ইণ্যাদি আছে কিনা) কোনো কিছুতে ভয়-ভীতি আছে কিনা থাকলে তার বিস্তারিত বিবরণ যাচাই বাছাই করে চিকিৎসক কাগজে লিখবেন।
*** শারীরিক বৈশিষ্ট্য/ কাতরতা: আপনি কিসে কাতর, শীতে নাকি গরমে? (তারপর যাচাই বাছাই), শীতের সময় কি অন্যদের তুলনায় বেশি কাপড় লাগে নাকি অল্পতেই হয়? গরমের সময় কি ফ্যান বা বাতাস ছাড়া থাকতে পারেন ? এরপর চিকিৎসক কাগজে লিখবেন।
*** আন্ত্রিক ইচ্ছা অনিচ্ছা : মুখে রুচি কেমন? ক্ষুধা লাগলে সহ্য করতে পারেন কিনা? আপনি কি ধরনের খাবার পছন্দ করেন? (অনেক ধরনের খাবার আছে তৈলাক্ত, ভাজাপোড়া, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, টক, ঝাল, মিষ্টি ইণ্যাদি থেকে কোনটি পছন্দ আর কোনটি অপছন্দ) ডিম পছন্দ করলে কি ধরনের ডিম পছন্দ, সিদ্ধ নাকি ভাজা। দুধ খেলে পেটে সমস্যা হয় কিনা। টোকা লবণের অভ্যাস আছে কিনা। পানি পিপাসা কেমন। একবারে কি বেশি পানি পান করেন নাকি অল্প পানি পানেই পিপাসা মিটে যায়। কখন পিপাসা হয় শীতে? তাপের সময়? অথবা এর আগে? অথবা পরে? পিপাসা কি রকম? পিপাসায় কি ধরনের পানীয় পছন্দনীয়? কিরকম খাবার পছন্দ, ঠান্ডা নাকি গরম। (মাঝখানে আর একটি কথা বলে নেই, পেটকে তিন ভাগ করে খাবার খাওয়া সুন্নত। "যেমন, একভাগ খাবেন, একভাগ খালি রাখবেন, আর একভাগ পানি খাবেন" তবে পানিটা খাওয়া দাওয়ার সাথে সাথে নয়, খাবারের কমপক্ষে ৩০ মিনিট পর পানি খাবেন এতে করে আপনার ইনশাহআল্লাহ কখোনোই গ্যাষ্ট্রিকের সমস্যা হবে না।)
*** শয়ন-নিদ্রা অবস্থা : আপনার ঘুম কেমন? কোন কাতে শয়নে পছন্দ করেন ? (ডান, বাম, চিৎ, উপুর কিভাবে?) ঘুমের ঘোরে আবল তাবল কথা বলেন কিনা? মুখ দিয়ে লালা পড়ে কিনা? দাত কিরমির করেন কিনা? (আপনার পাশে যে শয়ন করে সে বলে কিনা?) নিদ্রাকালে কেমন আচরণ করে? ঘ্যানঘ্যান করে গোঙান, কথা বলেন, কেঁদে উঠেন? নিদ্রাকালে চমকে উঠেন? নিশ্বাস গ্রহণকালে নাকি ত্যাগ করার সময় তার নাক ডাকেন? চিৎ হয়ে শয়ন করেন, অথবা কোন্ পাশে শয়ন করেন? আপনি ভাল করে ঢেকে শয়ন করে নাকি তার উপর কাপড় রাখতে পারেন না? আপনি সহজে জাগেন অথবা খুব ভালভাবে ঘুমান? ঘুম থেকে জাগার পরমুহ‚র্তে কেমন লাগে? কোন্ লক্ষণ কিভাবে সংঘটিত হয়? কি কারণে লক্ষণটি প্রতিবার সংঘটিত হয়? এটি কি বসা অবস্থায়, শয়ন অবস্থায়, দাড়ানো অবস্থায় নাকি সঞ্চলনকালে হয়? ঘুমের মধ্যে অস্থিরতা আছে কিনা? বিছানায় এপাশ ওপাশ করেন কিনা? ইণ্যাদি যাচাই বাছাই করে চিকিৎসক কাগজে লিখবেন।
*** ঘর্ম অবস্থা : আপনার শরীরে ঘাম হয় কেমন? ঘর্ম কখন হয় তাপের শুরুতে, নাকি শেষে ? অথবা তাপের কত ঘণ্টা পর? কোন্ অঙ্গে ঘাম বেশি হয়? (হাত, পা, মাথা, বগল, বুক পিঠ কোন্ অঙ্গ?) হাতের তলা বা পায়ের তলা বেশি ঘামে কিনা? ঘামার পর নিজের কাছেই দুর্গন্ধ মনে হয় কিনা? ঘামলে কোনো সমস্যার বৃদ্ধি বা উপশম আছে কিনা? ঘর্ম কিরকম, শীতল নাকি উষ্ণ কিরকম? ইণ্যাদি যাচাই বাছাই করে চিকিৎসক কাগজে লিখবেন।
*** জিহŸা : জিহŸা কেমন, চওড়া বা প্রশস্ত, চিকন নাকি পাতলা, কম্পমান, পেপিলাগুলো উন্নত কিনা, দন্তচ্ছাপ আছে কিনা, জিহŸায় ফাটল আছে কিনা, জিহŸা ময়লাবৃত কিনা, দাতের মাড়ি থেকে রক্ত আসে কিনা, মুখে দুর্গন্ধ হয় কিনা ইণ্যাদি যাচাই বাছাই করে চিকিৎসক কাগজে লিখবেন।
*** হাত-পায়ের অবস্থা : শরীরে, হাতে, পায়ে বা কোথাও মাইচ, আঁচুলি, কাটাগাড়া, খাইরা, কুনি ইণ্যাদি আছে কিনা বা পূর্বেও কখনো ছিল কিনা বা কখনো বাহ্যিকভাবে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা বা কেটে ফেলা হয়েছে কিনা? হাত, পা বা শরীরের কোনো স্থানে কাটলে পাকে কিনা ? নাকি তাড়াতাড়িই শুকায়? হাতের তলায় পায়ের তলায় জ্বালাপোড়া করে কিনা? শীতের সময় হাতের তলা বা পায়ের তলা লেপের বা কম্বলের বাহিরে রাখলে ভালো লাগে কিনা? ইণ্যাদি যাচাই বাছাই করে চিকিৎসক কাগজে লিখবেন।
*** বাহ্য প্রস্রাবের অবস্থা : বাহ্য কিরকম? পরিস্কারভাবে হয় কিনা? কতক্ষণ পর পর বাহ্য হয়? মলের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য? সাদাটে বাহ্য কি শুধু মল, নাকি শ্লেষ্মা যুক্ত? বাহ্যের সময় কি ব্যথা করে? ব্যথার বৈশিষ্ট্য কী এবং কোথায় ব্যথা করে? প্রস্রাব ত্যাগ করার সময় ঘোলা, নাকি প্রস্রাব শেষে দাড়ানোর পর ঘোলা হয়? প্রস্রাব যখন প্রথম বের হয় তখন এর রং কী? তলানির রং কী? প্রস্রাবের আগে বা পরে জ্বালাপোড়া করে কিনা? করলে তা কতক্ষণ স্থায়ী হয়?
*** লজ্জাকর কোনো কারণ থাকলে, রোগী অথবা তার বন্ধুরা স্বীকার করতে চায় না, অন্তত স্বেচ্ছায়। চিকিৎসক দক্ষতার সাথে প্রশ্ন করে অথবা গোপনে তা জানার চেষ্টা করবেন। এ-জাতীয় কারণগুলো হচ্ছে: আত্মহত্মার চেষ্টা, হস্তমৈথুন, স্বাভাবিক অথবা অস্বাভাবিক অমিতাচার, মদ, উত্তেজক বস্তু, শরাব এবং অন্যান্য উত্তেজক পানীয় বা কফি পান, অতিভোজন, অথবা ক্ষতিকর খাদ্যগ্রহণ, যৌনরোগে অথবা চুলকানিতে সংক্রমণ, দুর্ভাগ্যজনক ভালবাসা, ঈর্ষা, পারিবারিক অশান্তি, বিরক্তি, পারিবারিক দুর্ভাগ্যজনিু দুঃখ, দুর্ব্যবহার, প্রতিশোধ নিতে নিরাশ, আহত গর্ব, আর্থিক দূরাবস্থা, কুসংস্কারমূলক ভয়, অনাহার, অথবা গুপ্ত অঙ্গের ত্রুটি, বিদারণ, স্থানচ্যুতি ইণ্যাদি।
*** মহিলাদের চিররোগে গর্ভধারণ, বন্ধ্যত্ব, যৌন আকাক্সক্ষা, সন্তান প্রসব, গর্ভপাত, স্তন্যদান ও মাসিক ঋতুস্রাবের অবস্থা সম্পর্কে মনোযোগ দেয়া বিশেষভাবে আবশ্যক। বিশেষ করে শেষোক্ত বিষয় নির্ণয় করতে আমাদের অবহেলা করা উচিত নয় যে, ঋতুস্রাব অল্প বিরতি দিয়ে হয়, নাকি যথার্থ সময়ের পরে বিলম্বে হয়, কতদিন স্থায়ী হয়, স্রাব অবিরাম নাকি থেমে-থেমে হয়, এর স্বাভাবিক পরিমাণ কী, এর বর্ণ কি রকম গাঢ় হয়, ঋতুস্রাবের আগে অথবা পরে শ্বেতস্রাব হয় কিনা, কিন্তু বিশেষভাবে ঋতুস্রাবের আগে, সময়ে, এবং পরে দৈহিক অথবা মানসিক যন্ত্রণা হয় কিনা, কিরূপ অনুভ‚তি ও ব্যথা হয়; যদি শ্বেতপ্রদর থাকে তাহলে এর বৈশিষ্ট্য কী, স্রাবের সময় কিরূপ অনুভব হয়? স্রাবের পরিমাণ কেমন এবং কোন্ অবস্থায় এবং কি কারণে তা সংঘটিত হয়? মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব ও অন্যান্য স্রাবের বৈশিষ্ট্য লিখতে হবে ইত্যাদি ।
*** চিররোগের ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত লক্ষণসমূহ এবং অন্যান্য সকল বিষয় খুব গুরুত্বসহকারে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করতে হবে এবং ছোট ছোট বিশেষত্বগুলোর প্রতি খুব মনোযোগ দিতে হবে। কারণ চিররোগের স‚² বিশেষত্বগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং রোগের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করে। অচির রোগলক্ষণের সাথে তাদের খুব কমই মিল থাকে। অর্থাৎ অচির রোগলক্ষণের মতো তারা খুব তীব্র ও স্পষ্ট থাকে না। ফলে আরোগ্য সংঘটিত করার জন্য এ-সব টুকিটাকি বিশেষত্ব যত সঠিকভাবে জানা আবশ্যক তা জানতে পারা যায় না। রোগীরা এসব লক্ষণে দীর্ঘদিন ভোগার ফলে প্রায়ই অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা এ-সব লক্ষণকে গুরুত্ব দেয় না এবং জীবনের স্বাভাবিক অবস্থা বলেই মনে করে। তাই এ-সব স‚² লক্ষণগুলোর প্রতি চিকিৎসক সর্তক মনোযোগ দিবেন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করবেন। ছোটখাট এ-সব লক্ষণ অনেক ক্ষেত্রে ঔষধ নির্বাচনের জন্য খুবই অপরিহার্য হয়ে উঠে। অথচ রোগীরা এ-সব লক্ষণ চিকিৎসকের কাছে বলার প্রয়োজন অনুভব করে না। কারণ এতে কোনো যন্ত্রণা থাকে না অথবা সামান্য যন্ত্রণা থাকলেও রোগীরা তাতে অভ্যস্ত হওয়ার ফলে তা চিকিৎসা করার প্রয়োজন মনে করে না, এ-ছাড়াও রোগীর মূল রোগের সাথে এ-সব খুটিনাটি বিষয়ের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে তা রোগীরা জানে না। যেমন ধরুন- রোগী বেশি লবণ খায়, মিষ্টি পছন্দ করে, শীতে কাতর, খোলা বাতাস পছন্দ, গরম খাবার পছন্দ, তৈলাক্ত খাবার অপছন্দ, মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবকালে সামান্য পেটব্যথা, ঋতুস্রাবের আগে-পরে সামান্য শ্বেতপ্রদর ইণ্যাদি বিষয়গুলোকে রোগীরা খুব স্বাভাবিক ঘটনা মনে করে এবং মূল রোগের সাথে এ-সব ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে বলে রোগীরা মনে করে না। এ-সব বিষয়ে কিছু জানতে চাইলে রোগীরা বরং বিরক্তিবোধ করে। অথচ চিররোগের চিকিৎসায় এ-সব লক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই চিকিৎসকের উচিত কৌশলে এ-সব লক্ষণ সম্পর্কে অবগত হওয়া। অর্থাৎ এসব তথ্য সংগ্রহের জন্য রোগীকে প্রথমেই সদৃশ চিকিৎসায় লক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে পূর্ব ধারণা দেয়া আবশ্যক।
*** রোগীর পূর্ব ইতিহাস, বংশগত ইতিহাস, কিরকম চিকিৎসা এযাবৎ করানো হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ চিকিৎসকের জানতে হবে এবং প্রয়োজনে কাগজেও লিখতে হবে।
*** রোগীর আসল তথ্য সংগ্রহ করা একটি জটিল ও কঠিন কাজ। তাই চিকিৎসকের খুব কৌশলী হতে হবে। এমনভাবে রোগীকে প্রশ্ন করতে হবে যাতে সে তার রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে বাধ্য হয়। চিকিৎসক যদি রোগীকে উত্তর নির্দিষ্ট করে দেন তাহলে রোগী ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বলে প্রশ্নের জবাব দিবে।
এরূপ সংক্ষিপ্ত জবাব থেকে কোনোই ভিত্তিযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে না। বরং চিকিৎসক বিপথে পরিচালিত হবেন। কাজেই কিভাবে প্রশ্ন করলে রোগী বিস্তারিত বলবে এবং সঠিক উত্তর দিবে তা চিকিৎসকের জানা থাকতে হবে। তবে কৌশলটি সম্পূর্ণ ক্লিনিক্যাল। তাই ক্লিনিক থেকে কৌশলটি পুরাপুরি আয়ত্ত করতে হবে। রোগীকে প্রশ্ন করার ভাষা এবং কৌশল এমন হতে হবে যাতে রোগী লজ্জা, ভয়, বিহŸলতা এবং বিব্রতকর অবস্থায় না পড়ে। প্রশ্নকারীর লক্ষ্য হতে হবে রোগীর রোগসংক্রান্ত আসল এবং আবশ্যকীয় কথাটি বের করে আনা । প্রশ্নকারী এবং উত্তরদাতার মধ্যে যেন কোনো ভুল বোঝাবুঝি হতে না পারে এ-বিষয়ে প্রশ্নকারীকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে। চিকিৎসকের আচরণ, বেশ-ভ‚ষা এবং কথাবার্তার মধ্যে বিশ্বস্ততার ছাপ থাকতে হবে অন্যথা রোগী তাকে বিশ্বাস করে সব কথা বলতে চাইবে না। আর রোগীলিপি করাটা হচ্ছে একটি আর্ট। আর এই আর্টটা নির্ভর করে শিল্পীর দক্ষতার উপর। “অধিকাংশ চিত্রশিল্পীর প্রধান সংকট এই যে, তারা খুব বেশি পরিমাণে দেখেন এবং বেশি পরিমাণে দেখে লক্ষ্যহীন বিস্তৃত বিবরণে তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন, যা তাদের কাজকে বিশেষত্বহীন করে এবং তারা তাদের কষ্টের ফল খুব কমই পেয়ে থাকেন।”
হোমিওপ্যাথিতে সর্বপ্রথম মুক্তমনে রোগী পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তারপর রোগীর অধিক আকর্ষণীয়, অসাধারণ, বিরল, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ (রোগের চরিত্রগত) লক্ষণসমূহ নির্ণয় করতে হবে। তারপর ঔষধ খুঁজতে হবে সাদৃশ্যের ভিত্তিতে। অর্থাৎ রোগের চরিত্রগত লক্ষণগুলো যে ঔষধের অন্তর্ভুক্ত হয় সেই ঔষধটি (একক ঔষধ) রোগীকে দিতে হবে উচ্চশক্তিতে এবং অত্যাধিক ক্ষুদ্রতম মাত্রায়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে, অর্গাননের নির্দেশ উপেক্ষা করে অধিকাংশ হোমিওপ্যাথ মেটিরিয়া মেডিকা সামনে রেখে রোগীর মধ্যে ঔষধের সদৃশ লক্ষণ খুঁজেন। তাতে যদি রোগের চরিত্রগত লক্ষণ ঔষধের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে রোগী সুফল পায়। আর যদি রোগের শুধু সাধারণ এবং নিদানগত লক্ষণসমূহ ঔষধের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে রোগীর অকল্যাণ ছাড়া আর কিছু হয় না।
মহাত্মা হ্যানিম্যান বলেছেন যে, "আগে সঠিকভাবে রোগীলিপি লিখতে হবে তারপর তা থেকে রোগের চরিত্রগত লক্ষণ নির্ণয় করতে হবে। তারপর উক্ত লক্ষণগুলো মেটেরিয়া মেডিকায় খুজতে হবে।"
আর একটি সঠিক রোগীলিপি লিখা শেষ হওয়া মানে চিকিৎসকের সর্বাধিক কঠিন কাজটি সফলতার সাথে সুসম্পন্ন হওয়া।