18/08/2026
কিছু সম্পর্ক রক্তের সম্পর্ক নয়, তবুও কিছু মানুষ হৃদয়ের এতটা কাছের হয়ে যায় যে, তাদের চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সহজ হয় না। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের কথা আমরা পড়ি—সজীব ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটাও ছিল তেমনই এক গভীর ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক।
আজ আমাদের সেই প্রিয় ভাই সজীব আমাদের ছেড়ে তাঁর আসল গন্তব্যে চলে গেছেন।
কথাগুলো লিখতে বসে বারবার থেমে যাচ্ছি। অনেক কথাই সাজিয়ে লিখতে পারছি না। কারণ কিছু মানুষের চলে যাওয়ার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
ভাই যখন প্রথম আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আসেন, তখন খুব মনোযোগ দিয়ে আমাদের কাজ বোঝার চেষ্টা করতেন। এরপর যখন আমাদের সঙ্গে কাজ শুরু করলেন, তখন তাঁর মধ্যে আমি দেখেছি অসাধারণ ডেডিকেশন, আনুগত্য, শৃঙ্খলা, বিনয় ও দায়িত্ববোধ।
কাজের ব্যাপারে তাঁকে যখনই বলা হতো, বিশেষ করে কোনো ক্যাম্পেইন বা প্রোগ্রামের কথা—সাধ্যমতো সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করতেন। আমি ব্যক্তিগত কোনো কাজে তাঁকে প্রয়োজন হলে অনেক সময় না বলতেই পাশে পেয়ে যেতাম।
তিনি ছিলেন অত্যন্ত মুয়াদ্দাব ও বিনয়ী মানুষ। একদিন ভাই বলছিলেন—
“ভাই, রাগ ওঠে, অনেক কিছু দেখে রাগ লাগে। কিন্তু আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের পর এখন যে গালি দেয়, তাকেও সালাম দিই।”
এই কথাটা আজও মনে পড়ে।
ভাইয়ের ভেতরে আবেগ ছিল, রাগ ছিল; কিন্তু দ্বীনের কাজের সঙ্গে থাকার কারণে তাঁর মধ্যে যে পরিবর্তন এসেছিল, সেটা খুব স্পষ্টভাবে দেখা যেত। তাঁর মধ্যে হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো হকের প্রতি দৃঢ়তা, অন্যায়ের প্রতি ক্ষোভ এবং উম্মাহর জন্য দরদ দেখতে পেতাম। আল্লাহ তায়ালা তাঁর এই গুণগুলোকে কবুল করুন এবং তাঁর জীবনের সকল ভালো কাজকে নাজাতের উসিলা বানিয়ে দিন।
সজীব ভাই ছিলেন সত্যিই উম্মাহদরদী একজন মানুষ। কোনো ইসলাহী প্রোগ্রামে গেলে তিনি শুধু নিজের কাজটুকু করে বসে থাকতেন না। মানুষের কাছে যেতেন, আলাদাভাবে কথা বলতেন, যুবকদের ডাকতেন, মুরুব্বীদের সঙ্গে বসতেন, বোঝাতেন। মানুষের সংশোধন ও কল্যাণের ব্যাপারে তাঁর ভেতরে একটা আলাদা ব্যাকুলতা ছিল।
আর কাজের ক্ষেত্রে তাঁর একটি বিষয় আমাকে সবসময় মুগ্ধ করত—তাঁকে বেশি কিছু বুঝিয়ে বলতে হতো না।
আমরা যখন সবাইকে কোনো কাজের ব্যাপারে বিস্তারিত বুঝাতাম, তখন সে হেসে বলত—
“ভাই, এত বলা লাগে? আপনি যা বলছেন, একবার বললেই তো হয়। আমাদেরকে এত বোঝানো লাগবে কেন?”
এই আনুগত্য ও আস্থার মানুষ পাওয়া সত্যিই কঠিন।
ভিডিও ধারণের জন্য কোনো জায়গায় গেলে কোথায় চেয়ার লাগবে, কোথায় পাটি লাগবে, কোথায় পানির ব্যবস্থা করতে হবে—এসব নিয়ে তাঁকে আলাদা করে বলতে হতো না। নিজের দায়িত্ব মনে করে আগেই সবকিছু গুছিয়ে ফেলতেন।
আজ মনে হচ্ছে, আমরা শুধু একজন ভাইকে হারাইনি; মাদারীপুর ইয়ুথ অর্গানাইজেশন হারিয়েছে একজন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ, বিনয়ী, পরিশ্রমী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আনুগত্যশীল কর্মীকে।
সজীব ভাইয়ের মতো মানুষ পাওয়া সহজ নয়।
আজ তাঁর প্রতিটি কথা, প্রতিটি আচরণ, প্রতিটি স্মৃতি মনে পড়ছে। আর চোখের পানি ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
ভাই, আপনি আমাদের মাঝে নেই—কিন্তু আপনার সঙ্গে কাটানো সময়গুলো, আপনার আন্তরিকতা, আপনার নীরব সেবা ও আপনার সুন্দর আচরণ আমাদের হৃদয়ে থেকে যাবে।
আমরা আল্লাহরই এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব।
হে আল্লাহ, আমাদের প্রিয় ভাই সজীবকে ক্ষমা করে দিন, তাঁর কবরকে নূরান্বিত ও প্রশস্ত করে দিন, তাঁর সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন, দ্বীনের জন্য তাঁর করা চেষ্টা ও আমাদের সংগঠনের কাজে তাঁর শ্রমকে কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন। আমাদেরকে এই কঠিন শোক ধৈর্যের সঙ্গে সহ্য করার তাওফিক দিন।
آمين يا رب العالمين