01/06/2026
কেয়ামতের সেই ভয়াবহ দিন...
যেদিন সমস্ত সৃষ্টি মহান রবের সামনে উপস্থিত হবে, সেদিন জান্নাতবাসীরা থাকবে এক পাশে, আর জাহান্নামবাসীরা অন্য পাশে।
সেদিন জাহান্নামের সারিতে এমন অনেক মানুষকে দেখা যাবে, যাদের নাম একসময় দ্বীনের ময়দানে শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হতো। কেউ ছিলেন আলেম, কেউ দাঈ, কেউ মুজাহিদ, কেউ দানবীর। তাদের ত্যাগ, কষ্ট, পরিশ্রম ও খেদমত দেখে মানুষ মুগ্ধ হতো। অনেকেই তাদেরকে নিজেদের আদর্শ মনে করত।
কিন্তু আজ...
তারা দাঁড়িয়ে আছেন জাহান্নামের সারিতে।
তখন জান্নাতবাসীদের মধ্য থেকে কেউ বিস্ময়ে বলবে—
"হে আমার রব! এই মানুষটি তো আপনার দ্বীনের জন্য কাজ করেছে। কত কষ্ট করেছে, কত ত্যাগ করেছে! তবে আজ সে কেন জাহান্নামে?"
কেউ বলবে—
"সে তো মানুষের উপকার করেছে, অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছে, দ্বীনের কথা প্রচার করেছে। তাহলে আজ তার এই পরিণতি কেন?"
কিন্তু সেদিন আমলের বাহ্যিক চাকচিক্য নয়, মানুষের প্রশংসা নয়, অনুসারীর সংখ্যা নয়; বিচার হবে অন্তরের সত্যতা, ঈমানের দৃঢ়তা এবং শেষ পরিণতির ভিত্তিতে।
দুনিয়ার ইতিহাস সাক্ষী...
অনেক মানুষ সারা জীবন দ্বীনের খেদমত করেছেন, কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পথ হারিয়েছেন।
আবার অনেক পাপী বান্দাও ছিল, যাদের অতীত ছিল অন্ধকারে ভরা; কিন্তু মৃত্যুর আগে আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন এবং ঈমানের উপরই তাদের জীবন শেষ হয়েছে।
এ কারণেই দ্বীনের পথে চলা যতটা কঠিন, তার চেয়েও কঠিন হলো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই পথে অবিচল থাকা।
তাই কোনো বড় ব্যক্তির পদস্থলন দেখে হতাশ হওয়ার আগে নিজের হৃদয়কে প্রশ্ন করুন—
▪️ আমি কি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারব?
▪️ আমার ঈমান কি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অটুট থাকবে?
▪️ আজ যে আমল করছি, তা কি আমাকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হিদায়াতের উপর রাখবে?
মুমিন কখনো নিজের আমল নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকে না।
সে সবসময় ভয় করে—
আজ আমি আছি, কিন্তু আগামীকাল?
আজ আমার অন্তরে ঈমান আছে, কিন্তু মৃত্যুর সময়?
আজ আমি দ্বীনের পথে আছি, কিন্তু শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত?
তাই আসুন...
ইস্তিগফারকে সঙ্গী বানাই।
দোয়াকে অস্ত্র বানাই।
বিনয়কে অলংকার বানাই।
তাযকিয়াহ, তারবিয়াহ ও আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেদেরকে গড়ে তুলি।
কারণ...
আমলের চেয়ে বড় বিষয় হলো আমলের উপর অটল থাকা।
আর জীবনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঈমানের সাথে জীবনের সমাপ্তি হওয়া।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে বক্র করে দেবেন না। আমাদের জীবন ও মৃত্যু ঈমানের উপরই দান করুন।
আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন