19/04/2026
গিরিশ চন্দ্র সেন ছিলেন একজন বাঙালি ধর্মবেত্তা, অনুবাদক ও বহুভাষীক। ভাই গিরিশচন্দ্র সেন নামেই তিনি বেশি পরিচিতি পেয়েছেন। তিনিই প্রথম পবিত্র কুরআন বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন। তিনি আরবি, ফার্সি, উর্দু এবং ইসলামী বিষয়াবলী সমন্ধে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন।
ভাই গিরিশচন্দ্র সেন ১৮৩৪ সালে নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। গিরিশচন্দ্রের পিতা ছিলেন মাধবরাম সেন এবং পিতামহ ছিলেন রামমোহন সেন। পেশাগত জীবনের প্রথম পর্যায়ে তিনি ময়মনসিংহের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছারিতে নকল নবিশ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে স্বল্প সময়ের জন্য ময়মনসিংহ জেলা স্কুলে শিক্ষকতা করে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
ছাত্রজীবনে তিনি ফারসি ও সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা করেন। কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন এবং প্রচারব্রত গ্রহণ করে উত্তর ভারত, দক্ষিণ ভারত ও ব্রহ্মদেশ ভ্রমণ করেন। গুরু কেশবচন্দ্র সেনের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তিনি ইসলামি সাহিত্য-সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। এ উপলক্ষে আরবি ভাষা ও ইসলামিক ধর্মশাস্ত্র চর্চার জন্য তিনি ১৮৭৬ সালে লখনো গমন করেন। পরবর্তীতে তিনি তার প্রকাশনী হতে (১৮৮১–১৮৮৬) সালে কুর'আনের পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেন।
এছাড়াও তিনি পবিত্র মিশকাত শরীফ হাদিস গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ করেন। সুফি সাধকদের জীবনী তাজকিরাতুল আউলিয়া গ্রন্থ সহ গুলিস্তাঁ ও বুস্তাঁ নামে ফারসি কবি শেখ সাদীর বিখ্যাত গ্রন্থের অনুবাদ, দেওয়ান-ই-হাফিজ নামে কবি হাফিজের কবিতা সংকলনও করেন তিনি।
জীবনী ও ইতিহাস নিয়ে তার লেখা প্রথম গ্রন্থ ব্রহ্মময়ী চরিত ১৮৬৯ সালে প্রকাশ করেন, যা তার স্ত্রীর জীবনী নিয়ে লেখেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনী নিয়ে লেখেন মহাপুরুষ মোহাম্মদ, মহানবীর দৌহিত্রদের জীবনী নিয়ে লেখেন " ইমাম হাসান ও হুসাইনের জীবনী, ধর্মনীতিতে চার খলিফা নামে লেখেন ইসলামের প্রথম চার খলিফার জীবনী , তাপসমালা ছিল তার মুসলিম আউলিয়াদের জীবনী সংকলন।
সবমিলিয়ে তিনি ৪২টি পুস্তক বাংলা ভাষায় রচনা ও প্রকাশ করেন। বইগুলো মুসলিম সমাজে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। গিরিশচন্দ্র সেন ১৯১০ সালের ১৫ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন। ব্যবহৃত ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।
#গিরিসচন্দ্রসেন #নরসিংদী