04/08/2026
আমরা নিজেদের ঠিক কতটা অবহেলা করলে প্রতিদিন নির্বিকারভাবে রাস্তার পাশের দোকান বা হোটেলের পুরি, সিংগারা, চমুচা,বেগুনি, পিয়াজু খেতে পারি?
সমস্যাটা শুধু তেলেভাজা নয়। সমস্যা হলো—একই তেল বারবার ব্যবহার করা।
বাসায় সবচেয়ে ভালো মানের তেলও যদি বারবার উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করা হয়, তাহলে তাতে অক্সিডেশন হয়, ট্রান্স ফ্যাট ও ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হয়। আর বেশির বাগ হোটেল বা রাস্তার দোকানে সেই তেল কতবার ব্যবহার হচ্ছে, তার কোনো হুদিস থাকে না।
অনেক সময় তেলের রঙ দেখলেই অবাক হই সেটি তেল নাকি পোড়া মবিল!!
আমরা যদি এভাবে দীর্ঘদিন খাবার খেতে থাকি সামনের দিন গুলোতে স্থূলতা, হৃদরোগ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ফ্যাটি লিভারসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তেই থাকবে।
আরেকটা বিষয় আমাকে খুব ভাবায়।
আপনি যদি স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে বাইরে নিরাপদ খাবার খুঁজতে বের হন, দেখবেন অপশন খুবই সীমিত। চারদিকে হয়— ডুবা তেলে ভাজা খাবার, অতিরিক্ত চিনি, অতিরিক্ত লবণ, অতিরিক্ত চর্বি, অথবা অতিমাত্রায় প্রসেসড খাবার, আর অনিরাপদ খাবারের ফুলঝুরি!
এরি মধ্যে গত কয়েক দিনে বাইরে খাওয়ার মতো তুলনামূলক ভালো কিছু অপশন খুঁজে পাই তার মধ্যে উল্লেখ্য
১. ভাজা চিনাবাদাম (তেল ছাড়া ভাজা হলে আরও ভালো)
২.সিদ্ধ ডিম
৩.পেয়ারা বা আপেল
৪.পেঁপে
৫. UHT দুধ (চিনি ছাড়া)
এর বাইরে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর অপশন সত্যিই খুব কম।
এদিকে প্রতিদিন নতুন নতুন ফাস্টফুড দোকান, ফুডকার্ট আর রেস্টুরেন্ট খুলছে। ফুড ব্লগাররা সেগুলোর প্রচার করছেন। কিন্তু খুব কম মানুষই প্রশ্ন করছেন—এই খাবারগুলো দীর্ঘমেয়াদে আমাদের শরীরের কী ক্ষতি করছে?
আমি বলছি না, মাঝে মাঝে সিংগারা বা পুরি খেলে বড় সমস্যা হবে। কিন্তু যখন এগুলোই প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে যায়, তখন সেটাই উদ্বেগের বিষয়।
একজন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের জন্য আমাদের গ্রাম /শহরগুলোতে বাইরে স্বাস্থ্যকর খাবারের অপশন বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
লেখক- পুষ্টিবিদ মো. মাঈনুল ইসলাম
মানিকছড়ি, খাগড়াছড়ি।