31/08/2017
সাংবাদিকতা একটি মহান ও আত্মত্যাগী পেশা। জনসাধারনের সুবিধার্থে ঘটনার কাঁচামাল ‘’ তথ্য ‘’ সংগ্রহ করাই মূলত সাংবাদিক বা গণমাধ্যম কর্মীর প্রধান কাজ । কিন্তু প্রকৃত পক্ষে কি সেটাই ঘটছে?
আমরা কতিপয় লোক সাংবাদিকতাকে পণ্য বানিয়ে ফেলেছি। আমাদের আচরণ অনেকটা বাল্যসুলভ, সংবাদ উপস্থাপন বা সাংবাদিকতাকে আমরা চূড়ান্তভাবে হাস্যকর বস্তুতে রূপান্তর করেছি।
আমাদের পেজে গত ১৫ দিনের ১৫০+ অরগানিক লাইক, এবং অসংখ্য কমেন্ট আসলে এটাই প্রমান করে। যে পেজে মাত্র একমাস আগেও ১০০ লাইক ছিল সেটা আজ প্রায় ৩০০। কিন্তু কেন?
এর মুলে রয়েছে গত কয়েকদিনের চাটুলপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন।
অথচ এইসব তথ্য জনগনের জ্ঞানকোষ বাড়ায়নি, যেটা করেছে সেটা হল কিছু ফালতু টপিক নিয়ে ফালতু কিছু সময় পার করার একটি মাধ্যম তৈরি করেছে।
এইবার সাংবাদিক হয়ে উঠার পেছনে কিছু কথা বলি, সমগ্র বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় সিট থাকে মাত্র ৫০ টি । এর মধ্যে ৩০ টি সিট চলতি গণমাধ্যম কর্মীদের , ১০ টি মুক্তিযোধধা কোটা এবং ১০ টি সিট সাধারন ছাত্রদের জন্য। অতএব প্রতি বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র ১০ জন নতুন সাংবাদিকের লেখসত্ত প্রদান করে। আমরা এখানে অনুধাবন করতেই পারছি, আসলে সাংবাদিক হওয়া কতোটা কষ্টের ।
ন্যূনতম বুদ্ধিমত্তা নেই, বাংলা বানান সুদ্ধভাবে লেখার ক্ষমতা নেই, একটা ডি এস এল আর ক্যামেরা থাকলেই আমরা হয়ে গেলাম সাংবাদিক । মানুষের সাধারন লজ্জাবোধ থাকা দরকার, এটা কেউ কাউকে জাগ্রত করে দিয়ে যাবে না ।
সাংবাদিকের কিছু আদর্শ ও নীতি থাকে । কিন্তু বেশীরভাগ সময়েই আমরা নীতি বিরোধী হয়ে যাই । এই মনোভাব থেকে আমাদের বের হতে হবে। সংকীর্ণ মনোভাব নিয়ে কখনো উন্নতির শিখরে পৌঁছানো যায়না । আর অবশ্যই যোগ্যতা না থেকেও নিজেকে সাংবাদিক নামধারী ঘোষণা করে আর যাই হোক সাংবাদিক হওয়া যায়না ।
আর একটা কথা মানবতা কখনো এক পাক্ষিক হয়না, আপনি একদিকে মানবতা দেখাচ্ছেন আবার একই স্রোতের বিপরীতে মানবতাকে ভাসিয়ে দিচ্ছেন এটা কেমন কথা?
এবার আসুন কিছু ধর্মীও কথা শোনা যাক, গৌতম বুদ্ব বলেছেন ‘’অহিংসা পরম ধর্ম’’ । এটা বৌদ্ধ ধর্মের মূলমন্ত্র । ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে বলা হয়েছে, ‘’দুষ্টদের পদ অন্ধকারের ন্যায়, তাহারা কিসে উছোট খাবে, জানে না..’ ( হিতোপদেশ ৪ পদ ৯১) । হিন্দু ধর্ম বেদে বলা হয়েছে, ‘’ জীবে দয়া করেছে যে জন সেজন সেবিছে ঈশ্বর’’ । হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘’ “ যে বেক্তি মানুষকে দয়া করে না, আল্লাহ তায়ালা তাহার উপর রহমত বর্ষণ করে না ” ।
আমরা চাইনা আহসান হাবিব পিয়ারের মত আর কোন সাংবাদিক জন্ম নিক । চাইনা লালসালু যুগে যুগে জন্ম নিক ।
আমরা সাংবাদিকতার নামে এটা কি করলাম? কিছু মানুষকে হেয় করলাম, বেইজ্জতি করলাম এবং হাঁসির পাত্র বানালাম। আর বাকিরা এই পৈশাচিক আনন্দে এইসব খবর পরে উল্লাস করল ।
ঠিক এটাকেই কি বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো বলে? এ কেমন মানবতা?
মন থেকে আগে কুলষতা দূর করতে হবে, তাহলেই আপনার চারপাশের পৃথিবী সুন্দর ও মনোরম হয়ে উঠবে । তাই আসুন মানবতা দিয়ে সবার মন জয় করার চেষ্টা করি, অবশ্যই হিংসা ও বিদ্বেষ দিয়ে নয়।
সবাই ভাল এবং সুস্থ থাকুন। সবার জন্য শুভ কামনা রইল।