02/07/2026
প্রিয় বাবা 🌸
আজ না পেরে খোলা চিঠি লিখছি😥
আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো।
আমার সব গল্প Dipa story's এখানে জমা রাখি..!
বাবা আমার বেস্ট হিরো🙏
আমার প্রথম অধিনায়ক 🌸
এটা অভিযোগ না ।কি বলবো বুঝে উঠতে পারছি না বাবা.!
আমার জন্ম ২০০৪ মে ৭ তারিখ বাবা মা পরিবারে দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে আমি বড়।
২০০৮ সালে আমি প্রথম লামা মিশনে ইন্টারভিউ পরীক্ষা দিয়েছিলাম কম্প্যাশনে। লিখিত পাশ করেছি এর পর মৌখিক পরীক্ষা দিলাম পাশ করলাম। ঠিক সেই দিনে আমার পরীক্ষা খাতা নিয়ে সেখানে পরিচালক স্বামী স্ত্রী দুই জনে আমার বাবাকে ডাকেন। বাবা আমার হাত ধরে কোয়ার্টার লাইনে বাসার উঠোনে সামনে দাঁড়িয়েছেন।
তখন তারা স্বামী-স্ত্রী বাবা কে খুব অপমানিত করেছেন বলেছেন এটা কোনো গরীব দের স্কুল না। এখানে পড়তে হলে প্রচুর টাকা দরকার। বাবা উওরে মুস্কি হেসে বললেন আমি ৬ মাসের বেতন একসাথে দিয়ে যাবো।বাকি ৬ মাস বেতন একসাথে আবার দিবো। আমার বাবা তখন টা ব্যবসায়ী ছিলেন।
এর পর পরিচালক স্ত্রী বাবা কে বললেন এখানে কোনো বে-জাতি ছেলে মেয়ে রাখা হবে না।অথচ সেখানে ম্রো/মার্মা/মুসলিম রা ছিল..!
বাবা কে কেন( বে - জাতি )বললো সেই উওর টা হচ্ছে আমার বাবা একজন রাখাইন মা কে বিয়ে পর মায়ের ছোট মামা কে পালার জন্য সেই গ্রামে যেতে হয়েছিল। আমার মায়ের ছোট মামা একটি (পালিত) কন্যা মেয়ে ছিলো..!শেষ কালে একটু ভালো থাকার ইচ্ছে প্রকাশ করে চিঠি লিখে আমার মায়ের উদ্দেশ্যে। বাবা সেই চিঠি পেয়ে মা কে নিয়ে সেই ত্রিপুরা পাড়ায় চলে আছেন। গ্রামের নাম ছিলো (বাগান পাড়া)
তবে এটাই সত্য যে পালিত মেয়ে অসাধারণ মানুষ ভালো ছিলেন।তার বিবাহ বন্ধনে জীবন সঙ্গী এক গুন্ডা ছিল।সমাজে নিপীড়ন নির্যাতন চালাতো।
আমার বাবা গ্রামে অন্যায় হাওয়া সেই গুলো প্রতি বাদ করতো। গুন্ডামি গ্রামে চাঁদা ওই সব কাজে। বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার করে টাকা উত্তোলন করা হতো গ্রামে। আমার বাবা সেই গুলো প্রতি বাদ করাতে ত্রিপুরা বাগান পাড়ায় মহল্লায় মানুষ গুলো সহ্য করতে পারতো না।যে আসল
গুন্ডামি শিক্ষা যোগ্যতা ছিল এস এস সি পাস ।রুমা আবাসিক স্কুল থেকে।তার সব থেকে দুঃখের সময় গুলো তে আমার মা সাপোর্ট করেছে। যেমন তার এস এস সি দিতে যাওয়া পরীক্ষা অংশগ্রহণ করা এক পয়সাও ছিল না। আমার মায়ের তখন টিচারে ট্রেনিং ছিল বান্দরবানে মা নিজের পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়ে উপকার করেছে। ওদের বাড়িতে খাওয়ার মতো ভাতের চাউল ছিল না। আমার মা ওদের আশ্রয় দিয়েছে খাবার দিয়েছে।তার বাবা মরার অবস্থা অসুস্থ ছিলো। আমার মায়ের সেই অভাগা মামা টা ছিলো আদি যুগে কবিরাজ নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চিকিৎসা করেছে। সুস্থ হয়েছে।পরে সেই বেমানান আমার মায়ের মামা (পালিত) মেয়ে কে বিয়ে করেন । পালিত মেয়ের ভাগ্যে জীবন সঙ্গী ভালো ছিলো না ।এক কথায় যত ধরনের অপকর্মের কাজের সাথে জড়িত।তার আপন মামা হচ্ছে সেখানে পরিচালক যেখানে আমি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেও ছোট করা হয়েছে।তার ভাগ্নিনা গ্রামে গুন্ডামি করতো সেই গুলো কেন প্রতি বাদ করা হয়েছে তাই। সেই সস্তা গুন্ডামি টা আমার মায়ের আশ্রয় পেয়ে যে মানুষ হয়েছে সেটা ভুলে গিয়ে আমার পরিবার বাবার উপর মিথ্যা মামলা মিথ্যা ষড়যন্ত্র দিনের পর দিন গ্রামে চলতো। #রং চা ব্যবহার করা হতো মাথা ব্যথা বা ঠান্ডা হলে ।ওরা তখন কার সময়ে চা কে মাদক বানিয়ে চা খেয়ে গল্প করতো। আমার পরিবারে কি ভাবে বাবাকে শেষ করে দিয়ে তাদের রাস্তা পরিষ্কার করা যায়। ঈশ্বর ঠিক সব আছেন সার দেই ছেড়ে দেই না। কোনো প্রামাণ দিতে না পারা বান্দরবান জেলা মেজিস্ট্রেট খালাস দিয়েছে বাবা কে। পরিচালকের তিন কন্যা সন্তান। যেদিন বাবা কে অপমান করেছিলো পরিচালকের স্ত্রীর গায়ে বেগুনী ব্রাউজ পরা ছিলো রিং নাই রিংছা একি বেগুনী। এখনো ভুলিনি।
২০০৮ সালে যেহেতু লামা মিশনে এই ঘটনা জন্য পড়তে পারিনি ঢাকা বাইরে কুড়িগ্রামে বিদেশি মিশনারিতে আমার প্রথম স্কুল ছিল। বার্ষিক পরীক্ষা পর পর আমার বাবা ছুটি নিয়ে আছে।আর যাওয়া হয়নি সেখানে।২০০৯ সাথে নুনারবিল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করি।
২০১০ -২০২০ পর্যন্ত আবাসিক স্কুল হোস্টেলে দীর্ঘ ১০ বছর পড়েছি। একটা বাচ্চা পড়াশোনা পিছিয়ে পড়া বা সুযোগ না পাওয়ার কারণ হচ্ছে প্রতিহিংসার জন্য।
আমার চেষ্টা বাবা মা ইচ্ছেতে আমি মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। আমার স্মৃতি শক্তি অনেক ভালো। সেই গুলো এতোটাই মাথা রেখেছি যে আমি যেনো কোনো একদিন বুক ফুলিয়ে বলতে পারি ওদের লজ্জা দিয়ে মাথা নিচু করে রাখতে পারি। হ্যাঁ পেরেছি আমার করা লাগেনি তার নিজেরাই লজ্জিত।
আজ প্রতি টা ধাপে ধাপে আমি নিজের জন্য গর্বিত মনে করি।
আমি আমার সমাজে মেয়েদের মধ্যে একাই ব্যবসা করছি কারণ সেটা আমার প্রতিভা। ঈশ্বরের কৃপায় আমি অনেক কিছু গুন অর্জন করেছি।
যখন আমি প্রথম ব্যবসা উদ্দেশ নিয়ে পা রাখি কতু কথা আলোচনা করা হতো ।চা চুমু দিতো আমার নাম শুরু করে।বাইক/গাড়ি ড্রাইভার থেকে শুরু করে মুজুরি চা দোকানে কাজের ছেলে রাও। আমার ইচ্ছে মনোবল আর তাদের সমালোচনা থামিয়ে রাখতে পারিনি। একটা পর একটা ভালো কাজ করছি। অনেক কিছু অর্জন করছি।ওদের দৃষ্টি এবং সমাজে দৃষ্টিতে আমি খারাপ। কিন্তু আমি যা করছি সেটা আমাদের সবার উপরে জিনি আছেন সেই দেখতে পাচ্ছেন । আমার লক্ষ্য উদ্দেশ্য ভালো ছিলো বলে ঈশ্বর আমাকে সেই জায়গা গুলোতে পৌঁছে দিয়েছে।
#সমাজ আমি দিপা বলতেছি আপনাদের/আপনার ঘরে মেয়ে কি করছে আপনি কি করতে পেরেছেন সেটা নিয়ে এবং নিজের পরিবার নিয়ে ভাবেন। আপনার মৃত্যু পর মেয়ে বা স্ত্রী অন্যের ঘরে চাকর হতে না হয়।হাত পাততে না হয় সেই ব্যবস্থা করবেন।
#আপনারা শুধু পারেন অন্যের সংসার ভাঙ্গতে।মদ পান করতে। মারামারি করতে।কারো পরিবার ভালো চলতে পারলে সেটা ধংস করতে।কারো ঘরের সন্তান ভালো কাজ করলে উপহাস করতে করতে ডিপ্রেশন ট্রমা দিয়ে মেরে ফেলতে। বিনা কারণে ভাইরাল করতে। নিজের স্ত্রীর গায়ে হাত তুলতে। স্ত্রীর দের উপর অত্যাচার নির্যাতন করে কাজ করিয়ে নিজেরা পায়ের উপর পা তুলে বসে খেতে পারেন। #এটা তো আরো বেশি ভালো পারেন #কালো যাদু করে ধংস করতে।
#কি শিক্ষা নিবো আমি বা আমরা আপনাদের থেকে...?
সন্ধ্যা হলে মিটিং কোন ঝর্ণা বা ঝিরি যে ঘুরতে যাবো সেখানে মদ খাবো মারামারি করবো সেটাই.???
#সমাজ আপনারা শুনছেন আজ বাবা নেই। আপনি কি আমার পরিবার কে খাবার দিতে পারছেন.?? আমার পরার পোশাক দিতে পেরেছেন...? না পারেননি। তবে আমার বাবা আমাকে যা দিয়ে গেছেন আমি সেই জ্ঞান নিয়ে চলতে পারছি দেখানোর পর ব্যবহার করে খেতে পারছি। আপনি বা আপনারা পারেন উপহাস করে উড়িয়ে দিতে।
#আমার বাবা আমার জন্য যথেষ্ট ইনভেস্টমেন্ট করেছেন। যথেষ্ট সাহস দিয়েছেন। বাবা একটা কথা সব সময় বলতো। #যে দিন তোমার বাবা আর ভাই থাকবে না তখন তুমি কার উপর ভরসা করে চলবা...? সেটার উত্তর হয়তো এখন পেয়ে গেছেন। তাদের রেখে যাওয়া দুই চোখ আলো ভরা দিয়ে নিজের উপার্জন করছি।
#হ্যা সত্যিই আজকে আমার বাবা ভাই কেউই বেঁচে নেই 😥
#আমার বাবা যা করেছেন সন্তান দের জন্য তোমরাও করো।দেখবে তোমাদের অনুপস্থিতে ও তারা কষ্ট পাবে না একবেলা ভাতের জন্য।
#আমার কিছু মুসলিম ভাই বোন রা আমাকে প্রশ্ন করেন।
তাদের উওর টা ও দিয়ে যাচ্ছি। আমার কিছু বান্ধবী আছে ঢাকা উত্তরা/বসুন্ধরা/গুলশানে যেটা ভিআইপি একালা মানে পরিচিত। ওদের ও কারো বাবা নেই বা মা নেই। আমার খুব মায়া হতো। আমি শুনতে পারতাম না বাবা মা নাই সেটা কষ্ট হতো। #আমি ও সেই পথের পথিক এখন।
ওদের সব আছে গাড়ি বাড়ি। যখন একটা পরিবার থেকে কেউই বিচ্ছিন্ন হলে ওই পরিবারের সদস্যদের সমস্যা এবং কষ্ট হচ্ছে।
১/কেউই অসুস্থ হলে তার পিছনে খরচ হিসাব করবেন।
২/টাকা গেলে যাক বাঁচাতে হবে।
৩/টাকা বিনিময়ে জীবন পেতে হবে সেটা একপ্রকার।
দিন শেষে কেউই ঝরে যায়। তখন কিন্তু আস্তে আস্তে অর্থ কমতে থাকে এই যে খরচ মূল উপার্জনের মানুষ গুলো কমে যাচ্ছে। প্রচুর খরচ।
আমি ঈশ্বর বলি আপনি বা আপনারা বলেন আল্লাহ।
এই দুই শব্দের অদৃশ্য শক্তি রা উপর থেকে ক্লিয়ার দেখছেন সেই কখন কাকে কি বানিয়ে দেই আমরা কেউই জানিনা আসলেই।
#আপনারা বলেন মেয়ে রা কেন আয় করবে।সেটা উওর হালাল ভাবে উপার্জন করা ভালো। দেরী তে হলেও আমি /আপনি বড় হবো এতো টা বড় হবো তখন চাইলে কেউই নামিয়ে দিতে পারবেনা। হালাল শক্তি সেটাই বুঝায়
আপনার একটা স্বামী মারা গেলে একটু অভাব বুঝতে পারবেন।
আমি অনেক কিছু গুছিয়ে লিখতে পারছিনা আসলেই। কিন্তু যে বুঝার সেই বুঝতে পারবে সহজ ভাবে।
#বাবা #মা দের সমান করো সেবা করো। অসুস্থ হলে সেবা করো চিকিৎসা অভাবে রাখবেন না। কারণ সেই বাবা মা আমাদের পৃথিবী আলো দেখিয়েছেন নিজে না খেয়ে খেতে দিছেন। সন্তান দের উপর অনেক ইনভেস্টমেন্ট করছেন।
#বাবা #মা দের সেবা যত্ন কখনো ঈশ্বর বা আল্লাহ বৃথা করেন না। আমি সেটা প্রমাণ দিতে পারবো।
বাবা মা আশীর্বাদ হচ্ছে শক্তি 🙏
অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়🙏
#বাবা আমার কিছু বৃথা যায়নি 🌸♥️🙏
সেই শিক্ষা আজীবন থাকবে।