Tears of Hasan

Tears of Hasan Assalamualaikum, welcome to my new page, everyone please support me.

ইমোশনাল_কিছু_কথা_ও_ক্যাপশন!লেখা_সংগৃহীত_লেখাগুলো_দেখে_আসবেন।
07/02/2026

ইমোশনাল_কিছু_কথা_ও_ক্যাপশন!লেখা_সংগৃহীত_
লেখাগুলো_দেখে_আসবেন।

হঠাৎ করে তোমার জীবনে একজন আসবে.., সে তোমার কথা বলার সঙ্গী হবে........., তোমার সব দুঃখ কষ্ট ভাগ করে নেবে......., তোমাকে স...
10/10/2025

হঠাৎ করে তোমার জীবনে একজন আসবে..,
সে তোমার কথা বলার সঙ্গী হবে.........,
তোমার সব দুঃখ কষ্ট ভাগ করে নেবে.......,
তোমাকে সাহস যোগাবে.......,
তোমাকে ছোটখাটো ‌ বিষয়ে যত্ন করবে.....,
তোমার যত কষ্ট কথার মলম দিয়ে সারিয়ে তুলবে......,
তোমাকে রোদে পুড়তে শিখাবে.....,
বৃষ্টিতে ভিজতে শেখাবে......,
দিনের পর দিন রাতের পর রাত তোমার সাথে কথা বলবে.......,
সবচেয়ে বড় কথা তোমাকে নতুন করে বাঁচতে শেখাবে.......,
তখন তোমার মনে হবে হ্যাঁ এরকমই একজনকে আমি চেয়েছিলাম.....,
অনেক বছর অপেক্ষার পর আমি তাকে পেয়েছি.........,
আমার পাশে আছে একজন......।
তারপর যখন কথা বলার অভ্যাসটা তোমার বদভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে তখন একদিন হঠাৎ করে মানুষটা বদলে যাবে....,
তোমাকে ব্যস্ততা দেখাবে....... ,
সারাদিন অপেক্ষা করার পরেও একটা মেসেজ বা কল আসবে না.......।
তুমি বারবার ফোন চেক করবে.....,
কিন্তুু তোমার অপেক্ষা......,
অপেক্ষায় থেকে যাবে.......।
প্রথম প্রথম দুই একবার কল করে তোমাকে বোঝাবে, সে নিরুপায়, তার জীবনে খুব ব্যস্ততা, তাই সে সময় দিতে পারছে না......, এরপর আস্তে আস্তে সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে........।
তুমিও বুঝতে পারবে সেই আর তোমাকে সময় দিতে পারবে না......,
তাই তুমিও মেসেজ বা কল করে বিরক্ত করা বন্ধ করে দিবে.......।
যে মানুষটির জন্য একদিন তুমি ডিপ্রেশন থেকে বেরিয়ে এসেছিলে......,
আবার সেই মানুষটির জন্যই তুমি আরো গভীর ডিপ্রেশনে চলে যাবে......।
তখন মনে হবে আগে তুমিটাই ভালো ছিলে..,
আগের একাকীত্ব টাই ভালো ছিল......,
জীবনে একা থাকা খুব সহজ..........,
কিন্তুু জীবনে কেউ এসে চলে যাওয়ার যে একাকীত্ব সেটা বড়ই কষ্টদায়ক.....।

 #প্রিয়_মন্ত্রী_মশাই    #পর্বসংখ্যা_৭    #আসমানী  একটি নতুন দিনের সূচনা। রংপুরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীণ বরণ অনুষ্...
13/08/2025

#প্রিয়_মন্ত্রী_মশাই #পর্বসংখ্যা_৭ #আসমানী

একটি নতুন দিনের সূচনা। রংপুরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীণ বরণ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পত্র হাতে নিয়ে বসে আছে ফাহিম। চোখ তার আটকে আছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামের দিকে। যেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা ,"বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়"।

" কি দেখেছিস ওভাবে ফাহিম?"

আরহামের কথার জবাবে হাতে থাকা আমন্ত্রণ পত্রটি বাড়িয়ে দেয় তার সামনে। আরহাম প্রসনসূচক দৃষ্টিতে তাকায় ফাহিমের দিকে। ফাহিম আরহামের দৃষ্টি বুঝতে পেরে বলে উঠে,

" ভাই, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নবীণ বরণ অনুষ্ঠানে আপনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। যেহেতু আপনি এখানকার বর্তমান মন্ত্রী। তাছাড়া ,,,"

থেমে যায় ফাহিম। আরহাম ভ্রু কুচকে ফেলে।

" তাছাড়া কি?"

" আর কিছুনা ভাই।"

আমতা আমতা করে বলে ফাহিম। তার কথায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সে কিছু লুকালো। আরহাম কিছুক্ষণ সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ সরিয়ে নেয়। ফাহিমকে সে বিশ্বাস করে। ফাহিম নিশ্চই এমন কিছু করবে না যার দ্বারা সে আরহামের সামনে খারাপ প্রমাণিত হবে। তাই আরহাম আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। ফাহিমকে জানিয়ে দেয় সে যাবে।

______________

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে অদিতির সাথে বসে আছে শুভ্রা। মুখে যেনো অমাবস্যা নেমেছে। শুভ্র মুখশ্রী কেমন যেনো অন্ধকার অন্ধকার দেখা যাচ্ছে। অদিতি জানে কেনো তার প্রাণপ্রিয় বান্ধবী এভাবে বসে আছে। তাই সেও শুভ্রার সাথে চুপ চাপ বসে আছে।

" আমি কি খুব খারাপ অদি ?"

কন্ঠে ঝরে পড়ছে কষ্ট। অদিতি অবাক হয়ে যায় শুভ্রার এমন প্রশ্নে। শুভ্রার মুখে এমন কথা সে মোটেও আশা করেনি।

" তুই কেনো খারাপ হতে যাবি শুভ্রা? তুই খারাপ কে বলল তোকে ?"

" তাহলে যাকে ভালবাসি সে কেনো আমার সাথে কথা বলে না? আমার সামান্য কথায় কেনো রেগে যায়?"

অদিতি এবার বুঝতে পারে শুভ্রার কথার মানে। শুভ্রাযে মন্ত্রী আরহাম শিকদারের বিষয়ে কতোটা পাগল সে ছাড়া আর কেউ বলতে পারবে না।

" তোর মন্ত্রী মশাই কিছু বলেছে নাকি?"

" হুম"

রাতের সব ঘটনা খুলে বলে অদিতিকে। অদিতি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুভ্রার কথা শুনে।

" শুভ্রা, আরহাম শিকদার মন্ত্রী মানুষ। সব সময় নানান বিষয়ে চাপের উপর থাকে। হতে পারে কোনো বিষয় নিয়ে রেগে ছিল আর তুই কল করায় তোর উপর রাগ ঝেড়ে দিয়েছে।আর উনি কিভাবে বুঝবেন তোর মন খারাপের কথা। তুই ওনাকে ভালোবাসিস উনিতো ভালোবাসেন না।"

শুভ্রা মনোযোগ দিয়ে শোনে অদিতির কথা।সে ভাবে হয়তো অদিতি যা বলছে সেটা সঠিক। পরমুহুর্তে অদিতির শেষ কথাটা তার কানে বাজতে শুরু করে, " তুই ওনাকে ভালোবাসিস উনিতো তোকে ভালোবাসেন না"

বুকে চিনচিন ব্যাথা অনুভব করে শুভ্রা। সত্যিই তো তার মন্ত্রী মশাই তাকে ভালোবাসে না। কিন্তু মানতে এতো কষ্ট হচ্ছে কেনো? তার মন্ত্রী মশাই তো তাকে চিনতোও না।সেদিন সেই দুর্ঘটনা না ঘটলে হয়তো জানতেও পারতো না ফাহিমের চাচাতো বোন সে।

অদিতি শুভ্রার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে বলে উঠে,

" তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে শুভ্রা"

শুভ্রার ভিতরে কোনো আগ্রহ দেখতে পেলো না অদিতি।
কিন্তু সে জানে এখন যে কথাটা বলবে তাতে করে নিশ্চিত শুভ্রা আনন্দে লাফিয়ে উঠবে।
অদিতি বলতে যাবে তার আগেই শুভ্রার চোখ কেউ দেখে ফেলে হাত দিয়ে। শুভ্রা ছটফট করতে শুরু করে। অদিতি প্রথমে হকচকিয়ে গেলেও মেয়েটিকে দেখে তার মুখে হাসি ফুটে উঠে। ইশারায় অদিতিকে চুপ করতে বলে মেয়েটি। কন্ঠে যথাসম্ভব পরিবর্তন এনে কথা বলে সে।

" বলুন তো আমি কে মিস খান?

মেয়েটির হাতের স্পর্শ চিনতে ভুল করেনি শুভ্রা। কন্ঠস্বর শুনে একদম নিশ্চিত হয়ে যায় মেয়েটি কে।ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।

" রাইমা"

শুভ্রার চোখ ছেড়ে দেয় রাইমা। মুখ ফুলিয়ে বসে পড়ে শুভ্রার পাশে। এই মেয়ে সব সময় তাকে চিনতে পারে। হেসে উঠে অদিতি আর শুভ্রা। কিন্তু শুভ্রা বুঝতে পারছে না রাইমা তার ভার্সিটিতে কি করছে? রাইমা শুভ্রার অবস্থা বুঝতে পেরে মুচকি হাসে।

"তুই আর অদিতি তো এই ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিস। আমার তো গাজীপুরে থাকি তাই বাবা মা ওখানেই আমাকে ভার্সিটিতে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিল। ওখানে ভালো লাগছিল না। পরে তোকে যখন দেখতে গিয়েছিলাম হাসপাতালে তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম তোর অবস্থা দেখে। বাবা মাকে অনেক বুঝাই আমি তোদের সাথে পড়তে চাই। যেহেতু নানুভাইদের বাসা এখানে তাই তারা রাজি হয়ে যায়। এখন থেকে এখানেই থাকবো।"

লাফিয়ে উঠে শুভ্রা। রাইমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুরতে শুরু করে।

" তার মানে তুই আমাদের সাথে এই ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিস?"

রাইমা হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ায়। শুভ্রার খুশি আর দেখে কে।কিছুক্ষণ পর শান্ত হয়ে অদিতিকে জিজ্ঞেস করে,

" তুই না কিসের সারপ্রাইজ এর কথা বলছিলি?"

" রাইমার কথাই বলতাম তোকে"

"তার মানে তুই সব জানতিস?"

শুভ্রা বুঝতে পারে অদিতি সব জানতো। তাই মুখ ফুলিয়ে বসে পড়ে ও। রাইমা আর অদিতি একে অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে রাগ ভাঙাতে শুরু করে তাদের প্রাণ প্রিয় বান্ধবীর। দিনটা তাদের এভাবেই খুনসুটির মধ্যে কেটে যায়। এর মধ্যেই তাদের জানানো হয়েছে দুদিন পর তাদের নবীণ বরণ করা হবে।
__________

একটি আলিশান ডুপ্লিেক্স বাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছে রেজাউল চৌধুরী। চারিদিক ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সে প্রবেশ করে বাড়িটির ভিতরে। বাড়ির ভিতরের অবস্থা দেখে খারাপ লাগে তার। তবুও কিছু করার নেই।
ভিতরে বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় দেশি বিদেশি নেশাদ্রব্য দিয়ে ভর্তি।
রেজাউল চৌধুরী এগিয়ে যান একটি ঘরের দিকে। ঘরের দরজা খোলা থাকায় ভিতরের কিছুটা দৃশ্য তার নজরে পড়ে যায়। তাড়াতাড়ি মাথা ঘুরিয়ে সে চলে আসে ড্রয়িং রুমে। মুখে ফুটে উঠেছে স্পষ্ট রাগ। নিজেকে নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তার সামনে উপস্থিত হয় একজন সুঠামদেহী যুবক। এসেই রেজাউল চৌধুরীর পাশে সোফায় শরীর এলিয়ে দিয়ে বসে পড়ে।
তাদের সামনে দিয়ে আধুনিক পোশাক পরিহিত একজন মেয়ে বেরিয়ে যায় বাড়ির বাইরের দিকে।

রেজাউল চৌধুরী চুপচাপ সব দেখে যান। তার তো কিছু করার নেই। নিজেকে শান্ত করে কিছুসময় যুবকটির সাথে কথা বলে দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যান তিনি বাড়িটি থেকে।
তার এমন অবস্থা দেখে হাসে যুবকটি।

____________

আরিফা তালুকদার দুদিন আগে এসেছিন শিকদার বাড়ি। মেয়ের জোরাজুরিতে এখানেই মেয়েকে রাখতে হচ্ছে তাকে।
আজকে চলে যাবেন তারা। ড্রয়িং রুমে আসাদ শিকদার আর আরহাম বাদে সকলেই আছেন।

" ভাবি, মেয়েটাকে রেখে যাচ্ছি। দেখলে না কি জেদ ধরে বসেছিল। চিন্তা হচ্ছে, একটা মাত্র মেয়ে। বাড়িটা ফাঁকা ফাঁকা লাগবে।"

" চিন্তা করতে হবে না আরিফা। রাইমা এখানে ভালো থাকবে। বাড়িতে আমি আর বাবা শুধু থাকি। আসাদ আর আরহাম তো সারাদিন কাজে বাইরে থাকে। রাইমা থাকলে আমারও একজন কথা বলার মানুষ থাকবে। তাছাড়া তোমার ছেলে আরিফ আর বৌমা তো আছেই। সব থেকে বড় কথা তোমার দুজন সাথী আছে। আমার তো তাও নেই।"

কিছুটা হতাশার সাথে বললেন নীলিমা শিকদার। তার ছেলের থেকে চার বছরের ছোট আরিফের দুইটা বাচ্চা। অথচো তার ছেলে কিনা এখনো বিয়েই করে নি।
আরিফা তালুকদার কিছুটা হেসে উঠেন। আরো কিছু সময় কথা বলে তাদের সাথে। রাইমাকে কিছু উপদেশ দেন আরিফা তালুকদার।
অতঃপর রেজোয়ান তালুকদার আর তিনি বেরিয়ে পড়েন নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে। অনেকটা পথ যেতে হবে তাদের।

_______________

ক্লাস না করেই চলে এসেছে শুভ্রারা। বান্ধবীদের বিদায় দিয়ে সে চলে এসেছে পার্টি অফিসের সামনে।
হাত ঘড়িতে একবার সময় দেখে নেয় শুভ্রা। আর ঠিক ছয় মিনিট পর তার কাঙ্ক্ষিত মানুষটি বের হবে ভিতর থেকে সে ভালো করেই জানে। কারণ তার মন্ত্রী মশাই সময় সচেতন মানুষ।
ফাহিমের কাছ থেকে খবর পেয়েছে সে। মন্ত্রী মশাই আর ফাহিম বের হবে কিছু সময়ের মধ্যে। মন্ত্রী মশাইয়ের গাড়ির সামনে দাড়িয়ে পরে শুভ্রা। গার্ডরা আটকাতে চাইলে ফাহিমের সাথে কথা বলিয়ে দিলো।

আরহাম বের হচ্ছে বাইরে। তার পিছনেই ফাহিম দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে আসছে। শুভ্রা যে এখানে আছে সে জানায়নি আরহামকে। তাইতো ভয়ে এমন করছে।

নিজের গাড়ির কাছে কোনো মেয়েকে উল্টো ফিরে দাড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয় আরহাম। মেয়েরা তার আশেপাশে থাকুক মোটেও পছন্দ নয় তার।ফাহিমের দিকে তাকায় সে। ফাহিম কাচুমাচু হয়ে দাড়িয়ে আছে। আরহাম এগিয়ে যায় গাড়ির দিকে। গার্ড তো অনুমতি না নিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দিবে না। তাহলে এই মেয়ে কে? গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় সে। মেয়েটির থেকে তার দুরত্ব কয়েকহাত।
মেয়েটির উদ্দেশ্যে কিছু বলার আগেই তার দিকে ফেরে মেয়েটি। অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায় আরহাম। বিশ্বাস করতে পারছে না অসভ্য মেয়েটি এখানে। রাতে ঘটনা কেন্দ্র করে হলেও তো তার থেকে দূরে থাকার কথা এই মেয়ের।
পরক্ষণে আবার মনে হয় এই নির্লজ্জ মেয়ের দ্বারা সবই সম্ভব। নাহলে রাতে খারাপ ব্যবহার করলো তবুও তার সামনে উপস্থিত হয়েছে।

আরহামের ভাবনার মাঝেই শুভ্রা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে নিলো আরহামকে। বরাবরের মতই আজও শুভ্র রংয়ের পাঞ্জাবি তার মন্ত্রী মশাইয়ের শরীরে। চুল গুলোর দিকে নজর দেয় শুভ্রা। পিছনে ঝুঁটি করে রাখা। কয়েকটা চুল অবশ্য মুখের সামেন। কপালের ঠিক বা পাশের কালো তিলটা শুভ্র মুখশ্রীকে যেনো আরো সুন্দর করে তুলেছে।

" এই মেয়ে এখানে কি করছো তুমি?তোমাকে বলেছিনা আমার আশে পাশেও আসবে না?আর তোমাকে ভিতরে প্রবেশ করতে দিলো কে?"

ধ্যান ভাঙ্গে শুভ্রার। কিছুটা ভাব নিয়ে সে বলে,

" প্রথমত আমি এখানে এসেছি ভাইয়ার জন্য। আর যেহেতু আপনি ভাইয়ার সাথে আছেন তাই আপনার আশে পাশে আসতেই হলো। না হলে আমার কোনো ইচ্ছা নেই আপনার মুখ দেখার। আর ভাইয়ার কথা বলাতে আমাকে ভিতরে প্রবেশ করতে দিয়েছে।"

হতভম্ব হয়ে যায় আরহাম আর ফাহিম। তারা বিশ্বাস করতে পারছে না শুভ্রা এসব বলল। ফাহিম বড় বড় চোখ করে তাকালো শুভ্রার দিকে।

আরহামের মুখে প্রকাশ পেলো রাগের আভা। এই মেয়ে তার জন্য আসে নি?আবার তার নাকি মুখ দেখার ইচ্ছে নেই? সুদর্শন মন্ত্রী আরহাম শিকদারকে কেউ এভাবে বললো। তাছাড়া কিছুদিন আগেই না সকলের সামনে প্রেম নিবেদন করলো। আবার সেদিন রাতেও কল করে একই কথা বলেছিল।তাহলে এখন এমন ব্যবহার।

বিশ্বজয়ের হাসি দিলো শুভ্রা। মুখে মাস্ক থাকার কারণে কেউ দেখতে পেলো না সেই হাসি। প্রতিশোধ নিলো সে। তার উপর রাতে রাগ ঝেরেছিল। 'এখন কেমন লাগে দেখুন মন্ত্রী মশাই। এই শুভ্রার সাথে রাগ দেখানো'

" ভাইয়া , তাড়াতাড়ি ছুটি হয়েছে তাই ভাবলাম তোমাকে দেখে যাই। এখন দেখা শেষ আমি যাচ্ছি।"

বলেই এক সেকেন্ড ও দাড়ালো না শুভ্রা। সামনে রাখা বেনী পিছনে দিয়ে দ্রুতবেগে বেরিয়ে গেলো। বাইরে ড্রাইভারকে গাড়ি চালাতে বলে উঠে পড়ল গাড়িতে। এখানে থাকলে এখন নিশ্চিত মন্ত্রী মশাইয়ের ঝাড়ি শুনতে হতো।

এদিকে আরহাম আর ফাহিম ক্যাবলাকান্তের মতো দাড়িয়ে আছে। এতো দ্রুত সব ঘটে গেলো।

আরহাম তো রাগে ফুঁসছে। এই মেয়ে চলে না গেলে হয়তো কিছু একটা করে ফেলত আরহাম।

চলবে,,,,,

আপনারা যারা গল্প পছন্দ করে তারা আমাদের গ্রুপে জয়েন হয়ে গল্প পড়তে পারেন, নীল লেখায় চাপ দিয়ে

জয়েন করে রাখুন 👉 মিষ্টি ভালোবাসার রোমান্টিক গল্প 💙

 #ভাঙা_পাঁজরে_বসন্ত    #পর্ব_২  #সানা_শেখ ভিরান বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,"মেডিসিন নিয়ে আসো তুরা ব্যাথা পেয়েছে তুমি দেখছো...
13/08/2025

#ভাঙা_পাঁজরে_বসন্ত #পর্ব_২ #সানা_শেখ

ভিরান বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,

"মেডিসিন নিয়ে আসো তুরা ব্যাথা পেয়েছে তুমি দেখছো না?"

ছেলের উপর ভীষণ রাগ উঠলেও নির্ভান ছেলে কে ধমক তো দূরে থাক একটু জোরেও কথা বলতে পারে না। তবুও বিরক্তি নিয়ে বলে,

"আমি এখানে হসপিটাল বা ফার্মেসী খুলে বসিনি ভিরান, এটা আমার অফিস।"

"ফাস্ট এইড বক্স তো আছে? ওটা নিয়ে আসো।"

"লাঞ্চ করতে হবে, লাঞ্চের পর মিটিং আছে চলো এখন আমার সাথে।"

"আমি তুরা কে ছেড়ে যাব না, তুরা কে নিয়ে চলো।"

"ভিরান জেদ না করে চলো আমার সাথে।"

ভিরান তুরার এক হাত চেপে ধরে বলে,

"তুরা কে ছেড়ে আমি কোথাও যাব না পাপা। তুমি লাঞ্চ করে মিটিং শেষ করে আসো, আমি তুরার সাথে এখানেই থাকব।"

"বার বার তুরা তুরা করছো কেন? ও তোমার থেকে বয়সে অনেক বড়, ওকে আপু বলে ডাকো।"

ভিরান নাক মুখ কুঁচকে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে বলে,

"তুরা আমার আপু না, তুরা আমার আম্মু।"

তুরা আর নির্ভান একে অপরের দিকে তাকায়। তুরা দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ায়। ভিরানের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ডোরের দিকে এগিয়ে যায়। পেছন পেছন ভিরান যেতে নিলে নির্ভান ভিরানের হাত টেনে ধরে কোলে তুলে নেয়।
ভিরান বাবার কোলে চড়ে বাবা কে ডোরের দিকে যেতে বলে,

"পাপা তুরা কে আটকাও, তুরা চলে গেল। তোমার ওয়াইফ চলে গেল।"

নির্ভান বলে না কিছু আগের মতোই দাঁড়িয়ে রইল। তুরা চলে যায় দৃষ্টির আড়ালে।
ভিরান বাবার কোল থেকে নামার জন্য ছোটাছুটি করে বলে,

"পাপা ছাড়ো আমাকে, তুরা চলে গেল। আমি তুরা কে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাব।"

নির্ভান ছেলে কে শান্ত করার জন্য বলে,

"পাপা তুমি না গুড বয়, তুমি তো বুঝদার ছেলে। তুরা আমাদের সাথে কেনো যাবে? তুরা তুরার বাড়িতে যাবে ওর বাবা মায়ের কাছে। এখন চলো আগে আমরা লাঞ্চ করবো তারপর মিটিং।"

ভিরান অভিমানী স্বরে বলে,

"তুরা কে ছাড়া আমি খাব না। তুরা কে এনে দাও, আমার তুরা কে চাই।"

"দুনিয়ায় এত মেয়ে থাকতে তুমি তুরার মধ্যে কি দেখলে? এর আগে কয়েক জন কে তো দেখানো হয়েছিল তুমি সবাই কে রিজেক্ট করেছ।"

"ওদের ভালো লাগেনি আমার। তুরা ওদের সবার থেকে আলাদা। তুরা সুন্দর করে কথা বলে, দেখতে কিউট, পরীর মতো। ফেয়ারি টেল মুভি তে দেখা কুইন গুলোর মতন সুন্দর। তুরা কে আমি তোমার কুইন বানাবো পাপা, ওকে এনে দাও তুমি। তুরা তোমার ওয়াইফ।"

ছেলে কে বেডে বসায় নির্ভান, নিজেও বসে পাশে। ছেলে কে বোঝানোর জন্য বলে,

"তুরা আমার ওয়াইফ না পাপা, তুরা অনেক ছোট। তুরা তোমার পাপার কুইন হতে পারবে না।"

"কে বলেছে তুরা ছোট? তুরা অনেক বড়, অনেক লম্বা। তুরার হাইট তোমার কাঁধ পর্যন্ত।"

"পাপা তুরার বয়স কম। ওর চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো। চলো আমরা লাঞ্চ করবো, লেট হয়ে যাচ্ছে।"

ভিরান শোনে না বাবার কথা। অভিমানে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। নির্ভান হাজার ডাকলেও ফিরে তাকায় না। জেদী ছেলের দিকে তাকিয়ে চুপ হয়ে যায় নির্ভান। ছেলে টা এতো জেদী হয়েছে পুরো ওরই কার্বন কপি। এখন নির্ভান নিজের জেদ কমালেও ছেলের জেদ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

নির্ভান চৌধুরী বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। বয়স একত্রিশ বছর। হাইট ছয় ফুট, উজ্জ্বল ফর্সা গায়ের রঙ। মাথা ভর্তি ঘন কালো সিল্কি চুল, দুই গাল ভর্তি ঘন কালো চাপ দাড়ি। ছোট বেলা থেকেই গম্ভীর চুপ চাপ রাগী জেদী মানুষ। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলার অভ্যাস নেই। বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে করেছিল সমবয়সী সুন্দরী রূপসী এক মেয়ে কে। বিয়ের পর দুজনের সংসার জীবন ভালোই কা'টছিল। বিয়ের বছর পেরোনের আগেই বাবা হওয়ার সুসংবাদ পেয়েছিল।
ভিরান কে জন্ম দেয়ার দুই মাস আগে নির্ভানের ওয়াইফ সুহানার ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে।
হুট করে একদিন নাক মুখ দিয়ে র'ক্ত এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে সুহানা। ডক্টর দেখিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা টেস্ট করার পর ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। উন্নত চিকিৎসার জন্য কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। সুহানা তখন ক্যান্সারের লাস্ট স্টেজে ছিল। সেদিনের আগে কোনো রকম অসুস্থতা বা ক্যান্সারের লক্ষণ দেখা যায় নি। দেশের বাইরে নিয়ে গেলেও সুহানা কে সুস্থ করে আর দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ছেলে কে জন্ম দেয়ার পনেরো দিন পর জীবনের মায়া ত্যাগ করে চিরো দিনের জন্য চলে যায় সুহানা। জীবিত মানুষ দেশের বাইরে নিয়ে গেলেও ফিরে আসে কফিনে নিয়ে।

স্ত্রী কে হারিয়ে শক্ত হৃদয়ের গম্ভীর নির্ভান চৌধুরী পাথর হয়ে যায়। ছেলে কে নিয়েই গড়ে ওঠে ওর পুরো দুনিয়া।

আস্তে আস্তে সময় গড়ায়। দুই পরিবারই চেয়েছিল নির্ভান যেন আবার বিয়ে করে। জীবন কে নতুন ভাবে সাজায়। তবে কেউ নির্ভান কে দ্বিতীয় বিয়ে করানোর জন্য তখন রাজি করাতে পারেনি।
ছেলে, বাবা-মা আর বিজনেস নিয়েই নির্ভানের দিন পেরিয়ে এত দূর এসেছে।
গত কয়েক মাস ধরে হুট করে ভিরানের মাথায় বাবা কে বিয়ে করানোর ভূ'ত চেপেছে। ভিরান কেনো এমন বলছে বা করতে চাইছে তার কোনো উত্তর কেউ পায়নি এখনো। জিজ্ঞেস করলেও ভিরান কিছু বলে না। বার বার এক কথা ওর পাপার জন্য ওয়াইফ নিয়ে আসবে। ছেলের জেদের কারণে বেশ কয়েক জন মেয়েও দেখা হয়েছে তবে তাদের মধ্যে থেকে কাউকেই পছন্দ হয়নি ভিরানের। আজকে হুট করে তুরা কে পছন্দ হয়েছে। এখন জেদ ধরে বসে আছে ওকেই নিজের বাবার ওয়াইফ বানাবে।

নির্ভান ছেলে কে আবার ডেকে বলে,

"পাপা চলো মিটিং এর সময় হয়ে আসছে তো।"

ভিরান ঘাড় ঘুরিয়ে বাবার মুখের দিকে তাকায়। অভিমানী স্বরে বলে,

"যাব না আমি, খাব না আমি। আমার তুরা কে চাই।"

"তুমি না বুঝদার ছেলে পাপা, এত জেদ করছো কেন? তুরা কে ওর বাবা-মা আমাদের সাথে যেতে দেবে না।"

"তাহলে ওর বাবা-মায়ের কাছ থেকে তুরা কে কিনে নিয়ে চলো।"

ছেলের কথা শুনে হতাশার শ্বাস ছারে নির্ভান।
ছেলে কে বোঝানোর জন্য বলে,

"তোমাকে যদি কেউ পছন্দ করে আর সে তোমাকে কিনে তার কাছে নিয়ে যেতে চায় তাহলে কি আমি তোমাকে তার কাছে বিক্রি করে দিব? দিব না তো, ঠিক তেমনি তুরার বাবা মাও তুরা কে বিক্রি করবে না।"

"বিক্রি না করলে চেয়ে নিয়ে যাব।"

"তাও দেবে না। এখন চলো আমার সাথে, এই বিষয়ে আমরা পরে আলোচনা করবো।"

ছেলে কে কোলে তুলে নিয়ে ডাইনিং রুমের দিকে এগিয়ে যায় নির্ভান।
______________

অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পর থেকে কারো সাথেই কথা বলছে না ভিরান। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলেও উত্তর দিচ্ছে না। নির্ভান ফ্রেস করিয়ে দেয়ার জন্য রুমে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ভিরান যায় না। সোফার এক কোণায় রাগ করে বসে রইলো।
ভিরানের দাদা নওশাদ চৌধুরী ছেলের দিকে তাকিয়ে বলেন,

"দাদু ভাইয়ের কি হয়েছে? মুড অফ কেন?"

"দুপুর থেকে পা'গ'ল বানিয়ে রেখেছে আমাকে। মিটিং টাও ঠিক মতো করতে দেয়নি আজ।"

"কেনো কি হয়েছে?"

"জিজ্ঞেস করো তোমার দাদু ভাইয়ের কাছেই। আমি ফ্রেস হতে গেলাম।"

নির্ভান চলে যায় রুমের দিকে, এক প্রকার পালিয়ে গেল এখান থেকে। এখানে থাকলে ছেলের আজগুবি সব কথা শুনতে হবে।

নওশাদ চৌধুরী নাতির পাশে বসেন। নাতির এক হাত মুঠো করে ধরে বলেন,

"দাদু ভাই কি হয়েছে বলো আমাকে?"

"পাপার অফিসে আজকে তুরা কে দেখেছি আমি। ওকে আমার পছন্দ হয়েছে ভীষণ। তুরা অনেক সুন্দর করে কথা বলে, ওকে দেখতেও অনেক বেশি সুন্দর আর কিউট একদম ফেয়ারি টেল মুভি তে দেখা কুইন গুলোর মতন সুন্দর তুরা। পাপা কে বললাম তুরা কে নিয়ে আসার জন্য কিন্তু পাপা ওকে নিয়ে আসেনি। আমাকেও আর তুরার কাছে যেতে দেয়নি। তুরা হারিয়ে গেছে। আমি তুরা কে চাই, ওকে আমি পাপার কুইন বানাবো, তুমি তুরা কে এনে দাও নয়তো আমি আর খাব না পড়াশোনাও করবো না।"

এক নাগাড়ে কথা গুলো বলে থামে ভিরান। নির্ভানের উপর ভীষণ ভীষণ রেগে আছে। অফিস থেকে বের হওয়ার পর নির্ভানের সাথে একটা কথাও বলেনি।

দাদার মুখের দিকে তাকিয়ে আবার বলে,

"দাদু ভাই চলো না তুরা কে নিয়ে আসি।"

"তুরার বাড়ি কোথায় জানো কিছু?"

"নো।"

"তুরার বাবার নাম?"

"তোমার ছেলের জন্য কিছুই জানতে পারিনি। তোমার ছেলের জন্য তুরা দুবার করে পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছে। তোমার ছেলে তুরা কে মেডিসিন দেয়নি।"

"তুরা কে মেডিসিনও দেয়নি?"

"নো।"

"আমার ছেলে অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছে।"

"তুরা কে এনে দাও।"

"আগামী কাল আমি তোমার পাপার অফিসে যাব, তারপর তুরা কে খুঁজে বের করে তোমার পাপার কুইন বানিয়ে নিয়ে আসবো ওকে!"

"সত্যি?"

"হান্ড্রেড পার্সেন্ট।"
_______________

বেডে হেলান দিয়ে বসে আছে তুরা। ওর মা মুক্তা শিকদার ওর দুই পা ম্যাসাজ করে দিচ্ছেন।

ডক্টর দেখিয়ে বাড়িতে নিয়ে এসেছে ওকে।
মুক্তা শিকদার দশম বারের মতন মেয়ে কে জিজ্ঞেস করেন কিভাবে পড়েছিল?
তুরা দুপুরের সেই মুহূর্ত কল্পনা করে। কল্পনায় নির্ভান কে দেখেই গা ঝাঁকি দিয়ে ওঠে। মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,

"আম্মু আমি আর জীবনেও আব্বুর অফিসে যাব না, কোনো দিনও না।"

চলবে..............

আপনারা যারা গল্প পছন্দ করে তারা আমাদের গ্রুপে জয়েন হয়ে গল্প পড়তে পারেন, নীল লেখায় চাপ দিয়ে

জয়েন করে রাখুন 👉 মিষ্টি ভালোবাসার রোমান্টিক গল্প 💙

 #ফুফাতো_বোন_যখন_ক্রাশ    #পর্ব_০৮আগেই বলে নিই ভালো সারা পাওয়ার জন্য এটা খুব ছোট আকারে বোনাস পর্ব  আশা করি এভাবেই সবাই প...
13/08/2025

#ফুফাতো_বোন_যখন_ক্রাশ #পর্ব_০৮

আগেই বলে নিই ভালো সারা পাওয়ার জন্য এটা খুব ছোট আকারে বোনাস পর্ব আশা করি এভাবেই সবাই পাশে থাকবেন)

তো মাহিম ফারিহাকে জড়িয়ে ধরে আছে.....

হঠাৎ ছাদের দরজায় নক!!!

মাহিম এবং ফারিহা ভয় পেয়ে যায়....

এ সময়ে কে আসলো...

সব কাজিন গুলো তাদের নিজ নিজ রুমে চলে গেছে.....

কিন্তু মাহিম এবং ফারিহা শুধু ছাদে রয়ে গেছে.....

তো এ অবস্থায় যদি বাসার কেউ দেখে ফেলে এ ভয়ে দুজনেই আ/তং/কিত হয়ে যায়.....



তো মাহিম একটা বুদ্ধি বের করলো.....

মাহিম তার ফোন থেকে সিমটা খুলে ফেলে দিলো.....

এবং আস্তে আস্তে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো....

দরজা খুলতেই দেখে মাহিমের আম্মু...

মাহিমের আম্মু : কিরে তোরা এখানে কি করিস...?

মাহিম: না মানে আম্মু আমার ফোনের সিমটা পড়ে গিয়েছে ফোন থেকে ওটাই খুজতেছি....

মাহিমের আম্মু : তো কি খুজে পেলি...?

মাহিম: না আম্মু খুজতেছি....

এরপর মাহিম তার ফোনের টচ জালিয়ে সিমের ওদিকে যায়.....



তারপর বলে...

এইতো পেয়েছি আম্মু....

তারপর : কি ফারিহা তুমি এখানে কেনো??

ফারিহা কিছু বলতে পাচ্ছে না কিন্তু তখনি মাহিম বলে উঠলো..

মাহিম: আম্মু তুমি তো জানোই আমি ভয় করি তো সবাই চলে যাওয়াতে ফারিহাকে বললাম তুমি একটু থাকো সিমটা খুজি....

মাহিমের আম্মু : ওহ আচ্ছা তো পেয়েছিস তো এখন চল খাওয়া দাওয়া করে নে...!!

মাহিম: আচ্ছা আম্মু চলো.....

তো এরপর মাহিম ও ফারিহা ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং টেবিলে চলে যায়.....

খাওয়া দাওয়া শেষে হঠাৎ ....

তো রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে....

মাহিমের ফুফু বলে উঠলো.....

এই মাহিমের মা কাল কিন্তু আমাদের সাথে আপনাদের সবাইকে যেতে হবে.....

মাহিমের আম্মু : কেনো??

মাহিমের ফুফু : আরে সকালে বললাম না ফারিহাকে দেখতে আসবে.....?

আমি একা মানুষ কিভাবে সামলাবো এতো কিছু ওর বাবাও বাহিরে থাকে!!

মাহিমের আম্মু : ওহ আচ্ছা তাহলে তো যেতেই হবে আচ্ছা যাবোনি!!

ওপাশ থেকে ফারিহা বলে ওঠে....

ফারিহা: আম্মু আমি এখন বিয়ে করতে চাচ্ছি না!!

ফারিহার আম্মু : কি হয়েছে কেনো??

ফারিহা: আমি লেখা পড়া করতে চাই নিজে ভালো কিছু করতে চাই.....

ফারিহার আম্মু : সেটা তো বিয়ের পরেও করা যাবে......

ফারিহা: 😞

ফারিহা আর কিছু বলতে পারে না!!

এরপর...

সাইডে থেকে ফারিহার খালাতো বোন সামিয়া বলে ওঠে......

ফারিহার আম্মুর উদ্দেশ্য!!!

সামিয়া: বুঝলাম না খালা এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে চাচ্ছো কেনো?? মাত্র ক্লাস নাইনে পড়ে এখন অক্টোবর মাস চলতেছে....
৩ মাস পড়ে ক্লাস টেনে উঠবে.... সামনে এস এস সি এক্সাম এর প্রস্তুতি নেবে তা নয় তুমি বিয়ে নিয়ে উঠে পড়ে লাগছো কেনো??

ফারিহার আম্মু : আসলে সামিয়া

খুব ভালো একটা সম্মন্ধ এসেছে!!

ছেলেটা নাকি পুলিশে জব করে আর সাথে বিরাট বড় পরিবারের সন্তান আর ঘটক তো বললো ছেলেটাও নাকি ভালো তাই আর না করতে পারিনি কাল দেখতে আসতে চেয়েছে!!

সামিয়া: কিন্তু সামিয়া তো ডাক্তার হওয়ার সপ্ন দেখে ওর ইচ্ছে অনিচ্ছার কি কোনো দাম নেই খালা?

ফারিহার আম্মু : আরে দেখতে আসলেই কি বিয়ে হবে নাকি ?? দেখি আসুক দেখতে কি হয়!!!

সামিয়া: দেখো তোমাদের সন্তান তোমরা কি ভালো মনে করো!!

তো এরপর সবাই সবার মতো যে যার রুমে চলে যায়.....

কিন্তু এগুলো শুনে মাহিম এবং ফারিহা তো টেনশনে শেষ!!

টেনশন বললে ভুল হবে ডিপ্রেশনে পড়ে গেলো দুজনেই!!!

তো সবাই ঘুমিয়ে গেলে মাহিম ফারিহাকে মেসেজ দিয়ে আবার ছাদে আসতে বলে......

তো ফারিহা তার বোন সামিয়ার সাথে এক রুমে ছিলো....

সামিয়াকে ডাক দিয়ে বলে আপু আমি একটু মাহিমের সাথে কথা বলে আসি.....

সামিয়া : তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে এতো রাতে ওর সাথে তোকে যদি কেউ দেখে ফেলে ভাবছিস একবার কি হবে?

ফারিহা: কিন্তু আপু দেখা করা টা যে তার থেকেও বেশি প্রয়োজন.....

সামিয়া: আচ্ছা মাহিম তো পাশের রুমেই থাকে মাহিমকে এখানে আসতে বল এটাই ভালো হবে!

ফারিহা: আচ্ছা বলতেছি....

এরপর ফারিহা মাহিমকে মেসেজে বললো আমি দরজা খুলে দিচ্ছি তুমি আমাদের রুমে আসো...

মাহিম: আচ্ছা কিন্তু কে কে আছে ওখানে??

ফারিহা: শুধু সামিয়া আপু আর আমি!!

মাহিম: ওহ আচ্ছা আসতেছি আমাদের ব্যপারে তো শুধু একমাত্র সামিয়া আপুই জানে এসব!!

ফারিহা: হুম...

মাহিম: আচ্ছা আসতেছি দরজা খুলে রেখো......

তো মাহিম যে রুমে থাকে তার ২ টা রুম পরের রুমে ফারিহা আছে!!!

মাহিমের সাথে যে খালাতো ফুফাতো ভাই ছিলো তারা ঘুমিয়ে গেছে....

মাহিম আস্তে আস্তে উঠে ফারিহার রুমের দিকে যায় ফারিহা আগে থেকেই দরজা খুলে রাখে.....

মাহিম রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়.....

মাহিম রুমে যেতেই ফারিহা মাহিমকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দেয়.....

সামিয়া বলে এই এভাবে ভেঙে পড়িস না আমি আছি তো এ বিয়ে হতে দেবো না দেখিস.....

ফারিহা: কিন্তু আপু তবুও ভয় হচ্ছে আমার!!!

মাহিম: আরে পাগলি ভয় পাবার দরকার নাই....

তোমাকে যেভাবে বলি ওরকম করবে.....

ছেলে পক্ষ আসলে শুরুতে ঠিক ভাবে কথা বলবে না...

আর ছেলের দিকে এমন ভাবে তাকাবে যে জেনো ছেলে বুঝতে পারে তাকে তোমার পছন্দ হয়নি!!

আর যতো যাই হোক তুমি এ বিয়েতে রাজি হবে না....

সামিয়া : হ্যাঁ ফারিহা মাহিম ঠিকই বলেছে তুই ওরকমই করিস..... ঠিক আছে?

ফারিহা : আচ্ছা আপু......

তো এরপর মাহিম ফারিহাকে সব বুঝিয়ে রুম থেকে চলে এসে ঘুমিয়ে পড়লো.....

সকাল হলো.....

খাওয়া দাওয়া শেষে..... সবাই ফারিহাদের বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিলো... যেতে যেতে প্রায় ১২ টা বেজে যাবে....

দুপুর পরেই পাত্র পক্ষ ফারিহাকে দেখতে আসবে.....

তো ১২ টার দিকে সবাই ফারিহাদের বাসায় পৌঁছে গেলো.....

এরপর সবাই ফ্রেশ হয়ে ফারিহাকে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো.....



ওদিকে মাহিম চিন্তায় বিভোর কি হবে!!!! কি ঘটতে যাচ্ছে .....
.

তো ২ : ৩০ মিনিটের ওদিকে পাত্র পক্ষ হাজির.....

এরপর.....
চলবে........?

আপনারা যারা গল্প পছন্দ করে তারা আমাদের গ্রুপে জয়েন হয়ে গল্প পড়তে পারেন, নীল লেখায় চাপ দিয়ে

জয়েন করে রাখুন 👉 মিষ্টি ভালোবাসার রোমান্টিক গল্প 💙

 #জোর_করে_বিয়ে   পার্টঃ ৫  লেখকঃ সিয়াম হোসেন পরের দিন সিয়াম ভার্সিটিতে যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে । তবে আজকের সাজাটা সম্প...
13/08/2025

#জোর_করে_বিয়ে পার্টঃ ৫ লেখকঃ সিয়াম হোসেন

পরের দিন সিয়াম ভার্সিটিতে যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে । তবে আজকের সাজাটা সম্পূর্ণ আলাদা । একদম ভদ্রতা যাকে বলে ।
-আম্মু ক্ষুদা লাগছে খেতে দাও ভার্সিটিতে যেতে হবে । (সিয়াম)
মা তো এক ভাবে তাকিয়ে আছে সিয়ামকে এমন পোশাক পড়া দেখে ।
-কি হলো হা করে তাকিয়ে আছো কেনো দাও ক্ষুদা লাগছে তো । (সিয়াম)
-হুমম (মা)
তারপর খেয়ে দেয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্য বেড়িয়ে গেলো । সিয়ামের বন্ধুরাও যেনো অবাক পোশাকটা পড়া দেখে ।
-কিরে সিয়াম এই পোশাকে । (আশিক)
-কেনো কি হয়েছে ।(সিয়াম)
-না মানে ইন করে শার্ট পড়েছিস কখনও তো ছেড়া জিন্স প্যান্ট ছাড়া পড়িস না তাই । (আশিক)
-অনেক তো হলো এবার একটু ভালো হয়ে দেখিনা কেমন লাগে । (সিয়াম)
-আচ্ছা তুই সিয়াম তো । (আশিক)
-কেনো সন্দেহ আছে । (সিয়াম)
-তেমন টাই তো মনে হচ্ছে হঠাৎ করে এতো পরিবর্তন কি মনে করে । (আশিক)
-এমনি আচ্ছা মোকসেদ স্যার কোথায় । (সিয়াম)
-কখনও তো মকলেজ ছারা ডাকোস না আজকে আবার ভালো নাম ধরে ডাকতেছোস । (রাফি)
-বল না কোথায় । (সিয়াম)
-আছে হয়তো তার রুমে । (রাফি)
-চল স্যারের সাথে দেখা করে আসি । (সিয়াম)
-কেনো (আশিক)
-মাফ চাইতে হবে । (সিয়াম)
-মানে কি (আশিক)
-গেলেই দেখতে পাবি চল । (সিয়াম)
সবাই মিলে স্যারের কাছে গেলো
-স্যার আসবো । (সিয়াম)
-ও সিয়াম কখনও তো পারমিশন নিয়ে আসো না আজ কি মনে করে । (স্যার)
-স্যার সরি (সিয়াম)
-সরি কিন্তু কেনো(স্যার)
-আপনার সাথে সেদিন খারাপ ব্যবহার করার জন্য আর যেই ছবিটা ছিলো ওটা ডিলেট করে দিয়েছি । আমাকে মাফ করে দিন । (সিয়াম)
স্যার কিছু না বলে সিয়ামের দিকে তাকিয়ে আছে । আচ্ছা সিয়াম কি আমাকে সত্যি বলছে ।
-কি হলো স্যার বলুন না মাফ করছেন(সিয়াম)
-হুমম করছি এখন যাও আর এরপর থেকে কখনও করবে না ঠিক আছে (স্যার)
-জি স্যার (সিয়াম)

সিয়ামের বন্ধুরা সবাই মিলে বাইরে দাড়িয়ে কথা শুনছিলো
-চল প্রিন্সিপালের কাছে দিয়ে মাফ চেয়ে আসি । (সিয়াম)
তারপর প্রিন্সিপালের কাছে গিয়ে মাফ চেয়ে এসে ক্লাসে বসলো ।
এদিকে সানজিদা ও মিম গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকছে ।
-উফ আজকে বেয়াদপ টা নেই (সানজিদা মনে মনে বললো)
ক্লাসে এসে দেখে সিয়াম বসে আছে তাও আবার শান্তশিষ্ট ভাবে ।
সানজিদা ক্লাসে আসার পরই সিয়াম ওকে আড় চোখে লক্ষ্য করে চলেছে ।
কিছুক্ষন বাদে নিলয় এসে সানজিদার পাশে বসলো ।
-কেমন আছেন । (নিলয়)
-ভালো আপনি (সানজিদা)
-ভালো । আচ্ছা একটা কথা বলি । (নিলয়)
-কি
-এই বন্ধুত্তের মাঝে আপনি শব্দটা মানায় না তুমি করে বলি (নিলয়)
-ঠিক আছে বলতে পারেন (সানজিদা)
-না তোমাকেও তুমি করে বলতে হবে (সিয়াম)
-আচ্ছা বলবো (সানজিদা)
সিয়াম শুধু বসে ওদের কথা বলা দেখছিলো । প্রচন্ড রাগ উঠছে ছেলেটার উপর কোথা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে । ইচ্ছা করছে এখনই গিয়ে নাকটা ফাটিয়ে দেই । কিন্তু এটা করা যাবে না নিজের রাগটাকে ধরে রাখতে হবে । তবে শুধু এক ভাবে তাকিয়ে আছে নিলয়ের দিকে । চোখের মাঝে রাগ ভাব ।
-দেখছো ছেলেটা আমার দিকে কেমন করে রাগি লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে । (নিলয়)
-তো কি হয়েছে তুমি ভয় পাও নাকি । (সানজিদা)
-ভয় তো পায়ই যদি কিছু বলে । (নিলয়)
-কিছুই বলবে না চুপ করে বসে থাকো ।
(সানজিদা)

ক্লাস শেষে স্যার বেড়িয়ে গেলো । নিলয় সানজিদা মিম বসে বসে গল্প করছে ।

-সানজিদা তোমার সাথে একটা কথা বলার ছিলো । (সিয়াম)
সানজিদা কিছু না বলে মুখ ঘুরিয়ে নিলো ।
-প্লিজ শুধু একটু কথা বলবো । (সিয়াম)
-আমি আপনার সাথে কথা বলতে পারবো না ।(সানজিদা)
-শুধু একটা কথা । (সিয়াম)
-কি বলেন । (সানজিদা)
-এখানে না ওই দিকে আসো । (সিয়াম)
সানজিদাকে নিয়ে ক্লাসের এক কোনায় নিয়ে গেলো ।
-হুমম বলুন কি বলবেন । (সানজিদা)
-ধন্যবাদ (সিয়াম)
-মানে । (সানজিদা)
-কালকের ওই থাপ্পরটা মারার জন্য । জানো আজ পর্যন্ত আমার মা আমার গায়ে হাত তুলে নাই । এই প্রথম তুমি মারলে । সত্যি কথা বলতে আমি তোমার মতোনই একজন কে চেয়েছিলাম যে আমাকে ভয় করবে না । (সিয়াম)
-আমার মতো চেয়েছিলেন মানে বুঝলাম না । (সানজিদা)
-মানে আমি তোমাকে ভালোবাসি । (সিয়াম)
বলার সাথেই সানজিদা দুই গালে দুইটা থাপ্পর মেরে দিলো ।
-আপনাদের কাছে এই ভালোবাসা হতে পারে ছেলে খেলার মতো । খুব সহজেই ভালোবাসি বলে দিলেন । এর পর থেকে আমাকে আর ভালোবাসি বললে খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু । আর আমার আাশে পাশেও ঘুরবেন না । (সানজিদা)
-সত্যি ভালোবাসি (সিয়াম)
-ওটা আপনার কাছে রাখুন(সানজিদা)
বলেই সানজিদা চলে গেলো ।
-কি রে মেয়েটা তোকে আজ কেউ থাপ্পর মারলো আর তুই কিছু বললি না(আশিক)
-আরে এটা ভালোবাসার চিহ্ন (সিয়াম)
-ভালোবাসার চিহ্ন তাই না কই এর আগে যার সাথেই প্রেম করেছিস সেতো কখনও তোকে থাপ্পর মেরে ভালোবাসার চিহ্ন দেয়নি । (আশিক)
-বাদ দে চল । (সিয়াম)
সিয়াম সানজিদার পিছনে যাচ্ছে তখনই নিলয় গাড়ি নিয়ে এসে সানজিদা আর মিমকে নিয়ে গেলো । সিয়ামের প্রচন্ড রাগ হচ্ছে । যে ওর সামনেই ওর ভালোবাসার মানুষটাকে গাড়িতে করে নিয়ে গেলো ।
এভাবেই দেখতে দেখতে কয়েকটা দিন চলে যায় । সিয়াম প্রতিদিনই সানজিদার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে কিন্তু সানজিদা শুধু ওকে অপমানই করে যায় । সিয়াম আর ওর বন্ধুরা মিলে ভার্সিটির এক পাশে চুপচাপ বসে আছে । এমন সময় দেখে সানজিদা আর নিলয় ভার্সিটিতে ঢুকছে ।মিম নেই আজকে সেই জন্য নিলয় সানজিদার হাতটা ধরে আরো গায়ের কাছে আসার চেষ্টা করছে । সিয়াম এটা দেখে রেগে গিয়ে নিলয়ের কাছে চলে গেলো ।
-নিলয় তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে সানজিদা তুমি যাও । (সিয়াম)
সানজিদা ওর ক্লাসে চলে গেলো ।
-সানজিদা তোমার কি হয় । (সিয়াম)
-বন্ধু হয় । (নিলয়)
-বন্ধু হয় ঠিক আছে কিন্তু ওর সাথে এতো গায়ে পড়ার চেষ্টা করছো কেনো । (সিয়াম)
-আমি কি করবো না করবো সেটা তোমাকে বলতে বাধ্য নয় । তাছাড়া আমি সানজিদাকে ভালোবাসি । (নিলয়)
-দেখো নিলয় তুমি দেখতে অনেক সুন্দর অনেক ভালো মেয়ে পাবে সানজিদাকে ভুলে যাও । (সিয়াম)
- এই কথাটাই যদি আমি তোমাকে বলি । (নিলয়)
-দেখো নিলয় তুমি কিন্তু তোমার সিমা অতিক্রম করছো । (সিয়াম)
-কি করবে তুমি আমাকে ভয় দেখচ্ছো আমি তোমাকে ভয় পায় না যা করার করো । (নিলয়)
কথা গুলো বলে নিলয় চলে গেলো । সিয়াম আর কিছু না বলে মাথা নিচু করে ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছে । কিন্তু সিয়ামকে এই কথা গুলো বলার জন্য তার বন্ধুরা গিয়ে নিলয় কে উড়া ধুরা মেরে চলে এলো ।
নিলয়ও মার খেয়ে সুযোগের সত ব্যবহার করার উপায় খুজে নিয়ে সোজা সানজিদার কাছে চলে গেলো ।
-আরে নিলয় তোমার এই অবস্থা হলো কি করে ।(সানজিদা)
-তোমার সাথে ঘুরি বলে সিয়ামের বন্ধুরা এসে আমাকে মারছে আমার তো মনে হয় সিয়ামই ওদের কে বলেছিলো আমাকে মারার জন্য । (নিলয়)
-কি সিয়াম তোমাকে বলছে ঠিক আছে চলো আমার সাথে । (সানজিদা)
-না ওর কাছে যাওয়ার দরকার নেই যদি আবার কিছু বলে । (নিলয়)
-কিছুই হবে না আমি আছি তো চলো । (সানজিদা)
সিয়ামের লাছে গিয়ে সানজিদা একটা থাপ্পর মেরে দিলো ।
-আপনাকে ভেবে ছিলাম হয়তো গুন্ডামি ছেরে দিয়েছেন । কিন্তু না কুকুরের লেজ কখনও সোজা হয়না । নিলয় আমার বন্ধু হয় ও আমার সাথে থাকবে আপনার কোনো সমস্যা । আপনার বন্ধুদেরকে দিয়ে ওকে কিভাবে মেরেছেন । এরপর থেকে ওর গায়ে হাত দিলে আপনাকে ছেরে কথা বলবো না । (সানজিদা)
কথা গুলো বলেই চলে গেলো ।
আর সিয়াম তো দাড়িয়ে দাড়িয়ে ভাবছে আমি‌ আবার কখন নিলয়কে মারার জন্য বন্ধুদেরকে পাঠালাম।

চলবে.....

 #ফুফাতো_বোন_যখন_ক্রাশ    #পর্ব_০৭তো এরপর ফারিহার আম্মু হঠাৎ বলে উঠলো......ফারিহার জন্য নাকি একটা ভালো বিয়ের সম্বন্ধ আসছ...
13/08/2025

#ফুফাতো_বোন_যখন_ক্রাশ #পর্ব_০৭

তো এরপর ফারিহার আম্মু হঠাৎ বলে উঠলো......

ফারিহার জন্য নাকি একটা ভালো বিয়ের সম্বন্ধ আসছে.....

এটা শুনেই মাহিম এবং ফারিহার মাথায় জেন পাহাড় ভেঙে পড়ে.....

তো মাহিমের আম্মু এটা শুনে বলে..…

কি বলছেন এসব ফারিহার বিয়ে এতো তাড়াতাড়ি কেনো!!!

ওতো অনেক ছোট মাত্র ক্লাস নাইনে পড়ে....

এ ভুল কইরেন না আপা ভেবে দেখুন......

ফারিহার আম্মু : এখন সামনের আসতে চাইছে কি করে না করি বলেন...? দেখি কি হয়!!

মাহিমের আম্মু : আপনারা বাবা মা..... আপনারাই ভালো বুঝবেন কি করলে সন্তানের ভালো হবে!! দেখুন কি করা যায়!!

ফারিহার আম্মু : আচ্ছা আসুক দেখি কি করা যায়!!

এগুলো শুনে মাহিম এবং ফারিহার দুজনেরই মন খারাপ হয়ে আসে!!!

কত আনন্দ মাখা মুখ ছিলো তাদের!!

প্রায় ২ মাস পর আজ সামনা সামনি দেখা আজ!!

দুজনেই ভেবেছিলো সুন্দর একটা দিন হবে আজ তাদের....

কিন্তু কে জানে তাদের আনন্দ মাখা মুহুর্তে গুলো বে-রঙিন হয়ে উঠবে....

ফারিহার চোখে পানি চলে আসায় সে ওয়াশরুমে চলে যায়.....

মাহিমেরো খুব কষ্ট হচ্ছিলো.... কিন্তু ছেলেরা তো আর কাঁদতে পারে না মেয়েদের মতো!!!

তো দুপুর পর.....

বিকেলের দিকে মাহিমের গ্রামের পাশে একটা সুন্দর জায়গা আছে....

সব কাজিন গুলো মিলে ঠিক করলো ওখানে ঘুরতে যাবে.

তো যে ভাবা সেই কাজ সব কাজিন মিলে ঘুরতে যাওয়ার জন্য বের হলো....

কিন্তু ফারিহা যেতে চাচ্ছিলো না......

শেষে জোর করেই নিয়ে গেলো
ফারিহার এক খালাতো বোন!!

তো যেতে যেতে.... রাস্তার মাঝে....

ফারিহার খালাতো বোন সামিয়া ফারিহার উদ্দেশ্য বলে ওঠে....

সামিয়া: কিরে ফারিহা কি হয়েছে তোর???

ফারিহা: কই কিছু নাতো??

সামিয়া: কিছু তো একটা হয়েছে মনটা এমন মলিন দেখাচ্ছে কেন??

ফারিহা: জার্নি করে আসছি হয়তো সে জন্য!!!

সামিয়া: ওহ আচ্ছা!!!!

তো ফারিহা ওটা বলে কথা ঘুরিয়ে দিলো এরপর আর সামিয়া আর কিছু জিজ্ঞেস করলো না!!!

কিন্তু সামিয়া লক্ষ করলো ফারিহার মতো....

মাহিম ভাইয়ারো মন খারাপ.....

এরপর....

সামিয়া: কি মাহিম ভাই তোমারো মুখ এমন মলিন দেখাচ্ছে কেনো??

মাহিম: এমনি রে শরীর টা তেমন ভালো না..... সে জন্য হয়তো!!

সামিয়া আর কিছু জিজ্ঞেস করলো না....

এখানে একটু বলে নিই সামিয়া মাহিম এবং ফারিহার বড় বোন তাই খুব সহজেই বুঝতে পারলো দুজনের ভিতর কিছু আছে......

তো একটু পরেই সব কাজিনগুলো.. তাদের গন্তব্যে পৌঁছে গেলো.....

গ্রামীণ সুন্দর একটা পরিবেশ....

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামল প্রকৃতিতে ঘেরা....

দেখলেই জেনো চোখ জুরিয়ে আসে....

তো সবাই সবার মতো সময়টা উপভোগ করতে থাকে.....

ওদিকে মাহিম এবং ফারিহা এক সাইডে গিয়ে.....

মাহিম: শোনো তুমি এ বিয়েতে কিছুতেই রাজি হবে না.???

ফারিহা: কি বলো তুমি এসব মাহিম! আমি কেনো অন্য কাউকে বিয়ে করতে রাজি হবো.... আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবো না করবোও না....

কিন্তু??

মাহিম: কিন্তু কি??

ফারিহা: বাসায় কি বলবো? কিছু একটা তো বলতে হবে ?

মাহিম: হুম তা ঠিক!!

ফারিহা : হুম...

একটু চিন্তা ভাবনার পর

মাহিম: একটা উপায় পাইছি....?

ফারিহা : কি...?

মাহিম: তোমার মা বাব তো চায় তোমাকে ডাক্তার বানাতে?

ফারিহা: হুম.!!

মাহিম: তুমি বলবা আমি এখন থেকে ঠিক মতো ভালো করে লেখা পড়া করবো বিয়ে করবো না এখন!!

ফারিহা: আচ্ছা এটা কি মানবে আব্বু আম্মু!!

মাহিম: কি যে হবে বুঝতে পারছি না 😞

ফারিহা : আচ্ছা এতো টেনশন করিও না আমি বুঝিয়ে বলবোনি.....

এরপরেই মাহিম ফারিহাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদো কাঁদো গলায় বলতে থাকে.....

আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি অনেক....

প্লিজ কখনো ছেড়ে যেও না আমায়!!

ফারিহা: আরে না পাগল আমি শুধু তোমারই আমি যদি বিয়েতে রাজি না হই কেমনে বিয়ে দেবে..... আর আমি আম্মুকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলবোনি......

মাহিম: আচ্ছা....

ফারিহা: এখন ছাড়ো কেউ দেখে ফেললে সমস্যা হয়ে যাবে.....

এরপরই হঠাৎ.......

তো হঠাৎ তাদের খালাতো বোন সামিয়া...

মাহিম এবং ফারিহাকে জড়িয়ে ধরে থাকা দেখতে পায়!!!!

তো তখনই সামিয়া তাদের দিকে এগিয়ে যায়........

এরপর...

সামিয়া: কিরে কি হচ্ছে???

মাহিম এবং ফারিহা সামিয়াকে দেখে দুজন দুজনকে ছেড়ে দিয়ে মাথা নিচু করে থাকে......

সামিয়া: কিরে কথা বলিস না কেনো??

মাহিম: না মানে আপু আমরা......

সামিয়া : কি দুজন দুজনকে ভালোবাসিস তাই তো!!

মাহিম এবং ফারিহা একসাথে মাথা নেড়ে উত্তর দেয়!!!

সামিয়া:তলে তলে তাহলে এই বেপার!! সে জন্য বলি বিয়ের কথা,ওঠার পট থেকে তোদের মন খারাপ কেন???

মাহিম : আপু আমরা দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসি!!! কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারবো না!!!!

তুমি বিয়েটা যে ভাবেই হোক ভে/ঙে দাও?

সামিয়া: এখন খালা এবং খালু কেমন তোরা জানিস না আর আমি বললে কি শুনবে???

ফারিহা: শুনবে আপু তুমি একটু রিকুয়েষ্ট করবা যে ফারিহা আরোও পড়বে আর বিয়ে দিলে ওর লেখা পড়ার সমস্যা হবে!!
তাই এ মুহুর্তে ওকে বিয়ে দিয়েন না!

এভাবে একটু বুঝিয়ে বলবা প্লিজ আপু!!

সামিয়া: আচ্ছা দেখি কি করতে পারি তোদের জন্য!!!
আর এতো কম বয়সে রিলেশনে গেছিস??? কি যুগ আসলো রে......!

ফারিহা: না মানে আপু হুট করে সম্পর্কটা হয়ে গেছে!!

সামিয়া : আচ্ছা দেখবোনি কি করা যায়!!!

ফারিহা: আচ্ছা আপু!!!

এরপর মাহিম ফারিহা এবং তার বোন সামিয়া কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে বাসার দিকে রওনা দেয়!!!

বাসায় গিয়ে সবাই ফ্রেশ হয়ে.....

রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে...
.

সব কাজিনগুলো মিলে বাড়ির ছাদে আড্ডা বসায়.....

তো শুরুতেই...... সবাই মিলে গানের প্রতিযোগিতা খেলাটি শুরু করে

এবং সব কাজিনদের মধ্যে ২ টা দল হয়....

গানের শর্ত ছিলো এমন যে......

একদলের একজন একটা গান বলবে তারপর অপর দলের একজন ঐ বলা গানের শেষ অক্ষর দিয়ে গান করবে......

তো এভাবেই অনেক টা সময় তারা গানের আড্ডা দেয়!!!!!

এরপর যে যার মতো রুমে চলে যায়...... কিন্তু ফারিহা এবং মাহিম যায় না......

তারা ওখানেই থাকে....

এরপর.....

মাহিম: তুমি তো ভালোই গান পারো জানতাম না তো!!!

ফারিহা: জানবা কোথা থেকে কখনো জিজ্ঞেস করেছো....

মাহিম: সেটাও কথা....

Address

Mathbaria

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tears of Hasan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share