23/01/2026
একদিন হঠাৎ করেই আমি ভীষণভাবে ঠকে গেলাম। আসলে আমি ঠকি নাই আমাকে ঠকানো হইলো।
যাকে অন্ধের মতো দু'চোখ বুঝে বিশ্বাস করা যায়,
সেই মানুষটাই যে এমনভাবে ঠকাবে তা কি আমি দুঃস্বপ্নেও ভেবেছিলাম কখনো?
ভাঙ্গা কাঁচের মতো বিশ্বাসটুকুও কয়েক সেকেন্ডেই একটা প্রশ্নের উত্তরের মধ্য দিয়ে নিমিষেই শেষ হইলো।
লাগাতার মিথ্যার কাছে পরাজিত হইলাম আমি।
কি দারুন এক মিথ্যা মায়ার জালে আমি আটকা পড়েছিলাম!
আমার সত্য-গুলো মিথ্যা হয়ে অবহেলায় পড়ে রইলো, আর তার মিথ্যা-গুলোই অবশেষে সত্য হইয়া বিশ্বস্তই রয়ে গেলো!
সেই মানুষটা নীরব দর্শক হয়ে দেখেছিলো আমার কান্না, বুক চাপড়ানো হাহাকার।
সে নিশ্চুপ ছিলো যেন কিছুই বলার নেই তার। অবেশেষ আমিও বুঝলাম মানুষটা আর আমার নেই। তাই হয়তোবা দারুনভাবে উপভোগ করতো গলা-কাটা মুরগীরমতো কিভাবে কষ্টে ছটফট করতাম আমি।
সে আমারে বুকের মধ্যে সযত্নে আগলে রেখে দুঃখ দিয়ে গেলো ভালো থাকার আশায়।
তীব্র কষ্টে, যন্ত্রণায় মানুষ হয় মরে যায়,
নয়তো নিশ্চুপ সয়ে যায়।
আমি তেমন কোনোটাই পারি নাই তখন।
সেই মুহূর্তে আমার কষ্ট গুলো বুঝার মতো কেউই ছিলোনা।
সে তো জানতো,
আমার একমাত্র ভরসার হাত ছিলো সে।
তাই হয়তো ভরসার হাতটাও সময় সুযোগ বুঝে সরিয়ে নিলো।
যাতে আমি বুক ফাঁটা তীব্র যন্ত্রণায় মারা যাই।
ঠিক তখনই স্পষ্ট চোখে দেখতে পেলাম তার প্রতারণার ফাঁদ!
কি নির্দয় কঠিন তার অন্তর,
দু-চোখে ছিলো যেন প্রতারণার বিষ।
আর সেই বিষে আমার সর্বাঙ্গ নীল হলো।
মৃত্যু যন্ত্রণার আর্তনাদে আকাশ-বাতাস কম্পিত হলো। মুখ থুবড়ে পড়ে গেলাম মাটিতে,
তবুও তো সে একটিবারের জন্য ফিরেও তাকালো না।
আমার ভেতরটা মরে গিয়েছিলো সেদিন,
যখন তার চোখে আমার জন্য ভালোবাসা নয় প্রতারণা দেখতে পেয়েছিলাম।
মরে গিয়েছিলো অন্তর আর জীবন্ত লাশ হয়ে গেলাম আমি।
কেউ জানলো না,
বুঝলো না সবার অলক্ষ্যে একটা জীবন্ত লাশ মুখে মিথ্যা হাসি'র আলোক ছড়িয়ে কিভাবে দিব্যি বেঁচে আছে।
ছোট্ট এক জীবনে আমি দু'ইবার খুন হয়ে গেলাম। প্রথমবার তাকে ভালোবেসে,
আর দ্বিতীয়বার এই সত্য জেনে যে,
সে আমায় কখনো ভালোই বাসেনি,
সবটা ছিলো প্রতারণা আর মিথ্যা।
অথচ তার মিথ্যা প্রতারণা মিশ্রিত ভালোবাসাকেই আমি সত্যি ভেবে সারা জগৎ সংসারের সাথে লড়াই করলাম।
পরিবার হারাইলাম, সম্মান হারাইলাম।
সাজানো গুছানো নিখুঁত সুন্দর পরিপাটি কি দারুণ ছিলো তার অভিনয়।
না আমি তারে ক্ষমা করতে পারিনি,
আবার অভিশাপও দিতে পারিনা।
আমি চাই তার শাস্তি হোক, সত্যের জয় হোক।
প্রকৃতির প্রতিশোধ সেতো রূপকথার গল্প।
আমি তা বিশ্বাস কখনোই করিনা,
তাই তো সৃষ্টিকর্তার কাছেই অভিযোগ জানাইলাম।
আমার মন ভাঙ্গার অভিযোগ,
আমার পবিত্র আত্নাকে দেহ থেকে ছিন্ন করার অভিযোগ,
আমাকে কলুষিত করার অভিযোগ।
অমন করেই, ঠিক অমন করে তারেও যেন একদিন কষ্টগুলো ফিরিয়ে দেন সৃষ্টিকর্তা।
সেদিন সেও বুঝুক জীবিত অবস্থায় জীবন্ত লাশ হয়ে বাঁচার যন্ত্রণাগুলো কতটা বেদনাদায়ক হয়।
তার বিরুদ্ধে মামলা তো আমি দুনিয়ার আদালতে করিনাই,
আমি চাইও না দুনিয়ার কোনো আদালতে তার বিচার হোক।
বিচার হোক সেই আদালতে যেখান থেকে কেউ কোনোদিন পালিয়ে বাঁচবার পারে নাই,
যার বিচারে কোন ভূল নাই, পক্ষপাতিত্ব নাই,
একদম নির্ভূল আর প্রশান্তিময় তার বিচার।