03/08/2026
মাঠ পর্যায় থেকে চা-শ্রমিকদের নিজেদের অধিকার ও দাবি সম্পর্কে সচেতন করে তোলা মোটেও সহজ ছিল না। দিনের পর দিন, তিলে তিলে তাদের সংগঠিত করা হয়েছে, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগানো হয়েছে।
কিন্তু যখনই এই খেটে খাওয়া মানুষগুলো সব ভয়-ডর ভুলে রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়, নিজেদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনড় থাকার শপথ নেয়—ঠিক তখনই 'শ্রমিক নেতা' রূপী কিছু অসাধু লোক পেছনের দরজায় আপস করে ফেলে! দীর্ঘদিনের লালিত আন্দোলনের দাবানলে এভাবে পানি ঢেলে দেওয়ার ইতিহাস নতুন নয়।
আমরা ভুলিনি ২০২২ সালের সেই তীব্র আন্দোলন।
দাবি আদায়ের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেও সাধারণ শ্রমিকরা সেদিন জয়ী হতে পারেনি কিছু সুবিধাবাদী নেতার কারণে। অথচ সেই আন্দোলনে চা-শ্রমিকরা কী না করেছে! অনাহারে-অর্ধাহারে কাটিয়েছে, দিনের পর দিন, রাতের পর রাত রাজপথ আঁকড়ে থেকেছে। তরুণ ও ছাত্র-যুবসমাজ ছিল সেই লড়াইয়ের সম্মুখসারির সাহসী যোদ্ধা। এই সুসংগঠিত গড়ে তোলা একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনকে গুটিকয়েক অসাধু নেতা নিজেদের স্বার্থে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল।
তবে রাজপথের সেই আগুন নেভেনি! ক্ষোভ আর বঞ্চনা জমা হতে হতে আবার প্রজ্জ্বলিত হওয়ার সময় এসেছে। অধিকার আদায়ের আন্দোলন, মানুষের মতো বেঁচে থাকার আন্দোলন থামতে পারে না।
২২-এর বঞ্চনার আগুন, এবার ছড়িয়ে পড়ুক দ্বিগুণ তেজে!
আমাদের অনড় ও ন্যায্য দাবি:
১/৫% ইনক্রিমেন্টের প্রহসন মানি না—অবিলম্বে বাতিল করতে হবে!
২/চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে!
৩/ভিটেমাটির অধিকার ও স্থায়ী ভূমির অধিকার দিতে হবে!
৪/অবিলম্বে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন দিতে হবে!
অন্যায় আর আপসের বিরুদ্ধে আবার গড়ে উঠুক প্রতিবাদের প্রাচীর। শ্রমের উপযুক্ত মূল্য আর ভূমির অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই লড়াই চলবে।
#হোক_বিপ্লব
#২২শের_আগুন_এবার_হোক_দ্বিগুণ