24/07/2026
পাঁচজন মানুষ মারা গেলে চিরতরে হারিয়ে যাবে একটি ভাষা!একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং একটি আস্ত সংস্কৃতিরও বিলুপ্তি। বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে এখন তেমনই এক নিঃশব্দ হাহাকার চলছে। সেখানে বিলুপ্তপ্রায় ‘রেংমিটচ্য’ ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারতেন মাত্র ৬ জন। সম্প্রতি মাংওয়াই ম্রো (৬৪) নামের একজনের মৃত্যুর পর সেই সংখ্যাটি এখন নেমে এসেছে মাত্র পাঁচে।
আশঙ্কার বিষয় হলো, জীবিত এই পাঁচজন রেংমিটচ্যভাষীর বয়সও ৬০ থেকে ৭৪ বছরের মধ্যে। যার মধ্যে দুজন আবার মারাত্মক অসুস্থ। এই ভাষার কোনো নিজস্ব লিপি বা বর্ণমালা নেই। ফলে নতুন প্রজন্ম এই ভাষা আর শিখছে না; তারা ম্রো বা বাংলা ভাষায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছে।
বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনে এই ভাষা নিয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন আফসানা ফেরদৌস আশা। তিনি দিন-রাত এক করে এই বিপন্ন ভাষার তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টেশন) সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন এবং দেড় হাজার শব্দের একটি বইয়ের খসড়া তৈরি করেছেন। এর আগে ম্রো গবেষক ইয়াংঙান ম্রো এই ভাষার কথোপকথন নিয়ে ‘মিটচ্য তখক’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছিলেন, যেন চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আগে অন্তত স্মারক হিসেবে ভাষাটি টিকে থাকে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটও এখন ভাষাটিকে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য টিকিয়ে রাখতে ডকুমেন্টেশন সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে রূঢ় বাস্তবতা হলো, এই পাঁচজন প্রবীণ মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলে তাদের সঙ্গেই চিরতরে চিতাখণ্ডে পরিণত হবে একটি প্রাচীন ভাষা। পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে যাবে ‘রেংমিটচ্য’।