Ratul BD

Ratul BD Updates from Ratul BD

24/08/2025

ইন্তিফাদা বাংলাদেশ - ভুল চিন্তায় চালিত একটি ভ্রান্ত দল ।

বিস্তারিত :

১- ফিকহী বিষ​য়ে মুক্তমনা : এই দলের নেতৃত্বে আছে সলাফী চিন্তার অনুসারী ফিকহী বিষ​য়ে মুক্তধারার অনুসারী লোকজন । মুক্তমনারা উম্মতের সীমাহীন ফিতনা ফাসাদ আর দন্দ্ব সংঘাতের জন্য দায়ী । চার মাজহাবের লোক ১২০০ বছর মাজহাব মেনেছে এই নিয়ে মারামারি দেখা যায় নি । কিন্তু সলাফী নামের লোকজন যখন থেকে কর্মকান্ড শুরু করেছে তখন থেকে ২০ রাকাত ৮ রাকাত , ৩ তালাক ১ তালাক সহ নানা বিষয়ে ঝগ​ড়া ঝাটি , ফিতনা ফাসাদ শুরু হ​য়েছে ।
এই মুক্তমনারা যেহেতু ফিকহী বিষ​য়ে নির্দিষ্ট কোনো কাঠামো অনুসরণ করে না , প্রতিটি বিষয়েই দন্দ্ব সংঘাত ও সংকট তৈরী করে । এদের কারণে নামাজের ওয়াক্ত , মহিলারা চেহারা খোলা রাখবে কি না , মহিলারা মসজিদে যাবে কি যাবে না , জনগন ভোট দিবে কি দিবে না , সরকারী চাকুরী করতে পারবে কি পারবে না - এমন প্রতিটি বিষ​য়েই অন্তহীন তর্ক বিতর্ক ঝগ​ড়া ঝাটি শুরু হ​য় । নির্দিষ্ট কোনো ফিকহী কাঠামো অনুসরণ করলে এই অবস্থার তৈরী হত না । হানাফী শাফেয়ী অগনিত বিষয়ে মতপার্থক্য আছে , কিন্তু একেক জন একেক টা অনুসরণ করে , যার যার মাজহাবের ফকহী সমাধাণ মেনে চলে কোনো সমস্যা হ​য় না ।

২) আকীদার বিষ​য়েও কোনো প্রতিষ্ঠিত মাজহাবের অনুসারী না : উম্মতের অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম আশআরী মাতুরীদি আকিদার অনুসারী । একটা ক্ষুদ্র অংশ আসারী - হাম্বলী আকীদার অনুসারী । বর্তমানের সলাফী চিন্তার লোকজন হাম্বলী আকীদাও পুরাপুরি অনুসরণ করেনা ( বিশেষ ভাবে যারা একটিভিস্ট ) হাম্বলী আকীদার সাথে এমন এমন বিষয় তারা যুক্ত করেছে , যাতে বেশীর ভাগ মুসলিম জনতার উপর তাকফির আরোপ হ​য় , তাদের আকিদা শিরিক যুক্ত প্রমাণিত হ​য় । অথচ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ থেকে এই জাতীয় চরমপন্থী মতবাদ প্রমাণিত না । যেমন তাওহীদে হাকিমিয়া , মিল্লাতে ইবরাহীমের সহিহ তাওহীদের অনুসরণের কথা , তাগুত অস্বীকার করা ইমানের শর্ত এসব বক্তব্য ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকে প্রমাণিত না ।

৩- ফিকাহ আর আকিদার মত সমকালীন রাজনৈতিক সামাজিক বিষয় সহ শরীয়তের কোনো বিষ​য়েই তারা সমকালীন ওলামায়ে কেরামের উপর আস্থাশীল না । ইতিহাস সাক্ষী এই মুক্তমনারা ব​ড় ব​ড় দূর্ঘটনা ঘটিয়েছে । আমাদের দেশে জেএমবির ৬৪ জেলায় যারা বোমা হামলা করেছিল , আদালতে হামলা করেছিল , আই এস এর সমর্থনে লোক জোগাড় করে সিরিয়া পাঠিয়েছিল বা দেশে বসে আই এস কায়দায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিল , তারা দেশের অনুসরণীয় শীর্ষ স্থানীয় মুরুব্বিদের অনুসারী ছিল না । তারা নিজস্ব বুঝ মত , মনগ​ড়া কুরাণের ব্যাক্ষা দ্বারা এই সব করেছে । মুক্ত মনা সলাফীরা এদের প্লাটফর্ম করে দেয় , এরপর চরমপন্থীরা মন যা চায় তাই করে বেড়ায় , আর মন মত দলীল প্রমাণ দিয়ে সেগুলা হালাল প্রমাণ করে । নির্দিষ্ট ফিকহী কাঠামো , প্রতিষ্ঠিত দারূল ইফতার অনুসরণ , মুরুব্বি আলেমদের দিক নির্দেশণা মেনে চললে - এভাবে যা খুশি তা - করা যায় না । মুসলমানদের রক্তপাতও বৈধ করা যায় না ।

৪) দারুল হরব - তাগুতি রাস্ট্র -রক্তপাত বৈধতা ইত্যাদী বিষ​য়ে অস্পষ্ট অবস্থান : ইন্তেফাদার লোকজন কি তাকফির করে ? মুসলিমদের রক্তপাত বৈধ মনে করে ? বাংলাদেশকে দারুল হরব মনে করে ( যেখানে প্রতিপক্ষের জান মাল হালাল হযে যায় ) ? এই বিষ​য়ে তাদের অবস্থান বেশ কৌশুলী ও তাকিয়া ( সত্য বিশ্বাস গোপন করা ) নির্ভর । ইন্তেফাদায় যুক্ত লোকজন অনেকেই একসম​য় আই এস সমর্থন করেছে । দেশের উগ্র মানহাজী ( যারা দেশকে দারুল হরব - তাগুতি রাস্ট্র দাবী করে ) গোষ্টীর অনেকেই এখন বাহ্যিক ভাবে সফট ইন্তেফাদা অনুসারণ করছে । তারা তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে তাও স্পষ্ট না ।
তাদের পূর্বের ও বর্তমানের কথা ও লিখায় খারেজী চিন্তার প্রভাব স্পষ্ট । তাদের অনুসারী সহযাত্রীরা এখন নানা পর্যায়ের চরমপন্থায় বিশ্বাসী ।তারা স্পষ্ট বাক্যে তাকফির করে না , কিন্তু তাদের অনুসারীদের মাঝে তাকফিরি মনোভাব তৈরী হ​য় , হরবী তাগুতি রাস্ট্র ধারণার প্রসার হ​য় ।
ইন্তেফাদার লোকজন যতক্ষণ দলীয় ভাবে অথবা ব্যক্তিগত ভাবে এসব চরমপন্থী মতবাদ ত্যাগ ও খন্ডন না করবে ততদিন তারা কোনো ভাবেই বিশ্বস্ত না ।

৫- কথা সত্য মতলব খারাপ - হজরত আলী রা: এর জামানার মত এই যুগের সফট ( এপারেন্টলী ) খারেজীরাও খারাপ মতলব নিয়ে সত্য কথা বলে । গনতন্ত্র কুফুরী মতবাদ । তবে এইটা প্রচারের মতলব থাকে সমকালীন রাজনীতিতে সক্রিয় আলেমদের সমালোচনা ও নিন্দা করা । দেশে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ছাড়া রাস্ট্রীয় বিষ​য়ে প্রভাব বিস্তার করা ক্ষেত্র খুব সীমিত । যেমন এলজিবিটি , কোরাণ বিরোধী নারী নীতি দেশের অধিকাংশ মানুষ অপছন্দ করলেও এই বিষয়ে পথে নামা ইসলাম প্রেমী লোকের পরিমাণ ১% ( ১৮ লাখ )ও না । এই বিষ​য়ের বিরোধিতা করার কার্যকর উপায় ভোটের রাজনীতি । যেহেতু এই বিষ​য়ে একটা ব্যাপক জনমত আছে - ইসলামী দলের পক্ষেই সম্ভব ভোটের রাজনীতিতে এ বিষ​য়ে ইসু তৈরী করা - এবং পক্ষে থাকা বা সহানুভুতিশীল মনোভাবের দলগুলার সাথে জোট করা ।
বর্তমানে ইসলামী দলগুলার যেই পরিমান ভোট আছে তাতে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব না , কিন্তু জোট গঠন করে অনেক ইসলাম বিরোধী নীতিমালা পরিবর্তন করা সম্ভব । রাজনীতির মাঠ একেবারে ফাকা ছেড়ে দিলে রাম - বাম - এনজিওগ্রাম -এলজি দিয়ে দেশটা স​য়লাব হ​য়ে যাবে ।

15/07/2025

Aqeedah al Nasafi

In the name of Allāh In the name of Allāh, the Divinely Divinely Divinely-Compassiona Compassiona Compassionate, the Ever te, the Ever te, the Ever-Merciful. Merciful. Merciful.
The People of Reality (Ahl al- aqq), as opposed to the Sophists (Sūfis6ā’iyya), say:
The realities of things are conclusive and the science thereof is convincing.
The sources of knowledge for mankind are three:
[1.] Sound Senses ( [1.] al- awās al-salīma),
[2.] True Narration ( [2.] al-khabar al-

13/07/2025

আক্বিদাতুত ত্বহাবী : ইমাম তহাবীর লিখিত আকীদা তার কিতাব থেকে , কোনো ব্যাক্ষা ছাড়া শূধু তরজমা ।

আমরা আল্লাহ তা'আলার তাওফীকের উপর আস্থা রেখে তার তাওহীদের আলোচনা শুরু করছি।

১/ নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা একক তার কোন শরীক নেই।
২/ তার কোন দৃষ্টান্ত নেই।
৩/ কোন জিনিস তাকে অক্ষম বানাতে পারে না এবং আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই
৪/ তিনি অনাদি যার কোন শুরু নেই। তিনি চিরস্থায়ী যার কোন শেষ নেই। (তিনি এমন অনাদি সত্তা যার অস্তিত্ব অপরিহার্য। যার শুরু এবং শেষে অনস্তিত্ব আসা কোন ভাবেই সম্ভব নয়।)
৫/ তিনি শেষও হবেন না। ধ্বংসও হবেন না।
৬/ তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই হয়।
৭/ মানবীয় কল্পনা তার নাগাল পায়না এবং মানবীয় জ্ঞান তাকে অনুভব করতে পারেনা।
৮ / মাখলুক তার সাদৃশ্য নয়।
৯/ তিনি চিরঞ্জীব কখনো তার মৃত্যু হবে না। তিনি চিরস্থায়ী কখনো ঘুমান না।
১০/ নিজের প্রয়োজন ছাড়াই তিনি মাখলুকদের সৃষ্টি করেন এবং কোন ধরনের কষ্ট ছাড়াই রুজির ব্যবস্থা করেন।
১১/ তিনি নির্ভয়ে মৃত্যুদানকারী, কোন কষ্ট ছাড়াই পুনরুত্থান কারী।

১২/ তিনি মাখলুক সৃষ্টির পূর্ব থেকেই স্বীয় গুণাবলীর সাথে বিদ্যমান ছিলেন। সৃষ্টির পরে তার গুণাবলীর মধ্যে নতুন কোন গুণ বৃদ্ধি পায়নি।
১৩/ তিনি স্বীয় গুনাবলী নিয়ে যেমন অনাদি তেমনি সে গুলো নিয়ে অনন্ত হয়ে থাকবেন। ( তিনি অনাদিও অনন্তও তার সত্তা এবং গুনাবলীর কোন শুরু শেষ নেই।)
১৪/মাখলুক সৃষ্টির কারণে তিনি সৃষ্টি কর্তার নামটি পাননি আর এ বিশ্ব জগত সৃষ্টি করার কারণে নব আবিষ্কারক নামটি অর্জন করেননি। প্রতি পাল্য বস্তু এবং মাখলুক ছাড়াও তার মধ্যে প্রতিপালন এবং সৃষ্টি করার গুণ বিদ্যমান।
১৫/ আর যেমন তিনি মৃতদের জীবিত করার পর "জীবন দান কারী" গুণে গুণান্বিত, তেমনি কোন কিছুকে জীবন দান করার পূর্বেও তিনি এ নামের উপযুক্ত। অনুরুপ ভাবে তিনি সৃষ্টির আগেও 'সৃষ্টি কর্তা' নামটির অধিকারী ছিলেন। ইহা (মাখলুক সৃষ্টির পূর্বে অনাদিকাল থেকে তার গুণাবলী সাব্যস্ত থাকাটা এ হিসেবে যে, ) তিনি সব কিছুর উপর সক্ষম।
১৬/ সকল জিনিস তার মুখাপেক্ষী, আর প্রতিটি কাজ তার জন্য সহজ। তিনি কোন কিছুর প্রতি মুখাপেক্ষী নন। তিনি সব কিছু শোনেন এবং দেখেন।
১৭/ তিনি নিজ জ্ঞানে মাখলুককে সৃষ্টি করেছেন।
১৮/ তিনি মাখলুকের জন্য সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
১৯/ আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
২০/ মাখলুক সৃষ্টির পূর্বে তার নিকত কোন জিনিস গোপন থাকেনা এবং তাদেরকে সৃষ্টি করার পূর্বে তাদের ভবিষ্যত কার্যকলাপ সম্পর্কে তিনি জানেন।
২১/ তিনি তাদেরকে স্বীয় ইবাদতের দিয়েছেন এবং নাফরমানী করতে নিষেধ করেছেন সব কিছু তার ইচ্ছাধীন।
২২/ প্রতিটি জিনিস তার সিদ্ধান্ত এবং ইচ্ছানুযায়ী পরিচালিত হয়,এক্ষেত্রে তার ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হয় বান্দার ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয় না। সুতরাং বান্দার জন্য আল্লাহ তা'আলা যা চান তাই হয় আর যা চান না তা হয় না। সবকিছু তার অনুগ্রহ এবং ন্যায় বিচার অনুযায়ী হয়।
আল্লাহ তা'আলা যাকে চান হেদায়াত দান করেন রক্ষা করে এবং অনুগ্রহ করে মুসিবত দূর করে দেন ইহসান পূর্বক।আর যাকে চান গোমরাহ বানিয়ে দেন, সাহায্য করা ছেড়ে দেন এবং বিপদে ফাঁসিয়ে দেন। (সুতরাং বুঝা গেল এ পৃথিবীতে যা কিছু হবে তার অনুগ্রহে অথবা তার ন্যায়বিচার অনুযায়ী হবে।)
সমস্ত লোক তার ইচ্ছা অনুযায়ী তার অনুগ্রহ এবং ইনসাফের মাঝে পরিবর্তিত হতে থাকে।
২৩/ তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী এবং নযীর পবিত্র ( তার কোন প্রতিদ্বন্দ্বীও নেই যে, তার সাথে মোকাবেলা করবে বা তার বিরোধিতা করবে। আর তার কোন সমকক্ষ বা শরীকও নেই যে, তার কাজে দখল দিবে।)
২৪/তার ফয়সালা রদ করার মত কেউ নেই। তার হুকুমকে বিলম্বিত করার মতও কেউ নেই। তার হুকুমের উপর প্রাধান্য বিস্তার কারীও কেউ নেই। আমরা ঈমান রাখি এবং এই মর্মে বিশ্বাস স্থাপন করি যে, এসব জিনিস আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়েছে।
২৫/মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লার তায়ালার মনোনিত বান্দা এবং পয়গম্বর এবং পছন্দনীয় রাসুল। তিনিই সর্বশেষ নবী। তিনি পরহেযগারদের ইমাম। তিনি সমস্ত রাসূলের সর্দার। তিনি বিশ্ব প্রতিপালকের হাবীব (অন্তরঙ্গ বন্ধু)
২৬/ তার নবুয়্যতের পর অন্য কোন নবুয়্যতের দাবী গোমরাহী এবং আত্নপূজার নামান্তর। তিনি জ্বিন-মানব সকলের নিকট সমানভাবে প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি সত্য এবং হেদায়েতের-আলো এবং জ্যোতি নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন।
২৭/নিঃসন্দেহে কোরআন আল্লাহ তায়ালার বাণী যা নিরাকার অবস্থায় কথা হিসেবে আল্লাহ তায়ালা থেকে বের হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ওহীর মাধ্যমে কোরআনকে স্বীয় নবীর উপর অবতরণ করেছেন। আর ঈমানদারগণ কোরআনের উল্লেখিত পদ্ধতির সত্যায়ন করেছেন এবং তারা বিশ্বাস করে নিয়েছেন যে, ইহা নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালার বাণী মাখলুকের কথার মত ইহা সৃষ্ট নয়।
২৮/যে ব্যক্তি কোরআন শরীফ শোনে তাকে মানুষের কথা মনে করবে সে কাফের হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা এ ধরনের লোকদের তিরস্কার করেছেন এবং তাদের দোষী হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। সাথে সাথে দোযখের ধমকও দিয়েছেন।

২৯/যে ব্যাক্তি আল্লাহ তায়ালাকে মানুষের কোন গুণাবলীর সাথে গুণান্বিত করবে সে কাফের হয়ে যাবে। আর সে জানতে পারল যে, আল্লাহ তায়ালা স্বীয় গুণাবলীর ক্ষেত্রে মানুষের মত নয়।
৩০/কোন ধরনের সীমাবদ্ধতা এবং অবস্থা ছাড়া জান্নাতবাসীদের জন্য যে দর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে তা সত্য যেমন কোরআনে বলা হয়েছে। সেদিন অনেক তরতাজা চেহারা স্বীয় প্রভুর দিকে তাকিয়ে থাকবে। উল্লেখিত আয়াতের ব্যাখ্যা আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশ্য এবং আল্লাহ তায়ালা জানা অনুসারে হবে। আর এ সম্পর্কের যে সব খবর এসেছে (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে সব সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো এভাবেই গ্রহণ করতে হবে যেভাবে তিনি বর্ণনা করেছেন। আর সেগুলোর অর্থ তাই হবে যা তিনি ইচ্ছা করেছেন।)
আমরা মন মত ব্যাখ্যা করে তার মধ্যে নাক গলাবোনা এবং নিজ ইচ্ছায় কল্পনা করবোনা। কেননা নিজের ধর্মের ক্ষেত্রে ভুল-ভান্তি থেকে একমাত্র ঐ ব্যক্তি রক্ষা পায়,যে আল্লাহ এবং তার রাসুলের পুরোপুরি আনুগত্য স্বীকার করে।আর যে বিষয় সম্পর্কের খটকা লাগে উহাকে তার জ্ঞানের উপর ছেড়ে দেয়।
৩১/ইসলাম আত্মিসমর্পন এবং আনুগত্য ছাড়া স্থির থাকতে পারেনা। যে ব্যক্তি এমন কোন জিনিসের জ্ঞান অন্বেষণ করে যা তার থেকে রুখে রাখা হয়েছে। আর তার বিবেক আনুগত্যে তুষ্ট না হয়। তবে তার এ অভিলাষ তাকে তাওহীদ, নিখুঁত আধ্যাত্মিকতা এবং সঠিক ঈমান থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে। উক্ত ব্যক্তি কুফর এবং ঈমান, সত্য এবং মিথ্যা, স্বীকার এবং অস্বীকারের মাঝে ঝুলে থাকবে। তার অবস্থা হবে সন্দেহ প্রবল এবং দ্বিধান্বিত। না সত্যবাদী মুমিন হবে না মিথ্যা কাফের হবে।
জান্নাতবাসীদের দর্শন লাভের উপর ঐ ব্যক্তির ঈমান আনা ঠিক হবেনা, যে ব্যক্তি দর্শনকে কল্পনা মনে করে বা উহাকে নিজের বিবেক অনুযায়ী ব্যাখ্যা করে। যেহেতু আল্লাহ তায়ালার দর্শনের ব্যাখ্যা দেয়া এবং তার অন্য যে কোন গুনের ব্যাখ্যা দেয়া দুরস্ত নয়, তাই আল্লাহ তায়ালার দর্শনের উপর ঈমান আনাটাও দুরস্ত হবেনা। তবে অপব্যাখ্যা ছেড়ে দিলে এবং আনুগত্য স্বীকার করে নিলে তা দুরস্ত হবে ইহাই রাসূলগণের ধর্ম।
৩২/যে ব্যক্তি আল্লাহর গুণাবলীকে অস্বীকার এবং তুলনা করা থেকে বেচে থাকতে পারেনি সে পদঙ্খলনের সম্মুখিন হয়েছে। সে আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা প্রমাণ করতে পারেনি।কেননা আমাদের প্রভু অনন্য গুণাবলীর দ্বারা গুণান্বিত, মাখলুকের মধ্যে কেউ তার গুণের অধিকারী নন।
৩৩/আল্লাহ তায়ালা সীমা ও প্রান্ত থেকে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এবং যন্ত্রপাতি থেকে পবিত্র। মাখলুকদের মত ছয়টি দিক তাকে ঘিরে রাখেনি এবং ঘিরে রাখা দম্ভবও নয়।
৩৪/মেরাজ সত্য, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাতের বেলায় মসজিদে আকসায় ভ্রমন করানো হয়েছে এবং জাগ্রত অবস্থায় তাকে সশরীরে আসমানে উঠানো হয়েছে। এরপর আল্লাহ তায়ালা যেখানে চেয়েছেন সেখানে নিয়ে গেছেন। আল্লাহ তায়ালা তাকে যে জিনিস দিয়ে সম্মানিত করতে চেয়েছেন, সম্মান করেছেন এবং যা ওহী করার ইচ্ছা করেছেন ওহী করেছেন।
৩৫/উম্মতের পরিতৃপ্তি জন্য যে হাউজটি দিয়ে আল্লাহ তায়ালা তাকে সম্মানিত করেছেন, তা সত্য।
৩৬/ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের জন্য যে শাফায়াত সংরক্ষন করে রেখেছেন তা সত্য।যেমন বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত আছে।
৩৭/ আল্লাহ তা'আলা হযরত আদম (আঃ) এবং তার সন্তানদের থেকে যে অঙ্গিকারটি নিয়েছেন তা সত্য।
৩৮/ যারা জান্নাতে যাবে এবং যারা জাহান্নামে যাবে তাদের সংখ্যা সৃষ্টির শুরু থেকেই আল্লাহ তা'আলা জানেন। এ সংখ্যার কোন ধরনের বেশ-কম হবে না। অনুরুপ ভাবে বান্দাগন এমন সব কাজ করবেন যা তার ইলমে রয়েছে। আর যে কাজের জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা তার জন্য সহজ করে দেয়া হয় ক্রিয়া কর্মের বিচার পরিণতি হিসেবে হয়ে থাকে। ভাগ্যবান সেই যে আল্লাহ তা'য়ালার ফয়সালায় ভাগ্যহত।

৩৯/ আল্লাহ তা'য়ালার মাখলুকের জন্য তাকদীরের মূল হলো, উহা আল্লাহর একটি রহস্য। যে সম্পর্কে কোন নিকটবর্তী ফেরেস্তা বা কোন নবী অবগত হতে পারে না।
আর তা নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করা বঞ্চনার কারণ দুর্ভাগ্যের সিঁড়ি এবং অবাধ্যতার মাধ্যম। সুতরাং তাকদীরের বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা, কল্পনা ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। কেননা আল্লাহ তা'আলা তাকদীরের বিষয়টি স্বীয় বান্দাদের থেকে গোপন রেখেছেন এবং উহা অনুসন্ধান করতে তাদেরকে নিষেধ করেছেন। যেমন আল্লাহ তা'য়ালা,তিনি যা কিছু করেন সে সম্পর্কে কেউ জিজ্ঞাসা করার ক্ষমতা রাখে না।পক্ষান্তরে তিনি সবাই কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
সুতরাং যে ব্যক্তি, এ রকম কেন করল? এ বলে প্রশ্ন করে সে যেন কুরআনের হুকুম কে প্রত্যাখ্যান করল। আর যে কুরআনের হুকুম কে অমান্য করে সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত।
মোট কথা উপরোক্ত কথাগুলোর দিকে আল্লাহ তা'আলার প্রিয়জনদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই মুখাপেক্ষী যার অন্তর আলোকিত হয়ে আছে। আর উহাই জ্ঞানে পরিপক্ব লোকদের স্তর। কারণ ইলম দু প্রকার। এক প্রকারের ইলম হলো যা মাখলুকের মধ্যে বিদ্যমান আর এক প্রকারের ইলম হল যা মাখলুকের মধ্যে বিদ্যমান নয়। সুতরাং প্রকাশ্য ইলমের অস্বীকার করা কুফরী আর অদৃশ্য ইলমের দাবী করাও কুফরী, তাই প্রকাশ্য ইলম এবং এবং অপ্রকাশ্য ইলমের অন্বেষন বাদ দেয়া ছাড়া ঈমান শুদ্ধ হবে না।
৪০/ আর আমরা লওহ কলমের উপর ঈমান রাখি এবং ঐ সকল কথার উপর ও ঈমান রাখি কলম যা লিপিবদ্ধ করেছে।
৪১। আল্লাহ তা'য়ালা যে জিনিস সম্পর্কে হওয়ার আদেশ লিখে দিয়েছেন,সেটি যদি সমস্ত মাখলুক এক হয়ে না করতে চায় তাহলে সক্ষম হবে না। আর যে জিনিশ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা না হওয়ার আদেশ লিখে দিয়েছেন, সেটি যদি সমস্ত মাখলুক করতে চায় তাও পারবে না। কেয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে সে সম্পর্কে কলম শুকিয়ে গেছে অর্থাৎ কলম লিখে দায়িত্ব মুক্ত হয়ে গেছে।
৪২/ যা বান্দার নিকট পৌঁছেনি তা পৌঁছার ছিলনা,আর যা পৌঁছেছে তা, পৌঁছার মতই ছিল। বান্দার জন্য এ কথাটি জেনে রাখা আবশ্যক যে,মাখলুকের প্রতিটি সংঘটিত বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা পূর্ব থেকে জানেন। অতঃপর তিনি সে গুলো কে স্বেচ্ছায় এমন তাকদীরের সাথে সম্পৃক্ত করে দিয়েছেন যা অবিচল, যাকে কেউ খন্ডন করার শক্তি রাখে না। আবার কেউ স্থগিতও করতে পারে না। কেউ রহিত করতে পারে না। কেউ রদ বদল করতে পারে না বেশ কমও করতে পারে না।
৪৩/ তার সৃষ্টি ছাড়া কোন জিনিস অস্তিত্ব লাভ করতে পারে না। আর তার সব সৃষ্টি সুন্দরই হয়ে থাকে।
উপরোক্ত বিষয়গুলো ঈমান আকিদা এবং মারেফাতের মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহ তা'য়ালার একত্ব ও প্রভুত্বের স্বীকৃতি। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, আর তিনি সকল জিনিস কে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর সেগুলোকে শোধিত করেছেন পরিমিত ভাবে। তিনি অন্যত্র বলেছেন, আল্লাহ তা'য়ালার আদেশ সুনির্ধারিত থাকে।ঐ লোকের জন্য ধ্বংস অনিবার্য, যে তাকদীর নিয়ে আল্লাহ তা'য়ালার সাথে ঝগড়া করে। যে ব্যক্তি তাকদীর নিয়ে চিন্তা করার জন্য রুগ্ন অন্তর কে লিপ্ত করেছে।নিঃসন্দেহে সে কল্পনা শক্তি দিয়ে গোপন রহস্য কে অনুসন্ধান করেছে, আর সে তাকদীর সম্পর্কে যা বলেছে তার কারণে সে মিথ্যুক এবং পাপী হয়ে গেছে।
৪৪/ আরশ এবং কুরসী সত্য যেমন আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেছেন, তিনি আরশ ইত্যাদি থেকে মুক্ত।তিনি প্রত্যেক জিনিস কে বেষ্টন করে আছেন এবং তিনি সব কিছু থেকে উপরে।কিন্তু তার মাখলুক তাকে আয়ত্ব করতে অক্ষম।
৪৫/ আমরা বলছি যে, আল্লাহ তা'আলা হযরত ইবরাহিম (আঃ) কে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং মূসা (আঃ) এর সাথে কথা বলেছেন। এ কথাটি আমরা পুরো আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলছি। আমরা ফেরেশতা দের উপর নবীদের উপর এবং ঐ সকল কিতাবের উপর যা রাসুলের উপর অবতরণ করা হয়েছে তার উপর ঈমান রাখি।আর আমরা এ কথার উপর সাক্ষী দেই যে,সমস্ত নবী উজ্জল সত্যের উপর রয়েছে।
৪৬/ যারা কেবলামুখী হয়ে নামাজ পড়ে তাদেরকে আমরা মুসলমান,ঈমানদার করে নাম রাখব। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনিত কোৎাগূলো বিশ্বাস করবে,আর উনার বলা এবং সংবাদ দেয়া কথাগুলো সত্যায়ন করবে।
আমরা আল্লাহ তা'য়ালার সত্তা নিয়ে গবেষণা করব না। আল্লাহ তা'য়ালার ধর্ম নিয়ে দ্বন্দ করব না। কুরআন নিয়ে ঝগড়া করবনা। আমরা সাক্ষী দিব যে, উহা আল্লাহ তা'য়ালার বাণী যা জিব্রাঈল (আঃ) নিয়ে এসেছেন, এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষের কথা আল্লাহ তা'য়ালার কথার সমতুল্য কখনো হতে পারে না। আবার কুরআন কে মাখলুকও বলব না, আমরা মুসলমানদের বিরোধিতা করব না।
৪৭/ কোন মুসলমান কে গোনাহের কারণে আমরা কাফের বলব না যতক্ষণ পর্যন্ত সে উক্ত গোনাহকে হালাল মনে না করবে। আমরা এ কথাও বলব না যে, ঈমান আনার পর গোনাহ করলে তা পাপীর জন্য ক্ষতিকর নয়।আমরা নেককারদের ব্যাপারে এ আশা রাখি যে,আল্লাহ তা'আলা তাদের কে ক্ষমা করে দিবেন,কিন্তু তাদের ব্যাপারে আমরা একেবারে নির্ভিক নই। আমরা তাদের সম্পর্কে নিশ্চিত জান্নাতের সাক্ষী দিতে পারি না।আমরা মুসলমানদের মধ্যে যারা গোনাহগার তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করি। আবার তাদের জন্য ভয়ও রাখি আমরা কাউকে নিরাশ করি না।
৪৮/নিশ্চিত এবং নৈরাশ্যতা উভয়টি এমন পন্থা, যা ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী। আর মুসলমানদের পন্থা এ দুয়ের মাঝে।
৪৯/ বান্দা ঈমান থেকে বের হয় না কিন্তু ঐ সকল জিনিস অস্বীকার করার কারণে যা সে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেছিল।(অর্থাৎ ধর্মের আবশ্যকীয় বিষয়াবলী।)
৫০/ ঈমান হলো মৌখিক স্বীকার আন্তরিক সত্যায়ন এবং এ কথার স্বীকার করার নাম যে, আল্লাহ তা'আলা কুরআনে যা কিছু অবতরণ করেছেন এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যেসব বিধান এবং বক্তব্য বিশুদ্ধ ভাবে বর্ণিত সব গুলোই সত্য।
৫১/ঈমান একক জিনিস ঈমানদারগণ মূল ঈমানের ক্ষেত্রে সমান, তবে তাদের প্রকৃত পার্থক্য তাকওয়া এবং প্রবৃত্তির বিরোধিতা এবং উত্তম জিনিসকে আকড়ে ধরার কারণে।
৫২/ সমস্ত মুমিন আল্লাহর বন্ধু। তাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশী সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে কোরআনের বেশী অনুসরণ করে।
৫৩/আর ঈমান কয়েকটি জিনিসের উপর বিশ্বাস রাখার নাম। যথা, আল্লাহ তায়ালার উপর, তার ফেরেশতাদের উপর, তার কতাব সমূহের উপর, তার রাসুলের উপর, কেয়ামতের উপর, পুনরুত্থানের উপর, তাকদীরের উপর ভাল- মন্দ মিঠা-তিতা সব আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকেই হয় এই কথার উপর। আমরা উপরোক্ত সকল বিষয়ের উপর ঈমান রাখি। আমরা তার রাসূল গণের মাঝে কোন ধরণের পার্থক্য করি না। বরং সকল নবী এবং তাদের আনিত সকল বিধি বিধানকে স্বীকার করি।
৫৪/ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতদের মধ্যে কবীরা গোনাহের পাপীরা আল্লাহ তা'আলার পরিচয় লাভ করা সত্বেও যদি তওবা না করে কিন্তু আল্লাহ তা'য়ালার একাত্মবাদ স্বীকার করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তবে তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে না।কবীরা গোনাহের পাপীরা আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছার আওতাধীন। আল্লাহ তা'আলা চাইলে স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।যেমন আল্লাহ তা'আলা তার পাক কুরআনে বলেছেন তিনি কুফর শিরকের অপরাধি ছাড়া যাকে চান ক্ষমা করে দেন। আর তিনি চাইলে নিজের ন্যায় বিচার হিসেবে তার অপরাধ অনুযায়ী শাস্তিও দিতে পারেন। অতঃপর স্বীয় রহমত এবং নেক বান্দাদের সুপারিশক্রমে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে পাঠিয়ে দিবেন।কেননা আল্লাহ তা'আলা যে সকল লোক তার পরিচয় লাভে ধন্য হয়েছেন তাদের অভিভাবক। আল্লাহ তা'আলা তাদের কে উভয় জাহানে ঐ সকল কাফেরদের মত করবেন না, যারা তারা হেদায়েত থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এবং তার অভিভাবক্ত্ব অর্জন করতে পারেননি।হে আল্লাহ আপনি ইসলাম এবং মুসলমানদের অভিভাবক। আপনি আমাদেরকে ইসলামের উপর স্থির রাখুন। যাতে ইসলাম নিয়ে আপনার সাক্ষাত করতে পারি।
৫৫/ আমরা মুসলমানদের মধ্যে যে কোন সৎ এবং অসৎ ব্যক্তির পিছনে নামাজ পড়া কে বৈধ মনে করি।মুসলমানদের মধ্যে যারা মৃত্যু বরণ করবে তাদের উপর জানাযার নামাজ পড়াকে বৈধ মনে করি, আমরা কোন মুসলমানকে জান্নাতে বা দোযখে নামাব না।(অর্থাৎ নিশ্চিত ভাবে তাদেরকে জান্নাতী বা দোযখী বলব না।)
৫৭/আমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতদের মধ্যে কারো উপর উঠানো কে বৈধ মনে করব না। হাঁ যার উপর তলোয়ার উঠানো জরুরী হয়ে পড়ে।
৫৮/আর আমরা আমাদের ঈমাম এবং শাসক কর্তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করাকে বৈধ মনে করব না। যদিও বা তারা জুলুম করুক।আমরা তাদের জন্য বদ দোয়া করব না। তাদের আনুগত্য ছাড়ব না। আল্লাহ তা'আলার আনুগত্যের কারণে আমরা তাদের আনুগত্য কে ফরজ মনে করব।যতক্ষণ পর্যন্ত তারা কোন গোনাহের আদেশ না দিবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তাদের জন্য সৎ এবং সঠিকতার দোয়া করব। আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুকরণ করব। আমরা বিচ্ছিন্নতা-মতবিরোধ এবং দ্বন্দ্ব-থেকে বেচে থাকব। আমরা ন্যায়পন্থী এবং বিশ্বস্তদেরকে মহব্বত করব।জুলুমবাজ এবং বিশ্বাস ঘাতকদের ঘৃনা করব। যে সকল জিনিস আমাদের নিকট সন্দেহপূর্ণ মনে হয় সেগুলো সম্পর্কে আমরা বলব আল্লাহ তায়ালাই সবচেয়ে বেশী ভাল জানেন।
৫৯/আর আমরা বাড়ীতে অবস্থান কালে এবং সফরের সময় মৌজার উপর মাসেহ করাকে বৈধ মনে করি, যেমন হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।
৬০/হজ্ব এবং জেহাদ মুসলমান ইমামের তত্ত্বাবধানে চাই নেককার হোক বা বদকার কেয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। কোন কিছু উহাকে রহিত বা ভণ্ডল করতে পারবে না।
৬১/আমরা সম্মানিত দুই ফেরেশতার উপর ঈমান রাখব। আর এ কথার উপর ঈমান রাখব যে, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে আমাদের রক্ষক বানিয়েছেন।আমরা মৃত্যুর ঐ ফেরেশতাকের ও বিশ্বাস করি যিনি তাবৎ বিশ্ববাসীর প্রাণ হরণ করার জন্য নিয়োজিত রয়েছেন।

৬২/আমরা কবরের আযাব এবং তার শান্তির উপর ঈমান রাখি, ঐ লোকদের জন্য যারা তার উপযুক্ত। এছাড়া মৃত ব্যক্তিকে কবরে তার প্রতিপালক, নবী এবং ধর্ম সম্পর্কে মুনকার নাকীর ফেরেশতাদ্বয় প্রশ্ন করবেন,আবার তাও করা হবে ঐ বর্ণনা অনুযায়ী যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হতা আমরা বিশ্বাস করি।কবর জান্নাতের বাগান সমূহ থেকে একটি বাগান হবে অথবা জাহান্নামের গর্ত সমূহ থেকে একটি গর্ত হবে।
৬৩/পুনরুত্থান এবং কেয়ামতের দিন কর্মের ফল প্রদান, হিসাব-নিকাশ,আমল নামার পাঠ,প্রতিদান ও শাস্তি, পুলসিরাত আর আমল নামার নিক্তি ইত্যাদি বিষয়ের উপর আমরা ঈমান রাখি।
৬৪/জান্নাত এবং দোযখ উভয়টি সৃষ্ট ,যা কখনো নিঃশেষ হবেনা ধ্বংস ও হবেনা। আল্লাহ তায়ালা মানব সৃষ্টির পূর্বেই জান্নাত এবং দোযখ সৃষ্টি করে রেখেছেন।অতঃপর উভয়ের অধিবাসীদের সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে চেয়েছেন স্বীয় অনুগ্রহে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন আর যাদেরকে চেয়েছেন স্বীয় ইনসাফ অনুযায়ী দোযখের জন্য সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি লোক এমন জিনিসের জন্য আমল করছে।যা পূর্বে থেকে সিদ্ধান্ত হয়ে আছে আবার প্রতিটি লোক ঐ স্থানে গিয়ে পৌঁছুবে যার জন্যা তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। ভাল মন্দ সবকিছু আল্লাহ তায়ালার মর্জির অধীন।
৬৫/সামর্থ্য দুপ্রকার,একটি হলো এমন সামর্থ্য যার সাথে কর্ম পাওয়া যায়,যেমন এমন তৌফীক যার সাথে বান্দার গুণান্বিত হওয়া জায়েয নেই।এই সামর্থ্যটি কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে। আর যে সামর্থ্য সুস্থতা সক্ষমতা এবং উপায় উপকরণের নিরাপত্তার দিক থেকে হয়ে থাকে, তা কর্মের পূর্বে পাওয়া যায়। আর এ সামর্থ্যের সাথে আল্লাহর আদেশ নিষেধ সম্পৃক্ত থাকে। যেমন- আল্লাহ তা'আলা বলেছেন তিনি শক্তি অনুযায়ী মানুষকে কাজের জিম্মাদার বানান। বান্দার সকল কর্মকান্ড আল্লাহর সৃষ্ট এবং বান্দার উপার্জন। আল্লাহ তা'আলা তাদের কে এমন কাজের জিম্মাদার বানিয়েছেন, যা করতে বান্দা সক্ষম। আর তারা একমাত্র ঐ সকল কাজ করতে সক্ষম যে গুলোর জিম্মাদার তাদেরকে বানানো হয়েছে। ইহাই "লা হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" এর ব্যাখ্যা। আমরা বলি আল্লাহ তা'য়ালার সাহায্য ছাড়া তার অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকার কারো কোন কৌশল কোন শক্তি কোন ক্রিয়া ফলপ্রসু হয় না। অনুরুপ আল্লাহ তা'য়ালার তাওফিক ছাড়া তার ইবাদত এবং ইবাদতে অবিচল থাকার কারো কোন সামর্থ্য নেই।
৬৬/প্রতিটি জিনিস আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা-জ্ঞান এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়।সুতরাং তার ইচ্ছা সকল ইচ্ছার উপর তার সিদ্ধান্ত সকল কৌশলের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে। আল্লাহ তা'আলা যা চান তাই করেন, তিনি কার উপর জুলুম করেন না। তিনি যাই করবেন সে ব্যাপারে কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারবে না। কিন্তু তিনি সবাই কে জিজ্ঞাসা করবেন।
৬৭/ জীবিতদের দোয়া এবং সাদাকা করার মধ্যে মৃত ব্যক্তিদের উপকারিতা আছে।
৬৮/ আল্লাহ তা'আলা নেক দোয়াসমূহ কবুল করেন।উদ্দেশ্য সমূহ পুর্ণ করেন।তিনি সকল জিনিসের মালিক কেউ তার মালিক নন। এক মুহুর্তের জন্য কেও আল্লাহ তা'আলা থেকে উদাসীন হতে পারে না। যে এক মুহুর্তের জন্য আল্লাহ তা'আলা থেকে উদাসীন হবে সে কাফের এবং ধ্বস হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা রাগ করেন এবং সন্তুষ্ট হন তবে মাখলুকদের কারো রাগ বা সন্তুষ্টির মত নয়।।
৬৯/ আর আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদেরকে মুহাব্বত করি। তাদের মুহাব্বতের ব্যাপারে কোন ধরনের বাড়া বাড়ি করি না। আবার কারো বিরুদ্ধে অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করি না। যারা তাদের ঘৃনা করে আমরাও তাদের ঘৃনা করি। যারা তাদের অসৎ ভাবে স্মরণ করে তাদেরকেও আমরা ঘৃনা করি।আমরা তাদের সু আলোচনা করবো।তাদের মুহাব্বত দ্বীন ঈমান এবং নিষ্ঠার অংশ। আর তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফুরী-নিফাক এবং অবাধ্যতার নামান্তর।
৭০/আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর সর্বপ্রথম হযরত আবু বকর (রা:)এর খেলাফতকে প্রাধান্য এবং অগ্রাধিকার দিই।এরপর হযরত ওমর (রা:)এর খেলাফতকে এরপর হযরত উসমান এর জন্য এরপর হযরত আলী জন্য স্বীকার করি।এরা সকলেই খোলাফায়ে রাশেদীন এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত ইমাম।আর যে দশজনের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতী হওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন তাদের সম্পর্কে আমরা জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ দিই।কারণ তাদের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতী হওয়ার সাক্ষী দয়েছেন। নি:সন্দেহে তার কথা সত্য। উক্ত ব্যক্তিরা হলেন -হযরত আবু বকর, ওমর, উসমান, আলী, তালহা, যুবাইর,সাদ,সাঈদ,আব্দুর রহমান বিন আউফ,আবু ওবাইদা বিন জাররাহ এরা সবাই এই উম্মতের বিশ্বস্ত লোক।যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা স্ত্রী এবং সন্তান সন্ততি সম্পর্কে সু আলচনা করবে তারা নেফাক থেকে মুক্ত থাকবে।
৭১/পুর্ববর্তী আলেমদের মধ্যে যারা সৎ অর্থাৎ সাহাবা এবং তাবেঈন এবং যারা তাদের পরে এসেছেন অর্থাৎ যারা কুরআন হাদীস ফিকহের পারদর্শী এবং গবেষক, তাদেরকে সম্মানের সাথে স্মরণ করতে হবে।আর যারা তাদেরকে অসৎ ভাবে স্মরণ করবে তারা পথভ্রষ্ট।

৭১/আমরা ওলীদেরকে নবীদের উপর প্রাধান্য দেই না। বরং আমরা বলি একজন নবী সমস্ত ওলীর চেয়ে উত্তম।
আমরা ঐ সকল ঘটনাকে বিশ্বাস করি যা ওলিদের থেকে কারামত হিসেবে সংঘটিত হয় এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনা কারীর দ্বারা প্রমাণিত।
৭২/আর আমরা কেয়ামতের নিদর্শনাবলীর অর্থাৎ, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ, আস্মান থেকে ঈসা (আ:) এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের আত্মপ্রকাশ ইত্যাদির উপর বিশ্বাস স্থাপন করি।অনুরুপ আমরা সূর্য স্তিমিত হওয়ার জায়গা হতে উদিত হওয়ার উপর এবং জমিন থেকে একটি জন্তু বের হওয়ার উপর ও বিশ্বাস স্থাপন করি।
৭৩/ আমরা কোন জ্যোতিষী কোন গণক এবং এমন কোন ব্যক্তি যে কুরআন সুন্নাহ বা উম্মতের ঐক্যমতের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকে বিশ্বাস করবনা।
৭৪/ আমরা একতাবদ্ধতাকে সত্য এবং সঠিক মনে করি। আর এর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াকে গোমরাহী এবং আযাব মনে করি। জমিন-আসমানে আল্লাহ তা'য়ালার ধর্ম একটি আর তাহলো ইসলাম।আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'য়ালার নিকট মনোনিত ধর্ম একমাত্র ইসলাম। তিনি আরো বলেছেন, তোমাদের ধর্ম ইসলাম হওয়ায় আমি তোমাদের উপর রাজি হয়ে গেছি।
৭৫/আর উহা (ইসলাম ধর্ম) সীমালংঘন এবং উদাহরন তুলনা এবং গুণাবলীর অস্বীকার এবং বান্দাকে একান্ত বাধ্য বলা পূর্ণ ক্ষমতাধারী বলা, নিশ্চিতে থাকা বা হতাশায় ভুগা ইত্যাদির মধ্যবর্তী। প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে ইহাই আমাদের ধর্ম এবং বিশ্বাস। উপরোল্লিখিত কথার যারা বিরোধিতা করে তাদেরকে আমরা ঘৃনা করি।

আর আমরা আল্লাহ তা'য়ালার নিকট এ আবেদন করছি যে, আপনি আমাদেরকে ঈমানের উপর অটল রাখুন। আমাদের মৃত্যু ঈমানের সাথে করুন। আমাদেরকে মনোবৃত্তি -বিভিন্ন চিন্তাধারা বাজে মতাদর্শ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন।যেমন -মুশাব্বেহা, মু'তাজেলা, জাহামিয়া, জবরিয়া, কদরিয়া প্রমুখ জামাত এবং ঐ সকল জামাত যারা আহলে সুন্নাতের বিরোধী এবং গোমরাহীর সাথি হয়ে আছে।আমরা এদের থেকে মুক্ত।এরা আমাদের নিকট গোমরাহ নিকৃষ্ট। আল্লাহ তা'য়ালার নিকটই আমরা রক্ষা এবং তাওফিক চাচ্ছি। হে আল্লাহ আপনি রহমত এবং শান্তি বর্ষণ করুন আমাদের সর্দার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর এবং তার পরিবার বর্গ এবং সাহাবাদের উপর।সকল প্রশংসা বিশ্ব পালনকর্তারই জন্য।

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ratul BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Ratul BD:

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share