13/05/2025
শ্রীপুরে বনের জমি নিয়ে সংঘর্ষ, দায়ের কোপে একজনের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন।
গাজীপুরের শ্রীপুরে বন বিভাগের মালিকানাধীন জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে হযরত আলী (৬৫) নামের এক ব্যক্তির হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় উপজেলার বরমী ইউনিয়নের তাঁতিসুতা দক্ষিণপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
কবজি বিচ্ছিন্ন হওয়া হযরত আলী দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।
হযরত আলীর স্বজন শাকিল আহমেদ বলেন, ১ একর ৭৬ শতাংশ জায়গা ২০১৪ সাল থেকে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে হযরত আলী চাষাবাদ করে আসছেন। জমিটিও তাঁর উঠানের পাশে। কিন্তু কয়েক দফা জমিটি দখল করার চেষ্টা করেন অমূল্য কুমার বিশ্বাস ও তাঁর লোকজন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে বন বিভাগের নির্দেশে সেখানে বনায়ন করা হয়েছিল। পরে অমূল্য কুমার বিশ্বাস ও তাঁর পক্ষের লোকজন গাছের চারাগুলো ভেঙে দেন। এরপর এই ঘটনায় আদালতে মামলা করা হয়। ওই মামলায় অমূল্য কুমার বিশ্বাসসহ তাঁদের পক্ষের কয়েকজন জামিনে আছেন।
শাকিল আহমেদ আরও বলেন, মঙ্গলবার সকালে জমিতে হালচাষ শুরু করেন অমূল্য কুমার বিশ্বাসের পক্ষের কয়েকজন। এই কাজে হযরত আলী বাধা দিতে যান। দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। অমূল্য কুমার বিশ্বাসের লোকজনের সঙ্গে হযরত আলী ও তাঁর লোকজনের সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে অমূল্য কুমার বিশ্বাসের লোকজনের দায়ের কোপে হযরত আলীর হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষে অপর পক্ষের তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন অমূল্য কুমার বিশ্বাস (৬২), তাঁর মেয়ে সঙ্গীতা বিশ্বাস (১৭) ও ভাই অমৃত চন্দ্র বিশ্বাস (৫২)। অমৃত টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত। আহত তিনজনকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চেষ্টা করেও এ ব্যাপারে অমূল্য কুমার বিশ্বাসের পক্ষের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে বন বিভাগের শ্রীপুর রেঞ্জের শ্রীপুর বিট কর্মকর্তা আলাল উদ্দীনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।