19/07/2026
মৌলভীবাজারের সাধারণ মানুষের সাথে এ কেমন আচরণ? একের পর এক ডাক্তারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারে একের পর এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সেবার নামে অসদাচরণ ও দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠছে। এবার জেলার সুপরিচিত চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম লিয়ন-এর বিরুদ্ধে এক রোগীকে চরম হেনস্তা ও রিপোর্ট ছুড়ে ফেলার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী রোগীর সেই যন্ত্রণাদায়ক ও ক্ষোভের ভিডিও এখন সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— চিকিৎসকদের এই লাগামহীন ও অপেশাদার আচরণ আর কতদিন সহ্য করতে হবে?
ভুক্তভোগী রোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শেই মোট ৫টি পরীক্ষা (টেস্ট) করান। এর মধ্যে ৪টি পরীক্ষা চিকিৎসকের পছন্দের বা নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করলেও, মাত্র ১টি পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে বাধ্য হন। কারণ, ওই নির্দিষ্ট সেন্টারে করলে রিপোর্ট পেতে দেরি হতো এবং সেদিন আর ডাক্তার দেখানো সম্ভব হতো না।
কিন্তু চিকিৎসকের রুমে ৫টি রিপোর্ট নিয়ে ঢোকার পরেই বাধে বিপত্তি। রোগী জানান, ডাক্তার সাহেব ৪টি রিপোর্ট দেখলেও যখনই জানতে পারেন একটি রিপোর্ট বাইরে থেকে করানো হয়েছে, মুহূর্তেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
সেবা নাকি জেদ?
অভিযোগকারী রোগীর দাবি, বাইরে থেকে রিপোর্ট করানোর ‘অপরাধে’ ডাক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে সেই জরুরি রিপোর্টটি ছুড়ে ফেলে দেন! শুধু তাই নয়, রোগীর সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে বলেন, "এটা বাইরে কেন করিয়েছেন? সিলেটে যান।" এরপর তিনি রোগীকে কোনো প্রেসক্রিপশন বা ওষুধ তো দেনইনি, উল্টো কোনো চিকিৎসাসেবা না দিয়েই কক্ষ থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী রোগী চরম মানসিক আঘাত ও ক্ষোভ নিয়ে নিজের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে এবং মৌলভীবাজারের সচেতন মহলে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন:
রোগীরা কি চিকিৎসকদের কাছে জিম্মি?
নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ছাড়া অন্য কোথাও থেকে টেস্ট করালে কি রোগীরা চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার হারাবেন?
সেবা প্রার্থীরা চিকিৎসকের চেম্বারে যাবেন নাকি কোনো সিন্ডিকেটের মুখোমুখি হতে?
যদিও এই বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম লিয়নের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি, তবে মৌলভীবাজারের সাধারণ মানুষ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন। সচেতন মহলের মতে, একের পর এক চিকিৎসকের এমন অপেশাদার ও অমানবিক আচরণের কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকছে।
জেলা সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেবে, নাকি চিকিৎসকদের এই দাম্ভিকতা আর অসদাচরণ মুখ বুজে সয়ে যেতে হবে জেলার সাধারণ মানুষকে?— এখন এটাই সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
#মৌলভীবাজার #মৌলভীবাজারের_খবর #মৌলভীবাজার_পৌর_পার্ক