24/01/2022
ইসলাম একজন নারীকে কতটুকু সম্মান দিয়েছে?
উত্তর -
ইসলাম নারীকে এতটাই মর্যাদা দিয়েছে যে, এক নারীর ইজ্জতের খাতিরে যুদ্ধ হয়েছে; খুনের নজরানা পেশ করা হয়েছে; মাথার পরে মাথা পড়েছে।
মদীনাতে মুসলমানদের পাশেই ইহুদীরা বাস করত। পর্দার হুকুম নাযিল হওয়া এবং মুসলিম নারীদের পর্দার সাথে চলা তাদের কাছে সহ্য হত না। তারা চেষ্টা করত নারীসমাজে বিশৃঙ্খলার বীজ বুনতে এবং তাদের পর্দা নষ্ট করতে। কিন্তু তারা সফল হতে পারত না।
একদিন এক মুসলিম নারী বনী কায়নুকার ইহুদীদের বাজারে গেলেন। তিনি ছিলেন সতীসাধ্বী, পর্দানশীন। তিনি গিয়ে বসলেন এক স্বর্ণকারের দোকানে। ইহুদী দোকানদার তাঁর পর্দা ও পবিত্রতা দেখে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠল। সে চাইছিল মহিলার চেহারা দেখতে, তাঁকে স্পর্শ করতে। এবং তাঁর সাথে মজাক করে সেভাবেই প্রমোদ করতে, ইসলাম আসার আগে তারা যেমনটা করত।
সে মহিলাকে চেহারা খোলার জন্য এবং তাঁকে বেপর্দা করার পীড়াপীড়ি করতে লাগল; কিন্তু মহিয়সী অস্বীকৃতি জানালেন। ইতোমধ্যে একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেলে তিনি। এই ফাঁকে ইহুদী তাঁর নিম্নাংশে পরিধেয় কাপড়ের কোণা ধরে উপরের ওড়নায় আঁচলের সাথে বেঁধে ফেলল।
এ কারণে মহিলা যখন উঠে দাঁড়ালেন, তখন পিছন দিকে তাঁর শরীরের কিছু অংশ উন্মুক্ত হয়ে গেল। উপস্থিত ইহুদীরা খিলখিলিয়ে হাসতে শুরু করল। পবিব্রতা চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠলেন। এভাবে অপমান না করে তাঁকে হত্যা করে ফেললেও তিনি এত ব্যথিত হতেন না।
পাশেই ছিলেন একজন মুসলমান। এই দৃশ্য তার দৃষ্টি এড়াতে পারল না। কালক্ষেপণ না করে তিনি তরবারী কোষমুক্ত করলেন এবং মুহূর্তে স্বর্ণকারের মস্তক ধর থেকে আলাদা করে দিলেন। ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল ইহুদীরা। তারা শহীদ করে দিল এই বীর মুসলিমকে।
খবর এসে পৌঁছে গেল নবীজীর কানে- ইহুদীরা সন্ধি ভঙ্গ করেছে এবং মুসলিম নারীর সম্ভ্রম লুণ্ঠন করেছে। তখন মুসলিম সেনাবাহিনী দিয়ে তাদেরকে অবরুদ্ধ করলেন রাসুলুল্লাহ। অবশেষে ইহুদীরা পরাজয় স্বীকার করল এবং নবীজীর হুকুম মেনে নিল।
রাসুলুল্লাহ চাইছিলেন ইহুদীসমাজকে শিক্ষাপ্রদ শাস্তি দিতে এবং মুসলিম নারীর আক্র লুণ্ঠনের স্বাদ বুঝিয়ে দিতে। কিন্তু আকস্মিক শয়তানের বাহিনী থেকে একজন তাঁর কাছে এগিয়ে এল। এই বাহিনীর কাছে মুসলিম নারীর আক্রর কোন মূল্য ছিল না; ইসলামের সাথেও ছিল না। তাদের কোন সংযোগ; তাদের চিন্তা ছিল শুধু উদরপূর্তি ও জৈবিক চাহিদা নিবৃত্ত করা। মুনাফিকদের প্রধান হোতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এগিয়ে এল। জাহেলী যুগে ইহুদীরা ছিল তার দোসর। সে নবীজীকে লক্ষ করে বলল," মুহাম্মাদ! আমার ইহুদী বন্ধুদের সাথে আপনি নরম আচরণ করুন।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং তার প্রস্তাব পরিষ্কার ভাষায় প্রত্যাখ্যান করলেন। তা ছাড়া এটা সম্ভবও ছিল না; তার কারণ, সে এমনসব লোকের ক্ষমা প্রার্থনা করছিল, যারা ঈমানদার সমাজে বেহায়াপনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইত।
মুনাফিক পুনারায় দাঁড়িয়ে বলল, "মুহাম্মাদ! আপনি তাদের সাথে নরম আচরণ করুন।"
মুসলিম নারীসমাজের সম্মান রক্ষার্থে, পবিত্রব্রতাদের মর্যাদা রক্ষার্থে নবীজী এবারও এড়িয়ে গেলেন। এতে মুনাফিক ক্ষিপ্ত হয়ে গেল। সে নবীজীর জামার গলার ভিতরে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে টানতে টানতে বলতে লাগল," আমার বন্ধুদের উপর সদয় হোন: আমার বন্ধুদের উপর সদয় হোন।"
তার আচরণে নবীজী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলেন। তার দিকে লক্ষ করে বুলন্দ আওয়াজে বললেন-
"ছাড়ো আমাকে।"
মুনাফিক মানল না। হত্যার নির্দেশ থেকে ফিরে আসার জন্য সে নবীজীর কাছে দোহাই দিতে লাগল। অবশেষে তিনি তার দিকে লক্ষ করে বললেন-
"যাও; ওরা তোমার।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদীদেরকে হত্যার নির্দেশ থেকে ফিরে এলেন; তবে তিনি তাদেরকে বের করে দিলেন মদীনা থেকে। করে দিলেন দেশছাড়া।
হাঁ; একজন মুসলিম নারীর হক এমনই।
Source:
বই- রাগ করবেন না,হাত বাড়ালেই জান্নাত(Do not become angry)
লেখক- ড.মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী
অনুবাদক-মাওলানা আবদুল্লাহ আল মাসঊদ
★★★আর আজকে সেই ইহুদিরা আমাদের নারীর অধিকার শেখায়😑😑😑