21/02/2026
এমপি থাকা অবস্থায় যার বাড়ি ছিল রাজপ্রাসাদের মতো, ইন্তেকালের আগে তার নিজের একটা খাট কেনার টাকাও ছিল না। যার ইশারায় কাঁপতো পুরো এলাকা, জীবনের শেষ বেলায় তার পাশে দেখার মতো কেউ ছিল না।
আমি বলছি সাবেক এমপি এনামুল হক জজ মিয়ার কথা। দুইবারের সংসদ সদস্য এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে মরতে হলো নিঃস্ব ভিক্ষারীর মতো? তার এই ধনী থেকে নিঃস্ব হওয়ার কাহিনী আমাদের সবার জন্য এক বড় শিক্ষা।
ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনের এই প্রভাবশালী নেতা একসময় বিলাসবহুল গাড়ি-বাড়ি আর অঢেল সম্পদের মালিক ছিলেন। কিন্তু তার পতনের মূল কারণ ছিল নিজের পরিবারের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস।
তিনি তার সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং সন্তানদের নামে লিখে দিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, সম্পদ থাকলে অন্তত শেষ বয়সে সন্তানেরা তাকে দেখবে।
কিন্তু সম্পদ হাতে পাওয়ার পর সেই প্রিয় মানুষগুলোই তার কাছে অচেনা হয়ে গেল
নাজূ এবং নাসিমা হকের মতো তার স্ত্রীরা যখন বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে জীবন কাটাচ্ছেন,
তখন এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গফরগাঁওয়ের এক কক্ষের ভাড়া বাসায় ফ্লোরে বিছানা পেতে ঘুমাতে হতো। যে সন্তানদের তিনি সোনার চামচ মুখে দিয়ে বড় করেছেন, তারা কেউ ফিরেও তাকায়নি বাবার দিকে। শেষ পর্যন্ত তাকে ঠাঁই নিতে
হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুই রুমের ঘরে। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি সেই সরকারি ঘরেই নিঃস্ব অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনা থেকে আমাদের জীবনের জন্য
কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন রয়ে গেছে:
১. অন্ধ বিশ্বাস পতনের কারণ: নিজের সন্তানদের বা আপন মানুষদের অবশ্যই ভালোবাসবেন, কিন্তু নিজের শেষ সম্বলটুকু বেঁচে থাকতেই অন্যের নামে লিখে দেওয়া চরম বোকামি। মনে রাখবেন, সম্পদ কেড়ে নিলে অনেক সময় সম্পর্কও ফিকে হয়ে যায়।
২. ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়: আজ আপনি যে চেয়ারে বা যে অবস্থানে আছেন, কাল তা নাও থাকতে পারে। ক্ষমতার দাপটে ধরাকে সরা জ্ঞান করবেন না। এনামুল হক জজ মিয়া দানশীল ছিলেন ঠিকই, কিন্তু নিজের ভবিষ্যতের জন্য কোনো সঞ্চয় না রাখা ছিল তার বড় ভুল।
৩. সম্পর্কের চেয়ে সম্পদের মোহ বড়: এই সমাজ এখন এতটাই নিষ্ঠুর যে, রক্ত আর সম্পর্কের চেয়ে মানুষ এখন টাকার মূল্য বেশি দেয়। তাই নিজের শরীরের শক্তি আর হাতের টাকা থাকতে থাকতেই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। অন্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়া মানেই নিজের অপমান ডেকে আনা।
যে মানুষটি হাজারো মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলতেন, তাকেই মরতে হলো অন্যের দেওয়া আশ্রয়ে। ক্ষমতার দাপট আর সম্পদের অহংকার যে কতটা ক্ষণস্থায়ী, জজ মিয়ার জীবন তার জীবন্ত প্রমাণ।
আপনারা কি মনে করেন? এই বীর মুক্তিযোদ্ধার এমন পরিণতির জন্য দায়ী
কে—তার অতিরিক্ত উদারতা নাকি সন্তানদের অকৃতজ্ঞতা? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।
এই জীবনমুখী সত্যটি যদি আপনার কাছে শিক্ষণীয় মনে হয়, তবে দয়া করে শেয়ার করে অন্যদেরও সতর্ক হওয়ার সুযোগ করে দিন। আপনার একটি শেয়ার হয়তো কাউকে তার শেষ বয়সের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখাবে।
#সচেতনতা #এমপি_জজ_মিয়া