03/09/2026
এক জীবন্ত লা/শের ন্যায় বেঁচে আছেন ডক্টর আফিয়া/ সিদ্দিকী।
প্রথম দেখায় বুকটা কেঁপে উঠেছে তো? থমকে গেছেন তো স্ক্রল করতে করতে? ভাবছেন, অবশেষে তাহলে টেক্সাসের সেই অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে উড়ে গেল একটি বন্দি পাখির প্রাণ?
হ্যাঁ, ভুল দেখেননি। ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকী আসলেই বেঁচে নেই। যে মানুষটির শুধু ফুসফুস সচল থাকাকেই আমরা 'বেঁচে থাকা' বলে ধরে নিই, সেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের সংজ্ঞায় হয়তো তিনি কোনোমতে শ্বাস নিচ্ছেন। কিন্তু আপনিই বলুন, বিগত ২১টি বছর ধরে প্রতিটা সেকেন্ড, প্রতিটা মিনিট এবং প্রতিটা দিন যেভাবে একটি জলজ্যান্ত মানুষের আত্মাকে টুকরো টুকরো করে কেটে হত্যা করা হচ্ছে— তাকে কি আদৌ জীবন বলা যায়?
মানুষের তো কেবল ফুসফুস বন্ধ হলেই মৃত্যু হয় না; যখন তার সম্মান, তার মাতৃত্ব, তার অধিকার এবং তার মানবিক অস্তিত্বকে বুটের তলায় পিষে ফেলা হয়, তখনই তার আসল মৃত্যু ঘটে। ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকী প্রতিদিন মরে যান, প্রতি রাতে মরে যান, আর আমরা একবিংশ শতাব্দীর সভ্য মানুষেরা প্রতিদিন তাঁর সেই মৃত্যুর তামাশা দেখি!
আজ থেকে দুই দশক আগে, ২০০৩ সালের এক অভিশপ্ত মার্চ মাসে করাচির রাস্তা থেকে তাঁর তিনটি নিষ্পাপ শিশু সন্তানসহ এই মহীয়সী নারীকে অপহরণ করা হয়েছিল।
অপরাধ? তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত প্রখর মেধার অধিকারী মুসলিম স্নায়ুবিজ্ঞানী (Neuroscientist), যিনি আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) এবং ব্র্যান্ডাইস ইউনিভার্সিটির মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছিলেন। সেই মেধা এবং তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ই যেন তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।
এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছর তাঁর কোনো খোঁজ ছিল না। আ*ফ*গা*নিস্তানের কুখ্যাত ‘বাগরাম কারাগার’-এর বন্দিরা তখন গভীর রাতে এক নারীর বুকফাটা কান্নার আওয়াজ শুনতেন, যা বন্দিদের ঘুমাতে দিত না। সেই রহস্যময়ী বন্দি, ‘কয়েদি নম্বর ৬৫৪’ আর কেউ নন, আমাদের ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকী।
সেখানে তাঁর ওপর যে অবর্ণনীয়, পশুতুল্য নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তা শুনলে পাথরের হৃদয়ও গলে জল হয়ে যাবে।
২০০৮ সালে নাটকীয়ভাবে আ*ফ*গা*নিস্তানে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং এক কাল্পনিক অভিযোগে অভিযুক্ত করে আমেরিকার আদালতে তোলা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি নাকি মার্কিন সেনাদের ওপর গুলি চালাতে চেয়েছিলেন!
অথচ কোনো ফরেনসিক প্রমাণ, কোনো আঙুলের ছাপ কিংবা কোনো মার্কিন সেনার গায়ে আঁচড় লাগার প্রমাণও তারা হাজির করতে পারেনি। তবুও, এক প্রহসনের বিচারে ২০১০ সালে এই নিরাপরাধ নারীকে দেওয়া হয় ৮৬ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড!
বর্তমানে তিনি বন্দি আছেন আমেরিকার টেক্সাসের এফএমসি কার্সওয়েল (FMC Carswell) নামক একটি অন্ধকার ও নির্মম মেডিকেল কারাগারে। মানবাধিকার কর্মীরা এই কারাগারকে বলেন "Hospital of Horrors" বা 'ভীতিকর হাসপাতাল'। সেখানে কোনো মানুষ বাস করে না, বাস করে কিছু জীবন্ত লাশ।
**কী নির্মমতার মধ্য দিয়ে কাটছে তাঁর প্রতিটি মুহূর্ত, একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন:**
**ভাঙা শরীর, ক্ষতবিক্ষত আত্মা:**
বছরের পর বছর চলা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তাঁর সামনের দাঁতগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের ফলে তাঁর এক কানের শ্রবণশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। তাঁর মেরুদণ্ড এবং পাকস্থলী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। চোখের দৃষ্টিশক্তি দিন দিন ম্লান হয়ে আসছে। চরম পিটিএসডি (PTSD) এবং ট্রমার মধ্য দিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তাঁকে কোনো সুচিকিৎসা দেওয়া হয় না।
**ভীতিকর একাকীত্ব ও নিত্যদিনের হামলা:**
২০২১ সালে এক সহ-বন্দি তাঁর মুখে ফুটন্ত গরম তরল ছুড়ে মারে। সেই তীব্র যন্ত্রণার পর তাঁকে কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে না নিয়ে, উল্টো মাসের পর মাস এক নির্জন অন্ধকার সেলে (Solitary Confinement) ফেলে রাখা হয়, যেখানে চব্বিশ ঘণ্টা লাইট জ্বালিয়ে রেখে তাঁর চোখের ঘুম কেড়ে নেওয়া হতো।
**মাতৃত্বের বুকফাটা হাহাকার:**
একটি মায়ের জন্য এর চেয়ে বড় মৃত্যু আর কী হতে পারে যে, তিনি জানেন না তাঁর অপহৃত সন্তানরা আজ কোথায়, কেমন আছে?
দীর্ঘ দুই দশক পর যখন তাঁর বোন ডঃ ফৌজিয়া সিদ্দিকী অবশেষে তাঁর সাথে দেখা করার অনুমতি পান, তখনও মাঝখানে ছিল একটি নিরেট, মোটা কাঁচের দেয়াল। ডঃ ফৌজিয়া যখন তাঁর সন্তানদের ছবি দেখাতে চেয়েছিলেন, কারাগারের নিষ্ঠুর রক্ষীরা তা কেড়ে নেয়। নিজের মায়ের মৃত্যুর খবরটিও তিনি জানতে পেরেছেন অনেক পরে।
তিনি তো আসলে প্রতিদিন আমাদের মুসলিম উম্মাহর বিবেকহীনতার কারণে মারা যাচ্ছেন। তিনি মারা যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দ্বিমুখী নীতির কারণে।
আজ যদি আমরা তাঁর এই জীবন্ত মৃত্যুর বিরুদ্ধে আওয়াজ না তুলি, তবে ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদেরও অপরাধী হিসেবে দাঁড়াতে হবে।
আমরা কি শুধু তাঁর নিথর দেহটা কফিনে চড়ে ফিরে আসার অপেক্ষা করব? নাকি জীবিত থাকতেই এই মজলুম বোনের মুক্তির জন্য শেষ চেষ্টাটুকু করব?
আসুন, অন্তত নিজের ওয়ালে এই সত্যটুকু শেয়ার করে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিই— ডক্টর আফিয়া সিদ্দিকী আইনি মারপ্যাঁচে আটকে থাকা কোনো সাধারণ কয়েদি নন, তিনি এই আধুনিক পৃথিবীর বুকে এক জীবন্ত শহীদ!আমাদের প্রিয় বোন মারা যায়নি,, মারা যাওয়ার চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছেন লেখাটা পড়লেই বুঝে আসে, জীবন্ত লাশের মতো বেঁচে আছেন😭😭রব্বে কারীম সহায় হন😭🤲©️©️