06/11/2025
আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস ২০২৫ উদযাপন: সম্মাননা পেলেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার তৃণমূল নারী
নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ১২ জন সংগ্রামী, উদ্যোক্তা ও মানবিক নারীকে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসের সম্মাননা প্রদান করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)। স্থানীয় সংগঠন নিষ্ঠা উন্নয়ন সংঘের সহযোগিতায় ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সার্কিট হাউজ সংলগ্ন ময়মনসিংহ জেলা রোভার ভবন মিলনায়তনে
আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। ‘গ্রামীণ নারীর উদ্যোগে টেকসই উন্নয়ন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন বিএনএনআরসি’র ময়মনসিংহের ফোকাল পার্সন, সাংবাদিক স্বাধীন চৌধুরী।অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ময়মনসিংহ জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ, ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. গোপাল চন্দ্র সর্দার, অধ্যক্ষ কাব্য সুমী সরকারসহ আরো অনেকে। এতে সভাপতিত্ব করেন দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক, নারী নেত্রী এডভোকেট লীলা রায়।
গ্রামীণ নারীদের জীবনযাপনের যে যুদ্ধ তা শহরের তুলনায় অনেক অনেক বেশি কষ্টকর। এই যুদ্ধজয়ের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তারা সমাজে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। তাই তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বলেন, কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে আমাদের গ্রামীণ জীবনের মূল্যবোধের ভিতটি ধরে রাখার ক্ষেত্রে একজন নারীর ভূমিকা অপরিসীম।
সমাজে-সংসারে তাদের মজুরীবিহীন শ্রম, নিষ্ঠা ও মানবিক মমত্ববোধের প্রতি আমাদের সশ্রদ্ধ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। অগ্রগতির সকল কর্মে পাশে থাকতে হবে সম্মান ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে। স্বীকৃতি দিতে হবে ঘর ও বাইরের অর্জিত সাফল্যকে।
এসময় বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীরা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রার অন্যতম চালিকা শক্তি। কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক নেতৃত্বে তাদের অবদান অনন্য।
বিএনএনআরসি’র ফোকাল পার্সন স্বাধীন চৌধুরী বলেন, গ্রামীণ নারীরা কেবল সমাজের অবহেলিত অংশ নয়, তারা উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মূল অংশীদার। আমরা চাই তাদের প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হোক।
অনুষ্ঠানে নারীর অধিকার, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও বাজার সংযোগে সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণমাধ্যম, উন্নয়নকর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা প্রাপ্ত ১২ জন নারী তাঁদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছেন- সমাজসেবা, নারী উদ্যোক্তা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, সমাজকর্ম এবং জীবনসংগ্রামী মনোভাবের মাধ্যমে।
সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন-
চর সিরতা ইউনিয়ন: উমা রানী চৌধুরী (সমাজসেবা), শিউলী আক্তার (জীবন সংগ্রামী)
চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়ন: হালিমা খাতুন (প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা), আনোয়ারা খাতুন (সমাজকর্ম)
চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়ন: হোসনা আক্তার (নারী উদ্যোক্তা ও জীবন সংগ্রামী), আমিনা খাতুন (জীবন সংগ্রামী)
ভাবখালী ইউনিয়ন: মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিন (সমাজসেবা), রিনা আক্তার (জীবন সংগ্রামী)
খাগডহর ইউনিয়ন: রীতা রানী বর্মন (জীবন সংগ্রামী), মোছাঃ তাহসিনা আক্তার রূপসী (উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী)
দাপুনিয়া ইউনিয়ন: মোছাঃ জমিলা খাতুন (প্রসবকালীন সেবা), মোছাঃ রাজিয়া খাতুন (উদ্যোক্তা)।
শেষপর্যায়ে সম্মাননা প্রাপ্ত নারীরা তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেন। যা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।