07/11/2025
গাছে পানি দিলে তার গোড়ায় দিতে হয়।প্রাথমিক শিক্ষা হলো ফাউন্ডেশন, তাই সবার আগে ফাউন্ডেশন ঠিক করুন। ছোট্ট শিশুদের শেখানো, বোঝানো খুব কঠিন এবং ধৈর্য্যের কাজ যা বলে সহজে বোঝানো যায় না।
প্রাথমিকের কোমলমতি শিশুরা সাধারণত সর্বদাই অমনোযোগী থাকে। তাদেরকে ভয় দেখিয়ে কিংবা ধমক দিয়ে কথা বললে তারা স্কুলে আসবে না বা আসেনা। শিখাতে হলে যে কয়জন শিশু থাকে তাদের সবার সাথে তত বার বলে বোঝাতে হয়।
একটা হাতের লেখা দিলে প্রত্যেকের খাতায় লিখে দিতে হয়। হাইস্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো এক কথা বলে তাদের শিখানো যায় না।
এত কিচির-মিচির করে যে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। আবার প্রাথমিকে পড়ুয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরিবার অস্বচ্ছল ও সচেতন,তাই তাদের পড়াশুনা ও স্কুল মুখী করানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ।
আবার যেসব শিশুর পিতা মাতা দুজনে বাইরে কাজ করে, শিশু তার দাদির কাছে থাকে। এধরণের শিশুদের একটা লাইন শিখানো বা অক্ষর শিখানো ই কঠিন কাজ। আবার দেখছি অনেক শিশু স্কুলে মোটেই রেগুলার আসেনা। তাই এত প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কাজটা খুব শক্ত হাতে ধৈর্যের সাথে করতে হয় প্রাথমিক শিক্ষকদের।
তাছাড়া বাড়তি হিসেবে থাকে এলাকার জনগণ, সাংবাদিকসহ অফিসিয়াল চাপ । অফিসের যে কি পরিমান কাজ করতে হয় তা বাইরে মানুষ বুঝতে পারেন না। শিক্ষকদের বিভিন্ন দিবস পালনের পাশাপাশি টিকাকার্ড করাসহ ৫০ টির বেশি ক্লাসের বাইরের অনলাইন কাজ করা লাগে। পিয়নের কাজ টা পর্যন্ত করা লাগে এবং ৯ টা ৪ টা পর্যন্ত হার্ড স্কুল টাইম থাকে।
অন্য কোন শিক্ষা প্রতিস্ঠানে ৭ ঘন্টা স্কুল নেই । টোটাল ৩০+ ক্লাস থাকে সপ্তাহে প্রত্যেক টিচারের, প্রতিদিন মিনিমাম ৫-৬ টা করে ক্লাস নেওয়া লাগে,যদি টিচার স্বল্প হয় তাহলে আরো অধিক ক্লাস নেওয়া লাগে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষকদের কোন সম্মান নেই। অর্থ ও গ্রেডে তৃতীয় শ্রেণির কিন্তুু শিক্ষাগত যোগ্যতা সর্বনিম্ন ২য় শ্রেণির স্নাতক এবং শিক্ষার কোন স্তরে ৩য় শ্রেণির রেজাল্ট গ্রহণযোগ্য নয়।
২৫-৩০ বছর একই পদে চাকুরী করতে হয়, নেই কোন পদোন্নতি ,অধিকাংশ শিক্ষক ঋণগ্রস্ত। সবাই অবহেলার চোখে দেখেন, এমতাবস্থায় শিক্ষকদের মধ্যে একটা মানসিক চাপ তৈরি হয়ে বিশাল হতাশার জন্ম দিচ্ছে। তাই এসব থেকে উত্তরণ ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন ও গ্রেড উন্নয়ন একান্ত জরুরী।
লেখক- জুয়েল মন্ডল,সহকারী শিক্ষক