20/06/2025
ঘোরের মধ্যেও বুঝতে পারা যাচ্ছে, দুজন মানুষ সঙ্গমে লিপ্ত। তাদের শীৎকার কানে আসছে উর্মির। বারবার বোঝার চেষ্টা করছে, সে যা শুনছে তা মনের ভুল নয়তো? এই বাড়িতে উর্মি আর সানি ছাড়া কেউই থাকে না। সানি এখন ওর পাশেই শুয়ে আছে, তাহলে কারা এখন সঙ্গমে লিপ্ত?....
একমাস হলো বিয়ে হয়েছে উর্মি আর সানির। আর এই একমাসেই উর্মির জীবন কেমন যেন ওলট-পালট হয়ে গেছে। বিয়ের পর থেকেই সে মানসিক রোগে ভুগছে, অসময়ে ঘুমিয়ে যাচ্ছে, সারাদিন ক্লান্তি ভাব, কোনো কিছুই তার ভালো লাগে না, কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে থাকে। এই একমাসে একবারও সানির সাথে কোনোরকম শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়নি তার। তবে সানি উর্মিকে ভীষণ আগলে রাখে, ভালোবাসে। বারবার বুঝিয়ে বলে, উর্মি সুস্থ হয়ে যাবে। সময়মতো ওষুধ খাইয়ে দেয় সে। উর্মির যত্নের কোনো ত্রুটি রাখতে চায় না সানি।
অনেকদিন পর অফিসে যায় উর্মি। অবশ্য সানি বারবার বারণ করেছিল। শেষে উর্মির জেদের কাছে হার মেনে সানি নিজেই তাকে অফিসে পৌঁছে দেয়। উর্মি অফিসে ঢোকার আগে সানি হঠাৎ তাকে জড়িয়ে ধরে। কতক্ষণ ধরে জড়িয়ে ছিল তা উর্মি জানে না, শুধু বুঝতে পারছিল, সানির মতো কেউ তাকে আজ পর্যন্ত ভালোবাসেনি, তাকে যেভাবেই হোক সুস্থ হতে হবে।
এইসবটাই ব্যালকনি থেকে দেখছিল ঋষি। রা গে অভিমানে তার চোখ দিয়ে জল ঝরতে লাগলো। নিজের কেবিনে গিয়ে খানিকটা সামলে নিয়ে, উর্মির সামনে গিয়ে, কিছুটা রাগান্বিত গলায় বললো, এটা অফিস নাকি আড্ডার জায়গা? যখন খুশি আসবেন, না বলে ছুটি নেবেন.....
ঋষির কাছে এইরকম ব্যবহার কোনোদিন আশা করিনি উর্মি, তবে সবচেয়ে অবাকের বিষয়, ঋষি তাকে 'আপনি' দিয়ে কথা বলছে। উর্মির শরীর ভীষণ দুর্বল এই মুহুর্তে, কোনো কিছু বলার মতো অবস্থায় সে নেই, তাই অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকলো সে ঋষির দিকে।
ঋষি এর আগে কোনোদিনও এইরকম অবস্থায় দেখেনি, বড্ড ক্লান্ত লাগছে মেয়েটাকে, বোধহয় শরীর ভালো নেই, তবে বেশিক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থাকা যাবে না, আবার হয়তো মায়ায় জড়িয়ে যাবে। তাকে যে অনেক কঠোর হতে হবে।
উর্মি সব থেকে বেশি ভালোবাসে তার সৎ বোন সৌমিকে। উর্মির মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা যখন আবার বিয়ে করেন, তা কিছুতেই উর্মি মানতে পারেনি, তবে একবছর পর বোনকে পেয়ে তার কিছুটা হলেও ক ষ্ট লাঘব হয়েছিল। সৎ মাকে কোনোদিনও মা বলে ডাকেনি উর্মি, সে ভাবে কথাও হয়নি আজ পর্যন্ত। তবে তার সৎ মা মালিনী দেবী যতটা সম্ভব উর্মিকে কাছে টানার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কোনোদিনই মনের দূরত্ব ঘুচেনি। তবে সৌমির প্রতি উর্মির এই ভালোবাসা দেখে মালিনী দেবী খুব খুশিই হয়েছিলেন।
সানির সাথে হঠাৎই বন্ধুত্ব হয়েছিল উর্মির, সে কথা শুধু জানতো সৌমি। তারপর মালিনী দেবী জানতে পারায়, একটু বাধা দিয়েছিলেন উর্মিকে। আর সেই জেদেই উর্মি সানিকে বিয়ে করার সিন্ধান্ত নেয়।
বিয়েটা এইরকম তাড়াতাড়ি হয়ে যাওয়াতে সব থেকে ক ষ্ট পেয়েছিল উর্মির অফিসের বস ঋষি।
ঋষি যে তার মনের কথাগুলো কোনোদিনই বলতে পারলো না উর্মিকে। আর উর্মিও কোনোদিন ঋষির না বলা কথাগুলো বুঝতে পারলো না। সবকিছুই যেন একটা ঝড় এসে লণ্ডভণ্ড করে দিল।
আজও হঠাৎ মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল উর্মির। আজ অবশ্য সে কোনো সঙ্গমের শীৎকার শুনতে পায়নি, তবে নীচের রুম থেকে তার একটা প্রিয় গান শুনতে পাচ্ছে। পাশেই সানি শুয়ে আছে, তাহলে নীচে কে গান শুনছে? তবে উর্মি সানিকে বির'ক্ত করতে চায়না। সে নিজেই বেড থেকে নামলো, আজও সে একটা ঘোরের মধ্যে, বোধহয় ওষুধের জন্য। ডাক্তার যে তাকে বারবার রেস্টে থাকার কথা বলেছেন। কোনোরকমে দেওয়াল ধরে ধরে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে লাগলো, হঠাৎ একটা মিষ্টি গন্ধ পেয়ে পিছন ফিরে তাকাতেই পর্দার মতো কি যেন একটা এসে তাকে ঠে'লে দিল, আর উর্মিও গড়িয়ে পড়ে গেল সিঁড়ি থেকে।
উর্মির যখন বাবা মা'রা যান, তখন উর্মির ১৫ বছর বয়স। সৎ মায়ের কাছে বাধ্য হয়ে থাকতে হতো তাকে। এত বড় বাড়িতে ভীষণ একলা লাগতো তার। প্রিয় মানুষ বলতে, সৎ বোন সৌমিই ছিল একমাত্র।
সৌমিরও তার দিদির প্রতি ভালোবাসা ছিল অগাধ। হয়তো আজও আছে, তাই উর্মির এই অবস্থার কথা শুনে মেঘালয় থেকে ছুটে এসেছে কাজ ফেলে। উর্মির বিয়ের পর দিনই তাকে যেতে হয়েছিল মেঘালয়।
তখনও উর্মির জ্ঞান ফেরেনি, সৌমি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, আর অবাধ্য চোখের জল গড়িয়ে আসছে চোখ থেকে। উর্মির আর এক পাশে বসে আছে সানি, ঋষি কিছুটা দূরে আর উর্মির সৎ মা দেয়ালে ঠেস দিয়ে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রতিটা মানুষ এই সময় কি ভাবছে তা শুধু নিজেরাই জানেন। ঋষি অবাক হয়ে উর্মির মুখের দিকে চেয়ে আছে, কিছুতেই বুঝতে পারছে না, উর্মির এইরকম অবস্থার কারণ। বেশ একটা রহস্য আছে এর মধ্যে।
সৌমি জানিয়ে দেয়, সে উর্মির ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকবে। এই বাড়িতে কি হচ্ছে, তা তাকে জানতেই হবে। কথাটা বলে একটু সন্দেহের নজরে তাকালো সানির দিকে। সানি অবশ্য উর্মির হাতটা ধরে আনমনে কিছু ভাবছিল। আর এইদিকে উর্মির সৎ মা মালিনী দেবী এখানে থাকার কথা বলতে গেলে, সৌমি বাধা দেয়। সে একাই উর্মির কাছে থেকে তাকে সুস্থ করবে।
এইসবটাই বাইরে থেকে দাঁড়িয়ে শুনছিল এই বাড়ির পরিচারিকা রমা।
ঋষির চোখ তার দিকেই যায়, দুজনে চোখাচোখি হতেই রমা কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যায়, তারপর সেখান থেকে চলে যায়। ঋষি রমাকে দেখে একটু অবাক হয়, আর যায় হোক তাকে দেখে বাড়ির পরিচারিকা বলে মনে হচ্ছে না।
কিছু একটা রহস্য আছে এই বাড়িতে। ঋষি আপাতত উর্মির উপর সমস্ত রা গ অভিমান বিসর্জন দিয়ে রহস্য উদঘাটনের কাজে লেগে পড়ে। তার আগে উর্মিকে একটু ঠিক হতে হবে। কিছুক্ষণ পরেই উর্মির জ্ঞান ফেরে। সবাইকে দেখে তার ভালো লাগে শুধুমাত্র সৎ মা মালিনী দেবীকে ছাড়া। মাথায়, হাতে, পায়ে বেশ ভালোই চো ট পেয়েছে উর্মি। ঋষির দিকে তাকিয়ে, একটু অভিমানের সুরেই সে বলে, স্যার আর কয়েকদিন অফিস থেকে ছুটি পাওয়া যাবে? দরকার হলে এইমাসের স্যালারি অর্ধেক দিতে পারেন।
কথাটা ঋষির বুকে বেশ জোরেই আঘা'ত করলো, তবুও মুখে একটু হাসি টেনে বললো, রেস্ট নাও, তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাও। সৌমি এখানে থাকায় ঋষি একটু চিন্তা মুক্ত। পুরো বাড়িটা ভালো করে ঘুরে দেখে নিল। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় একটা ওষুধের প্যাকেট পেল ঋষি, সেটা পকেটে রেখে দিল।
সৌমির যত্নে উর্মি সাতদিনেই বেশ ভালো হয়ে উঠেছে। এখন অবশ্য তার মাঝরাতে ঘুম ভা'ঙেনা। সারারাত সে ঘুমায়। তবে সারাদিন আগের মতো ক্লান্তি ভাব এখনও আছে। সৌমি এখানে আছে বলে উর্মির মনও বেশ ভালো আছে। রমাও ঠিক সময় মতো খাবার দিয়ে যায় উর্মিকে।
সবকিছুই ঠিকঠাক, শুধু উর্মি সুস্থ হলেই আবার আগের মতো সাজানো গোছানো জীবন হয়ে যাবে। তবে রাতের বিষয়গুলো কারোর সাথে আলোচনা করে নি উর্মি। সঙ্গমের শীৎকারটা হয়তো তার মনের ভুল। কিন্তু সেই রাতে গান শুনে নীচে নামার সময় কীভাবে সিঁড়ি দিয়ে পড়ে গেল সেটাই ভাবার চেষ্টা করছে উর্মি। মাথায় জো র দিতেই তার মনে পড়লো পড়ার সময় পর্দার পাশে একটা চুড়ি পরা হাত দেখেছিল। কিন্তু সেই রাতে সানি আর উর্মি ছাড়া কেউই এই বাড়িতে ছিল না। রমাও কাজ সেরে চলে গিয়েছিল।
সৌমি আজ রাতে এখানে নেই, মায়ের শরীরটা ভালো নেই তাই তাকে যেতে হয়েছে। এইসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তার ফোনটা বেজে উঠলো, ফোনের ওপাশে এক পুরুষ বললেন, আজ রাতে আপনি খু*ন হতে পারেন, তাই যা বলছি মন দিয়ে শুনুন, আপনার বাড়ির পরিচারিকা রমা যদি রাতের খাবার দেয়, সেটা খাবেন না, সবার চোখ এড়িয়ে ফেলে দেবেন, আর ঘুমোনোর ভান করে থাকবেন।
উর্মি কিছু বলতে যাওয়ার আগেই ফোনটা কে*টে গেল। কণ্ঠস্বরটা চেনা লাগলো উর্মির, কিন্তু কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না সে......
উর্মি রাতের খাবারটা সবার চোখ এড়িয়ে ফেলে দিল। সৌমিকে জানানোটা এখন ঠিক হবে না, হয়তো এইসব শুনে চলে আসবে সে, কিন্তু উর্মি এখন তাকে বির'ক্ত করতে চায় না। সানির উপর একটা সন্দেহ শুরু হয়েছে উর্মির। সানির ফিরতে একটু দেরি হবে, তাই ফোনটা নিয়ে যে নাম্বার থেকে ফোন এসেছিল, সেটা কল ব্যাক করতে গিয়ে দেখে সুইচ অফ। ওই পুরুষের কণ্ঠটা সে আগেও শুনেছে, কিন্তু মনে করতে পারছে না। কিছুক্ষণ ফেসবুকে স্ক্রল করতে করতে মেসেঞ্জারে একটা মেসেজ ঢুকলো। মেসেজটা ছিল সৌমির বান্ধবী রিনির। মেসেজটা দেখে উর্মি অবাক হলো, তাতে লেখা ছিল, উর্মি দি কেমন আছো? তোমার বোন সৌমি তো কারোর ফোনই ধরছে না, আমাদের সাথে মেঘালয়ও গেল না, কী চলছে ওর মনে বলো তো?
উর্মি কোনো রিপ্লাই দিল না, সৌমি মেঘালয় যায়নি তো কোথায় ছিল? রাত হয়েছে, এইসময় সৌমিকে ফোন করলো না, সকালের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো। একটা অস্বস্তি বেড়ে চলেছে উর্মির মধ্যে। সবাই যেন একটা মুখোশ পরে আছে। বিশ্বাস - অবিশ্বাসের মধ্যে হাঁপিয়ে উঠেছে সে।
দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে উর্মি ফোন রেখে ঘুমোনোর ভান করে পড়ে থাকলো। সানি রুমে ঢুকে, উর্মির কাছে ফিসফিস করে বললো, ঘুমাও ডার্লিং ঘুমাও.…..
কিন্তু আজ আর উর্মির চোখে ঘুম নেই। রাত্রি প্রায় ১টার কাছাকাছি। সানির ফোন বেজে উঠলো, সানি ফোন রেখে নীচে নামলো। উর্মি দরজা খোলার আওয়াজ পেল, নিশ্চয় কেউ এসেছে। কিন্তু কে?
আরও ১০ মিনিট সে চুপচাপ থাকলো। তারপর নীচে নামতে লাগলো। না, আজ আর কোনো ঘোর নেই, শরীরেও ক্লান্তি নেই। তবে হার্টবিট খুব ফাস্ট চলছে, ধীরে ধীরে নীচে নামার পর দরজাটা আস্তে করে খুলে রাখলো। তারপরেই তার চোখ গেল নীচের ঘরের কোণের দিকে রুমে। সম্ভবত রুমটা ভেতর থেকে বন্ধ। দুজনের কথা বলার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। দরজার কাছে গিয়ে শুনতেই উর্মি চমকে উঠলো, রুমের ভেতর এই মুহুর্তে তার স্বামী সানি আর বোন সৌমি আছে।
কি শুনছে সে, নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না উর্মি। তাকে পাগল বানানোর জন্য, এই রকম একটা নোংরা খেলা খেললো সানি আর তার আদরের ছোট বোন মিলে। যে বোনকে এত ভালোবেসেছিল, এত বিশ্বাস করে ছিল, সে কিনা....
কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনও জানার বাকি আছে উর্মির, তাই জো'রে দরজা ধাক্কা দিতে লাগলো। রুম থেকে দুজনে বেরিয়ে আসে, সানি ফুলদানি দিয়ে জো'র করে মাথায় আঘা'ত করলো উর্মির। সবটা অন্ধকার হওয়ার আগে শুধু দেখতে পেল দরজা দিয়ে ঢুকছে তার সৎ মা মালিনী দেবী, ঋষি আর কিছু পুলিশ.........
এতদিন একটা নাটক চলছিল। সৌমি যেদিন জানতে পেরেছিল সম্পত্তির বেশিরভাগ তার দিদি উর্মির নামে আছে, সেদিন থেকেই সবকিছু প্ল্যানমাফিক চলছে। সৌমি অবশ্য এইসব কাজের জন্য সাথে পেয়েছিল তার প্রেমিক সানিকে। বিয়েটাও সৌমির প্ল্যানের একটা পার্ট। বাড়ির পরিচারিকা রমাও এদের সাথেই ছিল। যদিও সে কোনো পরিচারিকা নয়, সানির পরিচিত, টাকার জন্য রাজী হয়েছিল এইসব কাজ করতে। সৌমি মেঘালয় যায়নি, এই শহরেই ছিল। রোজ রাতে উর্মি যখন ওষুধের ঘোরে থাকতো, সৌমি আসতো রাতে। সেদিন সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া মানুষদুটো সানি আর সৌমি ছিল।
বাড়িতে ওষুধের প্যাকেট টা দেখেই সন্দেহ হয়েছিল ঋষির। তারপর ডক্টরকে ওষুধটা দেখাতেই তিনি বলেন, এই খুব মা'রাত্মক ওষুধ, একজন স্বাভাবিক মানুষ ধীরে ধীরে পাগল হয়ে যেতে পারে। আসলে সৌমি আর সানির উদ্দেশ্য তাই ছিল। মালিনী দেবী পুরো ব্যাপারটা জেনে যাওয়ার পর অনেকবার উর্মির সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উর্মি ছোট থেকেই তার সৎ মাকে পছন্দ করতো না, তাই কোনোভাবেই এইকথা বিশ্বাসও করতো না। তাই বাধ্য হয়ে শেষে মালিনীদেবী ঋষির সাথে কথা বলে, আর ঋষিই রাতে ফোন করে উর্মিকে সাবধান করেছিল। হাতেনাতে ধরবে বলেই, তারা অপেক্ষা করছিল।
মাথাটা বেশ ভারী লাগছে, চোখ খুলে তাকাতেও ইচ্ছে করছে না উর্মির। আজ অবশ্য ক্লান্তি নেই, শুধু আছে ক ষ্ট, মানুষ চিনতে না পারার। পাশেই বসে আছেন মালিনী দেবী। আজ এই মহিলাকে অসহ্য লাগছে না। যিনি নিজের পেটের মেয়েকে জেলে ঢুকিয়ে সৎ মেয়েকে বাঁ'চাতে পারেন, তিনি অনেক বড় মনের মানুষ। চোখ খুলে ধীরে ধীরে উর্মি মা বলে ডাকলো। মালিনী দেবী এই ডাকের জন্য কতদিন অপেক্ষা করেছিলেন। তিনি শুধু হাসি মুখে বললেন, এবার বাড়ি চল, মাতৃত্বের বন্ধনে বেঁধে রাখবো।
উর্মির এত কিছুর পরেও আজ একটু হালকা লাগছে, খুব দূরে ঋষি কথা বলছে ডক্টরের সাথে। হয়তো কোনো একদিন উর্মিও বুঝতে পারবে ঋষির মনের কথা।
সমাপ্ত...
#পর্দা
#রিপোস্ট
#মৌসুমী_হাজরা